মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

তালায় দলিত জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সরকারি পরিষেবায় অভিগম্যতা বিষয়ক পরামর্শ সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
তালায় দলিত জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সরকারি পরিষেবায় অভিগম্যতা বিষয়ক পরামর্শ সভা

তালা প্রতিনিধি: নাগরিক পরিষেবায় দলিত জনগোষ্ঠীর অভিগম্যতা বৃদ্ধি ও বৈষম্য লাঘবের লক্ষ্যে তালা উপজেলায় একটি পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তালা উপজেলা প্রাণিসম্পদ প্রশিক্ষণ কক্ষে এনজিও ‘নাগরিক উদ্যোগ’-এর আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
‘মানবাধিকার সুরক্ষা ও সহায়তার মাধ্যমে দলিত ও সামাজিকভাবে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচন ও বিদ্যমান বৈষম্য লাঘব’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন দলিত নেত্রী সোমা সরকার। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা।
নাগরিক উদ্যোগের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর জুয়েল সরকারের পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আরিফুরজামান ও তালা সদর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাংবাদিক জুলফিকার রায়হান, নাগরিক উদ্যোগের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর পলাশ হালদার, বিডিইআরএম-এর জেলা সভাপতি দিলিপ দাস, সমন্বয়কারী জয়ন্তী রানী মন্ডল, স্থানীয় দলিত নেত্রী স্বরসতী দাস ও সুমিত্র সরকার।
সভায় সরকারি পরিষেবায় দলিত জনগোষ্ঠীর প্রবেশাধিকার বাড়ানো, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সাথে সমন্বয় জোরদার করা, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জন্য স্থায়ী সরকারি কবরস্থান নির্মাণ, সুপেয় পানির নিশ্চয়তা এবং দলিত অধ্যুষিত এলাকায় ড্রেনেজ ও রাস্তাঘাটের উন্নয়নের দাবি জানানো হয়।

Ads small one

সম্পাদকীয়/গ্রামীণ শিক্ষা ও আলো ছড়ানোর অনন্য বাতিঘর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/গ্রামীণ শিক্ষা ও আলো ছড়ানোর অনন্য বাতিঘর

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি গ্রামে কপোতাক্ষ নদের তীরে ১৯৮৮ সালে গড়ে ওঠা ‘খান নাজমুল পাবলিক লাইব্রেরি’ কেবল একটি বইয়ের ঘর নয়; এটি এক অবিনাশী আলোর বাতিঘর। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে যখন মানুষ ক্রমশ পর্দানির্বাহক ডিজিটাল নির্ভরতায় অভ্যস্ত হয়ে উঠছে, তখন দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে কাঠের আলমারিতে বন্দি বইয়ের গন্ধ আর পাতার শব্দে এই লাইব্রেরিটি ধরে রেখেছে ঐতিহ্যবাহী পাঠাভ্যাস। এটি আজ আর কেবলই একটি নীরব পাঠকেন্দ্র নয়, বরং এলাকার শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
একটি স্থানীয় উদ্যোগ কীভাবে সমাজের আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারে, এই লাইব্রেরি তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। বই পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি, যাতায়াতের জন্য বাইসাইকেল প্রদান এবং শিক্ষার সরঞ্জাম বিতরণ করে প্রতিষ্ঠানটি যে মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা দেখাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। একটি গ্রামীণ সমাজে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মূলধারায় ধরে রাখতে এমন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের গুণীজনদের ভূয়সী প্রশংসা প্রমাণ করে এর সমাজ বিনির্মাণের প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী।
আজকের এই ডিজিটাল বিপ্লবের যুগে যখন তরুণেরা মোবাইল স্ক্রিনে নিমগ্ন এবং পাঠাগারভিত্তিক জ্ঞানচর্চা সংকটের মুখে, তখন এমন একটি গ্রামীণ লাইব্রেরির টিকে থাকা ও সক্রিয় ভূমিকা রাখা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে কোনো মহান উদ্যোগকে স্থায়ী ও আরো বেগবান করতে কেবল ব্যক্তি বা স্থানীয় প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। এই জ্ঞানচর্চাকেন্দ্রটিকে যুগোপযোগী অবকাঠামো, পর্যাপ্ত নতুন বইয়ের সংস্থান এবং ডিজিটাল ক্যাটালগ ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অতি জরুরি।
কপোতাক্ষের তীরের এই লাইব্রেরিটি প্রমাণ করেছে, আলোর ঠিকানা তৈরি করতে বিশাল অট্টালিকার প্রয়োজন হয় না; সদিচ্ছা ও ভালোবাসাই যথেষ্ট। স্থানীয় এই উদ্যোগটি টিকে থাকুক, এর শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়ুক নদীঘেরা বাংলার প্রতিটি প্রান্তে।

