বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

এআই ব্যবহারে বাড়ছে নির্ভরতা, কমছে চিন্তাশক্তি: গবেষণা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
এআই ব্যবহারে বাড়ছে নির্ভরতা, কমছে চিন্তাশক্তি: গবেষণা

এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ব্যবহার মানুষের তাৎক্ষণিক কাজের দক্ষতা বাড়ালেও দীর্ঘমেয়াদে তা চিন্তাশক্তি, অধ্যবসায় এবং স্বতন্ত্রভাবে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে-এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়।
এনগ্যাজেট এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়-সম্প্রতি প্রকাশিত ‘এআই অ্যাসিস্ট্যান্স রিডিউসেস পারসিস্টেন্স অ্যান্ড হার্টস ইন্ডিপেনডেন্ট পারফরম্যান্স’ শীর্ষক এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, এআই সহায়তা তাৎক্ষণিক পারফরম্যান্স উন্নত করে, তবে এর বিনিময়ে দিতে হয় ‘ভারী কগনিটিভ মূল্য’ বা মস্তিষ্কের চিন্তা-ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব।

গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক যৌথভাবে পরিচালনা করেন। এতে মোট ১ হাজার ২২২ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর একাধিক র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়াল চালানো হয়। গবেষকদের মতে, মাত্র ১০ মিনিট এআই ব্যবহার করার পরই অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভরতা তৈরি হতে দেখা গেছে। এআই সহায়তা বন্ধ করে দিলে তাদের সঠিক উত্তর দেওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, একই সঙ্গে অনেকেই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা ছেড়ে দেন।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের একাংশকে ভগ্নাংশভিত্তিক গাণিতিক সমস্যা সমাধানের সময় ওপেনএআই-এর জিপিটি-৫ ভিত্তিক একটি বিশেষ চ্যাটবট ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। অপর অংশকে কোনো সহায়তা ছাড়া একই কাজ করতে বলা হয়।

পরীক্ষার মাঝপথে এআই ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে সহায়তা সরিয়ে নেওয়া হলে দেখা যায়, তাদের সঠিক উত্তর দেওয়ার হার দ্রুত কমে যায় এবং অনেকেই পরবর্তী প্রশ্নে আর চেষ্টা করেননি। একই প্রবণতা পরবর্তী বৃহত্তর পরীক্ষাতেও পুনরাবৃত্তি হয়।

গবেষণার সহলেখক এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের সহকারী অধ্যাপক রচিত দুবে বলেন, ‘এআই সরিয়ে নেওয়ার পর মানুষ শুধু ভুল উত্তরই দিচ্ছে না, তারা চেষ্টা করার ইচ্ছাও হারিয়ে ফেলছে’। তিনি সতর্ক করে বলেন, শিক্ষা খাতে দ্রুত এআই নির্ভরতা তৈরি হলে এমন একটি প্রজন্ম গড়ে উঠতে পারে, যারা নিজেদের সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতনই হবে না। এতে মানবিক উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে গবেষণায় একটি ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে। যারা এআইকে সরাসরি উত্তর পাওয়ার বদলে ইঙ্গিত, ব্যাখ্যা বা ধারণা পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার করেছেন, তাদের স্বতন্ত্র পারফরম্যান্স তুলনামূলক ভালো ছিল।গবেষণাটি এখনো পিয়ার-রিভিউ হয়নি, ফলে এর ফলাফলকে প্রাথমিক পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ হিসেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

Ads small one

সাতক্ষীরা তালতলায় কোহিনুর হত্যা ঘটনায় থানায় মামলা, কারখানার মালিক গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা তালতলায় কোহিনুর হত্যা ঘটনায় থানায় মামলা, কারখানার মালিক গ্রেপ্তার

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা শহরতলীর তালতলা এলাকার বিসমিল্লাহ ফুড্স এর কর্মচারি কোহিনুর খাতুনকে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নিহতের ভাই সাতক্ষীরা সদরের লাবসা ইউনিয়নের খেলারডাঙী গ্রামের ইমরান হোসেন বাদি হয়ে কারো নাম উল্লেখ করে সদর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিসমিল্লাহ ফুডস এর মালিক সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া লস্করপাড়ার আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুস সোবহানকে আটক করেছে।

