Header Top Small Advertisement

17158135 - online internet banner with text your ad here on a web page web page with all pictures and informations are created by contributor himself
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

খুলনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
খুলনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

খুলনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির এপ্রিল মাসের সভা আজ (রবিবার) জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে তাঁর সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সিভিল সার্জন ডা. মোছাঃ মাহফুজা খাতুন বলেন, সারাদেশে হাম-রুবেলা সংক্রামক মূহুর্ত চলছে। আগামীকাল সারাদেশে ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলার টিকা প্রদান করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনা বিভাগের সকল জেলা, উপজেলা, সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভায় টিকাদান ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে জেলার সকল দপ্তরের স্ব-উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান করা প্রয়োজন।

ওজোপাডিকো লিমিটেডের প্রতিনিধি সভায় জানান, খুলনা জেলার বিদ্যুৎ চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে সন্ধ্যাকালীন সাটডাউনের জন্য বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়েছে। নিজ নিজ দপ্তর থেকে সকলকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার জন্য অনুরোধ করেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: বদরুজ্জামান সভায় জানান, মৎস্য সংরক্ষণ বিধিমালা অনুযায়ী এক সেন্টিমিটারের চেয়ে কম ফাসের চটজাল,কারেন্ট জাল, টংজাল, কাঁথাজাল,বেড়জাল,জগত বেড়জাল ইত্যাদির ব্যবহার প্রতি বছর ফাল্গুন মাস থেকে শ্রাবন  মাস পর্যন্ত ৬ মাস এবং বেহন্দি জাল সারাবছরের জন্য নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে। সেই লক্ষ্যে মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী বেহন্দি ও অন্যান্য ক্ষতিকর জাল অপসারণে বিশেষ কম্বিং অপারেশন-২০২৬ পরিবর্তিত নির্দেশনা অনুযায়ী ৬ ধাপে পরিচালনা করা হয়। ইতোমধ্যে কম্বিং অপারেশন ১ম থেকে ৬ষ্ঠ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। খুলনা জেলায় ৪৫দিনে ২৫৭টি অভিযান ও ৫১ টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১৭৮টি বেহন্টি জাল, ১৪.২৬লক্ষ মিটার কারেন্ট জাল ও ৫৪৬টি অন্যান্য জাল জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়েছে এবং জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

সভায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার দপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলাম ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তথ্যবিবরণী

Ads small one

বিরল রাজনৈতিক নিয়োগ: বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
বিরল রাজনৈতিক নিয়োগ: বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী

তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতিবেশী কোনও দেশে রাজনৈতিক নিয়োগের পথে হাঁটছে ভারত। ঢাকায় নিযুক্ত নতুন হাইকমিশনার হিসেবে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জ্যেষ্ঠ নেতা দীনেশ ত্রিবেদীর নাম প্রস্তাব করেছে নয়াদিল্লি। ঢাকায় নতুন দূত নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে গত এক মাস ধরেই বিভিন্ন মহলে নানা নাম নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত বিজেপির জ্যেষ্ঠ এই নেতাকেই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বেছে নিলো নয়াদিল্লি।

সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার লিখেছে, ত্রিবেদীর নাম ইতোমধ্যে ঢাকার কাছে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুমোদন পাওয়ার পরই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিয়োগের ঘোষণা দেবে।

দীর্ঘদিন ধরে পেশাদার কূটনীতিকদের মাধ্যমেই প্রতিবেশী দেশগুলোতে দূত পাঠিয়ে আসছে ভারত। বর্তমানে ভারতের একমাত্র রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত হলেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব বিনয় কোয়াত্রা। তিনি অবসরের পর যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত হয়েছেন। লন্ডন ও ওয়াশিংটনের বাইরে সাধারণত রাজনৈতিক নিয়োগের ঘটনা বেশ বিরল। তবে নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে সাবেক সিবিআই প্রধান আর কে রাঘবনকে সাইপ্রাসে এবং সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল দলবীর সিং সুহাগকে সেশেলসে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আর প্রতিবেশী কোনও দেশে সর্বশেষ রাজনৈতিক নিয়োগের ঘটনা ছিল নব্বইয়ের দশকের শুরুতে। ওই সময় ইতিহাসবিদ বিমল প্রসাদকে কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছিল।

