রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

খেলাধূলা হতে পারে পরিবার ও সমাজে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
খেলাধূলা হতে পারে পরিবার ও সমাজে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

নিকোলাস বিশ্বাস

খেলাধূলা যুগে যুগে মানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিনোদন মাধ্যম এবং সামাজিক সংযোগের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে গণ্য হয়েছে। খেলার মাঠের রোমাঞ্চ শুধুমাত্র শারীরিক সক্ষমতার প্রদর্শনী নয়, এটি মানব সম্পর্কের জটিল রসায়নকে সহজ উপায়ে মানুষের সামনে তুলে ধরে। খেলাধূলার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর নিরপেক্ষতা-এটি ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের ধার ধারে না। বরঞ্চ, একটি দলের বিজয় বা একটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ কোটি কোটি মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে রাখতে পারে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের ২৩তম আসর, যা ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারই প্রথমবারের মতো রেকর্ড ৪৮টি জাতীয় দল অংশ নিচ্ছে, যার ফলে ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সর্বমোট ১০৪টিতে। উত্তর আমেরিকার মোট ১৬টি দৃষ্টিনন্দন শহরে এই ম্যাচগুলো আয়োজন করা হচ্ছে। টুর্নার্মেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচটি মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও অ্যাজটেকাতে অনুষ্ঠিত হয় এবং আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক-এর নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে জমকালো ফাইনাল খেলার মধ্য দিয়ে এই বিশ্বমঞ্চের পর্দা নামবে।

বিশ্বকাপের এই জোয়ার বাংলাদেশেও আছড়ে পড়েছে। সম্প্রতি মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার ৭৮ নং রামারপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের রাস্তায় একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দৃশ্য ধরা পড়েছে, যা ফুটবলপ্রেমী বাংলাদেশের সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। সেখানে দুটি বড় মাপের পতাকা-একটি ব্রাজিলের এবং অন্যটি আর্জেন্টিনার-পাশাপাশি টাঙানো হয়েছে। এই ছবি শুধুমাত্র দুটি ফুটবল দলের প্রতীক নয়, বরং এটি একটি গভীর সামাজিক বার্তা বহন করছে। এই প্রবন্ধের মাধ্যমে আমরা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করব কিভাবে এই ধরনের প্রতীকী সম্প্রীতি এবং সামগ্রিকভাবে খেলাধূলা পরিবার, সমাজ, ধর্ম এবং রাজনীতির মতো মৌলিক সামাজিক কাঠামোগুলোতে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করতে পারে; পাশাপাশি এর বিপরীত পিঠের উগ্রতা কীভাবে সমাজকে ধ্বংস করে।

কালকিনির দৃশ্যপট এবং এর গুরুত্ব: মাদারীপুরের কালকিনিতে দেখা এই দৃশ্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবাই জানি, বাংলাদেশে ফুটবল নিয়ে, বিশেষ করে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার মধ্যে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কাজ করে, তা অনেক সময় উগ্র রূপ ধারণ করে। বিশ্বকাপ মৌসুমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের দোকান পর্যন্ত চলে তর্ক-বিতর্ক, যা কখনো কখনো ঝগড়া বা মারামারিতে রূপ নেয়। এই প্রেক্ষাপটে যখন কালকিনির রাস্তায় আড়াআড়িভাবে গাছের সঙ্গে উভয় দলের পতাকা পাশাপাশি টাঙানো হয়, তা একটি নীরব অথচ শক্তিশালী ঘোষণা: প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতে পারে, কিন্তু তা যেন ঘৃণা বা বিভেদে পরিণত না হয়। এই পদক্ষেপটি প্রমাণ করে যে, স্থানীয় বাসিন্দারা বোঝেন-বড় উৎসব বা আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায় যখন আমরা একে অপরের মত ও পছন্দকে সম্মান করি। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা মানেই অন্য দলের সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া নয়। এই শান্ত সহাবস্থানের প্রতীক সামাজিক শান্তি ও সৌহার্দ্যের এক বিরল দৃষ্টান্ত।

