বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকা পাবেন কবে থেকে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকা পাবেন কবে থেকে?

দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। কয়েক দিনের ব্যবধানে হাজার হাজার গ্রাহক নিজেদের জমাকৃত অর্থ তুলতে না পারায় ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। নগদ অর্থের সংকট, এটিএমে টাকা না থাকা, আরটিজিএস সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়া, বড় অঙ্কের চেক সম্মান না করা এবং পে-অর্ডার বাউন্স হওয়ার মতো ঘটনাগুলো ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দেশের ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রকাশ্যে আশ্বাস দিতে হয়েছে— ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা যেকোনো সময় তাদের টাকা তুলতে পারবেন এবং প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জরুরি তারল্য সহায়তা দেবে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি কেবল একটি ব্যাংকের সাময়িক তারল্য সংকট, নাকি এর পেছনে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দ্বন্দ্ব? আর এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে?

শাখায় টাকা নেই, এটিএমেও নগদ সংকট

গ্রাহকদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ জুন থেকে ইসলামী ব্যাংকের অনেক শাখায় নগদ অর্থের সংকট শুরু হয়। ১০ জুন মতিঝিলসহ বিভিন্ন শাখায় গ্রাহকরা চাহিদামতো টাকা তুলতে পারেননি। কোথাও ১০ লাখ টাকার চেকের বিপরীতে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ১১ জুন থেকে। বিভিন্ন জেলার গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, অনেক শাখা বড় অঙ্কের চেক গ্রহণই করেনি। কিছু শাখা পে-অর্ডার দিয়ে গ্রাহকদের সাময়িকভাবে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোও সম্মানিত হয়নি।

রাজধানী থেকে শুরু করে হবিগঞ্জ, রংপুর, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রাহকরা টাকা উত্তোলনে একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। বহু গ্রাহক এটিএম বুথেও টাকা পাননি।

চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংকটের সূত্রপাত

বর্তমান সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমের নিয়োগ।

গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান পদত্যাগ করার পর বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর থেকেই ব্যাংকটিকে ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক, আন্দোলন ও বিক্ষোভ।

‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম নতুন চেয়ারম্যানের অপসারণসহ সাত দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। তাদের অভিযোগ, ব্যাংকের পরিচালনায় অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ হচ্ছে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

অপরদিকে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, চেয়ারম্যান নিয়োগ ছিল সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক এবং একটি বৃহৎ ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড সচল রাখতেই তাৎক্ষণিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আমানত প্রত্যাহারের হিড়িক

ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন ও বিতর্ক শুরু হওয়ার পর মাত্র সাত দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৪ হাজার ২৪০ কোটি টাকার আমানত তুলে নেওয়া হয়েছে।

৩১ মে ব্যাংকটির মোট আমানত ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। ৭ জুন তা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৮০ হাজার ১৪১ কোটি টাকায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক দিনের মধ্যে হাজার হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়ার ফলে ব্যাংকটির ওপর নগদ অর্থের চাপ তৈরি হয়েছে। ঈদ-পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিকভাবেই নগদ টাকার চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আতঙ্কজনিত অর্থ উত্তোলন।

ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন স্বীকার করেছেন যে, ব্যাংকটি বর্তমানে উল্লেখযোগ্য আমানত প্রত্যাহারের চাপের মধ্যে রয়েছে।

রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ইসলামী ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে বিরোধপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

জামায়াতে ইসলামী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগ, সরকার ব্যাংকটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এবং নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ সেই প্রক্রিয়ার অংশ।

অপরদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, ইসলামী ব্যাংককে অস্থিতিশীল করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তার মতে, চেয়ারম্যান নিয়োগের মতো একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে হঠাৎ বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের অর্থ উত্তোলন স্বাভাবিক ঘটনা নয়।

জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, যারা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন এবং ব্যাংকের ভেতরে-বাইরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন, তাদের সঙ্গে একটি রাজনৈতিক যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

একই সুর শোনা গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের বক্তব্যেও। তিনি বলেছেন, খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই ব্যাংকটিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা শুরু হয়েছে।

২০১৭ সালের দখল বিতর্কের ছায়া

বর্তমান সংকটের পেছনে ইসলামী ব্যাংকের অতীত ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি নানা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে বিপুল অঙ্কের ঋণ বিতরণ করা হয় সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর কাছে।

বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৯৫ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির মোট ঋণের অর্ধেকেরও বেশি।

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দীর্ঘদিনের দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনা, এস আলম সংশ্লিষ্ট ঋণ বিতর্ক এবং খেলাপি ঋণের বিশাল বোঝা ব্যাংকটির ভিত্তিকে আগেই দুর্বল করে রেখেছিল। বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিরোধ সেই দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী ব্যাংক

বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ইসলামী ব্যাংকের গুরুত্ব অন্য যেকোনো শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের তুলনায় অনেক বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১০টি ইসলামী ব্যাংকের মোট আমানতের প্রায় অর্ধেকই ইসলামী ব্যাংকের হাতে। ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকা।

রেমিট্যান্স আহরণেও প্রতিষ্ঠানটির আধিপত্য রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৮৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে ব্যাংকটি। শুধু গত মে মাসেই ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে, যা দেশের অন্যান্য নয়টি ইসলামী ব্যাংকের সম্মিলিত রেমিট্যান্সের কয়েকগুণ বেশি।

ব্যাংকটির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যবসা, আমদানি-রপ্তানি, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে প্রায় ৮ কোটি মানুষের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।

