বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

গোলটেবিলে আইনপ্রণেতা ও বিশেষজ্ঞরা: নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধির কর্মপরিকল্পনা জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
গোলটেবিলে আইনপ্রণেতা ও বিশেষজ্ঞরা: নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধির কর্মপরিকল্পনা জরুরি

সংবাদদাতা: মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন আইনপ্রণেতা ও বিশেষজ্ঞরা। তারা মৎস্য অভয়াশ্রম ও প্রজননক্ষেত্রের সুরক্ষায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবেশগত বিরুপ প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে মৎস্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন। সৌরবিদ্যুৎ জ্বালানী সংকট মোকাবেলার পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘মৎস্য সম্পদের সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এ সকল মতামত তুলে ধরেন তারা। ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ প্রচারাভিযানের আওতায় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ) এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনসহ ৪২টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠন আয়োজিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।

 

সভায় বক্তৃতা করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল, সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদার, সাবেক জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য ইকবাল ফারুক, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, সচেতন সংস্থার সভাপতি সাকিলা পারভীন প্রমূখ।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত নির্ভরতা মৎস্য সম্পদের ওপরও ঝুঁকি তৈরি করছে। কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফ্লাই অ্যাশ ও গরম পানি নদীদূষণ, অক্সিজেনের ঘাটতি ও মাছের ক্ষতি করছে। এ প্রেক্ষাপটে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর, কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ফেজ-আউট এবং বিদ্যমান স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আহ্বান জানানো হয়।

সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ছাদের ওপর সোলার প্যানেল স্থাপন এবং সোলার ইরিগেশন বা সৌর সেচ কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের জন্য খাস জমি বরাদ্দ এবং ব্যাটারি স্টোরেজ উন্নয়নের কাজ চলছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারগুলো কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে মৎস্য খাতেও প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন বলেন, শুধু নবায়নযোগ্য জ্বালানি নয়, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব কিভাবে মোকাবেলা করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এ সংক্রান্ত ৫ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে।

ড. মো. আনিসুর রহমান বলেন, পানিতে তাপমাত্রা, দূষণ, দ্রবীভূত অক্সিজেন (ডিও), পিএইচসহ বিভিন্ন প্যারামিটারের সামান্য পরিবর্তনও শুধু ইলিশ নয়, অন্যান্য মাছেরও ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। এতে বাস্তুতন্ত্র ও মাছের খাদ্যকৃঙ্খল ভেঙে যেতে পারে। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে সাহসী পদক্ষেপের পাশাপাশি ইতোমধ্যে উঠে আসা সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন জরুরি।

প্রবীণ সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। সেই পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। প্রয়োজনে উন্নত দেশগুলোর ন্যায় সোলার এনার্জি কর্পোরেশন করার আহ্বান জানান তিনি।

Ads small one

পাইকগাছায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

কপিলমুনি (পাইকগাছা) প্রতিনিধি: পাইকগাছা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গুরুত্বপূর্ণ এ সভার আয়োজন করা হয়। সভাটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

 

এসময় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, কৃষি কর্মকর্তা মোঃ একরামুল হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ পার্থ প্রতিম রায়, ওসি শেখ আব্দুল আউয়াল কবির, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাফিন শোয়েব, সমাজসেবা কর্মকর্তা অনাথ কুমার বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. মো. আব্দুল মজিদ, সদস্য সচিব এসএম ইমদাদুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম এনামুল হক, পৌর সভাপতি আসলাম পারভেজ সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ, তুষার কান্তি মন্ডল, জামায়েত ইসলামীর উপজেলা সভাপতি ডা. সাইদুর রহমান, সেক্রেটারি আলতাফ হোসেন, মোর্তজা জামান আলমগীর, অধ্যক্ষ মোঃ আজহার আলী, সহকারী অধ্যাপক স্বপন কুমার ঘোষ, প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব ও দেবাশীষ সরদার, ইউপি চেয়ারম্যান জিএম আব্দুস ছালাম, ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান শেখ খোরশেদুজ্জামান, পীযূষ কান্তি মন্ডল, আজিজুল ইসলাম লাভলু, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি রহিমা আখতার শম্পা, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ লালু সরদার, পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি মিজানুর রহমান প্রমূখ।

