মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

মাদকবিরোধী দিবস : সাতক্ষীরার প্রান্তিক মরণোৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
মাদকবিরোধী দিবস : সাতক্ষীরার প্রান্তিক মরণোৎসব

আখলাকুর রহমান

গাছের পাতায় আষাঢ়ের প্রথম মেঘের ছায়া নামার আগেই বিশ্বজুড়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে পালিত হচ্ছে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস। ১৯৮৭ সালে জাতিসংঘ নামের সেই মস্ত বড় বৈশ্বিক পর্ষদটি খাতা-কলমে প্রস্তাব পাস করে ২৬শে জুন তারিখটিকে ক্যালেন্ডারের পাতায় লাল দাগ দিয়ে চিহ্নিত করেছিল। এই উদযাপনের একটা ঐতিহাসিক গৌরবও আছে; চীনের কিং রাজবংশের আমলে লিন জেক্সু নামের এক অকুতোভয় ম্যান্ডারিন যখন ক্যান্টন বন্দরে ব্রিটিশ বণিকদের আনা জাহাজ জাহাজ আফিম পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিলেন, সেই ঔপনিবেশিকতাবিরোধী প্রতিরোধকে সম্মান জানাতেই এই দিবসের পত্তন।

 

ইতিহাস আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় যে, মাদক কেবল মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে অবশ করে না, ওটা একটা গোটা সমাজ, রাষ্ট্র এবং তরতাজা প্রজন্মকে ভেতরে ভেতরে ফোঁকড় করে ফেলে। আজ এই দিবসের রাষ্ট্রীয় কাগুজে স্লোগানের পাশে দাঁড়িয়ে যখন আমাদের নিজেদের সীমান্তঘেঁষা জেলা সাতক্ষীরার দিকে তাকাই, তখন মেরুদ- বেয়ে এক তীব্র আতঙ্কের গ্রোত নেমে যায়।

আমাদের সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদগুলোর বর্তমান চেহারা বড় রূঢ়, বড় নির্মম। যে গ্রামগুলো একসময় ফজরের আজানের পবিত্র সুর, মসজিদের মক্তবে শিশুদের সুমধুর কুরআন তেলাওয়াত, চ-ীম-পের আড্ডা আর জারি-সারির শান্ত স্নিগ্ধতায় এক পরম আত্মিক শান্তিতে বেঁচে থাকত, আজ সেখানে এক অদ্ভুত ও বিষাক্ত নৈঃশব্দ্য। ইসলামের যে অমোঘ শিক্ষা মানুষের আত্মশুদ্ধি নিশ্চিত করত, যুবসমাজকে দেখাত নৈতিকতার সরল পথ, সেই চিরন্তন মূল্যবোধকে আজ ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি আজ এমন এক জঘন্য পর্যায়ে ঠেকেছে যে, গ্রামের পর গ্রাম মেপে প্রতি একশোটি বসতবাড়ি পার হতেই কোনো না কোনো ঝোপের আড়ালে, কিংবা ভাঙা চায়ের দোকানের পেছনে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা বা আইসের মতো মরণনেশার কেনাবেচা চোখে পড়ে।

 

সীমান্ত অঞ্চলের ভৌগোলিক দুর্বলতাকে পুঁজি করে একদল ফড়িয়া ও চোরাকারবারি এ দেশের চালিকাশক্তি যুবসমাজের মগজে এই বিষ ঢুকিয়ে দিচ্ছে। আমাদের স্থানীয় প্রশাসন মাঝেমধ্যে লোকদেখানো দুই-চারটে ঝটিকা অভিযান চালায়, কিছু চুনোপুঁটি ধরে বাহবা নেয়; কিন্তু এই লৌকিক তৎপরতা দিয়ে ব্যাধির আসল শেকড় উপড়ানো কোনোদিনই সম্ভব নয়। রাষ্ট্র ও প্রশাসন যদি সত্যি এই সর্বনাশা খেলা বন্ধ করতে চায়, তবে তাদের নজরদারি শহরকেন্দ্রিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ থেকে বের করে প্রান্তিক গ্রামের ধুলোবালিতে নামিয়ে আনতে হবে। মাদকের আসল গডফাদার ও পৃষ্ঠপোষকদের রাজনৈতিক বা সামাজিক ক্ষমতার ঠাট ঠুংরো কাচের মতো ভেঙে তাদের আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানোই এখন প্রধান জরুরি কাজ।

আইনের লাঠি দিয়ে কোনোদিন মানুষের মনস্তত্ত্ব থেকে নেশার ভূত তাড়ানো যায়নি, যাবেও না। এর জন্য প্রয়োজন সমাজের একদম নিচ থেকে গড়ে ওঠা এক স্বতঃস্ফূর্ত ও গণমুখী প্রতিরোধ। ইসলামে নেশাজাতীয় সব দ্রব্যকে স্পষ্টাক্ষরে হারাম বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা মানবজাতির বুদ্ধি ও আত্মাকে কলুষিত করে। এই ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিকতার বোধকে আমাদের তরুণদের অন্তরে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। প্রতিটা গ্রামের তরুণদের নিজেদের তাগিদেই দলবদ্ধ হতে হবে, গড়ে তুলতে হবে খাঁটি মাদকবিরোধী যুব সংগঠন। এই যুবকরা কোনো করপোরেট এনজিওর অনুদানে চলবে না, তারা হবে নিজ নিজ মাটির অতন্দ্র প্রহরী; তারা চোখ কান খোলা রেখে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করবে এবং যেখানেই এই বিষের কারবার দেখবে, যৌথ শক্তিতে রুখে দাঁড়াবে।