দেলদুয়ারের সহিংসতা-ক্রীড়া সংস্কৃতির অন্ধকার দিক: কালকিনির সেই সম্প্রীতির ঠিক বিপরীতে দাঁড়িয়ে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সহিংসতা ক্রীড়া সংস্কৃতির এক অন্ধকার দিককে উন্মোচন করে। সেখানে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটি চরম রূপ ধারণ করে। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা, রামদা এবং দা নিয়ে উন্মত্ত জনতা একটি টিনের বসত-বাড়িতে আক্রমণ চালায় এবং বেপারোয়াভাবে বাড়িটি ভাঙচুর করে। খেলার মতো একটি বিনোদনমূলক বিষয়কে কেন্দ্র করে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এমন ধ্বংসাত্মক ও হিংস্্র তান্ডব কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই ঘটনা কেবল একটি পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই কেড়ে নেয়নি, বরং স্থানীয়দের মনে গভীর আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

এই দুঃখজনক ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, খেলাধূলার প্রতি অতি-আবেগ যখন অন্ধত্বে রূপ নেয়, তখন তা সামাজিক শান্তি ও শৃঙ্খলা সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট করে। যে দলগুলো হাজার মাইল দূরে খেলছে, যাদের অধিকাংশ খেলোয়াড় বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির অস্তিত্ব সম্পর্কেও অবগত নয়, তাদের জন্য নিজের প্রতিবেশী বা দেশের মানুষের ওপর চড়াও হওয়া অত্যন্ত হীন মানসিকতার পরিচয় দেয়। দেলদুয়ারের এই সংঘর্ষ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, খেলাধূলাকে উপভোগের অনুষঙ্গ হিসেবে না দেখে উগ্রতা ছড়ালে তা পরিবার ও সমাজকে কতটা বিপর্যস্ত করতে পারে। এলাকাবাসী ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত এই সংঘাতের সুষ্ঠু সমাধান ও জড়িতদের শাস্তি দাবি করছেন।

পরিবারে খেলাধূলার প্রভাব: পরিবার সমাজের ক্ষুদ্রতম একক। খেলাধূলা পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি ম্যাচে যখন পুরো পরিবার একসাথে বসে খেলা দেখে, তখন তাদের মধ্যে একটি অভিন্ন আনন্দের উপলক্ষ তৈরি হয়। এটি প্রজন্ম ব্যবধান (Generation Gap) কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। আমরা অনেক সময় দেখি, বাবা ব্রাজিল এবং ছেলে আর্জেন্টিনা সমর্থক। কালকিনির উদাহরণের মতো, পরিবারগুলো যদি শিখতে পারে যে, এই ভিন্নতা শুধুমাত্র একটি খেলা নিয়ে এবং এটি পারিবারিক ভালোবাসার উপরে স্থান পেতে পারে না, তবে পরিবারে শান্তি ও বোঝাপড়া বৃদ্ধি পায়। পারিবারিক আড্ডায় সুস্থ আলোচনা এবং সুস্থ কৌতুক পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি করে। এটি শিশুদেরকে শিক্ষা দেয় যে, জীবনের সব ক্ষেত্রেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে অপর পক্ষের সাথে শত্রুতা করতে হবে। খেলাধূলার এই নিরপেক্ষ প্রকৃতি পরিবারগুলোকে সুস্থ মানসিকতা নিয়ে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

