বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

একজন সাংবাদিকের জীবন ও মৃত্যু/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ
একজন সাংবাদিকের জীবন ও মৃত্যু/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সকালের পত্রিকায় আমরা খবর পড়ি। টেলিভিশনের পর্দায় দেখি দুর্ঘটনা, দুর্নীতি, নদীভাঙন, নির্বাচন, কৃষকের কান্না কিংবা কোনো শিশুর সাফল্যের গল্প। কিন্তু খুব কম মানুষই ভাবিÑএই খবরটি কে সংগ্রহ করল? কীভাবে করল? কতটা ঝুঁকি নিয়ে করল? সংবাদটি ছাপা হওয়ার আগের গল্পটি সাধারণত অদৃশ্যই থেকে যায়। অথচ সেই অদৃশ্য গল্পের কেন্দ্রে থাকেন একজন সাংবাদিকÑযার জীবন সংগ্রামের, দায়বদ্ধতার, অনিশ্চয়তার এবং প্রায়শই নীরব আত্মত্যাগের। সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্য।

 

আর সত্যের পথ কখনোই সহজ নয়। একজন সাংবাদিক যখন কলম ধরেন, তখন তিনি কেবল একটি পেশার দায়িত্ব পালন করেন না; তিনি রাষ্ট্র, সমাজ এবং মানুষের কাছে একটি নৈতিক অঙ্গীকার করেন। সেই অঙ্গীকারের মূল্য কখনো চাকরি হারিয়ে, কখনো মামলা মাথায় নিয়ে, কখনো হামলার শিকার হয়ে, আবার কখনো জীবন দিয়েও পরিশোধ করতে হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের মফস্বল সাংবাদিকদের জীবন আরও কঠিন।

 

রাজধানীর আলো থেকে দূরে, সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে, প্রায় নামমাত্র সম্মানীতে তারা প্রতিদিন মানুষের কথা তুলে ধরেন। কোথাও নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানো কৃষকের আর্তনাদ, কোথাও চিংড়িঘেরে বিষপ্রয়োগ, কোথাও বন উজাড়, কোথাও দুর্নীতিÑএসব খবর তারাই প্রথম তুলে আনেন। অথচ তাদের অধিকাংশের নেই নিয়মিত বেতন, স্বাস্থ্যবিমা, জীবনবিমা কিংবা পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের একজন সাংবাদিকের দিন শুরু হয় ভোরে, শেষ হয় গভীর রাতে। একটি মোটরসাইকেল, একটি ক্যামেরা, একটি মোবাইল ফোন আর সত্যের প্রতি অটল বিশ্বাসÑএই সম্বল নিয়েই তিনি ছুটে বেড়ান।

 

বর্ষার কাদা, প্রখর রোদ, ঝড়-বৃষ্টি কিংবা গভীর রাতÑকোনো কিছুই তার পথ রোধ করতে পারে না। কারণ তিনি জানেন, তিনি না গেলে হয়তো ঘটনাটি আর কেউ দেখবে না। এই ছুটে চলার পথেই লুকিয়ে থাকে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। বাংলাদেশে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। সেই তালিকায় সাংবাদিকও আছেন। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে, কোনো ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ছুটতে গিয়ে কিংবা গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে অনেক সাংবাদিক দুর্ঘটনার শিকার হন। তাদের মৃত্যু খুব বেশি আলোচিত হয় না।

 

কয়েক দিন শোক, কিছু স্মৃতিচারণ, তারপর নীরবতা। কিন্তু যে পরিবার একজন উপার্জনক্ষম মানুষকে হারায়, তাদের কাছে সেই শোক সারাজীবনের। এই বাস্তবতার একটি বেদনাদায়ক প্রতীক হয়ে আছেন আশাশুনির সাংবাদিক মু. বাহাবুল হাসনাইন বাবুল। তিনি শুধু একজন সাংবাদিক ছিলেন না; ছিলেন একজন আলোকচিত্রী, উদ্যোক্তা এবং মানুষের আস্থার ঠিকানা। একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার পর জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান।

 