অন্যান্য ইসলামী ব্যাংকেও ছড়িয়ে পড়ছে প্রভাব

ব্যাংকাররা আশঙ্কা করছেন, ইসলামী ব্যাংকের সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো ইসলামী ব্যাংকিং খাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দিনের মতে, ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে গ্রাহকদের মধ্যে ধারণা তৈরি হতে পারে যে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাই ঝুঁকিপূর্ণ। এতে অন্য ইসলামী ব্যাংক থেকেও আমানত প্রত্যাহার শুরু হতে পারে।

ইতোমধ্যে সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী, এক্সিম ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বড় পরীক্ষা

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। পাশাপাশি জরুরি তারল্য সহায়তা দেওয়ারও প্রস্তুতি নিয়েছে।

গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, ব্যাংকটির জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে না।

তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, কেবল তারল্য সহায়তা দিয়ে আস্থার সংকট কাটানো সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিচালনা, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার এবং আমানতকারীদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

সামনে কী হতে পারে

ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান সংকট কেবল একটি ব্যাংকের নগদ অর্থ সংকট নয়; এটি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের আস্থা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং আর্থিক সুশাসনের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় স্বল্পমেয়াদে তারল্য সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা।

কারণ ব্যাংকিং খাতে মূলধনের চেয়েও বড় সম্পদ হলো বিশ্বাস। আর সেই বিশ্বাস একবার নষ্ট হলে তা ফিরিয়ে আনতে অনেক সময় লাগে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে— বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্রুত পদক্ষেপ, রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমন, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার সক্ষমতার ওপর।

Ads small one

কপিলমুনিতে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ণ
কপিলমুনিতে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কপিলমুনি থেকে ১০ পিস ইয়াবাসহ ২ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১১ টায় কপিলমুনি ফাঁড়ী পুলিশ তাদের আটক করে।

পুলিশ জানায়, কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইনপেক্টর মোঃ মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে কাশিমনগর মৎস্য আড়ৎ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে স্থানীয় সাধারণ মানুষও পুলিশকে সহায়তা করেন। এ সময় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির দেহে তল্লাশি করে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন, কপিলমুনির নাছিরপুরের খালেক বিশ্বাসের ছেলে মোঃ জয়নাল বিশ্বাস (২৬) ও আফসার বিশ্বাসের ছেলে মোঃ আলমগীর বিশ্বাস (৪০)। তাদের পাইকগাছা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইনপেক্টর মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের এমন নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদার থাকবে বলে জানান তিনি।

 

 

 

 

 

নব জীবনের উদ্যোগে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
নব জীবনের উদ্যোগে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ

সংবাদদাতা: মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নভজীবন ইউকে-এর আর্থিক সহায়তায় নবজীবন কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরার পলাশপোলে অবস্থিত নবজীবন ইনস্টিটিউটের ছাত্র-ছাত্রীদেও মাঝে ফলজ ও বনজ গাছের চারাবিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত।

 

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান প্রজন্মকে ছোটবেলা থেকেই বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। একটি গাছ একটি প্রাণÑএই উপলব্ধি থেকেই আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ শুধু পরিবেশের সুরক্ষাই নিশ্চিত করেনা, বরং খাদ্য নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নব জীবন শিক্ষার্থীদেও মাঝে গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে তাদের পরিবেশ বান্ধব মানসিকতা গড়ে তোলার এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি নবজীবন কে উদ্দেশ্য কওে বলেন দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, পরিবেশ, নিরাপদ পানি, আয় বর্ধক কার্যক্রম এবং সামাজিক উন্নয়নে কাজ কওে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের লক্ষ্যে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

 

অনুষ্টানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নবজীবনের নির্বাহী পরিচালক তারেকুজ্জামান খান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মশিদুল হক শহর, সমাজসেবা অফিসার, সৌমেন মিত্র, সহকারী পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, সাতক্ষীরা।

 

আরও উপস্থিত ছিলেন আফরোজা খান চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ, নব জীবন কার্য নির্বাহী কমিটি, শেখ শফিক উদ দৌল্লা (সাগর) সাবেক কাউন্সিলার ৯নং ওয়ার্ড সাতক্ষীরা পৌরসভা, মনোয়ারুল ইসলাম মন্টু (বীর মুক্তিযোদ্ধা), শিরিন আফরোজ, কার্যনির্বাহী সদস্য, নব জীবন কার্যনির্বাহী কমিটি, নবজীবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, নবজীবন ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোঃ শামসুল আলম খান। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি নবজীবন ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গনে একটি ফলজ গাছের চারা রোপন করেন এবং শিক্ষার্থীদের হাতে ফলজ ও বনজ গাছের চারা তুলে দেন। শিক্ষার্থীরা নিজনিজ বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় চারা গুলো রোপণ ও পরিচর্যার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন খান ফাহিম আল ফুয়াদ, পরিচালক, নবজীবন।

 

 

 

শ্যামনগরে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

সংবাদদাতা: দুর্নীতি বিরোধী শপথের প্রদীপ্ত স্বাক্ষরে নতুন সূর্য শিখা জ্বলবেই এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণসচেতনতা সৃষ্টি ও সততা চর্চায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

বুধবার (২২ জুলাই) শ্যামনগর নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয় খুলনার আয়োজনে ও শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন ও শ্যামনগর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির ব্যবস্থাপনায় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি কৃষ্ণানন্দ মুখার্জীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং পুরস্কার বিতরণ করেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব ডাঃ আবুল কালাম বাবলা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য কবি ও সাহিত্যিক মোঃ শহীদুর রহমান, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুস সাত্তার, সদস্য মোঃ আকবর হোসেন প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা শিক্ষা ইন্সটাক্টর মোঃ কামরুজ্জামান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুব্রত কুমার মন্ডল, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা প্রকাশ কুমার মন্ডল। রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় শ্যামনগর উপজেলার ১৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শ্যামনগর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সহকারি অধ্যাপক মানবেন্দ্র দেবনাথ।