অরণ্যের মৌনতা
অরুণ সান্যাল
গভীর অরণ্যে পা রাখলেই মনে হয়
পৃথিবীটা কতখানি নিস্তব্ধ হতে পারে,
এখানে প্রতিটি প্রাচীন বৃক্ষ যেন
একেকজন ধ্যানমগ্ন ঋষি।
তাদের শেকড় মাটির অনেক গভীরে
কোনো এক আদিম গোপন কথা খুঁজে বেড়ায়।
ঝাউপাতার শিরশিরানিতে শোনা যায়
বাতাসের দীর্ঘশ্বাস?
আমি যখন একা দাঁড়াই,
অরণ্যের এই মৌনতা
আমাকে গ্রাস করে নেয় নিবিড়ভাবে।
শহরের হাজারো কোলাহল তখন মিথ্যে মনে হয়
এই সবুজ অন্ধকারের কাছে।
এখানে ঝরা পাতার মচমচে শব্দেও যেন
মিশে থাকে এক গভীর হাহাকার!
পাখিরা যখন গান থামায়
তখন শুরু হয় বনের নিজস্ব এক নীরব কথকতা।
হয়তো এই নিস্তব্ধতাই অরণ্যের ভাষা,
যা আমরা কেউ কোনোদিন শিখিনি।
এখানে আলো আর ছায়ার খেলা চলে
কোনো এক অদৃশ্য জাদুকরের ইশারায়।
গাছের গায়ে জমে থাকা শ্যাওলাগুলো
সাক্ষী দেয় কত শত বছরের একাকীত্বের।
বুনো ফুলের গন্ধ বাতাসে মিশে তৈরি করে
এক বিষণ্ণ কিন্তু মায়াবী পরিবেশ।
অরণ্যের এই মৌনতা আমাকে শেখায়,
সব কথা শব্দ দিয়ে বলতে হয় না।
কিছু হাহাকার আর কিছু গভীর আবেগ
শুধু নিস্তব্ধতায় আগলে রাখতে হয়।
আমি এই অরণ্যে হারিয়ে যেতে চাই না,
বরং নিজেকে খুঁজে পেতে চাই তার স্তব্ধতায়।











