বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ক্লাউডেড লেপার্ড দিবস: অরণ্যের রহস্যময় মেঘচিতাকে রক্ষার আহ্বান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ক্লাউডেড লেপার্ড দিবস: অরণ্যের রহস্যময় মেঘচিতাকে রক্ষার আহ্বান

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতি বছর ৪ আগস্ট পালিত হয় আন্তর্জাতিক ক্লাউডেড লেপার্ড দিবস। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বনাঞ্চলে বসবাসকারী বিরল ও ঝুঁকিপূর্ণ বন্য বিড়ালজাতীয় প্রাণী ক্লাউডেড লেপার্ড বা মেঘচিতার সংরক্ষণ সম্পর্কে বৈশ্বিক সচেতনতা সৃষ্টি করাই এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য। ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যের কেন্টে অবস্থিত হাওলেটস ওয়াইল্ড অ্যানিমাল পার্কের উদ্যোগে দিবসটির সূচনা হয়। এ উদ্যোগে নেতৃত্ব দেন বন্যপ্রাণী পরিচর্যাকারী লরেন অ্যামোস ও ড্যান কেম্প এবং সহযোগিতা করে দ্য অ্যাসপিনাল ফাউন্ডেশন। প্রথম আয়োজনেই আলোচনা সভা, গাইডেড ট্যুর এবং জনসচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মেঘচিতা পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় বন্য বিড়ালগুলোর একটি। এর বৈজ্ঞানিক নাম Neofelis nebulosa. নামের শেষে ‘লেপার্ড’ থাকলেও এটি সাধারণ চিতাবাঘের কোনো উপপ্রজাতি নয়; বরং মার্জার পরিবারের একটি স্বতন্ত্র ও প্রাচীন বংশধারা। প্রাণীটির গায়ে মেঘের মতো বড় বড় ধূসর-কালো ছোপ থাকায় এর নাম হয়েছে ক্লাউডেড লেপার্ড বা মেঘচিতা। এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে একে ‘অরণ্যের ভূত’ বলেও অভিহিত করা হয়, কারণ এটি অত্যন্ত লাজুক, নিশাচর এবং মানুষের চোখের আড়ালে থাকতে পছন্দ করে।

বিজ্ঞানীদের মতে, মেঘচিতা আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে ব্যতিক্রমধর্মী বিড়ালজাতীয় প্রাণীদের একটি। শরীরের আকারের তুলনায় এর ক্যানাইন দাঁত পৃথিবীর সব জীবিত বিড়ালজাতীয় প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে বড়। এদের চোয়াল প্রায় ১০০ ডিগ্রি পর্যন্ত খুলতে পারে, যা প্রাগৈতিহাসিক সেবার-টুথ বাঘের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। একই সঙ্গে এটি অসাধারণ বৃক্ষআরোহী প্রাণী। বিশেষ ধরনের গোড়ালির গঠনের কারণে মেঘচিতা গাছের কা- বেয়ে মাথা নিচের দিকে নেমে আসতে পারে এবং দীর্ঘ লেজ ব্যবহার করে ভারসাম্য বজায় রাখে।

