শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

আশাশুনিতে শিশু ধর্ষণের চেষ্টা ‘ধামাচাপা’ দেওয়ার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে শিশু ধর্ষণের চেষ্টা ‘ধামাচাপা’ দেওয়ার অভিযোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নে এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মধ্যম বড়দল গ্রামে গত শুক্রবারের এই ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে মধ্যম বড়দল গ্রামের বিনয় সানার ছেলে পার্থ সানা (২০) প্রতিবেশী এক শিশুকে ফল খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পার হলেও শিশুটি ফিরে না আসায় তার মা তাকে খুঁজতে বের হন। প্রায় দুই ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর বনের ভেতর থেকে শিশুটিকে নিয়ে বেরিয়ে আসে পার্থ। ওই সময় শিশুটি প্রচ- ভয়ে কাঁপছিল এবং তার শারীরিক অবস্থা অস্বাভাবিক ছিল বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ঘটনার জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হতে থাকলে অভিযুক্ত পার্থ সানা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। শুক্রবার রাত পর্যন্ত শিশুটির পরিবার আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও পরদিন থেকেই তাদের সুর পাল্টে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পার্থ সানার পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় এবং অতীতেও একাধিক নারী কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত থাকায় এবারও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বৃদ্ধা বলেন, “এই ছেলেটি আগেও এ ধরনের কাজ করেছে। প্রতিবারই টাকা দিয়ে সব মিটিয়ে ফেলা হয়। এখন গ্রামের নারী ও শিশুরা তাকে দেখলে ভয়ে থাকে। আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
তবে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শিশুটির মা সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি এড়িয়ে যান। অভিযুক্ত পার্থ সানাকে বাড়িতে পাওয়া না গেলেও তার মা ছেলের পূর্বের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমার ছেলে ভুল করেছে, আপনারা ক্ষমা করে দেন। আমরা সব মিটিয়ে নিয়েছি। তবে ছেলেটি ভয়ে বাড়িছাড়া।”
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রশীদ বলেন, “ছেলেটি এলাকায় নানা অপকর্ম করে বেড়ায়। এর আগেও বেশ কয়েকবার গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে তার অপরাধের সমাধান করা হয়েছে।” এলাকাবাসীর দাবি, শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে স্থানীয়ভাবে ‘মিটমাট’ করার সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলছে। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

Ads small one

এই শীতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এই শীতে

মকবুল মাহ্ফুজ
উলের সোয়েটার পরে আছে ওষুধের দোকান
নতুন বছরের ক্যালেন্ডারের গায়ে শীতের চাদর।

এই শীতে গাছেরা কুঁজো হয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো শীত এ বছর
আগুনে সেঁকতে হচ্ছে হাত। পা রোজ।
কার যেন কবিতায় পড়েছিলাম
‘কথা বললেই শীত কম লাগে।’
ইস্, এরা যদি কথা বলতে পারত!

মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে,
দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে,

সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে,
এপাড়া-ওপাড়া যাচ্ছে।
ফিসফিসিয়ে বলছেÑ
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্! সুখ যেন ওদের হাতে,
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে।
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?

 

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে

অস্তাচলে রেখে যাওয়া শেষ স্বাক্ষরÑ
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা

টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়Ñ
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,

অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েÑ
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,

হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।
তুমিও তবে হাত বাড়াওÑ
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।

এসো, আমরা বন্ধু হই

এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,

এই অনন্ত মমতার।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।
আমি যত দিইÑ
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙুলের স্পর্শÑ
সবই যেন মাটির নিচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।
যেমন ঝড়ের পর একা পাতার ওপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনি তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকেÑ

যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।
আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।
তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।
সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়Ñ
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।