রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বেনজীরের উত্থান-পতন: কী অভিযোগ, কত সম্পদ, কত মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
বেনজীরের উত্থান-পতন: কী অভিযোগ, কত সম্পদ, কত মামলা

একসময় তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পুলিশ কর্মকর্তাদের একজন। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পদে থেকে পরিচালনা করেছেন পুলিশ, র‌্যাব ও ঢাকা মহানগর পুলিশ। সরকারের নিরাপত্তা নীতির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে ছিল তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা। সেই বেনজীর আহমেদই এখন দুর্নীতি, অর্থপাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জন, জমি দখল এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক মামলার আসামি।

দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বিপুল সম্পদ, প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল এবং পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ প্রকাশিত হচ্ছিল। কিন্তু ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা অবস্থায় এসব অভিযোগ কখনও আনুষ্ঠানিক তদন্তের মুখ দেখেনি।

পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল। সেদিন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বেনজীর আহমেদের সম্পদ অনুসন্ধানে একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করে। এরপর মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই তিনি দেশ ছাড়েন।

যেভাবে দেশ ছাড়েন

দুদকের অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৪ মে রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দুবাইয়ের উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করেন বেনজীর আহমেদ।

বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সহযোগিতায় তিনি দ্রুত ও নির্বিঘ্নে ইমিগ্রেশনসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। রাত ১১টা ৪০ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ছাড়েন। এরপর প্রায় দুই বছর তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করেন।

দুবাইয়ে গ্রেফতার

দুদকের মামলায় আদালতের নির্দেশে ইন্টারপোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি প্রক্রিয়া শুরু হয়। চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আদালত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

অবশেষে গত ১২ জুন দুবাইয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার (১৪ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের বিষয়টি অবহিত করেন। বাংলাদেশ পুলিশের একাধিক সূত্র এবং দুদক কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে গ্রেফতার মানেই দ্রুত দেশে প্রত্যাবর্তন নয়। এখন শুরু হবে প্রত্যর্পণ, আইনি যাচাই এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার জটিল অধ্যায়।

কত সম্পদের অভিযোগ

দুদকের মামলার নথি অনুযায়ী বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মোট প্রায় ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেন।

তার স্ত্রী জীশান মীর্জা ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১৬ কোটি ১ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

বড় মেয়ে ফারিহা রিশতা বিনতে বেনজীর ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীর ৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন দুদকের মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, গুলশানে ৪টি ফ্ল্যাট, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব, ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, ৩টি বিও হিসাব এবং ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে বেনজীর আহমেদের নামে। দুদকের আবেদনের পর আদালতের নির্দেশে এসব সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

দুদকের তদন্তে আরও উঠে আসে, বেনজীর আহমেদ প্রায় ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিলেও সেই অর্থ কোথায় বিনিয়োগ হয়েছে তার কোনো গ্রহণযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। দুদক কর্মকর্তাদের ধারণা, সেই অর্থ তিনি দেশের বাইরে পাচার করেছেন।

কত মামলা

বর্তমানে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের অন্তত চারটি বড় মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন, অর্থপাচার এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগসহ আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় বেনজীর আহমেদকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—শাপলা চত্বর অভিযান মামলা।

২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি অভিযুক্ত। ওই সময় তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ছিলেন।

র‌্যাবের টিএফআই সেলে গুম ও গোপন আটক সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাতেও তাকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তাও অভিযুক্ত। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

বিতর্কিত পাসপোর্ট কাণ্ড

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরেকটি আলোচিত অভিযোগ হলো সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী হিসেবে দেখিয়ে পাসপোর্ট গ্রহণ। ২০১৬ সালে তিনি র‌্যাবের মহাপরিচালক থাকা অবস্থায় পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করেন।

পাসপোর্ট অধিদফতর প্রথমে আপত্তি জানায় এবং র‌্যাব সদর দফতরে ব্যাখ্যা চায়। পরে র‌্যাব সদর দফতর থেকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে নতুন পাসপোর্ট দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তার বাসায় গিয়ে ছবি ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হয়েছিল।

রিসোর্ট, জমি ও সংখ্যালঘুদের অভিযোগ

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার প্রভাবের কারণে অনেক ভূমি মালিক, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা জমি বিক্রি করতে বাধ্য হন।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৈরাগীটোল এলাকায় ৬০০ বিঘারও বেশি জমির ওপর গড়ে ওঠে সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্ক। পরে আদালতের নির্দেশে রিসোর্টসহ বিভিন্ন স্থাপনা জব্দ করা হয় এবং জেলা প্রশাসন এর নিয়ন্ত্রণ নেয়।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জেও তার পরিবারের মালিকানায় থাকা একটি বিলাসবহুল স্থাপনা নিয়ে তদন্ত হয়।

