শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩

ইউটিউব দেখে জি-নাইন কলা চাষে ভাগ্য বদল প্রবাস ফেরত যুবক সামাদের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
ইউটিউব দেখে জি-নাইন কলা চাষে ভাগ্য বদল প্রবাস ফেরত যুবক সামাদের

১৩ কাঠা জমিতে গ্র্যান্ড নাইন, ৮০ হাজার টাকায় আড়াই লাখের স্বপ্ন

সৈয়দ অনুজ, ফকিরহাট (বাগেরহাট):

একসময় প্রবাস থেকে দেশে ফিরে কর্মহীন দিন কাটছিল বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পাগলা শ্যামনগর গ্রামের যুবক হাফেজ আব্দুস সামাদ। তবে ইউটিউবে দেখা একটি ভিডিওই বদলে দিয়েছে তার জীবনযাত্রার পথ। ‘জি-নাইন’ বা ‘গ্র্যান্ড নাইন’ জাতের কলা চাষ করে এখন তিনি হয়ে উঠেছেন এলাকার আলোচিত চাষী।

সামাদ জানান, প্রবাস থেকে ফেরার পর তিনি চাল আড়তের ব্যবসা শুরু করেন। তবে ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় চালের দোকান। একদিন ইউটিউবে গ্র্যান্ড নাইন কলার বাণিজ্যিক চাষের ভিডিও দেখে তিনি আগ্রহী হন। পরে স্থানীয় কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রশিক্ষণ ও চারা সংগ্রহের চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানে কাঙ্খিত চারা না পেয়ে খামারী পর্যায়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। খোঁজ নিয়ে উপজেলার নলধা মৌভোগ এলাকার এক কৃষকের কাছ থেকে তিনি ২১৩টি চারা সংগ্রহ করেন।

এরপর নিজের ১৩ কাঠা পতিত জমি উঁচু করে সেখানে চারা রোপণ করেন তিনি। ইউটিউব দেখে নিয়মিত পরিচর্যা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার ফলে মাত্র আট মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে তার বাগানের প্রায় প্রতিটি গাছেই দৃষ্টিনন্দন ও ভারী কাঁদি ঝুলছে। একেকটি কাঁদিতে ২২০ থেকে ২৮০টি পর্যন্ত কলা ধরেছে। ফলের অতিরিক্ত ভারে গাছ যাতে ভেঙে না পড়ে, সে জন্য বাঁশের খুঁটি দিয়ে গাছগুলোকে সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে।

বিশাল আকৃতির এসব কলার কাঁদি দেখতে প্রতিদিন আশপাশের মানুষ সামাদের বাগানে ভিড় করছেন। স্থানীয়দের কাছে বাগানটি এখন এক ধরনের আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। সামাদ জানান, আর এক সপ্তাহের মধ্যেই কলা কেটে বাজারজাত করার উপযোগী হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।

হৃষ্টপুষ্ট ও কাঁদির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রায় একই আকারের কলা থাকায় দামও ভালো বলছেন পাইকারেরা। গড়ে প্রতি কাঁদি (ছরা) কলা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দামে বাগান থেকে কিনে নিতে চাইছেন পাইকারেরা বলে জানান চাষি আব্দুস সামাদ।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাজারে প্রচলিত অনেক কলার কাঁদিতে সাধারণত ৮০ থেকে ১৪০টি পর্যন্ত কলা থাকে। সেখানে গ্র্যান্ড নাইন জাতের একটি কাঁদিতে ২২০ থেকে ২৮০টি পর্যন্ত কলা উৎপাদিত হতে পারে। পাশাপাশি এ জাতের কলা তুলনামূলক কম সময়ে উৎপাদন উপযোগী হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় সার ওষুধ কম দিতে হয়। ফলে উৎপাদন খরচ কম ও কৃষক বেশি লাভবান হন। খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিগুণ ও বাজার চাহিদাও তুলনামূলক বেশি।

সামাদ শেখ বলেন, “পুরো বাগান করতে আমার প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমান ফলন অনুযায়ী অন্তত আড়াই লাখ টাকার কলা বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কলা চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

তিনি জানান, তার সাফল্য দেখে গ্রামের আরও কয়েকজন কৃষক জি-নাইন কলার বাগান গড়ে তুলতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

একই গ্রামের কৃষক আবুল কালাম বলেন, “সামাদের বাগানের ফলন দেখে আমি খুবই উৎসাহিত হয়েছি। আমিও জমি প্রস্তুত করছি, আগামী মৌসুমে গ্র্যান্ড নাইন কলার চাষ শুরু করব।”

ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে ছোট-বড় মিলিয়ে ৭০টি গ্র্যান্ড নাইন কলার বাগান রয়েছে। এছাড়া অনেকেই বাড়ির আঙিনায় এই জাতের কলা রোপণ করেছেন। চলতি বছরে এ জাতের কলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫০ মেট্রিক টন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা।”

তিনি আরও বলেন, “ফকিরহাট উপজেলার স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এই কলা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। বাণিজ্যিকভাবে গ্র্যান্ড নাইন কলার চাষ কৃষকদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে গড়ে উঠছে।”

Ads small one

শ্যামনগরে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি বিষ্ণুপদ ও সম্পাদক কিরণ শংকর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি বিষ্ণুপদ ও সম্পাদক কিরণ শংকর

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগরে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ শ্যামনগর উপজেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলে সভাপতি বিষ্ণু পদ মন্ডল ও সাধারণ সম্পাদক পদে কিরণ শংকর চ্যাটার্জী নির্বাচিত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৬ জুন) বেলা ১১টায় শ্যামনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ কাউন্সিলে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি এবং সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

