শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

‘ইত্যাদি’র ধারণকৃত পর্বে এ টি এম শামসুজ্জামান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
‘ইত্যাদি’র ধারণকৃত পর্বে এ টি এম শামসুজ্জামান

২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে প্রচারিত ‘ইত্যাদি’ ধারণ করা হয়েছিল পাহাড়ি সৌন্দর্যের রাণী বান্দরবানে। সেই বিশেষ পর্বটির কিছু অংশসহ ‘ইত্যাদি’-র কয়েকটি পর্ব থেকে নেওয়া চমৎকার সব দৃশ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে একটি সংকলিত পর্ব।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত আটটার বাংলা সংবাদের পর সংকলিত এই পর্বটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) প্রচার হবে।

এই পর্বে দেখা যাবে প্রয়াত অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানকে। দীর্ঘদিন রোগে ভোগার পর প্রয়াত অভিনেতা ইত্যাদির বান্দরবান পর্বের একটি নাট্যাংশের মাধ্যমে প্রথমবার টিভি ক্যামেরার সামনে আসেন। তার সঙ্গে ছিলেন আরেকজন বর্ষীয়ান অভিনেতা জনাব মাসুদ আলী খান। এই পর্ব শুটিংয়ের কয়েকদিন পরই তিনি আবারও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ইত্যাদিতে প্রচারিত এই নাট্যাংশটিই ছিল এ টি এম শামসুজ্জামান ও মাসুদ আলী খানের জীবনের শেষ অভিনয়।

এবারের ইত্যাদিতে বাংলা ও মারমা গানের শিল্পী আঁখি আলমগীর এবং মান মান সিংয়ের কণ্ঠে রয়েছে একটি অনুরাগের গান। এটি লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, সুর করেছেন হানিফ সংকেত, সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদী।

এছাড়াও বান্দরবানের সবুজ-শ্যামল রূপ বৈচিত্র নিয়ে আর একটি গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেছেন বান্দরবানের ১১টি নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি শিল্পীদের সমন্বয়ে শতাধিক নৃত্যশিল্পী।

কোক স্টুডিও ভারত নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য আতিফ আসলামেরকোক স্টুডিও ভারত নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য আতিফ আসলামের
আরও আছে, নানান সামাজিক অসংগতি ও সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে ইত্যাদির বিভিন্ন পর্ব থেকে সংকলন করা বেশ কিছু বিদ্রূপাত্মক নাট্যাংশসহ নানি-নাতি, মামা-ভাগ্নে, দর্শকপর্ব ও চিঠিপত্র বিভাগ।

ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত।

Ads small one

বুড়িগোয়ালিনীতে পিচ সড়কে ভাঙন, দ্রুত সংস্কারের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
বুড়িগোয়ালিনীতে পিচ সড়কে ভাঙন, দ্রুত সংস্কারের দাবি

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কলবাড়ি থেকে নীলডুমুর বিজিবি ব্যাটালিয়নের অভিমুখে যাওয়া সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নতুন রাস্তা মোড় সংলগ্ন পিচ সড়কের একটি অংশে ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সড়কটির ভাঙন ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। বর্তমানে ভাঙন ছোট আকারে দেখা দিলেও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এটি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে বর্ষার পানি ও যানবাহনের চাপের কারণে ভাঙন ছড়িয়ে পড়লে সড়কের বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ সড়কটি বুড়িগোয়ালিনী ও নীলডুমুর, গাবুরা এলাকার মানুষের চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। পাশাপাশি নীলডুমুর বিজিবি ব্যাটালিয়নের অভিমুখে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব রয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সময়মতো ভাঙন মেরামত করা না হলে সড়কের পিচ উঠে গিয়ে যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে। এমনকি ভাঙন বড় আকার ধারণ করলে সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ করা হলে অল্প ব্যয়ে সড়কটি রক্ষা করা সম্ভব হবে। অন্যথায় পরবর্তীতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি সংস্কারে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় হতে পারে।

 

 

আন্তর্জাতিক দাতব্য দিবস: মানবতার সেবাই বিশ্বজনীন অনন্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক দাতব্য দিবস: মানবতার সেবাই বিশ্বজনীন অনন্য

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতি বছর ৫ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক দাতব্য দিবস। মানবতা, সহমর্মিতা, পরোপকার এবং সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার চেতনাকে জাগ্রত করাই এ দিবসের মূল লক্ষ্য। জাতিসংঘের উদ্যোগে পালিত এই দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ এবং টেকসই বিশ্ব গঠনে দাতব্য কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম।

