শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

নেপালের বন্যা: সীমান্তহীন জলবায়ু সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
নেপালের বন্যা: সীমান্তহীন জলবায়ু সংকট

নিকোলাস বিশ্বাস

নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা বিশ্বকে এক কঠিন বাস্তবতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে: জলবায়ু দুর্যোগ কোনো সীমান্ত মানে না। এগুলো জাতীয় সীমান্তে থেমে যায় না, ধনী-দরিদ্র দেশের মধ্যে পার্থক্য করে না, আর কোনো দেশ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে সামান্য অবদান রাখে বলে তাকে রেহাইও দেয় না। জলবায়ু পরিবর্তন একটি অভিন্ন বৈশ্বিক সংকট হলেও এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে সেই দেশগুলোতেই, যারা এই সমস্যার জন্য সবচেয়ে কম দায়ী।

 

নেপাল এই বৈষম্যের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। বৈশ্বিক নিঃসরণ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপাল বৈশ্বিক কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণে ০.১ শতাংশেরও কম অবদান রাখে, অথচ দেশটি জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যা দেখিয়েছে, কীভাবে চরম আবহাওয়া দ্রুত মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে-ধ্বংস করতে পারে ঘরবাড়ি, অবকাঠামো ও মানুষের জীবিকা।

 

নেপালের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করলে এই ট্র্যাজেডি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালার আবাসস্থল নেপাল হিমালয় অঞ্চলের অংশ, যাকে বিপুল বরফ-মজুদের কারণে কখনও কখনও “তৃতীয় মেরু” বলা হয়। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে গত তিন দশকে নেপালের হিমবাহগুলো তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বরফ হারিয়েছে- যা পানি নিরাপত্তা, কৃষি ও হিমালয়-নির্ভর নদীর ওপর নির্ভরশীল কোটি কোটি মানুষের জন্য হুমকি তৈরি করছে।

 

হিমবাহ দ্রুত গলে পানির প্রবাহ বেড়ে গিয়ে বিপজ্জনক হিমবাহ-হ্রদ সৃষ্টি হতে পারে, যা অস্থিতিশীল হয়ে হঠাৎ নিচের দিকে ভয়াবহ বন্যা ঘটাতে পারে। একই সঙ্গে হিমবাহের অব্যাহত ক্ষয় দীর্ঘমেয়াদে পানির প্রাপ্যতাকেও হুমকির মুখে ফেলে। ফলে উঁচু পাহাড়ে যা ঘটছে, তা বহুদূরের মানুষের জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে।

 

সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যায় মানুষের দুর্ভোগ ও প্রাণহানির চিত্র এখন আর উপেক্ষা করার মতো নয়। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া অসংখ্য ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উদ্ধারকারীরা বিপজ্জনক বন্যার পানিতে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করছেন। এদের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য ব্যক্তিগত মর্মান্তিক ঘটনা- পরিবার বিচ্ছিন্ন, ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়া, জনপদের ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রাম। এই দুর্যোগ শুধু সম্পদ নয়, কেড়ে নিয়েছে মানুষের জীবিকা ও নিরাপত্তাবোধও।

 

দ্য হিন্দু-এর নেপালের আকস্মিক বন্যার পরবর্তী পরিস্থিতি লাইভ রিপোর্টে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,২৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে, আর প্রায় ৪,০০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক। আজ পর্যন্ত দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ১১,৯৯৩ জনকে উদ্ধার করেছে। এগুলো নিছক শুধু পরিসংখ্যান নয়- এগুলো এমন মানুষের জীবন, যা সাম্প্রতিক ভয়াবহ দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়েছে।

 

এটাই জলবায়ু পরিবর্তনের মৌলিক অবিচার: যারা এই সংকটে সবচেয়ে কম অবদান রেখেছে, তারা প্রায়ই সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতির শিকার হয়। দশকের পর দশক ধরে শিল্পোন্নত দেশগুলো গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বড় অংশের জন্য দায়ী। ইউএনইপি নির্গমন ব্যবধান প্রতিবেদন ২০২৫ অনুযায়ী, বিশ্বের ২০টি বৃহত্তম অর্থনীতির জোট জি২০ দেশসমূহ ২০২৪ সালে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের প্রায় ৭৭ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল। অন্যদিকে নেপাল ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলো- যারা বৈশ্বিক নিঃসরণে সামান্য অবদান রেখেছে- জলবায়ু-সম্পর্কিত বিপদের উচ্চ ঝুঁকির মুখোমুখি। এই বৈষম্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে: যে সংকটের জন্য গুটি কয়েকটি দেশ বহুলাংশে দায়ী তার জন্য সবাই সমানভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হতে পারে না। তাই এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার খরচ কে বহন করবে?