শ্যামনগর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক বিষ্ণুপদ মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি বিশ্বজিৎ সাধু। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার শীল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সোমনাথ ব্যানার্জী, শ্যামনগর উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিধুশ্রুবা মন্ডল, জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ শিবপদ গাইন, কোষাধ্যক্ষ রায় দুলাল চন্দ্র, শ্যামনগর উপজেলা শাখার প্রাক্তন চেয়ারম্যান অমল কৃষ্ণ মন্ডল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অসীম কুমার দাস।

আলোচনা সভায় বক্তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার সংরক্ষণ এবং সামাজিক ঐক্য জোরদারে সংগঠনের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য বজায় রেখে মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

পরে কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে নতুন উপজেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে বিষ্ণুপদ মন্ডল সভাপতি এবং কিরণ শংকর চ্যাটার্জী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সংগঠনের প্রতি সকলের আস্থা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, শ্যামনগরে সম্প্রীতি রক্ষা, সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করা এবং সকল ধর্মাবলম্বী মানুষের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় তারা আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক কিরণ শংকর চ্যাটার্জী।

 

শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে জামায়াতের র‌্যালি ও সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে জামায়াতের র‌্যালি ও সমাবেশ

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: “মাদক সমস্যার বৈশ্বিক চিত্র: অমীমাংসিত সমস্যা, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং উদ্ভাবনী পদক্ষেপ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে শ্যামনগর ঈদগাহ ময়দান থেকে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শ্যামনগর জেসি কমপ্লেক্স চত্ত্বরে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্যামনগর উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি সাইদি হাসান বুলবুল। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুর রহমান। বক্তব্য দেন উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মঈনুদ্দিন মাহমুদ, অধ্যাপক ফজলুল হক, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম মোস্তফা, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার রেজাউল ইসলাম, মাওলানা আমিনুর রহমান, অধ্যাপক গাজী আব্দুল হামিদ, অধ্যাপক মহসিন আলম, ইমাম হাসান, আব্দুর রশিদ, আসাদুজ্জামানসহ উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। বর্তমানে মাদকের ভয়াবহ বিস্তারের কারণে তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাদকাসক্তির ফলে নৈতিক অবক্ষয়, অপরাধপ্রবণতা, পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

 

ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি সমাজের জন্য অশনিসংকেত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি সমাজের জন্য অশনিসংকেত

প্রতিকী ছবি

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎‎ধর্ম মানুষের আত্মিক শান্তি, নৈতিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়। একজন প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মানুষ সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার ও পরমতসহিষ্ণুতার বার্তা ছড়িয়ে দেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে ‘ধর্মপ্রাণতা’ এবং ‘ধর্মান্ধতা’ এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়কে একাকার করে দেখার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, যা সমাজে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে।

 

ধর্মান্ধতা বলতে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা ও উদ্দেশ্য না বুঝে অন্ধ অনুসরণ, গোঁড়ামি এবং অসহিষ্ণুতাকে বোঝায়। ধর্মান্ধ ব্যক্তি নিজের মতকেই একমাত্র সত্য মনে করেন এবং অন্যের মতামত বা বিশ্বাসকে সম্মান করতে চান না। এর ফলে সমাজে বিভেদ, বিদ্বেষ, উগ্রতা ও অশান্তির জন্ম হয়। অথচ কোনো ধর্মই এ ধরনের আচরণ সমর্থন করে না।

 

অন্যদিকে প্রকৃত ধর্মপ্রাণতা মানুষকে সত্য, ন্যায়, সংযম, মানবতা ও পরোপকারের শিক্ষা দেয়। ইসলাম নিজেকে মানবজাতির জন্য আল্লাহর মনোনীত একমাত্র ধর্ম হিসেবে ঘোষণা করেছে (সূরা আলে ইমরান: ১৯)। ইসলামের প্রকৃত অনুসারী ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) এর নির্দেশনা মেনে চলেন এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও মধ্যপন্থা অবলম্বন করেন। বর্তমান সময়ে অনেক ক্ষেত্রে দ্বীনদার মুসলিমদের ‘ধর্মান্ধ’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।

 

অথচ ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে উগ্রতা নয়, বরং প্রজ্ঞা, ন্যায়পরায়ণতা ও ভারসাম্যের দিকে আহ্বান করে। মানুষের জ্ঞান সীমিত, কিন্তু আল্লাহর জ্ঞান অসীম। তাই কোনো বিষয় মানুষের বোধগম্যতার বাইরে থাকলেও আল্লাহর বিধানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা একজন মুসলিমের ঈমানের অংশ।

 

পবিত্র কুরআনে মুসলমানদের ‘সর্বোত্তম উম্মত’ (সূরা আলে ইমরান: ১১০) এবং ‘মধ্যপন্থী জাতি’ (সূরা আল-বাকারা: ১৪৩) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও জীবনের সকল ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই বাড়াবাড়ি কিংবা শিথিলতা উভন্তয় চরমপন্থা থেকে দূরে থেকে ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনই ইসলামের শিক্ষা।

 

সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য যুবসমাজকে সঠিক ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ, সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা এবং ইতিবাচক সামাজিক কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। ধর্মকে বিভেদ নয়, মানবকল্যাণ ও নৈতিক উন্নতির মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

‎আসুন, আমরা গোঁড়ামি ও অসহিষ্ণুতা পরিহার করে প্রকৃত ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হই। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে একটি শান্তিময়, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণকর সমাজ গড়ে তুলি।