‘দাতব্য’ বলতে কোনো প্রতিদান বা ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রত্যাশা ছাড়াই অন্যের কল্যাণে অর্থ, সম্পদ, সময়, শ্রম কিংবা সেবা প্রদানকে বোঝায়। এটি কেবল অর্থ দানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের কষ্ট লাঘব, মানবিক সহায়তা প্রদান এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার এক মহান প্রচেষ্টা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ, মহামারি কিংবা দারিদ্র্যের মতো সংকটময় পরিস্থিতিতে দাতব্য কার্যক্রম মানুষের জীবন রক্ষা ও পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আন্তর্জাতিক দাতব্য দিবসের সূচনা হয় হাঙ্গেরি সরকারের উদ্যোগে। ২০১১ সালে দেশটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এ দিবস পালনের প্রস্তাব উত্থাপন করে। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ প্রস্তাব এ/আরইএস/৬৭/১০৫ গ্রহণের মাধ্যমে প্রতি বছর ৫ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক দাতব্য দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১৩ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে।

৫ সেপ্টেম্বর তারিখটি নির্বাচনের পেছনে রয়েছে এক গভীর মানবিক ইতিহাস। এদিন ১৯৯৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব মাদার তেরেসা। কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত তাঁর ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটি’ দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অনাথ, অসুস্থ, কুষ্ঠরোগী, অন্ধ এবং মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের সেবায় নিবেদিত ছিল। মানবকল্যাণে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ১৯৭৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন এবং পুরস্কারের সমগ্র অর্থ দরিদ্র মানুষের কল্যাণে দান করেন। তাঁর আত্মত্যাগ, ভালোবাসা ও মানবসেবার স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই ৫ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক দাতব্য দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমান বিশ্বে দাতব্য কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করা, সামাজিক বৈষম্য কমানো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এই মানবিক সেবা বিভিন্ন উপায়ে পরিচালিত হয়-যেমন আর্থিক অনুদান দেওয়া, খাদ্য, পোশাক, ওষুধ ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা কিংবা স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে সময় ও শ্রম উৎসর্গ করা। কেবল সাময়িক সহায়তাই নয়, বরং স্থায়ী স্কুল, হাসপাতাল, এতিমখানা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এসব টেকসই দাতব্য উদ্যোগ এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জাতিসংঘের ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিশ্বের প্রায় সব ধর্মই দাতব্য কাজকে উৎসাহিত করেছে। ইসলামে যাকাত একটি ফরজ ইবাদত এবং সদকা একটি মহৎ মানবিক কর্ম। হিন্দুধর্মে দান ও পরোপকারকে ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। খ্রিস্টধর্ম ও বৌদ্ধধর্মেও দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সেবাকে আধ্যাত্মিক উন্নতির অন্যতম পথ হিসেবে দেখা হয়। ফলে দাতব্য কার্যক্রম শুধু সামাজিক নয়, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশ্বব্যাপী বহু বৃহৎ দাতব্য প্রতিষ্ঠান মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ডেনমার্কভিত্তিক নোভো নরডিস্ক ফাউন্ডেশন, ভারতের টাটা ট্রাস্টস এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন বিশ্বের বৃহত্তম দাতব্য তহবিলসমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। চিকিৎসা গবেষণা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মানব উন্নয়নে তাদের অবদান বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। হিউম্যানিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন মানবিক কাজে, পার্টনার্স ইন হেলথ এবং ফন্ট বোরিস-এর মতো আন্তর্জাতিক চিকিৎসাসেবা দানকারী চ্যারিটি অন্যতম।

মাঠপর্যায়ে সরাসরি মানবিক সহায়তা, চিকিৎসা ও জরুরি ত্রাণ প্রদানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কমিটি অব দ্য রেড ক্রস, ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস, ওয়ার্ল্ড ভিশন ইন্টারন্যাশনাল এবং ইসলামিক রিলিফ ওয়ার্ল্ডওয়াইড বিশ্বজুড়ে সংকটপূর্ণ অঞ্চলে মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। জাতিসংঘের অধীনস্থ সংস্থাগুলোর মধ্যে আয়তন ও কার্যক্রমের দিক থেকে সবচেয়ে বড় মানবিক সংস্থা হলো ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম। এছাড়া ইউনিসেফ ও ইউএনএইচসিআর শিশু, শরণার্থী এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সুরক্ষা ও কল্যাণে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। মানবসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রেড ক্রস, ইউএনএইচসিআর, ইউনিসেফ, ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস ও ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে।

দাতব্য কর্মকান্ডে রাষ্ট্র ও জাতির অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোট অর্থমূল্যের বিচারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ও উদারতার সূচকে ইন্দোনেশিয়া দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষস্থানে, এছাড়া রয়েছে ইউরোপভিত্তিক প্রতিষ্ঠান চ্যারিটিজ এইড ফাউন্ডেশন। এটি প্রমাণ করে যে দাতব্য শুধু অর্থের বিষয় নয়; বরং মানুষের হৃদয়ের উদারতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন।