 

জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশগত বিষয় নয়; এটি ন্যায়বিচার, উন্নয়ন, দারিদ্র্য, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক দায়িত্বের বিষয়। সম্প্রতি, নেপালে সংঘটিত ভয়াবহ বন্যা সেখানকার জনগোষ্ঠীর কয়েক দশকের উন্নয়ন-অর্জন কয়েক ঘণ্টায় ধ্বংস করে দিয়েছে। এই ঘটনায় মাত্র কয়েক মুহুর্তের মধ্যে নেপালের বিধ্বংস্থ অঞ্চলের রাস্তা-ঘাট, সেতু, স্কুল, ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যায়।

 

দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারের জন্য একটি ঘর বা জীবিকা হারানোর অর্থ হতে পারে বছরের পর বছরের দুর্ভোগ। এর প্রভাব দুর্যোগ-এলাকাতেও সীমাবদ্ধ থাকে না; পরিবহন, বিদ্যুৎ ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়, কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর পুনর্র্নিমাণের ব্যয় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো জরুরি খাত থেকে সম্পদ সরিয়ে নিতে বাধ্য করে।

 

এ কারণেই জলবায়ু দুর্যোগ কোনো সীমান্ত মানে না। দেশে-দেশে এর ব্যাপ্তি ও প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। বায়ুমন্ডল রাজনৈতিক সীমান্ত মেনে চলে না; একটি দেশে নিঃসৃত কার্বন ডাই-অক্সাইড বৈশ্বিক বায়ুমন্ডলে মিশে সর্বত্র উষ্ণতা বাড়ায় যার প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি দেশের নিজস্ব সক্ষমতা অনুযায়ী নিঃসরণ কমানোর দায়িত্ব রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে বেশি নিঃসরণকারী দেশগুলোর ওপর দক্ষিণ এশিয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলকে সহায়তা করারও বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। এখানেই রয়েছে জলবায়ূ ন্যায়্যতা।

 

নেপালের মতো দেশগুলোর জন্য অভিযোজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ- শক্তিশালী আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো ও কার্যকর দুর্যোগ প্রস্তুতি প্রয়োজন। তবে শুধু অভিযোজন দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; বৈশ্বিক তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে অভিযোজনেরও সীমা রয়েছে। তাই বিশ্বকে সম্মিলিতভাবে মূল কারণ, অর্থাৎ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো ও বন্ধ করার পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

নেপালের অভিজ্ঞতা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যও শক্তিশালী বার্তা বহন করে। বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, পাকিস্তান ও এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ পরস্পর-সংযুক্ত জলবায়ু ঝুঁকির মুখোমুখি- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস, খরা, তাপপ্রবাহ। হিমালয়ে যা ঘটে তা নিম্নাঞ্চলের নদীব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে; এক দেশে যা ঘটে তা অন্য দেশের জন্যও ভয়াবহ পরিণতি তৈরি করতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক সহবস্থান ও যৌথ সমাধান; যেমন: দুর্যোগ প্রস্তুতি, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও নদী ব্যবস্থাপনায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, এবং জাতিসংঘ ও বিধিবদ্ধ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সরাসরি আর্থিক ও অর্থবহ কারিগরি সহায়তা নিশ্চিতকরণ।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, জলবায়ু মোকাবিলার কার্যক্রম শুধু বক্তৃতা ও ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। বন্যা ও বিলীন হয়ে যাওয়া হিমবাহের মুখোমুখি মানুষদের প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপ- নিরাপদ অবকাঠামো, নির্ভরযোগ্য সতর্কবার্তা, সহনশীল জীবিকা, সহজলভ্য অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সংহতি।

 

বন্যার কবল থেকে মানুষ তুলে আনার দৃশ্য কেবল একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের চিত্র নয়- এটি বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা। নেপালে সংঘটিত ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রতিটি পরিসংখ্যানের পেছনে রয়েছে মানুষ, যাদের জীবন ও জীবিকা কোনো না কোনোভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে।

 

নেপালের অভিজ্ঞতা আমাদের জলবায়ু-দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। কোনো দেশের কার্বন নিঃসরণ সামান্য হলেও তার ঝুঁকিপ্রবণতা হতে পারে বিপুল। বিপরীতভাবে, বেশি কার্বন নিঃসরণকারী জি২০ দেশগুলোর উচিৎ ভুক্তভোগী দেশগুলোকে সহায়তা করা; যাতে জলবায়ূ ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

জলবায়ু পরিবর্তন বৈশ্বিক, কিন্তু জলবায়ু ঝুঁকি অসম। নেপালের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ওপর নেমে আসা এই বিপর্যয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, জলবায়ু সংকট থেকে নিরাপদ দূরত্ব বলে কিছু নেই। রাজনৈতিক সীমান্ত দেশগুলোকে আলাদা করতে পারে, কিন্তু আমাদের গ্রহকে সংযুক্ত রাখা বায়ুমন্ডল, মহাসাগর, নদী ও আবহাওয়া ব্যবস্থা থেকে কোনো দেশকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে না।

