বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

উল্টো রথ: শিকড়ে ফেরার চিরন্তন আহ্বান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
উল্টো রথ: শিকড়ে ফেরার চিরন্তন আহ্বান

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

শুক্রবার জগন্নাথ দেব মাসির বাড়ী থেকে নিজ গৃহে ফিরবেন। মানুষের জীবন মূলত এক অন্তহীন যাত্রা। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এই পথচলায় মানুষ কখনো সাফল্যের শিখরে ওঠে, কখনো ব্যর্থতার অতলে হারিয়ে যায়; কখনো অর্জনের আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়, আবার কখনো প্রাপ্তির মধ্যেও অপূর্ণতার বেদনা অনুভব করে। এই দীর্ঘ যাত্রায় মানুষ অনেক সময় নিজের শিকড়, নিজের মূল্যবোধ এবং নিজের আত্মিক পরিচয় থেকে দূরে সরে যায়। তাই সভ্যতার ইতিহাসে এমন কিছু ধর্মীয় উৎসবের জন্ম হয়েছে, যা মানুষকে শুধু আনন্দ দেয় না, বরং তাকে নিজের ভেতরে ফিরে তাকাতেও শেখায়।

 

শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথ বা বাহুদা যাত্রা তেমনই একটি উৎসব। এটি কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; বরং প্রত্যাবর্তনের দর্শন, আত্মশুদ্ধির আহ্বান এবং শিকড়ে ফিরে যাওয়ার এক অনন্য প্রতীক। রথযাত্রা সম্পর্কে কমবেশি সবাই জানেন। আষাঢ় মাসে জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রা রথে চড়ে শ্রীমন্দির থেকে গু-িচা মন্দিরে, অর্থাৎ ভক্তদের ভাষায় ‘মাসির বাড়ি’ যান। সেখানে নয় দিন অবস্থানের পর তাঁরা আবার নিজ আবাসে ফিরে আসেন। এই ফিরে আসার যাত্রাই উল্টো রথ বা বাহুদা যাত্রা। বাইরে থেকে দেখলে এটি দেবতার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের ঘটনা মাত্র। কিন্তু ধর্মীয় দর্শন ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধির আলোকে দেখলে এটি মানুষের নিজের শিকড়ে ফিরে আসার এক গভীর প্রতীক।

 

পৌরাণিক কাহিনিতে বলা হয়, ভক্তদের সান্নিধ্য গ্রহণ এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার জন্য জগন্নাথদেব গু-িচা মন্দিরে গমন করেন। নির্ধারিত সময় শেষে তিনি আবার শ্রীমন্দিরে ফিরে আসেন। এই প্রত্যাবর্তন যেন একটি চিরন্তন সত্যকে সামনে আনেÑজীবনে যত দূরেই যাওয়া হোক, শেষ পর্যন্ত ফিরে আসতে হয় নিজের মূল ঠিকানায়। মানুষের ক্ষেত্রেও তাই। কর্মজীবন, প্রতিযোগিতা, অর্থ-সম্পদ কিংবা ভোগবাদের মোহে আমরা যত দূরেই ছুটে যাই না কেন, একসময় আমাদের ফিরে আসতে হয় পরিবার, সমাজ, সংস্কৃতি এবং আত্মিক মূল্যবোধের কাছে।

 

উড়িষ্যার পুরীধামে উল্টো রথযাত্রা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশে পরিণত হয়েছে। লাখো মানুষ সেখানে একত্রিত হন। জগন্নাথদেবের নন্দীঘোষ, বলরামের তালধ্বজ এবং সুভদ্রার দর্পদলন রথ ভক্তদের টানে আবার শ্রীমন্দিরের পথে এগিয়ে চলে। এই রথের দড়িতে হাত রাখার জন্য মানুষের যে আবেগ, তা কেবল অলৌকিক আশীর্বাদের প্রত্যাশা নয়; বরং ঈশ্বরের সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে নতুন করে অনুভব করার আকাক্সক্ষা। রথ টানার সময় ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, জাতি-গোত্রের সব বিভাজন যেন মুহূর্তেই বিলীন হয়ে যায়। এই দৃশ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়Ñধর্মের প্রকৃত শক্তি বিভাজনে নয়, মিলনে।