কে এই বেনজীর আহমেদ

১৯৮৮ ব্যাচের বিসিএস (পুলিশ) কর্মকর্তা বেনজীর আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের একজন। তিনি ডিএমপি কমিশনার, র‌্যাব মহাপরিচালক (২০১৫–২০২০) এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক বা আইজিপি (২০২০–২০২২) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অবসরের পরও তিনি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করেন। তার জন্য গাড়িসহ সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্য, সশস্ত্র দেহরক্ষী এবং বাসভবনে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ র‌্যাব এবং এর কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন বেনজীর আহমেদ।

অভিযোগ ছিল, র‌্যাবের মাধ্যমে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় বাহিনীটির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

দেশে ফেরানো কি সহজ হবে

অনেকের ধারণা, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হলেই আসামিকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা যায়। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়।

ইন্টারপোলের নিজস্ব কোনো গ্রেফতারকারী বাহিনী নেই। তারা কেবল সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সতর্ক করে এবং তথ্য আদান-প্রদানে সহায়তা করে।

এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের আইন, আদালতের অনুমোদন, প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং কূটনৈতিক আলোচনার ওপর নির্ভর করে আসামিকে দেশে ফেরানো হয়।

বাংলাদেশ অতীতে রাজন হত্যা মামলার আসামি কামরুল ইসলাম, সাত খুন মামলার নুর হোসেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামি বজলুল হুদা ও এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদসহ কয়েকজনকে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

আবার পি কে হালদার কিংবা আরাভ খানের মতো আলোচিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ আইনি জটিলতা প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তুলেছে।

এখন কী হবে

দুবাইয়ে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া নতুন মোড় নিয়েছে। তবে বাংলাদেশের ইতিহাস বলছে, বিদেশে গ্রেফতার হওয়া আর দেশে ফিরিয়ে আনা—দুটি ভিন্ন বিষয়।

তবু একসময় রাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পুলিশ কর্মকর্তাদের একজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক গ্রেফতার—এ ঘটনা বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

Ads small one

খুলনায় ফজরের নামাজের সময় অস্ত্র নিয়ে মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের গুলি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ
খুলনায় ফজরের নামাজের সময় অস্ত্র নিয়ে মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের গুলি

খুলনায় ফজরের নামাজ চলাকালে মসজিদের ভেতরে ঢুকে মুসল্লিকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মসজিদ কমিটির এক নেতাসহ দুই জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নগরের দৌলতপুর থানার পশ্চিম কাশীপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন- মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিম (৪৫) ও আলম শেখ (৫৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফজরের নামাজ চলাকালে কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত আকস্মিকভাবে মসজিদের ভেতরে ঢোকে। তারা সরাসরি লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে আলম শেখও গুলিবিদ্ধ হন। রক্তাক্ত অবস্থায় তারা মসজিদের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

গুলির শব্দ শুনে অন্য মুসল্লি ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তারা আহত দুই জনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে লোকমান হাকিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (দৌলতপুর জোন) শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। হামলার সঠিক কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘লোকমান হাকিম ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) একজন ঠিকাদার ও জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী। পূর্বশত্রুতার জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

নারীদের জন্য হচ্ছে দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল, নিয়োগ পাবে ১ লাখ কর্মী: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
নারীদের জন্য হচ্ছে দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল, নিয়োগ পাবে ১ লাখ কর্মী: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘দেশের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার। সারা দেশে শুধু নারীদের জন্য দেড় হাজার শয্যার দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল করা হবে। এতে নিয়োগ পাবে এক লাখ কর্মী। এ ছাড়া সারা দেশে ১ হাজার শয্যার ২০টি হাসপাতাল করা হবে।’

রবিবার (১৪ জুন) সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১০ জেলায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠান থেকে একযোগে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালসহ (ভিক্টোরিয়া) ১০টি জেলায় আইসিইউ উদ্বোধন করা হয়। ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করা হয় মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সুনামগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, শেরপুর, মাদারীপুর ও বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের আইসিইউ।

বাজেট প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেটে আমাদের নেতা তারেক রহমান দিকনিদের্শনা দিয়েছেন। শুধু টাকা নয়, কীভাবে দেশটাকে উন্নত করা যাবে, কোথায় কোথায় উন্নতি করতে হবে, তার আভাস দিয়েছেন জাতিকে। স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, অর্থাৎ ৬৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। স্বাস্থ্য খাতকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছে সরকার।’

