আশাশুনিতে শিশু ধর্ষণের চেষ্টা ‘ধামাচাপা’ দেওয়ার অভিযোগ
আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নে এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মধ্যম বড়দল গ্রামে গত শুক্রবারের এই ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে মধ্যম বড়দল গ্রামের বিনয় সানার ছেলে পার্থ সানা (২০) প্রতিবেশী এক শিশুকে ফল খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পার হলেও শিশুটি ফিরে না আসায় তার মা তাকে খুঁজতে বের হন। প্রায় দুই ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর বনের ভেতর থেকে শিশুটিকে নিয়ে বেরিয়ে আসে পার্থ। ওই সময় শিশুটি প্রচ- ভয়ে কাঁপছিল এবং তার শারীরিক অবস্থা অস্বাভাবিক ছিল বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ঘটনার জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হতে থাকলে অভিযুক্ত পার্থ সানা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। শুক্রবার রাত পর্যন্ত শিশুটির পরিবার আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও পরদিন থেকেই তাদের সুর পাল্টে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পার্থ সানার পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় এবং অতীতেও একাধিক নারী কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত থাকায় এবারও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বৃদ্ধা বলেন, “এই ছেলেটি আগেও এ ধরনের কাজ করেছে। প্রতিবারই টাকা দিয়ে সব মিটিয়ে ফেলা হয়। এখন গ্রামের নারী ও শিশুরা তাকে দেখলে ভয়ে থাকে। আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
তবে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শিশুটির মা সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি এড়িয়ে যান। অভিযুক্ত পার্থ সানাকে বাড়িতে পাওয়া না গেলেও তার মা ছেলের পূর্বের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমার ছেলে ভুল করেছে, আপনারা ক্ষমা করে দেন। আমরা সব মিটিয়ে নিয়েছি। তবে ছেলেটি ভয়ে বাড়িছাড়া।”
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রশীদ বলেন, “ছেলেটি এলাকায় নানা অপকর্ম করে বেড়ায়। এর আগেও বেশ কয়েকবার গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে তার অপরাধের সমাধান করা হয়েছে।” এলাকাবাসীর দাবি, শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে স্থানীয়ভাবে ‘মিটমাট’ করার সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলছে। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।