বর্তমানে পৃথিবীতে মেঘচিতার দুটি স্বীকৃত প্রজাতি রয়েছে। মেনল্যান্ড ক্লাউডেড লেপার্ড হিমালয়ের পাদদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ চীনের বনাঞ্চলে বিস্তৃত। অন্যদিকে সুন্দা ক্লাউডেড লেপার্ড বোর্নিও ও সুমাত্রা দ্বীপে বাস করে। এরা মূলত চিরহরিৎ বন, পাহাড়ি বনাঞ্চল, ম্যানগ্রোভ এবং ঘন রেইনফরেস্টের বাসিন্দা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,০০০ মিটার উচ্চতার বনাঞ্চলেও এদের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশেও মেঘচিতার অস্তিত্ব রয়েছে, যদিও তা অত্যন্ত বিরল। পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলের মিশ্র চিরহরিৎ বনাঞ্চলে ক্যামেরা ট্র্যাপের মাধ্যমে এদের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। দেশের বনভূমি সংকুচিত হওয়া এবং আবাসস্থল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার কারণে এদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ ২০০৮ সাল থেকে ক্লাউডেড লেপার্ডকে ‘ঠঁষহবৎধনষব’ বা ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ধারণা করা হয়, বর্তমানে বন্য পরিবেশে ১০ হাজারেরও কম প্রাপ্তবয়স্ক মেঘচিতা টিকে আছে এবং কোনো একক উপ-জনসংখ্যায় এক হাজারের বেশি পূর্ণবয়স্ক সদস্য নেই। বন উজাড়, অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য, আবাসস্থল ধ্বংস এবং খ-িত হয়ে যাওয়া এদের অস্তিত্বের প্রধান হুমকি। অতীতে কিছু অঞ্চলে এর চামড়া ও হাড়ের চাহিদা থাকায় অবৈধ শিকারও বেড়েছে।

মেঘচিতা শুধু একটি আকর্ষণীয় প্রাণী নয়; এটি বনজ বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খাদ্যশৃঙ্খলের মধ্য ও উচ্চস্তরের শিকারি হিসেবে এটি বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। তাই সংরক্ষণবিদরা একে ‘ফ্ল্যাগশিপ স্পিসিস’ হিসেবে বিবেচনা করেন। মেঘচিতার সংখ্যা কমে যাওয়া মানে সংশ্লিষ্ট বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়া।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেঘচিতা সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চট্টগ্রাম-লুসাই ট্রান্সবাউন্ডারি বিগ ক্যাট প্রকল্প সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলে মেঘচিতার আবাসস্থল সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী করিডোর রক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কাজ করছে। একই সঙ্গে জিনোম গবেষণা, ক্যামেরা ট্র্যাপ পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণভিত্তিক সংরক্ষণ কার্যক্রম নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্লাউডেড লেপার্ড দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, এশিয়ার অরণ্যের এই অনন্য প্রাণীকে রক্ষা করা শুধু একটি প্রজাতিকে টিকিয়ে রাখার বিষয় নয়; বরং সমগ্র বনজ বাস্তুতন্ত্র, জীববৈচিত্র্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেরও অপরিহার্য দায়িত্ব। মেঘচিতাকে বাঁচাতে হলে বন সংরক্ষণ, অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য প্রতিরোধ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে হবে। তাহলেই অরণ্যের এই রহস্যময় প্রহরী ভবিষ্যতেও এশিয়ার বনভূমিতে বিচরণ করতে পারবে।

 

Ads small one

কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহতদের দু’জনার বাড়ি সাতক্ষীরায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহতদের দু’জনার বাড়ি সাতক্ষীরায়

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিহতদের ২ জন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। বুধবার (১৯ আগষ্ট) রাত ১০টার দিকে এলাকায় খবর পৌঁছানোর পর ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন নিহতদের একজনের পরিবারের সদস্যরা।

নিহত আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) কালিগঞ্জের তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত. ইউনুচ সরদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঘের ব্যবসায়ী এবং অপরজন একই উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা রেবতী সরকার। তবে তার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিহত সাজুর নিকটাত্মীয় মোখলেছুর রহমান পল্টু জানান, কোমরে ব্যাথার জন্য চিকিৎসক দেখাতে ৫-৬ দিন আগে সাজু ভারতে যায়। বুধবার বাড়িতে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু রাত ১০টার দিকে বাড়িতে খবর আসে হোটেলে অগ্নিকান্ডে সে নিহত হয়েছেন।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে জানানো হয়, ঘটনাটি জানার পর বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে হোটেলটিতে অগ্নিকান্ড ঘটে। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশী।