তার মৃত্যু আমাদের শুধু একজন মানুষকে হারানোর বেদনা দেয়নি; মনে করিয়ে দিয়েছে, মফস্বলের সাংবাদিকরা কতটা অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করেন। সাংবাদিকের কাজ শুধু সংবাদ লেখা নয়; সমাজের আয়না হওয়া। যখন কোনো অসহায় মানুষ বিচার পান না, তখন সাংবাদিকের প্রতিবেদন তার পক্ষে কথা বলে। যখন কোনো দুর্নীতি আড়াল করার চেষ্টা হয়, তখন সাংবাদিকের অনুসন্ধান সত্যকে সামনে আনে। যখন কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে, তখন সাংবাদিকের ক্যামেরা রাষ্ট্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

 

এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি অনেক সময় একা হয়ে পড়েন। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে অনেকেই মনে করেন, মোবাইল ফোনে ভিডিও করলেই সাংবাদিকতা হয়ে যায়। বাস্তবতা ভিন্ন। প্রকৃত সাংবাদিকতা মানে তথ্য যাচাই, উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়া, জনস্বার্থ বিবেচনা করা এবং সত্যের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা। গুজব ছড়ানো সহজ; সত্য প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। আর সেই কঠিন কাজটিই করেন প্রকৃত সাংবাদিক। কিন্তু প্রশ্ন হলোÑআমরা কি সাংবাদিকদের প্রাপ্য সম্মান দিই? আমরা কি ভাবি, যিনি আমাদের জন্য ঝুঁকি নেন, তার নিজের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত?

 

দুর্ঘটনায় আহত হলে তার চিকিৎসার দায়িত্ব কে নেবে? মৃত্যুর পর তার সন্তানের পড়াশোনা কীভাবে চলবে? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।বাংলাদেশে সাংবাদিকদের জন্য একটি শক্তিশালী কল্যাণ তহবিল, বাধ্যতামূলক জীবনবিমা এবং স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থা সময়ের দাবি। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের নিরাপদ যাতায়াত, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং ন্যায্য সম্মানী নিশ্চিত করা জরুরি। সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোরও উচিত মাঠে কাজ করা সাংবাদিকদের শুধু সংবাদদাতা হিসেবে নয়, প্রতিষ্ঠানের মূল শক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করা। সমাজেরও একটি দায়িত্ব রয়েছে।

 

আমরা প্রায়ই সাংবাদিকদের সমালোচনা করি, কিন্তু তাদের শ্রমকে মূল্যায়ন করি না। ভুল হলে সমালোচনা অবশ্যই হবে, কিন্তু সৎ সাংবাদিকতার প্রতি সম্মানও থাকতে হবে। কারণ একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ছাড়া কোনো গণতান্ত্রিক সমাজ টিকে থাকতে পারে না। একজন সাংবাদিক যখন মৃত্যুবরণ করেন, তখন তার ডেস্কে হয়তো অসমাপ্ত একটি প্রতিবেদন পড়ে থাকে, ক্যামেরায় থেকে যায় কিছু অপ্রকাশিত ছবি, ডায়েরিতে লেখা থাকে নতুন অনুসন্ধানের পরিকল্পনা।

 

মৃত্যু তার জীবন থামিয়ে দেয়, কিন্তু তার স্বপ্ন থামাতে পারে না। সেই স্বপ্ন বেঁচে থাকে সহকর্মীদের মধ্যে, নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের মধ্যে এবং সমাজের বিবেকের মধ্যে। সত্যিকার অর্থে একজন সাংবাদিকের পরিচয় তার পদবিতে নয়, তার সততায়। তিনি কত বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন, সেটি নয়; তিনি কতটা নির্ভীকভাবে সত্য লিখেছেন, সেটিই ইতিহাস মনে রাখে।আজ যখন আমরা কোনো প্রয়াত সাংবাদিককে স্মরণ করি, তখন শুধু একজন ব্যক্তিকে স্মরণ করি না; আমরা স্মরণ করি একটি মূল্যবোধকে। সেই মূল্যবোধের নামÑসত্য, সাহস, মানবিকতা এবং দায়বদ্ধতা।

 