শেখ হাসিনার পতনের ১৮ মাস পর সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর ভারত তাদের প্রতিবেশী দেশটিতে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক বেশ তিক্ত হয়ে পড়েছিল। এখন সেই সম্পর্ক নতুন করে সাজাতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনে বিএনপির জয় স্পষ্ট হওয়ার পর থেকেই তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী হয় ভারত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর তারেক রহমানের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে যোগ দিয়েছিলেন। এছাড়া নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর প্রথম কোনও মন্ত্রী পর্যায়ের সফরে চলতি মাসের শুরুতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে যান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। দুই দিনের সেই সফরে বাংলাদেশ বেশ কিছু অনুরোধ জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারত থেকে ডিজেল ও সারের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণ। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার হওয়া ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান বিন হাদীর হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণের বিষয়েও দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। এছাড়া জয়শংকর জানিয়েছেন, বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা, বিশেষ করে মেডিক্যাল ও ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।

প্রসঙ্গত, বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা (১৯৯৪ ব্যাচের আইএফএস কর্মকর্তা) ব্রাসেলসে ভারতের দূত হিসেবে ইতোমধ্যে দায়িত্ব পেয়েছেন। তার স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী।

কে এই দীনেশ ত্রিবেদী?

৭৫ বছর বয়সী দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাবেক রেলমন্ত্রী। মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে রেল বাজেট পেশ করার সময় যাত্রী ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে তিনি দলীয় নেতৃত্বের তোপের মুখে পড়েন এবং পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এছাড়া তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন। দীনেশ ত্রিবেদী লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষেরই সদস্য ছিলেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে লোকসভার সদস্য এবং গুজরাট থেকে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন এবং পরের মাসেই বিজেপিতে যোগ দেন।

শিশুদের বই পড়ে শোনালেন, গান গাইলেন ওবামা-মামদানি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
শিশুদের বই পড়ে শোনালেন, গান গাইলেন ওবামা-মামদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের একটি চাইল্ডকেয়ার সেন্টারে প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ হয়েছে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির। শনিবার সেখানে তারা প্রাক-স্কুল শিশুদের বই পড়ে শুনিয়েছেন ও একসঙ্গে গান গেয়েছেন।

ওবামা ও মামদানি শিশুদের ‘অ্যালোন অ্যান্ড টুগেদার’ বইটি পড়ে শোনান এবং ‘দ্য হুইলস অন দ্য বাস’ গানটি গেয়েছেন। পরে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের জবাব দেননি।

৩৪ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট জোহরান মামদানি মাত্র এক সপ্তাহ আগেই দায়িত্ব পালনের ১০০ দিন পূর্ণ করেছেন। জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার মূল এজেন্ডা ছিল নিউ ইয়র্ক শহরকে বসবাসের জন্য আরও সাশ্রয়ী করা এবং শহরের সংগ্রামী শ্রমজীবী মানুষের সহায়তায় সরকারের ক্ষমতাকে কাজে লাগানো। ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতিতে তারুণ্য ও প্রগতিশীল এজেন্ডার কারণে তিনি বেশ আলোচিত। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা ওবামা নবীন রাজনীতিবিদ মামদানির জন্য পরামর্শক হিসেবে পাশে থাকার প্রস্তাব দিয়েছেন।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও কাজের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন মামদানি। নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে গত নভেম্বর ও ফেব্রুয়ারিতে দুবার বৈঠক করেছেন তিনি। তবে তাদের সম্পর্কের অবনতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, ট্যাক্স নীতির মাধ্যমে মামদানি ‘নিউ ইয়র্ক ধ্বংস করছেন’। পাশাপাশি তিনি শহরটির ফেডারেল তহবিল বন্ধ করার হুমকিও দিয়েছেন।

