মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

আশাশুনিতে ২৭ জলাশয়ে ৩৩৩ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে ২৭ জলাশয়ে ৩৩৩ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ জলাভূমি, বর্ষাপ্লাবিত ধানক্ষেত, প্লাবনভূমি ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের মাছের চাহিদা পূরণে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাছের পোনা অবমুক্ত কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার ২৭টি প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে মোট ৩৩৩ কেজি রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।

এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু মাছের পোনা অবমুক্ত কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন এবং জলাশয়গুলোতে মাছের পোনা সংরক্ষণ ও যথাযথ পরিচর্যার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জলাশয়ে পরিকল্পিতভাবে মাছের পোনা অবমুক্তের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে আশাশুনি উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক স. ম. হেদায়েতুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমির আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আমিরুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী উজ্জলসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Ads small one

জেলা বিএনপিতে টুটুলকে ঘিরে তৃণমূলে তৎপরতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
জেলা বিএনপিতে টুটুলকে ঘিরে তৃণমূলে তৎপরতা

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে আহসান হাবীব টুটুলকে দেখতে চান দলের ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতাকর্মীদের একটি অংশ। তাঁকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ও তৎপরতা শুরু হয়েছে।

ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আহসান হাবীব টুটুল ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি, ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি এবং পরবর্তীতে জেলা বিএনপির মৎস্য চাষবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি সাতক্ষীরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের দাবি, এক-এগারোর পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নির্যাতনের কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকতে হয়। প্রায় ১৫ বছর পর দেশে ফিরে ২০২৪ সালের জুলাই-পরবর্তী সময়ে তিনি আবারও বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাবেক ছাত্রনেতাদের নিয়ে ‘৯০ দশক সাবেক ছাত্র নেতৃবৃন্দ ফোরাম’ গঠনেও ভূমিকা রাখেন তিনি।

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন টুটুল। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ।

আহসান হাবীব টুটুল বলেন, “শুরু থেকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করছি। দীর্ঘ পথচলায় দলকে সুসংগঠিত করা ও নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আগামীতেও দল ও দেশের স্বার্থে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।”

 

আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সুরক্ষা দিবস: পৃথিবীর অদৃশ্য ছাতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সুরক্ষা দিবস: পৃথিবীর অদৃশ্য ছাতা

সাকিবুর রহমান বাবলা

পৃথিবীর আকাশে এমন এক অদৃশ্য প্রহরী রয়েছে, যাকে আমরা চোখে দেখি না, অথচ যার ওপর নির্ভর করছে জীবনের নিরাপত্তা। সেই প্রহরীর নাম ওজোন স্তর। স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোনের এই স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির বড় একটি অংশ শোষণ করে মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও সামুদ্রিক জীবজগতকে সুরক্ষা দেয়। তাই ওজোন স্তরকে পৃথিবীর অদৃশ্য ছাতা বললেও অত্যুক্তি হয় না।

প্রতি বছর ১৬ সেপ্টেম্বর পালিত হয় আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সুরক্ষা দিবস। ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (এ/আরইএস/৪৯/১১৪) এই দিবস ঘোষণা করে। দিনটি ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক মন্ট্রিয়ল প্রটোকল-এর স্মরণে নির্ধারিত।

ওজোন স্তর: তিনটি অক্সিজেন পরমাণু দিয়ে গঠিত (ও₃) ওজোন গ্যাসের একটি ঘন স্তর। এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার উঁচুতে অবস্থান করে, যা পৃথিবীর প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন বা সুরক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করে। আর এই ওজোন স্তর ক্ষয়ের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল মানুষের তৈরি ক্লোরোফ্লোরোকার্বন, হ্যালন, কার্বন টেট্রাক্লোরাইডসহ বিভিন্ন ওজোন-ক্ষয়কারী পদার্থ। রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, অ্যারোসলসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ও শিল্পপণ্যে এগুলোর ব্যাপক ব্যবহার হতো। এসব রাসায়নিক বায়ুম-লের ওপরের স্তরে পৌঁছে সূর্যের বিকিরণের প্রভাবে সক্রিয় ক্লোরিন ও ব্রোমিন মুক্ত করে, যা ওজোন অণু ধ্বংসের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

