শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

শ্যামনগরের বিভিন্ন নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৮ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরের বিভিন্ন নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের খোলপাটুয়া ও কপোতাক্ষ নদে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দিন-রাত সমানতালে একাধিক বাল্কহেড ও নৌকায় করে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর নাব্যতা, তীরবর্তী এলাকা ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নদীতে বালু উত্তোলনের কাজ চলে। বালুভর্তি বাল্কহেড ও নৌযান বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিনই নদী থেকে প্রকাশ্যে বালু তোলা হচ্ছে। রাতের বেলাতেও একইভাবে বাল্কহেড চলাচল করে। আমরা প্রশাসনের কাছে একাধিকবার বিষয়টি জানিয়েছি, কিন্তু এখনো কার্যকর ব্যবস্থা দেখতে পাইনি।”

আরেকজন স্থানীয় বলেন, “এভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে নদীর তীর ভাঙন বাড়বে, কৃষিজমি ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়বে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা প্রয়োজন।”

পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, অনুমতি ছাড়া নদী থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী নৌ থানার অফিসার ইনর্চাজ ওহিদুজ্জামান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নৌ পুলিশ প্রতিনিয়ত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তবে রাতের আধারে, আমাদের অজানতে হয়তো অবৈধ ভাবে বালু উঠছে কি না নৌ পুলিশের জানার বাহিরে। তিনি আরো বলেন, বুড়িগোয়ালিনী নৌ পুলিশের অভিযানে মাঝে মধ্যে বালুর নৌকা জব্দ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে, ভ্রাম্যমাণ আদালত করে জেল জরিমানা করা হয়ে থাকে। তবে নৌ পুলিশ কে সঠিক তথ্য দিলে সাথে সাথে অভিযান করে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

গাবুরা ইউনিয়নের সাইফুল ইসলাম বলেন, মাঝে মধ্যে দেখা যায়, নীলডুমুর বিজিবির অভিযানে বালু উত্তোলন করা বাল্কহেডসহ বালু খাদকদের আটক করা হয়।

তবে স্থানীয়রা দ্রুত তদশ্ল করে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Ads small one

পাইকগাছায় আঁশফলের বাম্পার ফলন; বাজারে চাহিদা প্রচুর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় আঁশফলের বাম্পার ফলন; বাজারে চাহিদা প্রচুর

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): লিচুর মৌসুম শেষ হলেও এখন লিচুর মতো স্বাদের আঁশফল নামে এক ধরনের ফল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। আঁশফল এক প্রকার লিচু জাতীয় সু-স্বাদু ফল। অনেকের কাছে এটি কাঠলিচু বা লংগান নামে পরিচিতি। এই ফল থোকায় থোকায় লিচুর মতোই ঝুলে থাকে গাছে। এটি দেখতেও অনেকটা লিচুর মতো গোলাকার। তবে আকারে ছোট এবং এর রসাল অংশ খুবই কম।

আঁশফল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ফল। একে বলা হয় গরীবের লিচু। ফল গোল আকারের, শাঁস সাদা, খুব রসালো ও মিষ্টি। এক সময় দেশেএই আঁশফল খেয়ে আষাঢ় উদযাপন করেছে বাঙালি। আপেল, কমলা, আঙ্গুর, লিচুতে আশক্ত হয়ে এই ফলটির কদর হারিয়েছে। স্থানীয় জাতের এই ফলটির গুণগতমান তেমন একটা ভাল না হওয়ায় এর কদর কমলেও উন্নত জাতের আঁশফলের চাহিদা বেড়েছে।

বর্তমানে বাজারে এর কদর বাড়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীরাও লাভবান হচ্ছে। উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়ানের কাঠিপাড়া বাজারে প্রতিদিন ভোর বেলা আঁশফল বা কাঠ লিচুর পাইকারি হাট বসে। ব্যবসায়ীরা হাট থেকে আঁশফল কিনে উপজেলার বিভিন্ন হাট ও পাশের জেলাসহ ঢাকা শহরে সরবরাহ করছে।

আঁশফল লিচু পরিবারের একটি সদস্য। ফলের উপেরভাগ মিশ্রণ, ফলের রং বাদামি, আকার গোল। লিচুর চেয়ে অনেক ছোট হলেও ফলের শাঁস অবিকল লিচুর মত। ফল খেতে লিচুর মত বা লিচুর চেয়েও মিষ্টি। ফলের শাঁস সাদা চকচকে। আঁশফলের বিজ গোলাকার চকচকে কালো এবং শাঁস বীজকে আবৃত করে রাখে। যা সহজে আলাদা করা যায়।

পাইকগাছায় আঁশফলের ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে চাহিদা ও ভালো মুল্য থাকায় বাগান মালিকরা লাভবান হচ্ছে। তবে বাদুরের উপদ্রব থেকে আঁশফল রক্ষা করতে ব্যবসায়ীরা হিমশিম খাচ্ছে। আঁশফল রক্ষার জন্য প্রায় প্রতিটি গাছ নেট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ আঁশফল বেশ কিছু উন্নত মানের জাত প্রবর্তনের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করেছে। দেশে বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে এ গাছ প্রচুর দেখা যায়। এটি দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার উদ্ভিদ। যা ক্রাশ্লীয় অঞ্চলের বৃক্ষ।

 

