মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিচারহীনতা ও মামলার জট: বিপন্ন গণতন্ত্র, জিম্মি সাধারণ মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
বিচারহীনতা ও মামলার জট: বিপন্ন গণতন্ত্র, জিম্মি সাধারণ মানুষ

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎একটি রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক, তা শুধু নির্বাচন, সংসদ কিংবা রাজনৈতিক কর্মকা-ের মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না। এর অন্যতম প্রধান মানদ- হলো বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই তিন ক্ষেত্রেই নানা উদ্বেগজনক প্রশ্ন রয়েছে। একদিকে রাজনৈতিক হয়রানি, বেআইনি গ্রেপ্তার, হেফাজতে নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের অভিযোগ, অন্যদিকে আদালতে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা বিপুলসংখ্যক মামলা। ফলে ন্যায়বিচারপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ অপেক্ষা, অর্থনৈতিক ব্যয় ও হয়রানির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

 

ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের (WJP) Rule of Lwa Index 2025 -এ ১৪৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৫তম। দক্ষিণ এশিয়ায়ও বাংলাদেশের অবস্থান নিচের সারিতে। এই অবস্থান নিঃসন্দেহে আমাদের আইনের শাসন, বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা আছে। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। সরকার পরিবর্তন হয়েছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলেছে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বা বিরোধের কারণে সাধারণ নাগরিকও মামলার আসামি হয়ে পড়ছে এমন অভিযোগও আছে।

 

গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হলো আইনের সমান প্রয়োগ এবং ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা। কোনো নাগরিক অপরাধের সুনির্দিষ্ট ভিত্তি ছাড়া গ্রেপ্তার বা হয়রানির শিকার হলে তা শুধু ব্যক্তির অধিকার ক্ষুণœ করে না, রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা হারায়। বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, হেফাজতে নির্যাতন কিংবা আইন প্রয়োগে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের প্রতিটি ঘটনাই স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে। কারণ রাষ্ট্রের হাতে আইন প্রয়োগের ক্ষমতা আছে বলেই সেই ক্ষমতার ব্যবহার আরও বেশি জবাবদিহিমূলক হওয়া প্রয়োজন।

 

আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের আদালতগুলোতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখেরও বেশি; এর মধ্যে নি¤œ আদালতেই রয়েছে ৪০ লাখের বেশি মামলা। এই বিপুল মামলাজট শুধু বিচারব্যবস্থার পরিসংখ্যান নয় এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখ লাখ পরিবার ও মানুষের জীবন। একটি জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক মামলা কিংবা ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তির জন্য বছরের পর বছর আদালতে ঘুরতে হয় অনেক মানুষকে। মামলার খরচ, আইনজীবীর ফি, যাতায়াত এবং কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার কারণে নি¤œ ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে।

 

প্রচলিত প্রবাদ-‘Justice delayed is justice denied’-অর্থাৎ বিচার বিলম্বিত হলে ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। দীর্ঘসূত্রতা একদিকে প্রকৃত অপরাধীর বিচারে বিলম্ব ঘটায়, অন্যদিকে নির্দোষ ব্যক্তিকেও দীর্ঘদিন আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখে। এর ফলে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই সংকটের সমাধান শুধু নতুন আইন প্রণয়নে নয়, প্রথমত, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

 

বিচারক নিয়োগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে, যাতে যোগ্যতা, সততা ও পেশাগত দক্ষতা প্রধান বিবেচ্য হয়। দ্বিতীয়ত, পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংস্কার জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্ত, গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার কঠোর অনুসরণ এবং হেফাজতে নির্যাতন বা বেআইনি বলপ্রয়োগের অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

‎তৃতীয়ত, মামলাজট কমাতে বিচারক ও আদালতের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর ই-কোর্ট, মামলার ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা, দ্রুত শুনানি এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (অউজ) আরও কার্যকর করা যেতে পারে। তবে শুধু বিচারকের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; দক্ষতা, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক সক্ষমতাও সমানভাবে বাড়াতে হবে।

‎চতুর্থত, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকার প্রয়োজন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে হয়রানি করতে মামলা দায়ের প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তকারী সংস্থাকেও দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে।

(এটা লেখকের নিজস্ব মত)।

Ads small one

কলারোয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
কলারোয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

 

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলার মানিকনগর গ্রামের উজ্জ্বল হোসেন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভিটেবাড়ি দখলের চেষ্টা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সোমবার রাতে কলারোয়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, একই গ্রামের তিন নারী ও কপিল উদ্দিন গাজী দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশলে তাঁর পরিবারকে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন। তাঁদের অত্যাচারের কারণে মানিকনগরের বাড়ি ছেড়ে বর্তমানে খোর্দ্দ বাজারে দাদার বাড়িতে তাঁরা আশ্রয় নিয়েছেন।
উজ্জ্বল হোসেন জানান, ২০১৪ সালে তাঁদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হলেও তা আদালতে প্রমাণিত হয়নি। পরবর্তীতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৩০ আগস্ট তাঁদের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা করা হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। এর মধ্যে সর্বশেষ মামলায় ২ নম্বর আসামি হিসেবে তাঁর মামা শামিনুর রহমানকে ১২ সেপ্টেম্বর রাতে সোনাবাড়িয়া বাজার থেকে কলারোয়া থানা-পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ ও জখমের হুমকি দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

জেলা কালচারাল অফিসার অন্বেষার সঙ্গে মৌচাক সাহিত্য পরিষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
জেলা কালচারাল অফিসার অন্বেষার সঙ্গে মৌচাক সাহিত্য পরিষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলা কালচারাল অফিসার ফাইজা হোসেন অন্বেষার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মৌচাক সাহিত্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিস কক্ষে উপস্থিত হয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সংগঠনটির প্রতিনিধিরা।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি মৌচাক সাহিত্য পরিষদের বিভিন্ন কর্মকা- সম্পর্কে অবহিত হন এবং সংগঠনের কবি-সাহিত্যিকদের খোঁজখবর নেন। এ সময় মৌচাক সাহিত্য পরিষদের পক্ষ থেকে জেলা কালচারাল অফিসার ফাইজা হোসেন অন্বেষাকে শুভেচ্ছা স্মারক, ‘মৌচাক’ পত্রিকা এবং মৌচাক সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি আব্দুল ওহাব আজাদের লেখা তিনটি বই প্রদান করা হয়।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা মৌচাক সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি আব্দুল ওহাব আজাদ, সহসভাপতি প্রভাষক মহিনুর ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মো. মছরুর রহমান, সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুন্না ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রেবেকা সুলতানা প্রমুখ।

সাতক্ষীরা পাউবোতে বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা পাউবোতে বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান

 

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-১-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (শ্যামনগর উপবিভাগ) মো. ইমরান সরদারের বিদায়ী সংবর্ধনা এবং নবযোগদানকৃত উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আশিকুর রহমানের বরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। পাউবো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলীর হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পাউবো সূত্র জানায়, প্রকৌশলী মো. ইমরান সরদারকে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডে বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সাতক্ষীরা পাউবো-২ থেকে স্থানান্তরিত প্রকৌশলী মো. আশিকুর রহমান।
পাউবো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে এবং অফিস সহকারী মো. সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাউবো-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান তাযকিয়া, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাশিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় সাংবাদিকেরা। অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী অতিথিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান এবং নবযোগদানকৃত কর্মকর্তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।