বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

আশাশুনিতে বজ্রাঘাতে ঘের ব্যবসায়ীর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে বজ্রাঘাতে ঘের ব্যবসায়ীর মৃত্যু

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনির আনুলিয়ায় বজ্রাঘাতে এক ঘের ব্যবসায়ীর মৃত হয়েছে। নিহত ব্যবসায়ী এমডি সুমন হোসেন (২৮)। তিনি আনুলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ একসরা গ্রামের আব্দুল মান্নান মোল্লার ছেলে।

পারিবারিক সুত্রে জানাগেছে, সুমন প্রতিদিনের ন্যায় বুধবার রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে বাড়ি থেকে দক্ষিণ একসরা বিলে তার মৎস্য ঘেরে যান। রাতে ঘেরের বাসায় বজ্রপাত হলে তার মৃত্যু হয়। সকালে আব্দুল জলিল নামে এক ব্যক্তি কাঁকড়া কিনতে ঘেরে গিয়ে সুমন বলে ডাকাডাকি করে সাড়া-শব্দ না পেয়ে বাসার ভিতরে গিয়ে দেখেন মৃতাবস্থায় পড়ে আছে। এসময় জলিল তার পরিবারের লোকদের খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

 

বৃহস্পতিবার আছর নামাজ বাদ দক্ষিণ একসরা জামে মসজিদ মাঠে জানাজা নামাজ শেষে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে সে পিতা-মাতা, স্ত্রী ও এক পুত্র সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।

 

Ads small one

কেশবপুরে নিভে যাচ্ছে টালি পোড়ানো চুল্লি, বিলুপ্তির পথে কুমারপাড়ার ঐতিহ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
কেশবপুরে নিভে যাচ্ছে টালি পোড়ানো চুল্লি, বিলুপ্তির পথে কুমারপাড়ার ঐতিহ্য

filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; captureOrientation: 0; brp_mask:0; brp_del_th:null; brp_del_sen:null; delta:null; module: photo;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 8;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 39;

এম এ রহমান, কেশবপুর (যশোর): একসময় গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে হাঁটলে দুই ধারে চোখে পড়ত লালচে মাটির টালিতে ছাওয়া ঘর। গরমে শীতল আর দেখতে নান্দনিকÑএই টালিই ছিল কেশবপুরের গ্রামীণ স্থাপত্যের প্রধান অনুষঙ্গ। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আধুনিক নির্মাণসামগ্রীর ভিড়ে সেই দৃশ্য এখন কেবলই স্মৃতি। কেশবপুরের কুমারপাড়ায় এখন আর আগের মতো টালি পোড়ানো চুল্লির ধোঁয়া ওঠে না, নিভে আসছে শত বছরের ঐতিহ্যের সেই প্রদীপ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দশক আগেও উপজেলার বুড়িহাটি, আলতাপোল, কন্দর্পপুর, বসুন্দিয়া ও ত্রিমোহিনীসহ বিভিন্ন গ্রামে শতাধিক পরিবার এই শিল্পের ওপর নির্ভর করে জীবন চালাত। কিন্তু এখন হাতেগোনা কিছু পরিবার এই পেশা আঁকড়ে ধরে থাকলেও তারা মূলত মাটির অন্য তৈজসপত্র বানাচ্ছেন। টালি বানানো প্রায় বন্ধই করে দিয়েছেন অধিকাংশ কারিগর।

বুড়িহাটি গ্রামের কার্তিক কু-ু পাল আক্ষেপ করে বলেন, “আগে আমরা টালি বানাতাম, প্রতি পিস ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হতো। এখন আর কেউ কিনতে চায় না। চাহিদা নেই, তাই বানানোও বন্ধ করে দিয়েছি।” একই সুর ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের সাধন পালের কণ্ঠেও। তিনি জানান, কয়েক বছর আগেই তিনি এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, প্রতিবছর মেরামত করার ঝক্কি আর বাড়তি খরচের কারণে মানুষ এখন আর টালি দিয়ে ঘর ছাইতে চায় না।

