শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩

পাইকগাছার বোয়ালিয়া বিএডিসি খামারে মাটির স্বাস্থ্য ও গুণাগুণ রক্ষায় ধৈঞ্চার চাষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৩:০২ অপরাহ্ণ
পাইকগাছার বোয়ালিয়া বিএডিসি খামারে মাটির স্বাস্থ্য ও গুণাগুণ রক্ষায় ধৈঞ্চার চাষ

প্রকাশ ঘোষ বিধান; পাইকগাছা: মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জৈব সবুজ সার উৎপাদনে পাইকগাছার বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারে ধৈঞ্চার আবাদ করা হয়েছে। মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধৈঞ্চা একটি অত্যন্ত কার্যকরী ও উপকারী সবুজ সার। এটি মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে, ক্ষতিকর রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমায় এবং এর শিকড়ে থাকা নডিউল প্রাকৃতিকভাবে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে। মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জৈব সার উৎপাদনে খামারে ধৈঞ্চার আবাদ করা হয়।

মাটির প্রাকৃতিক উর্বারতা বাড়াতে জৈব সারের বিকল্প নেই। সবুজ সার হিসাবে খ্যাত ধৈঞ্চা গাছ মাটির সঙ্গে মিশে উর্বাতরা শক্তি বৃদ্ধি করে। একই মাটিতে বারবার আবাদ করার ফলে মাটির শক্তি হ্রাস পায়। ধৈঞ্চার সবুজ চারা গাছ মাটির সঙ্গে চাষ করে মিশিয়ে দিলে মাটি তার পূর্ণশক্তি ফিরে পায়। মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ধৈঞ্চা চাষের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি একটি সবুজ সার, যা মাটির উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করে।

ভিয়েতনাম জাতের এসব ধঞ্চা গাছের শিকড়, কান্ড এবং পাতার নিচে ছোট ছোট দানার মতো গঠন তৈরি হয়। এগুলোকে নডিউল বলা হয়। ধঞ্চা গাছ বাতাসের নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে এসব নডিউলে জমা রাখে। এ জন্য ধইঞ্চা গাছ মাটিতে মিশিয়ে দিলে সেই জমিতে ইউরিয়া সারের অভাব দূর হয়। এ ছাড়া ধইঞ্চা গাছের সবুজ পাতা ও কান্ড মাটিতে পচে জৈব সারের ঘাটতি পূরণ করে। এ জন্য এটাকে সবুজ সার হিসেবে গণ্য করা হয়। ধৈঞ্চা গাছ মাটিতে মেশানোর ফলে মাটির ভৌত, রাসায়নিক এবং জৈবিক গুণাগুণ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, ধৈঞ্চা বায়ু থেকে নাইট্রোজেন শোষণ করে মাটিতে যুক্ত করে, যা উদ্ভিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান।

খামার সূত্রে জানা গেছে, মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জৈব সার প্রয়োগ করতে প্রতি বছর খামারের চাষের জমিতে ধৈঞ্চার আবাদ করা হয়। প্রতি বছরের মত এ বছর পাইকগাছার বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারে ৬৫ একর জমিতে ধৈঞ্চার আবাদ হয়েছে। ধৈঞ্চা সবুজ সার হিসাবে খ্যাত। বৃষ্টি শুরু হলে জমিতে প্রাকৃতিক সবুজ বাড়াতে খামারে ধৈঞ্চার বীজ বপন করা হয়। দেড় থেকে পৌনে ২ মাস পর ধৈঞ্চার সবুজ গাছ ৩ থেকে ৪ ফুট উচু হলে চাষ করে ধৈঞ্চা গাছ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়।

বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারের সিনিয়র সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ নাহিদুল ইসলাম জানান, ধৈঞ্চার গাছ সবুজ সার হিসাবে খ্যাত। মাটিতে জৈব সার বৃদ্ধিতে ধৈঞ্চা গাছের বিকল্প নেই। ধৈঞ্চা গাছ মাটিতে মিশে উর্বারতা বৃদ্ধি করে। জমিতে সার, কিটনাশক কম লাগে এবং রোগ বালাই ও পোকা মাকড়ের আক্রমণও কম থাকে। এতে করে ফসল উৎপাদনে খরচ কম হয়।

তিনি আরোও বলেন, বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারে মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ধৈঞ্চা চাষ করা হয়। মূলত, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও জৈব সার উৎপাদনের উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ৬৫ একর জমিতে ধৈঞ্চা চাষ করা হচ্ছে, যা মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এটা একটা উত্তম পদ্ধতি। মাটির গুণগত মান বজায় রাখার জন্য জৈব সারের বিকল্প নেই।

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় মাদক ও ভারতীয় পণ্য আটক, গ্রেপ্তার ১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় মাদক ও ভারতীয় পণ্য আটক, গ্রেপ্তার ১

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে একটি কাভার্ড ভ্যানে অভিযান চালিয়ে মাদক, ভারতীয় ওষুধ ও বিড়ি জব্দ করেছে র‌্যাব-৬। এ সময় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্যামনগর উপজেলার মথুরাপুর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. আব্দুল মজিদ শেখ (৩৬)। র‌্যাব জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় মাদক ও চোরাচালানি পণ্য এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতেন।

