বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

আশাশুনির হাটবাজারে আশফলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত চারপাশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
আশাশুনির হাটবাজারে আশফলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত চারপাশ

সচ্চিদানন্দদে সদয়, আশাশুনি: আশাশুনির বিভিন্ন হাটবাজারে এখন আশফলের মৌসুমি আমেজে ভরে উঠেছে চারপাশ। রাস্তা-ঘাট, বাজারের মোড় থেকে শুরু করে হাটের ভিড়Ñসবখানেই চোখে পড়ছে রসালো ও সুস্বাদু এই ফল আশফলের জমজমাট বিক্রি। বিক্রেতারা কেউ ভ্যানে, কেউ বা আবার ঝুড়িতে সাজিয়ে আশফল বিক্রি করছেন বিভিন্ন বাজারে। বিশেষ করে বুধহাটা বাজার, কাদাকাটি বাজার ও বড়দল বাজারের ব্যস্ততম জায়গাগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

 

প্রতিটি কুড়ি (২০টি) আশফল বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। সাইজ অনুযায়ী একশ’ আশফল ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। হাটে বাজার করতে আসা মানুষজনও বাড়ি ফেরার সময় ব্যাগ ভরে নিচ্ছেন এই মৌসুমি ফল। শিশুদের চোখে আশফল যেন বাড়তি আনন্দÑফলটি দেখলেই তারা বাবা-মায়ের কাছে আবদার করছে কিনে দেওয়ার জন্য। অনেক অভিভাবকও সন্তানদের সেই আবদার হাসিমুখে পূরণ করছেন। গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা গাছ কিনে অথবা সরাসরি বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করে হাটে নিয়ে আসছেন। কেউ কেউ আবার আগেই গ্রামে গাছ চুক্তিভিত্তিক কিনে রেখেছেন পুরো মৌসুমে ব্যবসার জন্য।

 

ফলে আশফলের একটি সক্রিয় সরবরাহ চেইন গড়ে উঠেছে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত।বুধহাটা খেয়াঘাট রোডে আশফল কিনতে আসা কুল্যা গ্রামের নিতাই বলেন, “২০ টাকা কুড়ি দরে চার কুড়ি আশফল কিনেছি। এটি খুবই রসালো ও সুস্বাদু ফল। ছোট-বড় সবাই আনন্দ নিয়ে খায়।” একই বাজারের ক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, “আশফল গ্রীষ্ম মৌসুমের খুব জনপ্রিয় ফল। এখন প্রায় সব মোড়েই বিক্রি হচ্ছে। ৩০ টাকা কুড়ি দরে দুই কুড়ি কিনেছি, তবে এ বছর দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে।”

স্থানীয়রা জানান, লিচুর মৌসুম শেষ হওয়ার পরপরই বাজারে আশফলের চাহিদা বেড়ে যায়। সাধারণত জুলাই মাসের শেষ দিক থেকে এই ফল পাকতে শুরু করে এবং তখনই বাজারে এর সরব উপস্থিতি দেখা যায়। পুষ্টিবিদদের মতে, আশফলে রয়েছে প্রচুর পানি, শর্করা, ভিটামিন সি, ভিটামিন এসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান। প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণ যোগ্য অংশে প্রায় ৭২ শতাংশ পানি, ১০৯ কিলোক্যালোরি শক্তি, ৮.০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ২৮০ আইইউ ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস সহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান।

 

এছাড়া আশফলের শুকনো শাঁস ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় বলে জানা যায়। এটি পাকস্থলীর প্রদাহ, অনিদ্রা ও কিছু ক্ষেত্রে বিষের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহারের কথা প্রচলিত রয়েছে। গাছের পাতাও বিভিন্ন রোগ, যেমন অ্যালার্জি, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগজনিত সমস্যায় উপকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়।

Ads small one

শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির উদ্বোধন

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার সকালে উপজেলার হায়বাতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জামান কনক।
এ সময় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক, শ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি দীনেশ চন্দ্র মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান লাভলুসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আগে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দেশব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিতরণ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়।

সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পর্যবেক্ষণ ও তীব্র জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে ‘জলবায়ু শিক্ষা বিনিময় পরিদর্শন সিরিজ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে শহরের ইটাগাছা পশ্চিমপাড়ার জলমগ্ন এলাকায় এই কর্মসূচি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘হেড’-এর উদ্যোগে ‘কমিউনিটি অ্যাকশন ফর ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করে ‘সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন’ ও ‘ক্লাইমেট জাস্টিস রেজিলিয়েন্স ফান্ড’।
ইটাগাছা পশ্চিমপাড়ার জলমগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ফেরদৌসী আরা ময়না। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আলী নূর খান বাবুল। তিনি বলেন, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব ও প্রাকৃতিক জলাধার ভরাটের কারণে ইটাগাছাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা আজ জলমগ্ন। এ সময় তিনি দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবি পেশ করেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে পরিকল্পিত মাছ চাষ নিশ্চিত করা। জলবায়ু ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া। ইটাগাছা পশ্চিমপাড়াসহ সব নি¤œাঞ্চলে টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। প্রাকৃতিক জলাশয় সংস্কার ও অবৈধ দখলমুক্ত করা। কমিউনিটি ভিত্তিক জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা শরীফা ও রওশন আরা বলেন, বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার কারণে বসতবাড়িতে পানি উঠে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।
এর আগে সকালে শহরের কাটিয়া এলাকায় হেডের প্রধান কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হেডের নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন বলেন, তরুণ প্রজন্ম ও স্থানীয় কমিউনিটিকে সঙ্গে নিয়ে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় টেকসই অভিযোজন কৌশল তৈরি করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। সভায় সিনিয়র সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সংস্থার ইয়ুথ টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

শ্যামনগরে তিন বেকারিতে জরিমানা, একটির উৎপাদন বন্ধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে তিন বেকারিতে জরিমানা, একটির উৎপাদন বন্ধ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নি¤œমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার রাখার দায়ে তিনটি বেকারিকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে একটি বেকারির উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শ্যামনগর সদর ও নূরনগর বাজারে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুজ্জামান কনক।
আদালত সূত্র জানায়, অভিযানকালে শ্যামনগর বাজারের নিউ সুন্দরবন বেকারিকে ১০ হাজার টাকা, রয়্যাল ফুডস বেকারিকে ১০ হাজার টাকা এবং নূরনগর বাজারের সোনার বাংলা বেকারিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় রয়্যাল ফুডস ও সোনার বাংলা বেকারিতে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ নি¤œমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সোনার বাংলা বেকারির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে এ ধরনের তদারকিমূলক অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।