একসময় টালির ঘরকে আভিজাত্যের প্রতীক মনে করা হলেও এখন স্থায়িত্ব আর স্বল্প খরচের কাছে এটি হেরে যাচ্ছে। ভালুকঘর গ্রামের দিনমজুর আব্দুর রাজ্জাক সম্প্রতি তাঁর ঘরের টালির ছাউনি নামিয়ে সিমেন্টের টিন বা অ্যাসবেস্টস লাগিয়েছেন। তিনি বলেন, “১৫-২০ বছর টালির ঘরে ছিলাম। কিন্তু প্রতিবছর মেরামত করতে অনেক টাকা খরচ হতো। এখন টিন লাগানোয় সেই ঝামেলা আর নেই।”

বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে, আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তির কারণে বাজারে টিন ও কংক্রিটের সহজলভ্যতা এই শিল্পের মূল প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলতাপোল এলাকার এক পালমশাই জানান, আগে যেখানে বছরে লাখ টাকার ওপরে টালি বিক্রি হতো, এখন তা ১০ হাজারে নামানোও কঠিন।

ইতিহাস বলছে, কেশবপুর অঞ্চলের উর্বর মাটি ও নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এখানে এই মৃৎশিল্পের বিকাশ ঘটেছিল। বর্তমানে উপজেলার মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ঘরে টালির ছাউনি টিকে আছে। নতুন প্রজন্ম আর এই পরিশ্রমী ও কম আয়ের পেশায় আসতে চাইছে না। ফলে নিস্তব্ধ হয়ে পড়ছে একসময়ের কর্মচঞ্চল কুমারপাড়াগুলো।

কেশবপুরের এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেক্সোনা খাতুন বলেন, “টালি একটি পরিবেশবান্ধব মৃৎশিল্প। কালের বিবর্তনে এটি আজ বিলুপ্তপ্রায়। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা যদি এটি টিকিয়ে রাখতে কোনো ধরনের সহযোগিতা চান, তবে দপ্তর থেকে সরকারিভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।”

কেশবপুরের এই টালি শিল্প কেবল একটি পেশা নয়, বরং এ অঞ্চলের মানুষের শেকড় ও সংস্কৃতির অংশ। এই ঐতিহ্যকে ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন আধুনিক বাজারজাতকরণ ও সরকারি বিশেষ তদারকি।

 

 

কয়রায় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
কয়রায় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ আল বাকীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক। সভায় উপজেলার চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সরকারি সেবার মান নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল করিম, কয়রার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল ফেরদৌস, কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেজাউল করিম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তীলক কুমার ঘোষ এবং কয়রা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শরিফুল আলমসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ।

মতবিনিময় সভা শেষে জেলা প্রশাসক কয়রা সদর ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা ভূমি অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনা করেন।
পরে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত পানিতে ডুবে মারা যাওয়া দুই ব্যক্তির পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন। এছাড়া উপজেলার অনগ্রসর মুন্ডা ও মাহাতো সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রীর (ফুড প্যাক) প্যাকেট বিতরণ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রকৌশলী, মৎস্য কর্মকর্তা, পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সাতক্ষীরায় তরুণদের জন্য ‘কারিগরি দক্ষতা মেলা’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় তরুণদের জন্য ‘কারিগরি দক্ষতা মেলা’

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘দক্ষতায় শক্তি’Ñএই স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় তরুণদের জন্য অনুষ্ঠিত হলো কারিগরি দক্ষতা মেলা ও ‘ট্যালেন্ট হান্ট’ কর্মসূচি। বৃহস্পতিবার সকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই মেলার আয়োজন করা হয়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিডো-এর বাস্তবায়নে ‘এরফরটি’ প্রকল্পের আওতায় এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলা আয়োজনে অংশগ্রহণ করে সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অন্তত ১৫০জন তরুণ-তরুণী এই মেলায় অংশ নেন এবং নিজেদের পছন্দমতো বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণের জন্য নাম তালিকাভুক্ত করেন।

সিডো-র প্রধান নির্বাহী শ্যামল কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জিত কুমার দাস, সাতক্ষীরা টিটিসির অধ্যক্ষ অপু হালদার, অজন ফাউন্ডেশনের পরিচালক মহুয়া মঞ্জুরী, উন্নয়নকর্মী মৃনাল সরকার প্রমুখ।