বুধবার সকালে সরেজমিনে খেলারডাঙা গ্রামে গেলে প্রয়াত মুনসুর রহমানের স্ত্রী রেবেকা খাতুন জানান, ১৭ বছর আগে পাটকেলঘাটার লালচন্দ্রপুর গ্রামের আবু মুছার সাথে তার মেয়ে কোহিনুর খাতুনের বিয়ে দেন। পরবর্তীতে জামাতা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় স্ত্রী কোহিনুর ও তাদের একমাত্র সন্তান হাফেজ মোহাম্মদ মুন্নার ভরনপোষণ যোগাড় করতে পারতো না। অভাবকে কেন্দ্র করে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকতো। একপর্যায়ে ২০২১ সালের প্রথম দিকে কাহিনুর তার একমাত্র সন্তান মুন্নাকে নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে আসে। ছেলে মুন্নাকে বল্লী ইউনিয়নের আমতলা ছিদ্দিকিয়া-বরকতিয়া হেফজোখানা ও এতিমখানায় ভর্তি করা হয়। চলতি বছরে মুন্না ওই প্রতিষ্ঠান থেকে হাফেজ পাস করে। বাপের বাড়িতে আসার পর থেকে কোহিনুর প্রথমে বিনেরপোতার ঢাকা ফুডস ও পরে সাতক্ষীরার একটি বেকারীতে কাজ করতো। তবে আড়াই বছর যাবৎ সে মাসিক আট হাজার টাকা বেতনে কাটিয়া লস্করপাড়ার আব্দুস সোবহানের মালিকানাধীন তালতলার “বিসমিল্লাহ ফুডস” কারখানায় কাজ করতো। তবে ওই কারখানার মালিকের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম তার মেয়ে কোহিনুরের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে গ-গোল করতো।

নিহতের ছেলে মোহাম্মদ মুন্না জানান, বিসমিল্লাহ ফুডস এ কাজ করাকালিন তার মা কোহিনুরকে পাশ^বর্তী আমজাদ হোসেনের স’মিলের এক কর্মচারির সঙ্গে সখ্যতা দেখতে পায়। একপর্যায়ে ওই কর্মচারি তার মায়ের সঙ্গে ছবি তুলে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেন। বর্তমানে তার মায়ের সঙ্গে বিসমিল্লাহ ফুড এর মালিকের স্ত্রী ঋ’শিল্পীর পানির প্লান্টের কর্মী মঞ্জুয়ারা পথিমধ্যে ও কারখানায় যেয়ে বিভিন্ন সময়ে গ-গোল করতো। সোমবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে তার মা কারখানার উদ্দেশ্যে নানার বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। ওইদিন বিকেলে কারখানা মালিকের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম কারখানার মধ্যে ও কারখানার ফটকের সামনে মারপিট করে। মা চলে আসতে চাইলে মালিক তাকে আবার ডেকে কারখানায় নিয়ে যায়। রাতে মা আর বাড়ি ফেরেনি। সোমবার রাত ১১টার দিকে মায়ের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তালতলা এলাকার আব্দুল খালেকের পানিবন্ধি জমি থেকে তার মায়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার মাকে কে বা কারা ফোনে বিরক্ত করতো বলে তিনি কয়েকদিন আগে সিম পাল্টান। বিসমিল্লাহ ফুড এর মালিক আব্দুস সোবহানের সঙ্গে তার মায়ের অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে মালিকের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা খাতুনের বিরোধকে কেন্দ্র করে তার মাকে সোমবার রাতে কারখানা থেকে বাড়ি ফেরার পথে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে।

কোহিনুরের স্বামী পাটকেলঘাটা থানাধীন লাল চন্দনপুরের আবু মুছা জানান, দীর্ঘ ৫ বছরেরর বেশি সময় ধরে কোহিনুর ও ছেলে মুন্না তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে না। সাংবাদিকদের কল্যাণে কোহিনুরের মৃত্যু সম্পর্কে তিনি জানতে পেরেছেন।