সাংবাদিকের মৃত্যু আমাদের কাঁদায়। কিন্তু তার জীবন আমাদের শেখায়Ñসত্যের পথে চলা কখনো সহজ নয়, তবুও সেই পথ ছাড়া সভ্য সমাজের আর কোনো বিকল্প নেই। তাই এখন সময় এসেছে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবার। শোককে নীতিতে, শ্রদ্ধাকে কর্মে এবং স্মৃতিকে দায়িত্বে রূপান্তর করতে হবে। কারণ একটি কলম থেমে গেলে শুধু একজন মানুষ হারিয়ে যান না; সমাজ হারায় তার প্রশ্ন করার সাহস, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি এবং সত্যের প্রতি আস্থা। শেষ পর্যন্ত মানুষ নয়, তার কর্মই বেঁচে থাকে।

 

একজন সৎ সাংবাদিকের কলম হয়তো একদিন থেমে যায়, কিন্তু তার লেখা সমাজের বিবেককে জাগিয়ে রাখে। সংবাদপত্রের হলুদ হয়ে যাওয়া পাতায়, মানুষের স্মৃতিতে এবং ইতিহাসের নীরব অধ্যায়ে তিনি বেঁচে থাকেন। একজন সাংবাদিকের জীবন তাই কেবল পেশার গল্প নয়; এটি দায়িত্ব, ত্যাগ, সাহস এবং মানবিকতার এক অনন্ত কাব্য। আর তার মৃত্যু আমাদের কাছে একটি প্রশ্ন রেখে যায়Ñযারা প্রতিদিন আমাদের জন্য সত্য খুঁজে বেড়ান, তাদের জন্য আমরা কী করেছি?

লেখক: সংবাদকর্মী

 

Ads small one

শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির উদ্বোধন

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার সকালে উপজেলার হায়বাতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জামান কনক।
এ সময় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক, শ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি দীনেশ চন্দ্র মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান লাভলুসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আগে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দেশব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিতরণ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়।

সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পর্যবেক্ষণ ও তীব্র জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে ‘জলবায়ু শিক্ষা বিনিময় পরিদর্শন সিরিজ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে শহরের ইটাগাছা পশ্চিমপাড়ার জলমগ্ন এলাকায় এই কর্মসূচি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘হেড’-এর উদ্যোগে ‘কমিউনিটি অ্যাকশন ফর ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করে ‘সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন’ ও ‘ক্লাইমেট জাস্টিস রেজিলিয়েন্স ফান্ড’।
ইটাগাছা পশ্চিমপাড়ার জলমগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ফেরদৌসী আরা ময়না। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আলী নূর খান বাবুল। তিনি বলেন, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব ও প্রাকৃতিক জলাধার ভরাটের কারণে ইটাগাছাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা আজ জলমগ্ন। এ সময় তিনি দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবি পেশ করেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে পরিকল্পিত মাছ চাষ নিশ্চিত করা। জলবায়ু ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া। ইটাগাছা পশ্চিমপাড়াসহ সব নি¤œাঞ্চলে টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। প্রাকৃতিক জলাশয় সংস্কার ও অবৈধ দখলমুক্ত করা। কমিউনিটি ভিত্তিক জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা শরীফা ও রওশন আরা বলেন, বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার কারণে বসতবাড়িতে পানি উঠে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।
এর আগে সকালে শহরের কাটিয়া এলাকায় হেডের প্রধান কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হেডের নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন বলেন, তরুণ প্রজন্ম ও স্থানীয় কমিউনিটিকে সঙ্গে নিয়ে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় টেকসই অভিযোজন কৌশল তৈরি করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। সভায় সিনিয়র সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সংস্থার ইয়ুথ টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

শ্যামনগরে তিন বেকারিতে জরিমানা, একটির উৎপাদন বন্ধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে তিন বেকারিতে জরিমানা, একটির উৎপাদন বন্ধ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নি¤œমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার রাখার দায়ে তিনটি বেকারিকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে একটি বেকারির উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শ্যামনগর সদর ও নূরনগর বাজারে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুজ্জামান কনক।
আদালত সূত্র জানায়, অভিযানকালে শ্যামনগর বাজারের নিউ সুন্দরবন বেকারিকে ১০ হাজার টাকা, রয়্যাল ফুডস বেকারিকে ১০ হাজার টাকা এবং নূরনগর বাজারের সোনার বাংলা বেকারিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় রয়্যাল ফুডস ও সোনার বাংলা বেকারিতে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ নি¤œমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সোনার বাংলা বেকারির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে এ ধরনের তদারকিমূলক অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।