রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

সৌদি আরবে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান মোতায়েন কীসের ইঙ্গিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
সৌদি আরবে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান মোতায়েন কীসের ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ নিরসনে যখন ইসলামাবাদে আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ১১ এপ্রিল সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান অবতরণ করেছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তায় পাকিস্তান একটি বড় ও দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর এ খবর জানিয়েছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে স্বাক্ষরিত কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই বিমানগুলো মোতায়েন করা হয়েছে। সৌদি আরবে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হলেও আক্রমণের ছয় সপ্তাহ পর এই দেরিতে মোতায়েন ইঙ্গিত দেয় যে পাকিস্তান অত্যন্ত ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা অংশীদারত্ব বৃদ্ধি করা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে সৌদি আরব বেশ কয়েকবার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। যদিও কাতার বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের তুলনায় সৌদি আরবে হামলার তীব্রতা কিছুটা কম ছিল। তবু ধারণা করা হয়েছিল যে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণ আরও আগেই ঘটবে।

তবে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা সফলভাবে এগিয়ে নেওয়ার পর ৭ এপ্রিল জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এরপরই ইসলামাবাদ রিয়াদকে নিরাপত্তায় আশ্বস্ত করতে মাঠে নামে।

সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নতুন নয়। ১৯৬০-এর দশক থেকেই পাকিস্তান সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে। ১৯৬৭ সালে দেশ দুটির মধ্যে প্রথম প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে নিয়মিত সেনা বিনিময় ও যৌথ মহড়া হয়ে আসছে। ১৯৮২ সালে সৌদি সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেখানে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন ছিল। ২০১৭ সাল থেকে পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরীফ সৌদি নেতৃত্বাধীন ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেররিজম কোয়ালিশন পরিচালনা করছেন, যা ইসলামাবাদকে সৌদির নিরাপত্তা কাঠামোর গভীর অংশে স্থান দিয়েছে।

নতুন এসএসডিএ চুক্তিটি এই অংশীদারত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এই চুক্তির অধীনে সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েনের সংখ্যা ৫০ হাজারে উন্নীত হতে পারে। চুক্তিটির শর্তাবলি কিছুটা অস্পষ্ট রাখা হয়েছে, যাতে কোনও কঠোর প্রতিশ্রুতি ছাড়াই আঞ্চলিক হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে অংশীদারত্ব বাড়ানো যায়।

পাকিস্তানের এই সামরিক পদক্ষেপের সময়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৯ সালের পর প্রথমবারের মতো উচ্চপর্যায়ের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা যখন ইসলামাবাদে চলছিল, তখনই এই মোতায়েনের ঘটনা ঘটলো। যুদ্ধের এই সন্ধিক্ষণে আলোচনার ঝুঁকি ছিল অনেক বেশি। আলোচনা ব্যর্থ হলে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরান বড় ধরনের হামলা চালাতে পারতো, যা সৌদি আরবকে সরাসরি যুদ্ধে টেনে নিতো।

এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান একটি চরম বিপর্যয়কর পরিস্থিতির প্রস্তুতি নিয়েছিল। কৌশলগত বিশ্লেষক চৌধুরী নাতিফ ওবায়েদ বলেন, ১৩ হাজার সেনার সম্ভাব্য মোতায়েন কেবল রুটিন মহড়া নয়, বরং এটি উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় ফরোয়ার্ড ডিফেন্স পজিশনিংয়ের ইঙ্গিত। তার মতে, ইসলামাবাদ তার প্রথাগত ‘ভারসাম্য বজায় রাখার’ নীতি থেকে বেরিয়ে এসে উপসাগরীয় নিরাপত্তায় সরাসরি সামরিক ভূমিকা রাখার দিকে ঝুঁকছে।

তিনি আরও বলেন, ইরান যদি পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে, তবে পাকিস্তানের সামরিক অবস্থান আরও সক্রিয় হতে পারে। প্রতিরক্ষা থেকে তারা সক্রিয় বিমান প্রতিরক্ষা ভূমিকায় চলে যেতে পারে। তবে সৌদি আরবের অস্তিত্ব সংকটাপন্ন না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তান সরাসরি কোনও আক্রমণাত্মক অপারেশনে যাবে না বলে তিনি মনে করেন।