 

বাংলাদেশেও উল্টো রথযাত্রার ঐতিহ্য বহু পুরোনো। ঢাকার শাঁখারীবাজার, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রাজশাহী, দিনাজপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোরসহ দেশের নানা প্রান্তে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উল্টো রথ উদ্যাপিত হয়। সাতক্ষীরার বিভিন্ন মন্দির, বিশেষ করে কাটিয়া, আশাশুনি ও আশপাশের এলাকায় এই উৎসবকে ঘিরে ভক্তদের বিপুল সমাগম ঘটে। বহু স্থানে কয়েক দিনের মেলা বসে। মাটির খেলনা, বাঁশ-বেতের সামগ্রী, হস্তশিল্প, মিষ্টান্ন, স্থানীয় কৃষিপণ্যÑসব মিলিয়ে এটি গ্রামীণ অর্থনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

 

ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি, লোকঐতিহ্য এবং সামাজিক সম্প্রীতিরও এক প্রাণবন্ত প্রকাশ ঘটে।এই সম্প্রীতির বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এটি আমাদের বহুত্ববাদী সমাজের একটি ইতিবাচক দিক। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে ঐতিহ্য বাংলাদেশ বহন করে, উল্টো রথ তারও একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। উৎসবের প্রস্তুতিও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রথ পরিষ্কার করা হয়, দেবমূর্তিকে নতুন বস্ত্রে সজ্জিত করা হয়, বিশেষ পূজা, আরতি ও ভোগ নিবেদন করা হয়। অনেকে উপবাস পালন করেন, মানত করেন, দান-ধ্যান করেন। ভোর থেকেই ভক্তরা রথ টানার অপেক্ষায় মন্দির প্রাঙ্গণে সমবেত হন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রথের দড়িতে স্পর্শ করার মধ্য দিয়ে পুণ্য অর্জন হয়। কিন্তু এই বিশ্বাসের বাইরেও একটি সামাজিক শিক্ষা রয়েছেÑএকটি মহৎ কাজে সবার অংশগ্রহণই সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে।

 

আজকের পৃথিবীতে মানুষের জীবনে গতি বেড়েছে, কিন্তু শান্তি কমেছে। প্রযুক্তি আমাদের হাতে পুরো পৃথিবী এনে দিয়েছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই মানুষকে নিজের পরিবার থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো বন্ধুর ভিড়ে প্রকৃত সম্পর্কগুলো ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। ভোগবাদ ও প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি মানুষকে ক্রমেই আত্মকেন্দ্রিক করে তুলছে। এই বাস্তবতায় উল্টো রথ যেন নতুন করে প্রশ্ন তোলেÑআমরা কোথায় যাচ্ছি? আমাদের এই যাত্রার শেষ গন্তব্য কোথায়? উল্টো রথের মূল দর্শন এখানেই। এটি মানুষকে শেখায়, কেবল সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াই জীবন নয়; প্রয়োজন হলে পেছনেও ফিরে তাকাতে হয়।

 

নিজের ভুলকে স্বীকার করতে হয়, শিকড়কে স্মরণ করতে হয়, সম্পর্ককে নতুন করে মূল্য দিতে হয়। যে সমাজ তার ইতিহাস ভুলে যায়, যে মানুষ নিজের সংস্কৃতিকে অস্বীকার করে, সে কখনোই টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে পারে না। তাই প্রত্যাবর্তন মানে পিছিয়ে যাওয়া নয়; বরং নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করে আবার নতুন করে এগিয়ে চলা। উল্টো রথের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো বিনয়। ঈশ্বর নিজেই যখন মানুষের মাঝে আসেন, আবার সময় হলে নিজ আবাসে ফিরে যান, তখন মানুষেরও উচিত অহংকার ত্যাগ করা।

 