সমাজে খেলাধূলার প্রভাব: সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং সৌহার্দ্য স্থাপনে খেলাধূলার গুরুত্ব অপরিসীম। একটি গ্রামে বা শহরে যখন স্থানীয় খেলাধূলার আয়োজন করা হয়, তখন তা সমগ্র সম্প্রদায়কে এক জায়গায় নিয়ে আসে। এটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা দলীয় কোন্দল ভুলে একটি সুস্থ বিনোদনের ক্ষেত্র তৈরি করে। কালকিনির ঘটনাটি সামাজিক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। এটি প্রমাণ করে যে, সমাজকে বিভক্ত করার বদলে, একটি অভিন্ন সংস্কৃতি আমাদের একত্রিত করতে পারে। এই ধরনের প্রতীকী পদক্ষেপ সামাজিক অসহিষ্ণুতা কমাতে সাহায্য করে। মানুষ যখন দেখে যে তাদের গ্রামের রাস্তায় দুটি দলের পতাকা শান্তিতে পাশাপাশি অবস্থান করছে, তখন তাদের মনেও এই বার্তা পৌঁছায় যে, ভিন্নমতের সাথে বসবাস করা সম্ভব। এটি সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ বিনোদন ও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে। এই ধরনের পদক্ষেপ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ঐক্য জোরদার করে।

রাজনীতি এবং খেলাধূলা: রাজনীতি বা রাজনৈতিক দিক থেকে চিন্তা করলে, খেলাধূলা প্রায়শই কূটনীতির একটি অংশ হয়ে ওঠে। যেমন ‘পিং-পং ডিপ্লোম্যাসি’ বা ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ। কালকিনির এই দৃশ্য স্থানীয় রাজনীতিতে না হলেও, সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি শিক্ষণীয় বিষয়। আমরা দেখি রাজনৈতিক কারণে মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি হয়। কিন্তু ফুটবল বিশ্বকাপ এমন একটি সময় যখন রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে মানুষ একটি অভিন্ন উদ্দেশ্যে বা একটি অভিন্ন আবেগে উদ্বুদ্ধ হয়। কালকিনির প্রতীকী সম্প্রীতি আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও সহাবস্থান সম্ভব। যদি দুটি ভিন্ন দেশের সমর্থক (যাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা চরম) শান্তিতে থাকতে পারে, তবে কেন একই দেশের রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষেরা ভিন্নমত সত্ত্বেও সম্প্রীতির সাথে বসবাস করতে পারবে না? এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে উদারতা এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের অভাব দূর করতে একটি উদাহরণ হিসেবে কাজ করতে পারে।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, খেলাধূলা শুধুই একটি বিনোদন নয়, এটি একটি শক্তিশালী সামাজিক বার্তা বাহক। মাদারীপুরের কালকিনিতে পাশাপাশি টাঙানো ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার পতাকা শুধুই একটি বিশ্বকাপ মৌসুমে তৈরি হওয়া সাময়িক দৃশ্য নয়; এটি একটি উন্নত এবং শান্তিকামী মানসিকতার প্রতিচ্ছবি। অন্যদিকে, দেলদুয়ারের সহিংসতা আমাদের জন্য এক সতর্কবার্তা।

এই চিত্রগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ভিন্নতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই, কিন্তু দিনশেষে আমরা সবাই একটি মানব সম্প্রদায়ের অংশ। এই প্রতীকী সম্প্রীতি যদি আমরা আমাদের পরিবার, সমাজ, ধর্ম এবং রাজনীতির মতো ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারি, তবে একটি শান্ত, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। আমাদের সকলের উচিত কালকিনির এই উদাহরণ থেকে শিক্ষা নেওয়া, দেলদুয়ারের মতো উগ্রতা পরিহার করা এবং দৈনন্দিন জীবনে ভিন্নমতের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অভ্যাস গড়ে তোলা। খেলাধূলা হোক সম্প্রীতির প্রতীক, বিভেদের নয়।

নিকোলাস বিশ্বাস: একজন ডেভেলপমেন্ট প্রাক্টিশনার এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল মিডিয়া এ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত। যোগাযোগ: gonomaddyom@gmail.com 

 

