মানহীন রেস্টুরেন্টের ছড়াছড়ি : আশাশুনিতে প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তারা
আশাশুনি সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড দোকানের সংখ্যা। তবে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির অভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের একটি অংশে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন, অতিরিক্ত দাম আদায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে। ফলে প্রতিদিনই প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
উপজেলার বুধহাটা, আশাশুনি সদর, প্রতাপনগর, গুনাকরকাটি, কুল্যার মোড, দরগাপুর, কাদাকাটি, কালীবাড়ি, আনুলিয়া ও খাজরা বাজারের কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড দোকানে গিয়ে দেখা যায়, অনেক জায়গায় খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত নয়। রান্নাঘর অপরিষ্কার, পুরোনো তেল বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ফ্রিজে দীর্ঘদিন সংরক্ষিত মাংস ও মাছ দিয়ে বিভিন্ন খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে স্থানীয় কয়েকজন ভোক্তা অভিযোগ করেন।
আশাশুনি সদর বাজারের এক ভোক্তা, পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন, “মেন্যুতে যেভাবে খাবারের বর্ণনা দেওয়া থাকে, বাস্তবে খাবারে সেই উপকরণ পাওয়া যায় না। চিকেনের পরিবর্তে হাড় বেশি, সবজির পরিবর্তে অতিরিক্ত সস ব্যবহার করা হয়। দামও তুলনামূলক বেশি নেওয়া হয়।” আরেকজন কলেজ শিক্ষার্থী জানান, অনেক ফাস্টফুড দোকানে বারবার একই তেল ব্যবহার করে চিকেন ফ্রাই, বার্গার ও অন্যান্য ভাজাপোড়া তৈরি করা হয়। এতে খাবারের স্বাদ যেমন নষ্ট হয়, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ফ্রিজে রাখা মাংস, মাছ কিংবা বারবার ব্যবহৃত তেলে রান্না করা খাবার শরীরে নানা ধরনের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এসব খাবার থেকে খাদ্যে বিষক্রিয়া, গ্যাস্ট্রিক, লিভারের সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকিও সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, উপজেলার অনেক রেস্টুরেন্ট ও খাবারের দোকানে ট্রেড লাইসেন্স, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পরিবেশনের সনদ, অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়মিত নবায়ন করা হয় না। তবুও এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তেমন কোনো অভিযান বা নিয়মিত মনিটরিং চোখে পড়ে না। এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলার কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, অধিকাংশ ব্যবসায়ী স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাবার পরিবেশনের চেষ্টা করেন। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে পুরো খাতের সুনাম ক্ষুণœ হচ্ছে।
নিয়মিত প্রশাসনিক নজরদারি হলে অনিয়ম অনেকটাই কমে আসবে। সচেতন মহলের দাবি, উপজেলা প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, খাদ্যের মান পরীক্ষা এবং লাইসেন্স যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভোক্তাদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য ভোক্তার মৌলিক অধিকার। তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অনিয়মকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা জরুরি।