প্রতিরক্ষা শিল্প পরামর্শক হায়দার হোসেনের মতে, এই মোতায়েন ‘পর্যায়ক্রমিক উত্তেজনা’ কৌশলের অংশ। তিনি বলেন, যদি শুরুতেই এই মোতায়েন করা হতো, তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার পথ বন্ধ হয়ে যেত। কারণ তেহরান একে নিরপেক্ষতা নয়, বরং সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সরাসরি মিত্রতা হিসেবে দেখতো। গত ১২ মার্চ জেদ্দায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকেই এই সমন্বয় করা হয়েছিল।

তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে ইসলামাবাদ প্রথমে কূটনৈতিক আলোচনার ওপর জোর দিয়েছিল। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ৩ মার্চ জানিয়েছিলেন, তিনি ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন এবং সৌদি আরবের ওপর হামলা না করার নিশ্চয়তা চেয়েছেন। তবে সেই নিশ্চয়তা বেশি দিন টেকেনি, কারণ সেদিনই ইরান সৌদি আরবে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।

আন্ডারস্ট্যান্ড মিনা-এর প্রতিষ্ঠাতা নিকোলাই ডিউ-গুন্ডারসেনের মতে, ইরান আগে থেকেই নিশ্চয়তা নিয়েছিল যে সৌদি ভূমি থেকে কোনও আক্রমণ চালানো হবে না। তাই পাকিস্তানের এই মোতায়েনকে উত্তেজনার চেয়ে ‘প্রতিশ্রুতি রক্ষা’ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

জেনেভাভিত্তিক ভূ-কৌশলগত বিশ্লেষক তোরেক ফারহাদি বলেন, এসএমডিএ চুক্তিটি ব্যবসা, ধর্ম ও সংস্কৃতির বাইরে দুই দেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী করেছে। এই চুক্তি পাকিস্তানকে সৌদি আরবের এক গুরুত্বপূর্ণ মিত্র করে তুলেছে, আর ইরানও বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন।

সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা সদস্যদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে অর্থনৈতিক কারণও গুরুত্বপূর্ণ। এসএমডিএ চুক্তিতে বলা হয়েছে, ‘এক দেশের ওপর আগ্রাসন মানেই উভয়ের ওপর আগ্রাসন’। তবে এর বাস্তবায়নের জন্য বড় ধরনের লজিস্টিক ও অপারেশনাল সমর্থন প্রয়োজন।

এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ঠিক একদিন আগে সৌদি অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-জাদান ইসলামাবাদ সফর করেন, যা সৌদি আরবের আর্থিক সমর্থনেরই ইঙ্গিত। আবুধাবি ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের আমানত তুলে নেওয়ার পর সৌদি আরব ও কাতার ৫ বিলিয়ন ডলার দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করেছে এবং রিয়াদ অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন ডলারের নতুন সহায়তা প্রদান করেছে। কয়েক দশক ধরে পারমাণবিক কর্মসূচির তহবিল থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সময় পর্যন্ত সৌদি আরব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে কাজ করেছে। নতুন এই প্রতিরক্ষা চুক্তি তাই কেবল সামরিক সহযোগিতার ওপর নয়, বরং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করেই দাঁড়িয়ে আছে।

Ads small one

শ্যামনগরে এবার এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার্থী ২৯৭৮ জন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে এবার এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার্থী ২৯৭৮ জন

 

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলায় চলতি বছরে ৪২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩টি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭৩১ জন। দুটি কেন্দ্রে দাখিল পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১১০১জন ও দুটি কেন্দ্রে ভকেশনাল পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪৬ জন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে প্রকাশ, এসএসসি মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৯২২জন ও ছাত্রী ৮০৯জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষার্থী ৬২০জন, মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থী ৯৬৫জন ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পরীক্ষার্থী ১৩৬ জন।
কেন্দ্র অনুযায়ী নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোট পরীক্ষার্থী ৬৪১জন, নওয়াবেঁকী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ৪৪৯জন ও নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ৬৪১ জন।
দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্র অনুযায়ী শ্যামনগর কেন্দ্রিয় দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ৭০৬জন ও নওয়াবেঁকী বিড়ালাক্ষ্মী কাদেরিয়া ফাজিল(ডিগ্রী) মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ৩৯৫জন।
ভকেশনাল পরীক্ষার্থী কেন্দ্র অনুযায়ী শ্যামনগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে মোট পরীক্ষার্থী ৬৪জন ও নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ৮২জন।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কক্ষ পরিদর্শকদের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আগামীকাল ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি, দাখিল ও ভকেশনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আ*প*ত্তি*ক*র মন্তব্য: সহকারী শিক্ষককে কৈফিয়ত তলব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আ*প*ত্তি*ক*র মন্তব্য: সহকারী শিক্ষককে কৈফিয়ত তলব