Ads small one

দর্শক খরায় বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, টিকিটের দামে ছাড় দিয়েও মিলছে না ক্রেতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:২১ পূর্বাহ্ণ
দর্শক খরায় বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, টিকিটের দামে ছাড় দিয়েও মিলছে না ক্রেতা

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ড এবং স্পেনের কাছে ফ্রান্সের বিদায়ের পর দুই দলের সমর্থকদের মাঝেই যেন বিশ্বকাপের আমেজ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছে। তারই সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ সময় রবিবার রাত ৩টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য দুই ইউরোপীয় জায়ান্টের মধ্যকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী বা ব্রোঞ্জ মেডেল ম্যাচে। ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর আগমুহূর্তেও ফিফার অফিসিয়াল সাইটগুলোতে হাজার হাজার টিকিট অবিক্রিত পড়ে রয়েছে।

ফিফার টিকিট পোর্টাল এবং অফিসিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের এই ম্যাচটি ঘিরে এখনও প্রায় ৭,০০০ টিকিট অবিক্রিত অবস্থায় তালিকাভুক্ত রয়েছে। সাধারণ ক্যাটাগরিতে ১,২৪৬টি টিকিট অবিক্রিত আছে, যার একেকটির মূল্য হাঁকা হচ্ছে ৮৬৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ৬৫৭ পাউন্ড) থেকে ১,১২৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮৫৫ পাউন্ড) পর্যন্ত।

সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে অফিসিয়াল রিসেল বা পুনঃবিক্রয় প্ল্যাটফর্মে। সেখানে প্রায় ৫,৮৬৪টি টিকিট বিক্রির জন্য জমা পড়ে আছে। সমর্থকরা তাদের কেনা টিকিট নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দিতে চাইছেন। সবচেয়ে সস্তা ক্যাটাগরি-৩-এর টিকিটগুলো ফেস ভ্যালু ৪৫৫ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে (এর সঙ্গে ফিফার ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত ফি যুক্ত হবে)।

ম্যাচের আকর্ষণ ও দর্শক আগ্রহ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে প্রিমিয়াম বা ক্যাটাগরি-১-এর টিকিটগুলোতে। যে টিকিটগুলোর মূল ক্রয়মূল্য ছিল ১,১২৫ ডলার, সেগুলো এখন প্রায় অর্ধেক বা বিশাল ডিসকাউন্টে মাত্র ৬৫৯ ডলারে রিসেল প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মেসিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধাক্কা স্পেনের, অনুশীলন বাতিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:১০ পূর্বাহ্ণ
মেসিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধাক্কা স্পেনের, অনুশীলন বাতিল

উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের মহারণে নামার ঠিক আগের দিন বড়সড় ধাক্কা খেলো স্পেন শিবির। নিউজার্সির বৈরী আবহাওয়ার কারণে শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতি আর ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন করতে পারলো না লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। প্রবল বৃষ্টি ও লাগাতার বজ্রপাতের কারণে শনিবারের (১৮ জুলাই) নির্ধারিত শেষ দিনের পুরো অনুশীলন সেশনটিই বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার নিউজার্সির হুইপ্যানিতে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায়) স্পেনের অনুশীলনে নামার কথা ছিল। স্প্যানিশরা এই সেশনের জন্য বেছে নিয়েছিল নিউইয়র্ক রেড বুলসের সাবেক অনুশীলন কেন্দ্র এবং বর্তমানে এনডব্লিউএসএল ক্লাব গথাম এফসির ভবিষ্যৎ ট্রেনিং কমপ্লেক্সটি। কিন্তু সকাল থেকেই শুরু হয় তীব্র বজ্রঝড়। প্রথমে অনুশীলন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুরো সেশনই বাতিল ঘোষণা করা হয়। মাঠে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা সংবাদকর্মীদেরও নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত কর্মক্ষেত্রের ভবনের ভেতরে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রে বজ্রঝড় নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা নিখুঁত ও কঠোর, তা প্রকাশ পেয়েছে মাঠের এক কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, অনুশীলন বা ম্যাচ ভেন্যুর ৮ মাইলের মধ্যে কোথাও বজ্রপাত শনাক্ত হলেই নিয়ম অনুযায়ী মাঠের সব ধরনের কার্যক্রম সঙ্গে সঙ্গে স্থগিত করা হয়। এরপর প্রতি ৩০ মিনিট পরপর পরিস্থিতি গভীরভাবে মূল্যায়ন বা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