বাংলাদেশেও দাতব্য ও মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্ষুদ্রঋণ ও দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রেখে চলেছে দেশের বৃহত্তম উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। ক্যারিতাস বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পুনর্বাসন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করছে। তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত জাগো ফাউন্ডেশন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। একইভাবে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন শিক্ষা, ত্রাণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক, জাগো ফাউন্ডেশন ও ফ্রেন্ডশিপসহ বিভিন্ন বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ও তাদের প্রতিষ্ঠাতারা সম্মাননা লাভ করেছেন।

কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সাহায্য ছাড়াই নিজের সময়, শ্রম, অর্থ বা সম্পদের মাধ্যমে নিঃস্বার্থভাবে অন্যের কল্যাণে কাজ করাই হলো ব্যক্তিগত দাতব্য সেবা বা পরোপকার। স্বেচ্ছাসেবা, সরাসরি আর্থিক বা বস্তুগত দান, বৃক্ষ রোপণ, আইনি সহায়তা, পরামর্শ, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা রক্তদানের মতো সামাজিক ও মানবিক নানা উপায়ে একজন ব্যক্তি একক উদ্যোগেই মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন।

আজকের বিশ্বে যখন যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য, ক্ষুধা এবং মানবিক সংকট ক্রমাগত বাড়ছে, তখন দাতব্য কার্যক্রমের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। দাতব্য শুধু অর্থ প্রদান নয়; এটি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের বাস্তব প্রকাশ।

আন্তর্জাতিক দাতব্য দিবস আমাদের শেখায়-মানবতার সেবাই সর্বোচ্চ সেবা। প্রত্যেকে যদি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়ক হিসেবে অন্যের পাশে দাঁড়াই, তবে ক্ষুধামুক্ত, বৈষম্যহীন, মানবিক ও শান্তিপূর্ণ একটি বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব। তাই আসুন, দানের পরিমাণ নয়, মানবতার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারকে বড় করে দেখি এবং একটি সুন্দর মানবতার পৃথিবী নির্মাণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করি।

 

ফকিরহাটে গ্রাম পুলিশের মাঝে মোবাইল ফোন বিতরণ 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
ফকিরহাটে গ্রাম পুলিশের মাঝে মোবাইল ফোন বিতরণ 
ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: গ্রামাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে বাগেরহাটের ফকিরহাটে গ্রাম পুলিশের মাঝে মোবাইল ফোন বিতরণ করেছে সামাজিক সংগঠন বুলবুল ফাউন্ডেশন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বের) বেলা ১১টায় ফকিরহাট সদর ইউনিয়নের সাতজন দফাদার ও মহল্লাদারদের হাতে এসব মোবাইল ফোন তুলে দেওয়া হয়।
মোবাইল ফোন যারা পেয়েছেন তারা হলেন ২নং ওয়ার্ডের শেখ আমির আলী, ৩নং ওয়ার্ডের চাঁন শেখ, ৪নং ওয়ার্ডের মেহেদি হাসান রানা, ৫নং নম্বর ওয়ার্ডের হানিফ সরদার, ৬নং ওয়ার্ডের দেলোয়ার শেখ এবং ৯নং ওয়ার্ডের মামুন শেখ। এসব মুঠোফোন বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বুলবুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ তানভীর ইসলাম লিমন, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মুশফিকুজ্জামান রিপন, বিরেন চন্দ্র রায়, বিএনপি নেতা শেখ তৌহিদুল ইসলাম (লায়ণ),ফকিরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট এর যুব প্রধান সৈয়দ অনুজ,  ফকিরহাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ সৈয়দ আলী, মুরাদ হোসেন, মো. কালাম শেখ, পলাশ ঘোষ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং উপজেলা গ্রাম পুলিশ সভাপতি মো. মেহেদি হাসান রানাসহ গ্রাম পুলিশের সদস্যবৃন্দ।
এসময় বক্তারা বলেন, গ্রাম পুলিশ তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং সরকারি নির্দেশনা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাদের হাতে আধুনিক যোগাযোগের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ফলে স্থানীয় থানা, ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, দুর্যোগকালীন জরুরি বার্তা পৌঁছানো এবং নাগরিক সেবা আরও সহজতর হবে।
বক্তারা আরো বলেন বুলবুল ফাউন্ডেশনের এমন সময়োপযোগী সামাজিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। এদিকে, মোবাইল ফোন উপহার পেয়ে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা খুব খুশি হয়েছেন। তারা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এখন থেকে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদ, থানা ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করে দ্রুত সহযোগিতা করা সম্ভব হবে।