৫০ অসহায় পরিবারের হাতে মাসিক ত্রাণ তুলে দিল রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
৫০ অসহায় পরিবারের হাতে মাসিক ত্রাণ তুলে দিল রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশন

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শার উলাশীতে রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশনের নিজস্ব কার্যালয়ে ৫০টি অসহায় পরিবারের মাঝে মাসিক ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অসহায় পরিবারের হাতে চাল, ডাল, তেল, সাবানসহ এক মাসের প্রয়োজনীয় বাজারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নির্বাচিত ৫০টি পরিবারের হাতে দেওয়া হয় মাসিক ত্রাণ কার্ড। এ কার্ডের মাধ্যমে এসব পরিবার নিয়মিত প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাবেন।
একই অনুষ্ঠানে অসহায় মো. জাহাঙ্গীরের অপারেশনের জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের জন্যও মাসিক ত্রাণ কার্ডের মাধ্যমে এক মাসের প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রুবিয়া রহমানের নিজস্ব অর্থায়নে এসব মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কতদূর?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কতদূর?

শ্যামল শীল
২০২৩ সালের ২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২৩ পাশ হয়। ১৩ নভেম্বর সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৬২ নং আইন) গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে সংগতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞানচর্চা পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক সাতক্ষীরা জেলায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ এবং সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অগ্রগতিকল্পে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ইনকিউবেটর-এর মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা অতীব প্রয়োজনীয় ও যুক্তিযুক্ত।
একইদিনে নারায়নগঞ্জে আরো একটি বিশ্ববিদ্যালয় এর আইন পাশ করা হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। তবে, ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণ করা হয়।
জাতীয় সংসদের গত বাজেট অধিবেশনে ১০৬ সাতক্ষীরা-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে “সাতক্ষীরা জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা; এবং একই সাথে জেলা/উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা; এবং থাকলে, তা কতদিনে বাস্তবায়ন হতে পাবে? প্রশ্ন করেন।
উত্তরে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “সাতক্ষীরা জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে বর্তমানে সরকার কর্তৃক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার এবং আঞ্চলিক বৈষমা হ্রাসের লক্ষ্যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি সরকার সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করে থাকে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার, উদ্ভাবনী চর্চা, গবেষণামনকতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ, সম্ভাবাতা যাচাই এবং অর্থায়নের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। যদি এ সংক্রান্ত কোনো প্রকল্প গ্রহণ ও অনুমোদিত হয়, তবে প্রকল্পের ধরন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।”
মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয় তাঁর প্রশ্নে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৬২ নং আইন) সম্পর্কে যেমন সুনিদিষ্ঠ কিছু বলেননি, ঠিক একইভাবে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় এর উত্তরেও “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি” উল্লেখ করে আইনের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যে আইনটি বিগত সময়ে প্রণয়ন হয়েছিল, সেটি বাতিল হয়েছে এমন কোন তথ্য আমরা খুজে পাইনি। যদি আইনটি থাকে, তবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আর কি কি প্রয়োজন সেটা সম্পর্কেও সুনিদিষ্ঠ কোন তথ্য কারো কাছ থেকে জানতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন আমার এমন একজন শিক্ষকের সাথে কথা বললে তিনি জানিয়েছেন, আইন পাশের পর প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরুর জন্য ভিসিসহ অন্যান্য পদে নিয়োগ এবং একাডেমিক কার্যক্রম যে কোন সময় শুরু করা যেতে পারে।
সাতক্ষীরা জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এটা এখন সময়ের দাবী। তবে, রাজনৈতিক গ্যাড়াকলে পড়ে আমাদের অনেক দাবীই বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। বিশ্বাবদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে সম্ভাবনাটুকু অতিতে সৃষ্টি হয়েছিল তা আবার হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রয়োজন থেকেই এই জনপদে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হোক-এই দাবীতে সাতক্ষীরাবাসীর দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়াটা এখন জরুরি। এব্যাপারে সকলে এগিয়ে আসুন।