 

জলবায়ু দুর্যোগ কোনো সীমান্ত মানে না। তেমনি এগুলো প্রতিরোধ, মোকাবিলা ও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের সুরক্ষিত করার দায়িত্বেরও কোনো সীমান্ত থাকা উচিত নয়। সম্মিলিতভাবে এর মোকাবিলা করতে হবে।

 

এখন সময় এসেছে বিশ্বের উপলব্ধি করার যে, জলবায়ু ন্যায্যতা কোনো দয়া বা দান নয়; এটি আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব। বিশ্বের এক প্রান্তে সৃষ্ট নিঃসরণ যদি অন্য প্রান্তের মানুষের দুর্ভোগের কারণ হতে পারে, তাহলে জলবায়ু মোকাবিলার পদক্ষেপ, অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও সংহতিকেও সীমান্ত অতিক্রম করতে হবে।

 

নেপালের বন্যাকে একটি বিচ্ছিন্ন জাতীয় ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটিকে দেখা উচিত সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে: পরিবর্তিত জলবায়ু থেকে কোনো দেশ একা রক্ষা পেতে পারে না, এবং এর পরিণতি মোকাবিলায় কোনো দেশকেই একা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

লেখক: নিকোলাস বিশ্বাস একজন মিডিয়া ফ্রীল্যান্সার এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত। যোগাযোগ: gonomaddyom@gmail.com

Ads small one

বন্যপ্রাণী দিবস আজ: প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষার আহ্বান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ণ
বন্যপ্রাণী দিবস আজ: প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষার আহ্বান

জাতীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আজ শুক্রবার পালিত হচ্ছে জাতীয় বন্যপ্রাণী দিবস। বন্যপ্রাণী ও বিপন্ন প্রজাতির সুরক্ষা, তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং মানুষের মধ্যে প্রাণবৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিই এ দিবসের মূল লক্ষ্য।

বন্যপ্রাণী দিবসটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সচেতনতামূলক দিবস। প্রাণী আচরণবিদ ও লেখক কলিন পেইজের উদ্যোগে ২০০৫ সালে দিবসটি চালুর তথ্য বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া যায়। পরে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মী ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব স্টিভ আরউইনের স্মৃতির সঙ্গেও ৪ সেপ্টেম্বরের দিবসটির যোগসূত্র তৈরি হয়েছে।

তবে দিবসটির প্রতিষ্ঠার বছর ও স্টিভ আরউইনের সঙ্গে সম্পর্কের সময়কাল নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে কিছু পার্থক্য রয়েছে। বন্যপ্রাণী শুধু বন-জঙ্গলের প্রাণীদের নাম নয়; একটি সুস্থ বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি জীব, উদ্ভিদ ও তাদের আবাসস্থল এর সঙ্গে যুক্ত।

বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস, অবৈধ শিকার ও বন্যপ্রাণীর বাণিজ্য, দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানুষের অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে বন্যপ্রাণীর অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হাতি, চিত্রা হরিণ, ডলফিন, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, সরীসৃপসহ অসংখ্য প্রাণী দেশের জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাংলাদেশিদের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা সুবিধা সীমিত করলো মালয়েশিয়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশিদের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা সুবিধা সীমিত করলো মালয়েশিয়া

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার ৩১টি দেশের নাগরিকদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা বা এমইভি সুবিধা সীমিত করেছে মালয়েশিয়া। নতুন ব্যবস্থায় এসব দেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণত সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা প্রযোজ্য হবে জানিয়েছে ভিসা সংক্রান্ত ওয়েবসাইট ভিসা আপডেট।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে সব দেশের নাগরিকদের জন্য ঢালাওভাবে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হবে না। ফলে বাংলাদেশ থেকে ভিজিট ভিসায় মালয়েশিয়ায় যাওয়ার ক্ষেত্রে এক বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা পাওয়ার সুযোগ কমে যাবে।

যেসব দেশের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার পরিবর্তে সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা প্রযোজ্য হবে, সেই তালিকাও প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ। এর মধ্যে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার মোট ৩১টি দেশ রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু ভ্রমণ উদ্দেশ্যে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবসা, চিকিৎসা, ফ্লাই অ্যান্ড ক্রুজ এবং ওয়েডিং ট্যুরিজম।

 

ইমিগ্রেশন বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এই নীতির কথা জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই পরিবর্তন ভিজিট ভিসা বা সামাজিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি বা অন্যান্য বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট কিংবা কর্মসংক্রান্ত ভিসার সঙ্গে নতুন এই নীতির সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে দশ জেলায় ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে দশ জেলায় ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ন্যূনতম পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য অপরাধের মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তিতে ঢাকাসহ দেশের ১০ জেলায় ২২টি মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে সরকার।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আইন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪৪ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এসব ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।

