filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; captureOrientation: 0;
brp_mask:0;
brp_del_th:null;
brp_del_sen:null;
delta:null;
module: photo;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 8;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 39;
এম এ রহমান, কেশবপুর (যশোর): একসময় গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে হাঁটলে দুই ধারে চোখে পড়ত লালচে মাটির টালিতে ছাওয়া ঘর। গরমে শীতল আর দেখতে নান্দনিকÑএই টালিই ছিল কেশবপুরের গ্রামীণ স্থাপত্যের প্রধান অনুষঙ্গ। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আধুনিক নির্মাণসামগ্রীর ভিড়ে সেই দৃশ্য এখন কেবলই স্মৃতি। কেশবপুরের কুমারপাড়ায় এখন আর আগের মতো টালি পোড়ানো চুল্লির ধোঁয়া ওঠে না, নিভে আসছে শত বছরের ঐতিহ্যের সেই প্রদীপ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দশক আগেও উপজেলার বুড়িহাটি, আলতাপোল, কন্দর্পপুর, বসুন্দিয়া ও ত্রিমোহিনীসহ বিভিন্ন গ্রামে শতাধিক পরিবার এই শিল্পের ওপর নির্ভর করে জীবন চালাত। কিন্তু এখন হাতেগোনা কিছু পরিবার এই পেশা আঁকড়ে ধরে থাকলেও তারা মূলত মাটির অন্য তৈজসপত্র বানাচ্ছেন। টালি বানানো প্রায় বন্ধই করে দিয়েছেন অধিকাংশ কারিগর।
বুড়িহাটি গ্রামের কার্তিক কু-ু পাল আক্ষেপ করে বলেন, “আগে আমরা টালি বানাতাম, প্রতি পিস ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হতো। এখন আর কেউ কিনতে চায় না। চাহিদা নেই, তাই বানানোও বন্ধ করে দিয়েছি।” একই সুর ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের সাধন পালের কণ্ঠেও। তিনি জানান, কয়েক বছর আগেই তিনি এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, প্রতিবছর মেরামত করার ঝক্কি আর বাড়তি খরচের কারণে মানুষ এখন আর টালি দিয়ে ঘর ছাইতে চায় না।
একসময় টালির ঘরকে আভিজাত্যের প্রতীক মনে করা হলেও এখন স্থায়িত্ব আর স্বল্প খরচের কাছে এটি হেরে যাচ্ছে। ভালুকঘর গ্রামের দিনমজুর আব্দুর রাজ্জাক সম্প্রতি তাঁর ঘরের টালির ছাউনি নামিয়ে সিমেন্টের টিন বা অ্যাসবেস্টস লাগিয়েছেন। তিনি বলেন, “১৫-২০ বছর টালির ঘরে ছিলাম। কিন্তু প্রতিবছর মেরামত করতে অনেক টাকা খরচ হতো। এখন টিন লাগানোয় সেই ঝামেলা আর নেই।”
বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে, আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তির কারণে বাজারে টিন ও কংক্রিটের সহজলভ্যতা এই শিল্পের মূল প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলতাপোল এলাকার এক পালমশাই জানান, আগে যেখানে বছরে লাখ টাকার ওপরে টালি বিক্রি হতো, এখন তা ১০ হাজারে নামানোও কঠিন।
ইতিহাস বলছে, কেশবপুর অঞ্চলের উর্বর মাটি ও নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এখানে এই মৃৎশিল্পের বিকাশ ঘটেছিল। বর্তমানে উপজেলার মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ঘরে টালির ছাউনি টিকে আছে। নতুন প্রজন্ম আর এই পরিশ্রমী ও কম আয়ের পেশায় আসতে চাইছে না। ফলে নিস্তব্ধ হয়ে পড়ছে একসময়ের কর্মচঞ্চল কুমারপাড়াগুলো।
কেশবপুরের এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেক্সোনা খাতুন বলেন, “টালি একটি পরিবেশবান্ধব মৃৎশিল্প। কালের বিবর্তনে এটি আজ বিলুপ্তপ্রায়। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা যদি এটি টিকিয়ে রাখতে কোনো ধরনের সহযোগিতা চান, তবে দপ্তর থেকে সরকারিভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।”
কেশবপুরের এই টালি শিল্প কেবল একটি পেশা নয়, বরং এ অঞ্চলের মানুষের শেকড় ও সংস্কৃতির অংশ। এই ঐতিহ্যকে ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন আধুনিক বাজারজাতকরণ ও সরকারি বিশেষ তদারকি।