ডিবি গার্লস স্কুলে নতুন এডহক কমিটির পরিচিতি সভায় শিক্ষার মানোন্নয়নে আলোচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
ডিবি গার্লস স্কুলে নতুন এডহক কমিটির পরিচিতি সভায় শিক্ষার মানোন্নয়নে আলোচনা

 

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর (ডিবি) গার্লস স্কুলে নতুন এডহক কমিটির পরিচিতি সভায় শিক্ষার মানোন্নয়নে আলোচনায় বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ১১ আগস্ট, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের অফিসকক্ষে শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয়” শীর্ষক ওই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় স্থানীয় শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সুশীল সমাজ ও অংশীদারদের যৌথ প্রচেষ্টায় শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ ও মান বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বক্তারা বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার নানা চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য নি¤œলিখিত যুগোপযোগী পদক্ষেপগুলো গ্রহণের ওপর জোর দেন। মানসম্মত শিক্ষার পূর্বশর্ত হলো দক্ষ শিক্ষক। শিক্ষকদের আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং ইতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের ওপর নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। মুখস্থবিদ্যা এবং পরীক্ষানির্ভর মূল্যায়নের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, সংকট সমাধান ও ব্যবহারিক দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। শ্রেণি কক্ষে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, কম্পিউটার ল্যাব এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। শিক্ষার্থীর মানসিক ও শিক্ষাগত বিকাশে বিদ্যালয় ও পরিবারের যৌথ ভূমিকা অপরিহার্য। সেজন্য নিয়মিত ‘অভিভাবক সমাবেশ’ আয়োজন ও মতবিনিময় জোরদার করা প্রয়োজন। কেবল পাঠ্যপুস্তক নয়, ক্রীড়া, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। স্কুলের নতুন এডহক কমিটির সভাপতি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক মো. এমাদুল ইসলাম, শিক্ষক প্রতিনিধি মো. হাফিজুল ইসলাম, অভিভাবক সদস্য রবীন্দ্র কর্মকার, সাবেক বিদ্যেৎসাহী সদস্য আব্দুল হামিদ বাবু, সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক অনুজিৎ কুমার মন্ডল, সিনিয়র শিক্ষক মো. নজিবুল ইসলাম, গীতা রাণী সাহা, শামীমা আক্তার, অরুন কুমার মন্ডল, দেবব্রত ঘোষ, কনক কুমার ঘোষ, মৃনাল কুমার বিশ্বাস, ভানুবতী সরকার প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করে সিনিয়র শিক্ষক এসএম শহীদুল ইসলাম।

 

আশাশুনিতে মোটরসাইকেলসহ ভারতীয় শাড়ি ও চোরাকারবারি আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে মোটরসাইকেলসহ ভারতীয় শাড়ি ও চোরাকারবারি আটক

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে অভিযান চালিয়ে ৩০ পিস ভারতীয় শাড়ি ও একটি মোটরসাইকেলসহ এক চোরাকারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে আশাশুনি সদর থেকে মালামালসহ তাঁকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার সকালে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম রেজাউল ইসলাম। তিনি কালিগঞ্জ উপজেলার মৃত আনসার আলীর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশাশুনি গ্রামস্থ চেয়ারম্যান বাড়ি মোড়ের (গাছতলা মোড়) বড়দলগামী রাস্তায় তল্লাশিচৌকি বসায় পুলিশ। এ সময় একটি লাল-কালো রঙের এক্স ব্লেড ১৬০ সিসি মোটরসাইকেল পৌঁছালে পুলিশ সেটিকে থামার সিগন্যাল দেয়। মোটরসাইকেল আরোহী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় তাঁকে আটক করা হয়।
পরে বস্তা তল্লাশি করে প্রায় ৪৬ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের ১২টি ভারতীয় বেনারসি, ২টি জর্জটে, ১০টি কাতান ও ৬টি সিল্কের শাড়ি জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মালপত্রসহ আনুমানিক দুই লাখ টাকা মূল্যের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।