বিশেষ করে অ্যান্টার্কটিকার ওপর ভয়াবহ ওজোন স্তর ক্ষয়ের ঘটনা বিজ্ঞানীদের সতর্ক করে দেয়। স্পষ্ট হয়ে ওঠেÑএটি কোনো এক দেশের সমস্যা নয়; এটি গোটা মানবজাতির সংকট। এই সংকট মোকাবিলায় ১৯৮৫ সালের ভিয়েনা কনভেনশন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করে। এর দুই বছর পর ১৯৮৭ সালে আসে মন্ট্রিয়ল প্রটোকল। ওজোন-ক্ষয়কারী পদার্থ উৎপাদন ও ব্যবহার ধাপে ধাপে বন্ধ করার মাধ্যমে এটি পরিবেশ কূটনীতির ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ ওজোন-ক্ষয়কারী পদার্থের ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। ২০০৯ সালে বিশ্বের সব দেশ মন্ট্রিয়ল প্রটোকল অনুমোদন করে, যা আন্তর্জাতিক পরিবেশ সহযোগিতার ইতিহাসে এক বিরল সাফল্য। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে কিগালি সংশোধনীর মাধ্যমে হাইড্রোফ্লুওরোকার্বন (এইচএফসি) ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এইচএফসি সরাসরি ওজোন স্তর ধ্বংস না করলেও এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস। ফলে কিগালি সংশোধনী বাস্তবায়নের মাধ্যমে ওজোন সুরক্ষার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হচ্ছে।

ওজোন সুরক্ষায় জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি, ওজোন সচিবালয় এবং বহুপক্ষীয় তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সহায়তা দিয়ে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তর ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশও এ বৈশ্বিক উদ্যোগের দায়িত্বশীল অংশীদার। বাংলাদেশ ২ আগস্ট ১৯৯০ মন্ট্রিয়ল প্রটোকলে যোগ দেয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংশোধনী অনুমোদনের পাশাপাশি ২০২০ সালের ৮ জুন কিগালি সংশোধনী অনুমোদন করে।

দেশে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ওজোন সেল গঠন করে ওজোন-ক্ষয়কারী পদার্থ নিয়ন্ত্রণ, বিকল্প প্রযুক্তির প্রসার এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতে সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং খাতের দ্রুত সম্প্রসারণের কারণে বাংলাদেশের জন্য পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে দ্রুত রূপান্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ট্রিয়ল প্রটোকলের সাফল্যের কারণে ওজোন স্তর এখন ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পথে। বর্তমান বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, নীতিগুলো অব্যাহত থাকলে বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে প্রায় ২০৪০ সালের দিকে, আর্কটিক অঞ্চলে ২০৪৫ সালের দিকে এবং অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলে ২০৬৬ সালের দিকে ওজোন স্তর ১৯৮০ সালের মাত্রার কাছাকাছি ফিরে আসতে পারে। এই সাফল্য প্রমাণ করেÑবিজ্ঞানকে গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক ঐক্য গড়ে তুললে বৈশ্বিক পরিবেশগত সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।

ওজোন স্তর রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থার নয়। নতুন ফ্রিজ বা এসি কেনার সময় ওজোন-নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বেছে নিতে হবে। পুরোনো যন্ত্রের’ হিমায়ক গ্যাস’ যেন অসতর্কভাবে বায়ুম-লে না ছড়ায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ভোগ কমাতে হবে এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহারে উৎসাহ দিতে হবে। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

ওজোন স্তর আমাদের চোখে দেখা যায় না, কিন্তু এর সুরক্ষা ছাড়া পৃথিবীর জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই ১৬ সেপ্টেম্বর শুধু একটি দিবস পালনের দিন নয়; এটি বৈশ্বিক দায়িত্ব ও ঐক্যের কথা স্মরণ করার দিন। আসুন, সবাই মিলে ওজোন স্তর রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই।

