বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন ও টেকসই সমৃদ্ধির সম্ভাবনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন ও টেকসই সমৃদ্ধির সম্ভাবনা

একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হলো উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদের সড়কগুলোর আধুনিকায়ন কেবল মানুষের যাতায়াতকেই সহজ করে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। সম্প্রতি উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নে যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক খবর।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরা জেলায় বালু সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিটুমিনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মতো নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৮৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যেখানে গত অর্থবছরে কাজের সামগ্রিক গড় অগ্রগতি ছিল মাত্র ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ, সেখানে এক বছরের ব্যবধানে এই বিপুল অগ্রগতি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মতৎপরতা ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকিরই প্রমাণ দেয়। জেলার প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার শতাধিক সড়ক, যেমন—আশাশুনির গোয়ালডাঙ্গা-প্রতাপনগর, তালার দলুয়া-বুধহাটা, কিংবা শ্যামনগরের গ্যারেজ বাজার-হরিনগর বাজার সড়কগুলোর কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ হওয়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে স্থানীয় লাখ লাখ মানুষ।
পূর্বে যেখানে সড়ক উন্নয়নের নামে রাস্তা খুঁড়ে বছরের পর বছর ফেলে রাখার সংস্কৃতি ছিল, সেখানে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে দ্রুততম সময়ে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করা একটি প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত। এর ফলে শুধু যে জনগণের ভোগান্তি লাঘব হয়েছে তা-ই নয়, বরং কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এই উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা সুন্দরবনাঞ্চলের পর্যটন, মৎস্য শিল্প এবং গ্রামীণ ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে।
তবে এই দৃশ্যমান সফলতার পাশাপাশি কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। এলজিইডির উপজেলা অফিসগুলোতে তীব্র জনবল সংকট এবং উপজেলা প্রকৌশলীদের সরকারি যানবাহনের অভাব নিয়মিত তদারকিকে বিঘিœত করছে। দেশের গ্রামীণ সড়কগুলোর স্থায়িত্ব ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে মাঠপর্যায়ের এই দাপ্তরিক সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। একই সঙ্গে, যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কাজে অবহেলা করেছে বা অগ্রগতি দেখাতে পারেনি, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
আরেকটি দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক সময় যথাযথ কারিগরি জ্ঞান ছাড়াই সদ্য সমাপ্ত সড়কের গুণগত মান নিয়ে অহেতুক নেতিবাচক প্রচার চালানো হয়। কার্পেটিংয়ের পর পিচ জমাট বাঁধার নির্দিষ্ট সময় দেওয়ার আগেই অতি-উৎসাহী আচরণ অনেক সময় মাঠপর্যায়ের কাজের পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে। এই ক্ষেত্রে স্থানীয় জনসাধারণের সচেতনতা ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব একান্ত কাম্য।
উন্নয়নের এই ধারাকে টেকসই করতে হলে শুধু রাস্তা নির্মাণ করলেই চলবে না, বরং এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আশা করি, সাতক্ষীরা এলজিইডি সব সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে জেলার গ্রামীণ জনপদের এই উন্নয়নের গতি ধরে রাখবে এবং একটি সমৃদ্ধ, টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

Ads small one

শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির উদ্বোধন

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার সকালে উপজেলার হায়বাতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জামান কনক।
এ সময় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক, শ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি দীনেশ চন্দ্র মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান লাভলুসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আগে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দেশব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিতরণ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়।

সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পর্যবেক্ষণ ও তীব্র জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে ‘জলবায়ু শিক্ষা বিনিময় পরিদর্শন সিরিজ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে শহরের ইটাগাছা পশ্চিমপাড়ার জলমগ্ন এলাকায় এই কর্মসূচি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘হেড’-এর উদ্যোগে ‘কমিউনিটি অ্যাকশন ফর ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করে ‘সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন’ ও ‘ক্লাইমেট জাস্টিস রেজিলিয়েন্স ফান্ড’।
ইটাগাছা পশ্চিমপাড়ার জলমগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ফেরদৌসী আরা ময়না। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আলী নূর খান বাবুল। তিনি বলেন, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব ও প্রাকৃতিক জলাধার ভরাটের কারণে ইটাগাছাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা আজ জলমগ্ন। এ সময় তিনি দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবি পেশ করেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে পরিকল্পিত মাছ চাষ নিশ্চিত করা। জলবায়ু ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া। ইটাগাছা পশ্চিমপাড়াসহ সব নি¤œাঞ্চলে টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। প্রাকৃতিক জলাশয় সংস্কার ও অবৈধ দখলমুক্ত করা। কমিউনিটি ভিত্তিক জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা শরীফা ও রওশন আরা বলেন, বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার কারণে বসতবাড়িতে পানি উঠে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।
এর আগে সকালে শহরের কাটিয়া এলাকায় হেডের প্রধান কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হেডের নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন বলেন, তরুণ প্রজন্ম ও স্থানীয় কমিউনিটিকে সঙ্গে নিয়ে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় টেকসই অভিযোজন কৌশল তৈরি করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। সভায় সিনিয়র সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সংস্থার ইয়ুথ টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

শ্যামনগরে তিন বেকারিতে জরিমানা, একটির উৎপাদন বন্ধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে তিন বেকারিতে জরিমানা, একটির উৎপাদন বন্ধ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নি¤œমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার রাখার দায়ে তিনটি বেকারিকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে একটি বেকারির উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শ্যামনগর সদর ও নূরনগর বাজারে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুজ্জামান কনক।
আদালত সূত্র জানায়, অভিযানকালে শ্যামনগর বাজারের নিউ সুন্দরবন বেকারিকে ১০ হাজার টাকা, রয়্যাল ফুডস বেকারিকে ১০ হাজার টাকা এবং নূরনগর বাজারের সোনার বাংলা বেকারিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় রয়্যাল ফুডস ও সোনার বাংলা বেকারিতে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ নি¤œমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সোনার বাংলা বেকারির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে এ ধরনের তদারকিমূলক অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।