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে শুধু মেয়েদের জন্য দুটি স্পেশালাইজড (বিশেষায়িত) হাসপাতাল হবে। একেকটি হাসপাতাল হবে ১ হাজার ৫০০ শয্যার। হাসপাতাল দুটিতে চারটি কিডনি অ্যানালাইসিস, ডায়ালাইসিস সেন্টার থাকবে। মেয়েদের ব্রেস্ট ক্যানসারের চিকিৎসা, প্রসূতির ডেলিভারি ও জেনারেল হাসপাতাল থাকবে। সারা দেশে ১ হাজার শয্যার ২০টি হাসপাতাল হবে। পাঁচটি করে অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হবে। চারটি হেলিকপ্টার থাকবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা করছেন। ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৮০ হাজার হবে নারী। আমাদের ১০টি জেলায় আইসিইউ সেবা চালু করেছি। একটু শ্বাসকষ্ট হলেই রেফার করবেন না।’

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী ও জেলা সিভিল সার্জন মুশিউর রহমান।

আর্জেন্টিনা দলে নতুন ‘সমস্যা’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনা দলে নতুন ‘সমস্যা’

কানসাসে আজও অনুশীলন করবে আর্জেন্টিনা দল। তবে সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি নেই। ফুটবলের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ক্লোজড ডোর’ অনুশীলন। ফলে কানসাসে গিয়েও অনেকের মেসিদের অনুশীলন না দেখতে পারার আক্ষেপ থেকেই যাচ্ছে।

তবে আর্জেন্টিনা এগোচ্ছে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী। ৩৬ বছর পর গতবার বিশ্বকাপ জিতেছে লিওনেল মেসির দল। এবার সেই শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। ফলে দলটির ওপর বাড়তি চাপ থাকাটাই স্বাভাবিক। এর মধ্যেই কোচ লিওনেল স্কালোনির সামনে দেখা দিয়েছে নতুন এক ‘সমস্যা’।

আগামী বুধবার সকাল ৭টায় বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। তার আগে শুরুর একাদশে ‘নাম্বার নাইন’ পজিশন নিয়ে মধুর সমস্যায় পড়তে হচ্ছে স্কালোনিকে।

এতদিন লাওতারো মার্তিনেজকে ঘিরেই এগোচ্ছিলেন আর্জেন্টাইন কোচ। তিনিই ছিলেন স্কালোনির প্রথম পছন্দ। কারণ হুলিয়ান আলভারেজ আগে থেকেই পায়ের গোড়ালির চোটে ভুগছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে লাওতারোকেই খেলানো হয়েছে।

স্কালোনির আস্থার প্রতিদানও দিয়েছেন লাওতারো। হন্ডুরাসের বিপক্ষে বল পায়ে ছিলেন উজ্জ্বল। একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থ জুলিয়ানো সিমিওনেকেও গোল করিয়েছেন।

তবে এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। চোট কাটিয়ে ফিরেছেন আলভারেজ। ফলে আক্রমণভাগ নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে স্কালোনিকে। এরই মধ্যে দলের সঙ্গে অনুশীলনও শুরু করেছেন তিনি। ফলে আলভারেজ ও লাওতারোর মধ্যে জায়গার লড়াই আরও জমে উঠেছে। বিশেষ করে অনুশীলনে কোচের মন জয় করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা কঠিন। শুরুর একাদশে ‘নাম্বার নাইন’ হিসেবে কে খেলবেন, তা জানতে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, আলভারেজ ফিটনেস পরীক্ষায় উতরে গেলে কোচের পছন্দের তালিকায় এগিয়ে থাকতে পারেন।

অবশ্য দুজনই আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। ক্লাব ফুটবলেও নিয়মিত পারফর্ম করছেন তারা। লা লিগার দল অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে আলভারেজ ৪৯ ম্যাচে করেছেন ২০ গোল। অন্যদিকে ইন্টার মিলানের জার্সিতে লাওতারোর গোল ৪১ ম্যাচে ২২টি।

তবে কাতার বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স বিবেচনায় আলভারেজ কিছুটা এগিয়ে। ওই আসরে সাত ম্যাচে চার গোল করার পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করেছিলেন তিনি। অন্যদিকে লাওতারো ছয় ম্যাচ খেলেও গোলের দেখা পাননি।

স্কালোনি বিচক্ষণ কোচ। কাতার বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও খেলোয়াড়দের ফিটনেস বিবেচনা করেই তিনি একাদশ ঠিক করবেন। ম্যাচের আগেই সেই চিত্র পরিষ্কার হয়ে যাবে।