কাজী রওশন আলমের বিরুদ্ধে জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিনিধি: বাল্যবিয়ে ও ভুয়া বিয়ে রেজিস্ট্রির অভিযোগসহ নানা বিতর্কিত কর্মকা-ে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে কাজী রওশন আলমের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এসহাক সরদারের ছেলে আতিয়ার রহমান জেলা রেজিস্ট্রার হাফিজা হাকিম রুমার কাছে এই লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২০ মার্চ আতিয়ার রহমানের ভাই মফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী ফাতেমা নার্গিসের আইনি বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১ আগস্ট ফাতেমা নার্গিস এক সংবাদ সম্মেলনে মফিজুরকে প্রাক্তন স্বামী বলে উল্লেখ করলেও ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর আগের তালাক বাতিলের দাবি তোলেন। ২০২৪ সালের ২৭ জানুয়ারি মফিজুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ওই বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি ফাতেমা নার্গিস অন্যান্য প্রকৃত ওয়ারিশদের বাদ দিয়ে ভুয়া উত্তরাধিকার সনদ সংগ্রহ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, মফিজুরের মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ফাতেমা নার্গিস দাবি করেন যে প্রথম তালাকের মাত্র এক মাস তিন দিন পর, অর্থাৎ ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি কাজী রওশন আলমের মাধ্যমে তাঁদের পুনরায় বিয়ে হয়।
ঘটনাটির বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে রওশন আলম সাক্ষাৎ না করে টালবাহানা শুরু করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর ছেলে সোহাগ কাজী রওশন আলমের বাড়িতে গেলে তিনি ভাড়াটে লোকজন দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
যোগাযোগ করা হলে কাজী রওশন আলম বিষয়টি স্পষ্ট না করে জানান, বিতর্কিত ওই বিয়ে তিনি রেজিস্ট্রি করেছেন কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলবেন না।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাজী রওশন আলমের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে বাল্যবিয়ে দেওয়া ও ভুয়া নিবন্ধনের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ভুয়া ও বাল্যবিয়ে নিবন্ধনের অভিযোগে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবাস ভোগ করেছেন। ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল ভুয়া বিয়ে সম্পাদনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েও তিনি কারাগারে ছিলেন।
সাতক্ষীরা জজকোর্টের এক আইনজীবী সহকারী জানান, রওশন আলমের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে তাঁর ভুয়া লেজার বই সংরক্ষণ করা হয়। তিনি আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে শুধু স্বাক্ষর করেন। পরবর্তীতে কোনো আইনি জটিলতা তৈরি হলে নিজের সিল ও স্বাক্ষর অস্বীকার করে এড়িয়ে যান। একেক সময় একেক ধরনের স্বাক্ষর ব্যবহার করায় আইনিভাবে তাঁর অপরাধ প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা বিবাহ রেজিস্ট্রার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজিবুল ইসলাম জানান, কাজী রওশন আলমকে বারবার সতর্ক করার পরও তিনি সংশোধন হননি।
সাতক্ষীরা জেলা রেজিস্ট্রার হাফিজা হাকিম রুমা জানান, কাজী রওশন আলমের বিরুদ্ধে মৌখিক অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া মাত্রই তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।