সভায় মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ ও প্রতিকার, আসন্ন দুর্গাপূজা, লোডশেডিং, যানজট, মোবাইল জুয়া, বাল্যবিবাহ, গভীর রাতে পর্যন্ত চায়ের দোকান খোলা রাখা, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সাতক্ষীরায় প্রাথমিকের ১৯৯ সহকারী শিক্ষকের নিয়োগপত্র প্রদান, বাদ পড়লেন ৪ জন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রাথমিকের ১৯৯ সহকারী শিক্ষকের নিয়োগপত্র প্রদান, বাদ পড়লেন ৪ জন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্বখাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক পদে ১৯৯ জনকে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৯৫ জনের কাছে নিয়োগপত্র পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি থাকায় চারজনকে এখনো নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন রাজস্বখাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় প্রাথমিক শিক্ষক নির্বাচন কমিটি সাতক্ষীরা জেলার জন্য প্রার্থীদের সুপারিশ করে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রার্থীদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা বেতনক্রমে (গ্রেড-১৩) অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

 

নিয়োগপত্রে বলা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে দুই বছর তাঁদের শিক্ষানবিশকাল হিসেবে গণ্য হবে। কর্মদক্ষতা, আচরণ ও সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ডের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। নিয়োগপত্রে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষানবিশকালে কোনো ধরনের বদলির আবেদন করা যাবে না। শিশুদের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা যাবে না। নিয়োগের সময় দেওয়া কোনো তথ্য বা সনদ পরবর্তী সময়ে মিথ্যা, ভুয়া বা ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হলে নিয়োগ বাতিল করা হবে এবং প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের কাগজপত্র ও তথ্য যাচাই করে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য বা কাগজপত্রে ত্রুটি পাওয়া গেছে, তাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। যাচাই-বাছাই ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

নিয়োগপত্র পাওয়া প্রার্থীদের আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অফিস চলাকালীন সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে চাকরিতে যোগদান করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে তাঁরা চাকরিতে যোগদানে সম্মত নন বলে গণ্য হবেন এবং নিয়োগপত্র বাতিল বলে বিবেচিত হবে। নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানের পর সরকার নির্ধারিত দুই মাসের প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে। এ ছাড়া চাকরিতে যোগদানের চার বছরের মধ্যে নির্ধারিত মৌলিক প্রশিক্ষণ (বিটিপিটি) গ্রহণ করতে হবে। প্রশিক্ষণে ব্যর্থ হলে বা অনুত্তীর্ণ হলে চাকরি স্থায়ী করা হবে না বলে নিয়োগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের নিয়োগপত্রে এসব শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে।

এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ফের ৪ দিনের রিমান্ডে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ফের ৪ দিনের রিমান্ডে

পত্রদূত ডেস্ক: দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় চার দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত রিমান্ডের এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

চার দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। শুনানি শেষে তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গত রবিবার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনে গাজী নজরুল ইসলামকে চারদিন ও মাকছুদা বেগমের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। সে দিন রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রিমান্ড শেষে মাকছুদা বেগমকে মঙ্গলবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর নজরুল ইসলামের চার দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার ফের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলো। এ মামলার আরেক আসামি মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহারে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদীর বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।

এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে বলে গেছেন। এর মধ্যে গত রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মোবাইল ফোনে বাদীকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন বাবা মাসুম বিল্লাহ।

তিনি এজাহারে লিখেছেন, লাশ উদ্ধারের সময় মেয়ের বিছানার ওপরে তার লেখা ‘সুইসাইড নোট’ দেখতে পান। একটি চিরকুটে লেখা আছে, শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই-তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই। আরেকটিতে লেখা, আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবইবা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমিতো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি।

আরও লেখেন, আমি হেরেছি তুমি জিতেছো, কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি ধ্বংসের শেষ দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি। ভেবে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ। আরেকটি চিরকুটে আছে দুটি লেখা। একটিতে আছে, সে ছিলো অন্য নারীর স্বামী। কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউ এর!!! আর আমি ছিলাম বোকা!!!অন্য কারও স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ!!!

অপর লেখায় আছে, কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশির সম্মানের। কারণ ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়ৃভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!
রবিবার বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে মরিয়ম আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন।

পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেসবুক পোস্টে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পরে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।