ঢাকা ও মহানগরে পাঁচ ট্রাইব্যুনাল

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা জেলায় একটি এবং ঢাকা মহানগরে চারটি ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর-১-এর অধিক্ষেত্রে পল্লবী, কাফরুল, মিরপুর, শাহআলী, দারুসসালাম, রূপনগর, ভাসানটেক, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, হাতিরঝিল, শেরে বাংলা নগর, রমনা ও শাহবাগ থানা এলাকা রাখা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর-২-এর অধিক্ষেত্রে কলাবাগান, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, আদাবর, কোতোয়ালি, বঙ্গাল, চকবাজার, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানা এলাকা রয়েছে। ঢাকা মহানগর-৩-এর অধিক্ষেত্রে মতিঝিল, শাহজাহানপুর, পল্টন, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা, রামপুরা, ডেমরা, শ্যামপুর, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী এবং ওয়ারী থানা এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর-৪-এর অধিক্ষেত্রে উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, উত্তরা পশ্চিমাঞ্চল, দক্ষিণ খান, বিমানবন্দর, তুরাগ, বাড্ডা, গুলশান, বনানী, ভাটারা, ক্যান্টনমেন্ট ও খিলক্ষেত থানা এলাকা রাখা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে একাধিক ট্রাইব্যুনাল

নারায়ণগঞ্জে দুটি মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-১-এর অধিক্ষেত্রে ফতুল্লা, সোনারগাঁও ও নারায়ণগঞ্জ সদর থানা এলাকা এবং নারায়ণগঞ্জ-২-এর অধিক্ষেত্রে সিদ্ধিরগঞ্জ, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার ও বন্দর থানা এলাকা রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা এলাকার জন্য একটি ট্রাইব্যুনাল এবং চট্টগ্রাম মহানগরে তিনটি ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর-১-এর অধিক্ষেত্রে চাঁদগাঁও, খুলশী, পাঁচলাইশ, বায়েজিদ বোস্তামী ও কর্ণফুলী থানা এলাকা; মহানগর-২-এর অধিক্ষেত্রে কোতোয়ালি, আকবর শাহ, চকবাজার, সদরঘাট ও পতেঙ্গা থানা এলাকা এবং মহানগর-৩-এর অধিক্ষেত্রে বাকলিয়া, পাহাড়তলী, হালিশহর, ডবলমুরিং বন্দর ও ইপিজেড থানা এলাকা রাখা হয়েছে।

কক্সবাজার ও কুমিল্লায় পাঁচ ট্রাইব্যুনাল

কক্সবাজারে তিনটি ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করা হয়েছে। কক্সবাজার-১-এর অধিক্ষেত্রে টেকনাফ, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী থানা এলাকা এবং কক্সবাজার-২-এর অধিক্ষেত্রে উখিয়া, সদর ও ঈদগাঁও থানা এলাকা রয়েছে। কক্সবাজার-৩-এর অধিক্ষেত্রে রামু, চকোরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী থানা এলাকা রাখা হয়েছে।

কুমিল্লায় দুটি ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করা হয়েছে। কুমিল্লা-১-এর অধিক্ষেত্রে কোতোয়ালি, সদর দক্ষিণ, হোমনা, তিতাস, মেঘনা, লালমাই, বরুড়া, চান্দিনা ও দেবিদ্বার থানা এলাকা এবং কুমিল্লা-২-এর অধিক্ষেত্রে বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, মুরাদনগর, বাঙ্গরা বাজার, দাউদকান্দি, চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট থানা এলাকা রাখা হয়েছে।

আরও ছয় জেলায় ট্রাইব্যুনাল

প্রজ্ঞাপনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর ও যশোর জেলা এলাকার জন্যও পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজশাহী মহানগর এলাকার জন্য রয়েছে পৃথক একটি ট্রাইব্যুনাল। ফলে ঢাকার বাইরে জেলা ও মহানগর মিলিয়ে এসব এলাকাতেও মাদকসংক্রান্ত মামলার বিচার নির্ধারিত ট্রাইব্যুনালের অধিক্ষেত্রে পরিচালিত হবে।

৬০ দিনের মধ্যে মামলা স্থানান্তর

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এটি জারির তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর অধীন পাঁচ বছর বা ততোধিক শাস্তিযোগ্য অপরাধের চলমান মামলাগুলো বর্তমান আদালত থেকে নবগঠিত মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালসমূহে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি মোতাবেক স্থানান্তর করা হবে। কোনও মামলা যে পর্যায়ে স্থানান্তরিত হবে, সেই পর্যায় থেকেই মামলাটির বিচারকার্য পরিচালিত হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ আলেকুর রহমান প্রজ্ঞাপনটি জারি করেন।