বিচারহীনতা ও মামলার জট: বিপন্ন গণতন্ত্র, জিম্মি সাধারণ মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
বিচারহীনতা ও মামলার জট: বিপন্ন গণতন্ত্র, জিম্মি সাধারণ মানুষ

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎একটি রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক, তা শুধু নির্বাচন, সংসদ কিংবা রাজনৈতিক কর্মকা-ের মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না। এর অন্যতম প্রধান মানদ- হলো বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই তিন ক্ষেত্রেই নানা উদ্বেগজনক প্রশ্ন রয়েছে। একদিকে রাজনৈতিক হয়রানি, বেআইনি গ্রেপ্তার, হেফাজতে নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের অভিযোগ, অন্যদিকে আদালতে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা বিপুলসংখ্যক মামলা। ফলে ন্যায়বিচারপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ অপেক্ষা, অর্থনৈতিক ব্যয় ও হয়রানির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

 

ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের (WJP) Rule of Lwa Index 2025 -এ ১৪৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৫তম। দক্ষিণ এশিয়ায়ও বাংলাদেশের অবস্থান নিচের সারিতে। এই অবস্থান নিঃসন্দেহে আমাদের আইনের শাসন, বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা আছে। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। সরকার পরিবর্তন হয়েছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলেছে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বা বিরোধের কারণে সাধারণ নাগরিকও মামলার আসামি হয়ে পড়ছে এমন অভিযোগও আছে।

 

গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হলো আইনের সমান প্রয়োগ এবং ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা। কোনো নাগরিক অপরাধের সুনির্দিষ্ট ভিত্তি ছাড়া গ্রেপ্তার বা হয়রানির শিকার হলে তা শুধু ব্যক্তির অধিকার ক্ষুণœ করে না, রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা হারায়। বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, হেফাজতে নির্যাতন কিংবা আইন প্রয়োগে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের প্রতিটি ঘটনাই স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে। কারণ রাষ্ট্রের হাতে আইন প্রয়োগের ক্ষমতা আছে বলেই সেই ক্ষমতার ব্যবহার আরও বেশি জবাবদিহিমূলক হওয়া প্রয়োজন।

 

আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের আদালতগুলোতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখেরও বেশি; এর মধ্যে নি¤œ আদালতেই রয়েছে ৪০ লাখের বেশি মামলা। এই বিপুল মামলাজট শুধু বিচারব্যবস্থার পরিসংখ্যান নয় এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখ লাখ পরিবার ও মানুষের জীবন। একটি জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক মামলা কিংবা ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তির জন্য বছরের পর বছর আদালতে ঘুরতে হয় অনেক মানুষকে। মামলার খরচ, আইনজীবীর ফি, যাতায়াত এবং কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার কারণে নি¤œ ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে।

 

প্রচলিত প্রবাদ-‘Justice delayed is justice denied’-অর্থাৎ বিচার বিলম্বিত হলে ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। দীর্ঘসূত্রতা একদিকে প্রকৃত অপরাধীর বিচারে বিলম্ব ঘটায়, অন্যদিকে নির্দোষ ব্যক্তিকেও দীর্ঘদিন আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখে। এর ফলে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই সংকটের সমাধান শুধু নতুন আইন প্রণয়নে নয়, প্রথমত, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

 

বিচারক নিয়োগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে, যাতে যোগ্যতা, সততা ও পেশাগত দক্ষতা প্রধান বিবেচ্য হয়। দ্বিতীয়ত, পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংস্কার জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্ত, গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার কঠোর অনুসরণ এবং হেফাজতে নির্যাতন বা বেআইনি বলপ্রয়োগের অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

‎তৃতীয়ত, মামলাজট কমাতে বিচারক ও আদালতের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর ই-কোর্ট, মামলার ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা, দ্রুত শুনানি এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (অউজ) আরও কার্যকর করা যেতে পারে। তবে শুধু বিচারকের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; দক্ষতা, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক সক্ষমতাও সমানভাবে বাড়াতে হবে।

‎চতুর্থত, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকার প্রয়োজন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে হয়রানি করতে মামলা দায়ের প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তকারী সংস্থাকেও দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে।

(এটা লেখকের নিজস্ব মত)।