ক্ষমতা, অর্থ কিংবা খ্যাতি কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। স্থায়ী হলো মানুষের কর্ম, মূল্যবোধ এবং মানবিকতা। ধর্মীয় উৎসবের প্রকৃত তাৎপর্য এখানেইÑমানুষকে আরও বিনয়ী, সহনশীল এবং মানবিক করে তোলা। দুঃখজনক হলেও সত্য, আধুনিকতার প্রবল স্রোতে অনেক ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে। শহরকেন্দ্রিক জীবন, প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদন এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের কারণে অনেক তরুণ-তরুণী উল্টো রথের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য সম্পর্কে তেমন জানেন না। অনেকের কাছে এটি কেবল একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রা। অথচ এর ভেতরে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের দর্শন, সংস্কৃতি ও মানবিক শিক্ষার অমূল্য ভা-ার।

 

এই ঐতিহ্য সংরক্ষণে রাষ্ট্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সমাজের সচেতন মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানানো উচিত। স্থানীয় প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে এই ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। একই সঙ্গে গবেষণা, তথ্যসংরক্ষণ ও প্রকাশনার উদ্যোগও বাড়াতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ঐতিহ্যের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারে।

 

বাংলাদেশের সংস্কৃতির অন্যতম শক্তি তার বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য। এখানে ঈদ, দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা, বড়দিন কিংবা রথযাত্রাÑপ্রতিটি উৎসবই কোনো না কোনোভাবে মানুষের মিলনের উপলক্ষ হয়ে ওঠে। এই ঐতিহ্য রক্ষা করা আজ সময়ের দাবি। কারণ, বিভাজনের পৃথিবীতে সম্প্রীতির প্রতিটি উৎসবই মানবতার জন্য আশার আলো। উল্টো রথ আমাদের আরেকটি গভীর সত্য শেখায়Ñপ্রত্যাবর্তন কখনো পরাজয় নয়। বরং নিজের ভেতরে ফিরে আসাই সবচেয়ে বড় বিজয়। মানুষ যখন নিজের বিবেক, মানবিকতা ও নৈতিকতার কাছে ফিরে আসে, তখনই তার প্রকৃত মুক্তি ঘটে। জগন্নাথদেবের শ্রীমন্দিরে ফিরে আসা তাই কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি প্রতীক হয়ে ওঠে মানুষের আত্মজাগরণের।

 

আজ যখন সমাজ নানা সংকট, মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে, তখন উল্টো রথের এই দর্শন নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। আমাদের প্রয়োজন আরও বেশি মানবিক হওয়া, আরও বেশি সহনশীল হওয়া এবং নিজের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করা। কারণ, শিকড় যত শক্তিশালী হবে, ভবিষ্যতের পথচলাও তত দৃঢ় হবে। উল্টো রথ তাই কেবল রথের চাকা ঘোরার উৎসব নয়। এটি মানুষের হৃদয়ের চাকা ঘুরিয়ে দেওয়ার আহ্বান। এটি মনে করিয়ে দেয়Ñযাত্রা যত দীর্ঘই হোক, একদিন না একদিন সবাইকে ফিরে আসতে হয়। সেই ফিরে আসা যদি হয় সত্য, মানবিকতা, আত্মবিশ্বাস এবং ঈশ্বরচেতনার পথে, তবে জীবনই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় তীর্থযাত্রা।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Ads small one

কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহতদের দু’জনার বাড়ি সাতক্ষীরায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহতদের দু’জনার বাড়ি সাতক্ষীরায়

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিহতদের ২ জন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। বুধবার (১৯ আগষ্ট) রাত ১০টার দিকে এলাকায় খবর পৌঁছানোর পর ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন নিহতদের একজনের পরিবারের সদস্যরা।

নিহত আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) কালিগঞ্জের তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত. ইউনুচ সরদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঘের ব্যবসায়ী এবং অপরজন একই উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা রেবতী সরকার। তবে তার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিহত সাজুর নিকটাত্মীয় মোখলেছুর রহমান পল্টু জানান, কোমরে ব্যাথার জন্য চিকিৎসক দেখাতে ৫-৬ দিন আগে সাজু ভারতে যায়। বুধবার বাড়িতে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু রাত ১০টার দিকে বাড়িতে খবর আসে হোটেলে অগ্নিকান্ডে সে নিহত হয়েছেন।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে জানানো হয়, ঘটনাটি জানার পর বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে হোটেলটিতে অগ্নিকান্ড ঘটে। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশী।