র‌্যাব-৬ সাতক্ষীরা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার জায়েন উদ্দিন মোহাম্মদ জিয়াদ বলেন, এ ঘটনায় উদ্ধার করা আলামতসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় শ্যামনগর থানায় মামলা করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সাতক্ষীরার গড়েরকান্দা ও ইটাগাছায় মাদক কারবারিদের ৩ দিনের মধ্যে এলাকা ছাড়ার আল্টিমেটাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার গড়েরকান্দা ও ইটাগাছায় মাদক কারবারিদের ৩ দিনের মধ্যে এলাকা ছাড়ার আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় মাদকের নীল দংশন থেকে তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে এবার সশরীরে মাঠে নেমেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মাদক চক্রের দুই হোতাকে তিন দিনের মধ্যে এলাকা ছাড়ার চূড়ান্ত সময়সীমা (আল্টিমেটাম) বেঁধে দিয়েছেন তারা।

শুক্রবার (৩ জুলাই ২০২৬) জুমার নামাজ শেষে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গড়েরকান্দা ও ইটাগাছা সম্মিলিত জামে মসজিদের সামনে এই নজিরবিহীন মাদকবিরোধী বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন শত শত সাধারণ মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দা।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা দুই নারীর নাম উল্লেখ করে বলেন, ঐ দুই নারী দীর্ঘদিন ধরে গড়েরকান্দা ও ইটাগাছা এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদকের রমরমা কারবার চালিয়ে আসছেন। এই মাদক সিন্ডিকেটের কারণে ধ্বংসের মুখে পড়ছে এলাকার যুবসমাজ, বাড়ছে চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই দুই মাদক কারবারির বিরুদ্ধে একাধিকবার প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানানো হলেও কোনো এক অদৃশ্য ইশারায় তারা বরাবরই পার পেয়ে গেছেন। কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সামাজিক প্রতিরোধের ডাক দিতে বাধ্য হয়েছেন এলাকাবাসী। সমাবেশ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, আগামী তিন দিনের মধ্যে সব ধরনের মাদক ব্যবসা বন্ধ করে এলাকা না ছাড়লে আরও কঠোর সামাজিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিক্ষোভ সমাবেশে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বলেন, “”মাদকের বিষাক্ত ছোবল আমাদের সন্তানদের শেষ করে দিচ্ছে। প্রশাসন যখন নির্বিকার, তখন সমাজকে রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে।”

এদিকে বিক্ষোভ চলাকালেই এলাকায় মাদক কিনতে এসে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এক তথাকথিত ‘ভদ্রলোক’। স্থানীয়দের দাবি, সাতক্ষীরা চালতেতলা বাজারের ‘ব্যস্ত ডাক্তার’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি ওই এলাকায় মাদক কিনতে এলে সাধারণ জনতা তাকে হাতেনাতে আটক করে। এ সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনির শিকার হন তিনি। পরে তাকে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা বলেন, গড়েরকান্দা ও ইটাগাছাকে যেকোনো মূল্যে মাদক, সন্ত্রাস ও সব ধরনের অপরাধমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে তারা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে ঠুঁটো জগন্নাথের ভূমিকা ভেঙে অবিলম্বে এই মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর দাবি জানান।

অভিযুক্ত নারীদের বাড়িতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, স্থানীয়দের এই আল্টিমেটাম এবং মাদক কিনতে এসে মারধরের শিকার হওয়ার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

 

সোনালী ব্যাংকের পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা দিল জাতীয়তাবাদী ব্যাংকারস এসোসিয়েশন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
সোনালী ব্যাংকের পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা দিল জাতীয়তাবাদী ব্যাংকারস এসোসিয়েশন

পত্রদূত ডেস্ক: জাতীয়তাবাদী ব্যাংকারস এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (জেবিএবি) সাতক্ষীরা অঞ্চলের উদ্যোগে সোনালী ব্যাংক পিএলসি ২০২৬ সালে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১ টায় সাতক্ষীরা শহরের তুফান কনভেনশন হল লেক ভিউ ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংক পিএলসির সাতক্ষীরা প্রিন্সিপাল অফিসের ডিজিএম ইনচার্জ এ কে এম ফারুক ফয়সল। সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী ব্যাংকা’রস এসোসিয়েশন সাতক্ষীরা অঞ্চলের সভাপতি ও সোনালী ব্যাংক পিএলসি প্রিন্সিপাল অফিস সাতক্ষীরার এজিএম শেখ সালাউদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংক পিএলসির সাতক্ষীরা অফিসের এজিএম মো. রবিউল ইসলাম, এসপিও মো. ফরহাদ হুসাইন। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাতীয়তাবাদী ব্যাংকারস এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি আশুতোষ দাশ, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আবু সিদ্দিক প্রমুখ।

সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সোনালী ব্যাংক পিএলসি সাতক্ষীরা কামাননগর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার ও জাতীয়তাবাদী ব্যাংকারস এসোসিয়েশন সাতক্ষীরা অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল হোসেন। এসময় জাতীয়তাবাদী ব্যাংকার’স এসোসিয়েশন সাতক্ষীরা অঞ্চলের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বলেন, পদোন্নতি শুধু মর্যাদা নয়, এটি দায়িত্বও বাড়িয়ে দেয়। গ্রাহকসেবার মান উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের সুনাম আরও সমুন্নত রাখতে সবাইকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে ২০২৬ সালে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা প্রদান করেন অতিথিবৃন্দ।