এই উত্তেজনার মধ্যেও রবিবার এনবিসির মিট দ্য প্রেস-এ অংশ নিয়ে উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে মামদানি বলেন, আমাদের মধ্যে খুব কম বিষয়ের মিল আছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো নিউ ইয়র্ক শহরের প্রতি আমাদের ভালোবাসা এবং এই শহরের জন্য কাজ করার ইচ্ছা।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

সৌদি আরবে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান মোতায়েন কীসের ইঙ্গিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
সৌদি আরবে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান মোতায়েন কীসের ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ নিরসনে যখন ইসলামাবাদে আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ১১ এপ্রিল সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান অবতরণ করেছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তায় পাকিস্তান একটি বড় ও দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর এ খবর জানিয়েছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে স্বাক্ষরিত কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই বিমানগুলো মোতায়েন করা হয়েছে। সৌদি আরবে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হলেও আক্রমণের ছয় সপ্তাহ পর এই দেরিতে মোতায়েন ইঙ্গিত দেয় যে পাকিস্তান অত্যন্ত ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা অংশীদারত্ব বৃদ্ধি করা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে সৌদি আরব বেশ কয়েকবার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। যদিও কাতার বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের তুলনায় সৌদি আরবে হামলার তীব্রতা কিছুটা কম ছিল। তবু ধারণা করা হয়েছিল যে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণ আরও আগেই ঘটবে।

তবে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা সফলভাবে এগিয়ে নেওয়ার পর ৭ এপ্রিল জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এরপরই ইসলামাবাদ রিয়াদকে নিরাপত্তায় আশ্বস্ত করতে মাঠে নামে।

সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নতুন নয়। ১৯৬০-এর দশক থেকেই পাকিস্তান সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে। ১৯৬৭ সালে দেশ দুটির মধ্যে প্রথম প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে নিয়মিত সেনা বিনিময় ও যৌথ মহড়া হয়ে আসছে। ১৯৮২ সালে সৌদি সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেখানে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন ছিল। ২০১৭ সাল থেকে পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরীফ সৌদি নেতৃত্বাধীন ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেররিজম কোয়ালিশন পরিচালনা করছেন, যা ইসলামাবাদকে সৌদির নিরাপত্তা কাঠামোর গভীর অংশে স্থান দিয়েছে।

নতুন এসএসডিএ চুক্তিটি এই অংশীদারত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এই চুক্তির অধীনে সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েনের সংখ্যা ৫০ হাজারে উন্নীত হতে পারে। চুক্তিটির শর্তাবলি কিছুটা অস্পষ্ট রাখা হয়েছে, যাতে কোনও কঠোর প্রতিশ্রুতি ছাড়াই আঞ্চলিক হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে অংশীদারত্ব বাড়ানো যায়।

পাকিস্তানের এই সামরিক পদক্ষেপের সময়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৯ সালের পর প্রথমবারের মতো উচ্চপর্যায়ের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা যখন ইসলামাবাদে চলছিল, তখনই এই মোতায়েনের ঘটনা ঘটলো। যুদ্ধের এই সন্ধিক্ষণে আলোচনার ঝুঁকি ছিল অনেক বেশি। আলোচনা ব্যর্থ হলে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরান বড় ধরনের হামলা চালাতে পারতো, যা সৌদি আরবকে সরাসরি যুদ্ধে টেনে নিতো।

এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান একটি চরম বিপর্যয়কর পরিস্থিতির প্রস্তুতি নিয়েছিল। কৌশলগত বিশ্লেষক চৌধুরী নাতিফ ওবায়েদ বলেন, ১৩ হাজার সেনার সম্ভাব্য মোতায়েন কেবল রুটিন মহড়া নয়, বরং এটি উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় ফরোয়ার্ড ডিফেন্স পজিশনিংয়ের ইঙ্গিত। তার মতে, ইসলামাবাদ তার প্রথাগত ‘ভারসাম্য বজায় রাখার’ নীতি থেকে বেরিয়ে এসে উপসাগরীয় নিরাপত্তায় সরাসরি সামরিক ভূমিকা রাখার দিকে ঝুঁকছে।