তালতলা বিসমল্লিাহ ফুডস এর পাশর্^বর্তী বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের ছেলে ইজিবাইক চালাক আবু হাসান ও জহিরুল ইসলাম জানান, পাশর্^বর্তী স’মিল মালিক আমজাদ হোসেনের ঘর ভাড়া নিয়ে বিসমিল্লাহ ফুডস এর সাতজন কর্মচারি বসবাস করতো। কুশখালি গ্রামের আবু তালেব তার শ্¦শুর আব্দুস সোবহানের মাধ্যমে গত ৫ বছর ধরে “বিসমিল্লাহ ফুডস’ কারখানাটি পরিচালনা করে আসছেন। এক বছর আগে কারখানার নারী কর্মী কোহিনুরের সাথে কারখানার মুল মিস্ত্রী কালিগঞ্জের চম্পাফুল ঢালীপাড়ার আরিফুল ইসলামের বিরোধকে কেন্দ্র করে দ’ুজনকেই ছাটাই করেন আব্দুস সোবহান। দুই মাস পরে তাদেরকে আবারো কাজে ফিরিয়ে আনা হয়। সম্প্রতি কোহিনুরের সাথে সোবহানের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রতি রাতে কাজ শেষে কোহিনুরকে নিজের মটর সাইকেলে করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া ছাড়াও কোহিনুরের সাথে মাঝে মাঝে নিকটবর্তী কোন স্থানে সময় কাটাতেন সোবহান। বিষয়টি জানতে পেরে সোবহানের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম কয়েকবার কারখানায় এসে কোহিনুরকে মারপিট করেছে।

 

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে কারখানায় এসে মালিক সোবহানের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম হঠাৎ করে কোহিনুরকে মারপিট করে চলে যায়। রাত আটটায় ডিউটি শেষে কোহিনুরকে ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে চলে যেতে দেখা যায়। সে তাদের কারখানার শ্রমিকদের ভাড়া বাসার পাস দিয়ে যাওয়ার সময় খুন হতে পারে। অধিক রাতে কোহিনুরের লাশ সেখান থেকে আব্দুল খালেকের পানিবন্ধি জমিতে ফেলে দিয়ে আসা হয়েছে বলে মনে করেন তারা। তবে এ হত্যার সঙ্গে আব্দুস সোবহানের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা খাতুনের হাত থাকতে পারে বলে তারা আশাঙ্কা করছেন।

বিসমিল্লাহ ফুডস এর মিস্ত্রী আরিফুল ইসলাম জানান, তার এক আত্মীয় পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনায় সোমবার নিজ বাড়ি চম্পাফুলে যান। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে কারখানায় ফিরে কোহিনুরের মৃত্যূর খবর পান। বিকেলে কোহিনুরের লাশ মাটি দেওয়া হবে শুনে তার বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনিসহ কয়েকজন শ্রমিক। তবে ভাই ইমরান থানায় অবস্থান করায় মাটি দিতে দেরী হবে বলে তারা চলে আসেন। তবে রাতে বাপের বাড়ির সামনে কোহিনুরকে কবরস্থ করা হয়।