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (মেসেঞ্জার গ্রুপে) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগে এক সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আব্দুল খালেক উপজেলার ৭৪ নম্বর নলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

তিনি ‘নলতা ক্লাস্টার, কালিগঞ্জ’ নামের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে গত ১৭ ও ১৮ এপ্রিল একাধিক পোস্টে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ, অমর্যাদকর ও অপমানজনক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই গ্রুপটি সরকারি তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ এপ্রিল প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ উপলক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনভিজিলেটরদের ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে ব্যঙ্গ ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন ওই শিক্ষক। পাশাপাশি কালিগঞ্জের একটি তেল পাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অপ্রাসঙ্গিক ও অপমানজনক মন্তব্য করেন এবং তেল পাম্প ঘেরাওয়ের আহ্বান জানান, যা শিক্ষকদের ফৌজদারি অপরাধে প্ররোচিত করার শামিল বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এসব কর্মকা- সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯ লঙ্ঘনের শামিল। পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০২৩ অনুযায়ীও তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না- সে বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব তিন কর্মদিবসের মধ্যে দাখিল করতে হবে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আব্দুল খালেকের বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: দুর্ভোগের নাম মরিচ্চাপ নদী; শুধু আশ্বাস নয়, প্রয়োজন টেকসই সমাধান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: দুর্ভোগের নাম মরিচ্চাপ নদী; শুধু আশ্বাস নয়, প্রয়োজন টেকসই সমাধান

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বাঁকড়া এলাকায় জোয়ারের স্রোতে কাঠের সাঁকো ভেসে যাওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত শুক্রবার দুপুরে বাঁকড়া ও কুন্দুড়িয়া গ্রামের সংযোগকারী এই একমাত্র পারাপার ব্যবস্থাটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় ১০টি গ্রামের মানুষ এখন কার্যত বিচ্ছিন্ন। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ শ্রমজীবীÑসবার যাতায়াত এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
উল্লেখ্য যে, এখানে ইতিপূর্বে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে একটি কংক্রিট সেতু ছিল। কিন্তু তিন-চার বছর আগে নদী খননকালে সেটি ধসে পড়ে। এরপর থেকে এলাকাবাসীর ভাগ্য ঝুলে ছিল একটি নড়বড়ে কাঠের সাঁকোতে। সেই সাঁকোটিও এখন নেই। প্রশ্ন জাগে, একটি জনগুরুত্বপূর্ণ পথে বছরের পর বছর কেন একটি স্থায়ী ও মজবুত সেতু নির্মিত হলো না? স্থানীয় বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে পড়েছে। জরুরি চিকিৎসায় রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া এখন প্রায় দুঃসাধ্য। বুধহাটা, পাইথালী ও ব্যাংদহার মতো বড় বাজারগুলোর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে সময় ও খরচÑউভয়ই দ্বিগুণ বেড়েছে, যা নি¤œআয়ের মানুষের জন্য মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।
শনিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় কাঠের সাঁকো তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই, কারণ সাময়িকভাবে জনদুর্ভোগ কমাতে এর বিকল্প নেই। তবে বাস্তবতা হলো, জোয়ার-ভাটার এই উত্তাল নদীতে কাঠের সাঁকো কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। যে কোনো সময় এটি আবারও দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। তারা কেবল জোড়াতালির সংস্কার চান না, বরং একটি টেকসই কংক্রিট সেতু চান। এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে কেবল ব্যয়ের হিসাব জমা দিলেই চলবে না, বরং দ্রুততম সময়ে একটি আধুনিক ও মজবুত সেতু নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদের মানুষের জীবন এমনিতেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করে চলে। সেখানে প্রশাসনিক অবহেলার কারণে যাতায়াত ব্যবস্থার এমন বেহাল দশা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা আশা করি, এমপির দেওয়া এক সপ্তাহের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে এবং অতি দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের মাধ্যমে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কান্নার অবসান ঘটবে।