৫০ অসহায় পরিবারের হাতে মাসিক ত্রাণ তুলে দিল রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
৫০ অসহায় পরিবারের হাতে মাসিক ত্রাণ তুলে দিল রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশন

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শার উলাশীতে রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশনের নিজস্ব কার্যালয়ে ৫০টি অসহায় পরিবারের মাঝে মাসিক ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অসহায় পরিবারের হাতে চাল, ডাল, তেল, সাবানসহ এক মাসের প্রয়োজনীয় বাজারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নির্বাচিত ৫০টি পরিবারের হাতে দেওয়া হয় মাসিক ত্রাণ কার্ড। এ কার্ডের মাধ্যমে এসব পরিবার নিয়মিত প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাবেন।
একই অনুষ্ঠানে অসহায় মো. জাহাঙ্গীরের অপারেশনের জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের জন্যও মাসিক ত্রাণ কার্ডের মাধ্যমে এক মাসের প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রুবিয়া রহমানের নিজস্ব অর্থায়নে এসব মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কতদূর?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কতদূর?

শ্যামল শীল
২০২৩ সালের ২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২৩ পাশ হয়। ১৩ নভেম্বর সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৬২ নং আইন) গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে সংগতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞানচর্চা পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক সাতক্ষীরা জেলায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ এবং সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অগ্রগতিকল্পে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ইনকিউবেটর-এর মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা অতীব প্রয়োজনীয় ও যুক্তিযুক্ত।
একইদিনে নারায়নগঞ্জে আরো একটি বিশ্ববিদ্যালয় এর আইন পাশ করা হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। তবে, ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণ করা হয়।
জাতীয় সংসদের গত বাজেট অধিবেশনে ১০৬ সাতক্ষীরা-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে “সাতক্ষীরা জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা; এবং একই সাথে জেলা/উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা; এবং থাকলে, তা কতদিনে বাস্তবায়ন হতে পাবে? প্রশ্ন করেন।
উত্তরে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “সাতক্ষীরা জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে বর্তমানে সরকার কর্তৃক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার এবং আঞ্চলিক বৈষমা হ্রাসের লক্ষ্যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি সরকার সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করে থাকে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার, উদ্ভাবনী চর্চা, গবেষণামনকতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ, সম্ভাবাতা যাচাই এবং অর্থায়নের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। যদি এ সংক্রান্ত কোনো প্রকল্প গ্রহণ ও অনুমোদিত হয়, তবে প্রকল্পের ধরন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।”
মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয় তাঁর প্রশ্নে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৬২ নং আইন) সম্পর্কে যেমন সুনিদিষ্ঠ কিছু বলেননি, ঠিক একইভাবে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় এর উত্তরেও “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি” উল্লেখ করে আইনের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যে আইনটি বিগত সময়ে প্রণয়ন হয়েছিল, সেটি বাতিল হয়েছে এমন কোন তথ্য আমরা খুজে পাইনি। যদি আইনটি থাকে, তবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আর কি কি প্রয়োজন সেটা সম্পর্কেও সুনিদিষ্ঠ কোন তথ্য কারো কাছ থেকে জানতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন আমার এমন একজন শিক্ষকের সাথে কথা বললে তিনি জানিয়েছেন, আইন পাশের পর প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরুর জন্য ভিসিসহ অন্যান্য পদে নিয়োগ এবং একাডেমিক কার্যক্রম যে কোন সময় শুরু করা যেতে পারে।
সাতক্ষীরা জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এটা এখন সময়ের দাবী। তবে, রাজনৈতিক গ্যাড়াকলে পড়ে আমাদের অনেক দাবীই বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। বিশ্বাবদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে সম্ভাবনাটুকু অতিতে সৃষ্টি হয়েছিল তা আবার হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রয়োজন থেকেই এই জনপদে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হোক-এই দাবীতে সাতক্ষীরাবাসীর দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়াটা এখন জরুরি। এব্যাপারে সকলে এগিয়ে আসুন।