খেলারডাঙা গ্রামের ইমরান হোসেন বলেন, তার বোন কোহিনুরকে কে বা কারা সোমবার রাত ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে হত্যা করে খালেকের জমিতে ফেলে রেখে গেছে।
কোহিনুরকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আব্দুস সোবহান জানান, তার আদি বাড়ি কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুরে। কয়েক বছর আগে তিনি শহরের কাটিয়া লস্করপাড়ায় জমি কিনে বাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরুর পাশাপাশি তালতলায় নিজ প্রতিষ্ঠিত বিসমিল্লাহ ফুডস কারখানা পরিচালনা করেন। কারখানার শ্রমিক কোহিনুরের সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, এ নিয়ে তার স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগমের সঙ্গে বিরোধ হতো। তবে কোহিনুর ও তার ছেলে মুন্নার পড়াশুনায় তিনি সার্বিক সহায়তা করতেন। মঙ্গলবার বিকেল তিনটার দিকে কারখানা থেকে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাজাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে আনে। কোহিনুর হত্যার সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে মঞ্জুয়ারা খাতুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের একজন ডাক্তার জানান, কোহিনুরকে শ^াসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুবর রহমান জানান, কোহিনুরকে শ^াসরোধ করে হত্যার ঘটনায় তার ভাই ইমরান হোসেন বাদি হয়ে কারো নাম উল্লেখ না করে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে থানায় একটি হত্যা মামলা (জিআর-৪১২/২৬, সদর) দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় সন্ধিগ্ধ আসামী হিসেবে বিসমিল্লাহ ফুডস এর মালিক আব্দুস সোবহানকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতের মধ্যেমে জেলখানায় পাঠানো হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমা- আবেদন করা হবে। উপপরিদর্শক শাহাদাৎ হোসেনকে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশ চেষ্টা অব্যহত রেখেছে।

আশাশুনিতে জেলা পরিষদের পুকুর দখলমুক্ত করেছেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে জেলা পরিষদের পুকুর দখলমুক্ত করেছেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে জেলা পরিষদের পুকুর দখলমুক্ত করেছেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে থানার পাশে দীর্ঘদিন দখলকৃত জেলা পরিষদের পুকুর দখল মুক্ত করা হয়।

পুকুর দখল মুক্ত কালে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জেলা পরিষদের পুকুরসহ সরকারি যতগুলো অবকাঠামো, জমি, বিভিন্ন স্থাপনা অন্যের দখলে আছে সেগুলো দখল মুক্ত করে সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এসময় জেলা পরিষদ সার্ভেয়ার আলআমিন বলেন, দখলদার আব্দুস সবুর ৫৫ শতক জায়গার এই পুকুরটি দীর্ঘ ২৫ থেকে ৩০ বছর অবৈধ ভাবে দখল করে আসছিলেন। আজ জেলা পরিষদের সমস্ত কাগজপত্র দেখে শুনে স্ব ইচ্ছায় এই পুকুর জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

এসময় সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাহফুজুর রহমান, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মিঠুন মৈত্র, থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আরিফ, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক স ম হেদায়দুল ইসলাম সহ বিএনপি’র অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

পাইকগাছা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ছাদ ঝুঁকিপূর্ণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
পাইকগাছা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ছাদ ঝুঁকিপূর্ণ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি; খুলনার পাইকগাছায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জরাজীর্ণ ভবনের পলেস্তারা ও ছাদ ধসে পড়ার ঘটনায় বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না করায় ভবনটি বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে আকস্মিকভাবে কোর্টের সিএসআই অফিস কক্ষের পুরাতন ছাদের একটি বড় অংশ বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে। গভীর রাত হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি বা হতাহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলেও এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই দুর্ঘটনাটি যদি দিনের বেলায় আদালত চলাকালীন কিংবা অফিস সময়ে ঘটত, তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ বড় ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হতেন। গত দুই বছর ধরে এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের এজলাস কক্ষের ছাদের নিচে তাবু টানিয়ে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল মামলার নথিপত্র সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

খুলনা জেলা সদর থেকে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পাইকগাছায় তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে ১৯৮৩ সালে এই সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও সিনিয়র সহকারী জজ চৌকি আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ চার দশক পেরিয়ে গেলেও ঐতিহ্যবাহী এই ভবনটির প্রয়োজনীয় সংস্কার বা আধুনিকায়ন করা হয়নি। ফলে ভবনটির বিভিন্ন পিলারে ও দেওয়ালে বড় বড় ফাটল ধরেছে এবং ছাদের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।

পাইকগাছা কোর্টের সিএসআই মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান,গভীর রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটায় বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও আদালত প্রাঙ্গণের সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, যেকোনো মুহূর্তে পুরো ভবন ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানির মতো বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে। তাই বিচারক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী, পুলিশ সদস্য ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি সংস্কার অথবা নতুন আধুনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।