তিনি আরও বলেন, ইরান যদি পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে, তবে পাকিস্তানের সামরিক অবস্থান আরও সক্রিয় হতে পারে। প্রতিরক্ষা থেকে তারা সক্রিয় বিমান প্রতিরক্ষা ভূমিকায় চলে যেতে পারে। তবে সৌদি আরবের অস্তিত্ব সংকটাপন্ন না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তান সরাসরি কোনও আক্রমণাত্মক অপারেশনে যাবে না বলে তিনি মনে করেন।

প্রতিরক্ষা শিল্প পরামর্শক হায়দার হোসেনের মতে, এই মোতায়েন ‘পর্যায়ক্রমিক উত্তেজনা’ কৌশলের অংশ। তিনি বলেন, যদি শুরুতেই এই মোতায়েন করা হতো, তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার পথ বন্ধ হয়ে যেত। কারণ তেহরান একে নিরপেক্ষতা নয়, বরং সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সরাসরি মিত্রতা হিসেবে দেখতো। গত ১২ মার্চ জেদ্দায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকেই এই সমন্বয় করা হয়েছিল।

তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে ইসলামাবাদ প্রথমে কূটনৈতিক আলোচনার ওপর জোর দিয়েছিল। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ৩ মার্চ জানিয়েছিলেন, তিনি ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন এবং সৌদি আরবের ওপর হামলা না করার নিশ্চয়তা চেয়েছেন। তবে সেই নিশ্চয়তা বেশি দিন টেকেনি, কারণ সেদিনই ইরান সৌদি আরবে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।

আন্ডারস্ট্যান্ড মিনা-এর প্রতিষ্ঠাতা নিকোলাই ডিউ-গুন্ডারসেনের মতে, ইরান আগে থেকেই নিশ্চয়তা নিয়েছিল যে সৌদি ভূমি থেকে কোনও আক্রমণ চালানো হবে না। তাই পাকিস্তানের এই মোতায়েনকে উত্তেজনার চেয়ে ‘প্রতিশ্রুতি রক্ষা’ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

জেনেভাভিত্তিক ভূ-কৌশলগত বিশ্লেষক তোরেক ফারহাদি বলেন, এসএমডিএ চুক্তিটি ব্যবসা, ধর্ম ও সংস্কৃতির বাইরে দুই দেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী করেছে। এই চুক্তি পাকিস্তানকে সৌদি আরবের এক গুরুত্বপূর্ণ মিত্র করে তুলেছে, আর ইরানও বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন।

সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা সদস্যদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে অর্থনৈতিক কারণও গুরুত্বপূর্ণ। এসএমডিএ চুক্তিতে বলা হয়েছে, ‘এক দেশের ওপর আগ্রাসন মানেই উভয়ের ওপর আগ্রাসন’। তবে এর বাস্তবায়নের জন্য বড় ধরনের লজিস্টিক ও অপারেশনাল সমর্থন প্রয়োজন।

এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ঠিক একদিন আগে সৌদি অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-জাদান ইসলামাবাদ সফর করেন, যা সৌদি আরবের আর্থিক সমর্থনেরই ইঙ্গিত। আবুধাবি ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের আমানত তুলে নেওয়ার পর সৌদি আরব ও কাতার ৫ বিলিয়ন ডলার দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করেছে এবং রিয়াদ অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন ডলারের নতুন সহায়তা প্রদান করেছে। কয়েক দশক ধরে পারমাণবিক কর্মসূচির তহবিল থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সময় পর্যন্ত সৌদি আরব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে কাজ করেছে। নতুন এই প্রতিরক্ষা চুক্তি তাই কেবল সামরিক সহযোগিতার ওপর নয়, বরং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করেই দাঁড়িয়ে আছে।