আঁশফল গাছ মধ্যমাকারের চিরসবুজ বৃক্ষ। যা ৬ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। বেলে মাটিতে এই গাছ ভালো জন্মে।
চলতি মৌসুমে উপজেলার গদাইপুর, রাড়ুলী, হরিঢালী ও কপিলমুনি ইউনিয়নে ছড়ানো ছিটানো আঁশফলের গাছ রয়েছে। বাজারে একশটি আঁশফল ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এলাকার এক একটি আঁশফল গাছ পাইকারী ৮শ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

আঁশফল ব্যবসায়ী উপজেলার মঠবাটী গ্রামের আলাউদ্দীন জানান, আঁশফল পাঁকা শুরু হলে তাড়াতাড়ি না পাড়লে ঝরে পড়ে। তাছাড়া বাদুর একবার টের পেলে দল বেঁধে এক রাতেই সব ফল খেয়ে সাবাড় করে ফেলে। এ জন্য আঁশফল গাছে নেট দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে বাদুরের হাত থেকে রেহায় পেতে। আঁশফল প্রায় আগস্ট মাস পর্যন্ত পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন জানান, আঁশফল পুষ্টিকর ফল। এলাকায় আঁশফলের গুণগতমান খুব বেশি ভাল না হলেও হাইব্রিড জাতের আঁশ ফলের মান অনেকটা ভালো। ফল বেশ বড় ও চাহিদা রয়েছে প্রচুর। পরিত্যাক্ত জায়গায় আঁশফলের আবাদ করা যায় এবং কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। এ জন্য এলাকার কৃষকদেরকে আঁশফল গাছের চারা লাগাতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

 

তালার ধুলন্ডা গ্রামে মূল্যবান গাছ কাটার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১:৪৩ অপরাহ্ণ
তালার ধুলন্ডা গ্রামে মূল্যবান গাছ কাটার অভিযোগ

তালা প্রতিনিধি: ‎তালার ধুলন্ডা গ্রাম থেকে অবৈধ ভাবে গাছ কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অর্ধলক্ষাধিক টাকা মূল্যের গাছটি জেঠুয়া বাজারে বিক্রিকালে সংবাদ পেয়ে গাছের মালিক তা আটক করেন। এঘটনায় গাছ মালিক আ.ব.ম. খুরশিদুর জামান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।

 

উপজেলার ধুলন্ডা গ্রামের মৃত, জমির উদ্দীন আহম্মাদ’র ছেলে আ.ব.ম খুরশিদুর জামান জানান, তাদের বাড়িতে বসবাস করার মতো তেমন লোকজন না থাকায় প্রতিবেশি আছাদ শেখ বিভিন্ন সময়ে জমি দখল চেষ্টা, গাছপালা কেটে নেয়া, বাড়ি-ঘর থেকে জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়া সহ নানান উৎপাত করে আসছে। এবিষয়ে তাকে বারবার নিষেধ করলেও তিনি তা অমান্য করে গোপনে নানান উৎপাত করে। এরমধ্যে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে পিতা মৃত, জমির উদ্দীন আহম্মাদ’র রোপন করা অর্ধ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি বড় মেহগনি গাছ আছাদ শেখ কেটে নেয়।

 

পরে ওই গাছটি জেঠুয়া বাজারে কাঠ ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রিকালে জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সহযোগীতায় সেটি আটকানো হয়। এঘটনায় অবৈধভাবে গাছ কাটার অভিযোগে আছাদ শেখসহ নেহালপুর গ্রামের শবুজ মোড়ল, জুয়েল খাঁ এবং জেঠুযা বাজারের সিরাজুল ইসলাম সরদারের বিরুদ্ধে তালা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। উক্ত আছাদ শেখ বিভিন্ন সময়ে গাছ কাটা ও জমি দখল চেষ্টাসহ মারপিট করে মানুষকে আহত করে বলে খুরশিদুর জামান জানান।

‎এবিষয়ে তালা থানার ওসি (তদশ্ল) মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গাছ কেটে নিয়ে যাবার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। গাছটি জেঠুয়া বাজারে জব্দ করা আছে। এবিষয়ে তদশ্ল চলছে এবং তদন্ত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

উপকূলীয় প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ধসে পড়া বেড়িবাঁধে জিও রোল স্থাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
উপকূলীয় প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ধসে পড়া বেড়িবাঁধে জিও রোল স্থাপন

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নীলডুমুর উত্তরপাড়া এলাকার উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধের প্রায় ২০ ফুটজুড়ে আকস্মিক ধস নামায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গত বুধবার (১ জুলাই) গভীর রাতে এ ধসের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ধসের কারণে বেড়িবাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জোয়ারের পানির চাপে ধস আরও বিস্তৃত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

ধসের খবর পেয়ে উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তাৎক্ষণিকভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

উপকূলীয় প্রেসক্লাবের উদ্যোগ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের দ্রুত সাড়ার ফলে শুক্রবার সকালে ধসে পড়া অংশে (জিও রোল) ফেলে প্রাথমিকভাবে ভাঙন রোধের কাজ শুরু করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় উপকূলীয় প্রেসক্লাব ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটি একটি জরুরি উদ্যোগ। তবে স্থায়ীভাবে বাঁধ সংস্কার করা না হলে ভবিষ্যতে আবারও বড় ধরনের ভাঙনের ঝুঁকি থেকে যাবে। তাই দ্রুত টেকসই সংস্কারকাজ বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।

 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, ধসে পড়া অংশ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।