বজ্রপাতের এই ঝুঁকি যখন পুরোপুরি কেটে যায়, তখনই কেবল নিরাপত্তা বিভাগ থেকে ‘অল ক্লিয়ার’ সংকেত দেওয়া হয়। এই সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই খেলোয়াড়রা মাঠে প্রবেশের অনুমতি পান। তবে শনিবার সকালে হুইপ্যানির পরিস্থিতি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল যে স্পেনকে মাঠে নামার অনুমতি দেওয়াই সম্ভব হয়নি।

চলতি বিশ্বকাপজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ভেন্যুগুলোতে একই বজ্রঝড়-সংক্রান্ত কঠোর নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। এর আগে এই নিয়মের মারপ্যাঁচে পড়ে চলমান টুর্নামেন্টের একাধিক ম্যাচের সময়সূচিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছিল। কোনও কোনও ম্যাচ দীর্ঘ সময় স্থগিতও রাখতে হয়েছিল।

বাংলাদেশ সময় রবিবার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় (স্থানীয় সময় সন্ধ্যা) নিউজার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বসেরার মুকুটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। যেখানে আর্জেন্টিনা দল তাদের প্রস্তুতি ঠিকঠাক সারতে পেরেছে, সেখানে অনুশীলনের এই ঘাটতি স্পেনের জন্য কতটা ভোগান্তি বাড়াবে তা বলা মুশকিল। তবে ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন সবচেয়ে বড় শঙ্কা— নিউজার্সির এই বৈরী আবহাওয়া ফাইনালকেও কোনও বিঘ্নের মুখে ফেলে কি না!

বিলাসবহুল ট্রাঙ্কে চড়ে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছাবে বিশ্বকাপ ট্রফি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:০৬ পূর্বাহ্ণ
বিলাসবহুল ট্রাঙ্কে চড়ে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছাবে বিশ্বকাপ ট্রফি

বিশ্বকাপ ট্রফি শুধু ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পুরস্কারই নয়, এটি মর্যাদা ও ঐতিহ্যেরও প্রতীক। সেই ট্রফিকে ফাইনালের মঞ্চে নিয়ে যেতে এবারও বিশেষ ট্রাঙ্ক তৈরি করেছে ফরাসি বিলাসবহুল ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান লুই ভিতোঁ। ২০১০ সাল থেকে টানা পঞ্চম বিশ্বকাপে এই দায়িত্ব পালন করছে প্রতিষ্ঠানটি।

নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে বিশেষভাবে তৈরি লুই ভিতোঁর এই ট্রাঙ্কে করেই মাঠে আনা হবে বিশ্বকাপ ট্রফি।

বিশেষ এই ট্রাঙ্কের সামনে রয়েছে সোনালি রঙের ইংরেজি অক্ষর ‘ভি’। যা একদিকে ভিক্টরি তথা জয় -এর প্রতীক, অন্যদিকে ভিতোঁর আলাদা পরিচয় বহন করছে। ট্রাঙ্কজুড়ে রয়েছে লুই ভিতোঁর পরিচিত নকশা এবং সোনালি আবরণযুক্ত পিতলের কর্নার প্রটেক্টর।

এটি টানা পঞ্চম বিশ্বকাপ যেখানে ট্রফির জন্য বিশেষ ট্রাঙ্ক তৈরি করেছে লুই ভিতোঁ। এর আগে ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও একই দায়িত্ব পালন করেছিল ফরাসি এই বিলাসবহুল ব্র্যান্ড।