 

তরুণের এই বিপথগামিতা তো আসলে আমাদের বুর্জোয়া সমাজব্যবস্থারই এক চরম ব্যর্থতা; তাদের সুস্থ বিনোদন আর আধ্যাত্মিক বিকাশের জায়গা আমরা কেড়ে নিয়েছি। তাই প্রতিটি পাড়ায় খেলার মাঠগুলো উদ্ধার করা, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো, লাইব্রেরি আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক চেতনার বিকাশ ঘটানো ছাড়া এই অন্ধ কুয়ো থেকে ফেরার আর কোনো রাস্তা খোলা নেই। এই আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষের মুখে কোনো ফাঁপা স্লোগান নয়, একমাত্র কঠিন সত্য উচ্চারিত হওয়া উচিত যে রাষ্ট্রের সৎ সদিচ্ছা, ইসলামের সুমহান নৈতিক আদর্শ আর যুবসমাজের দ্রোহের যুগলবন্দিতেই কেবল এই উর্বর মাটিকে আমরা মেকি সুখের মরণব্যাধি থেকে মুক্ত করতে পারি। লেখক: উদ্যোক্তা ও স্বপ্নদ্রষ্টা আসিফা

Ads small one

পরীমণির বায়োপিকে কাজ করতে চান দীঘি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
পরীমণির বায়োপিকে কাজ করতে চান দীঘি

শিশুশিল্পী হিসেবেই বেশ জনপ্রিয়তা পান প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। তবে এখন নায়িকা হিসেবেই তিনি নিয়মিত কাজ করছেন। এর মধ্যে কয়েকটি সিনেমাতে প্রধান নায়িকা হিসেবে দেখা গেছে তাকে।

সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে দীঘি জানান, জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণির বায়োপিকে তিনি কাজ করতে চান। এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ হবে বলেও মন্তব্য করেন নায়িকা।

কেন পরীমণির বায়োপিকে কাজ করতে চান সেটিও তিনি জানান। তার কথায়, কোনও একটি অনুষ্ঠানে পরীমণি জানিয়েছেন তার বায়োপিকে তিনি নিজেই অভিনয় করবেন। কারণ অন্য কেউ পারবে না। সে চ্যালেঞ্জ থেকেই দীঘি কাজটি করতে আগ্রহী।

দীঘির ভাষ্য, ‘আমার মনে হয় তার (পরীমণি) বায়োপিক যদি হয় তাহলে এটি দারুণ একটি এন্টারটেইমেন্ট বায়োপিক হবে।’

নায়িকা হিসেবে দীঘির উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সিনেমা হলো-‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়াভাই’, ‘তুমি আছো তুমি নেই’ ও ‘শ্রাবণ জ্যোৎস্নায়’। এদিকে মুক্তির অপেক্ষায় আছে তার অভিনীত ‘বিদায়’ সিনেমাটি। এটি পরিচালনা করেছেন মেহেদী হাসান হৃদয়।

আরব আমিরাত ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৩ পূর্বাহ্ণ
আরব আমিরাত ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে

বাংলাদেশ নারীদের এশিয়া কাপে বাঁচা মরার ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে ১০৩ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে । তবে এদিন শুরুতেই বাংলাদেশকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল তুলনামূলক খর্ব শক্তির দল।

বিশেষ করে আগে ব্যাট করতে নেমে চাপে থাকা বাংলাদেশ যখন ৫৫ রানের মধ্যেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে। তবে শেষ দিকে শারমিন আক্তার সুপ্তার ৩১ বলে ৩৮ রানের ইনিংসে ভর করে লড়াই করার মতো পুঁজি পেয়েছে বাংলাদেশ।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের।

টাইগ্রেস ওপেনার দিলারা আক্তার রানের খাতা খোলার আগে প্রথম ওভারেই বিদায় নিয়েছেন। ৩ বলে ০ রান করেন দিলারা। তিনে নেমে ব্যর্থ ছিলেন সোবহানা মোস্তারীও। ৬ বলে ৩ রান করেছেন তিনি। টিকে থাকা ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস কিছুটা চেষ্টা চালিয়েছেন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে মাত্র ২১ রান তোলে বাংলাদেশ।

পাওয়ারপ্লে শেষে ২০ বলে ১৬ রান করে সাজঘরে ফিরে গেছেন জুয়াইরিয়া। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি থেমেছেন ২৮ বলে ২৩ রান করে। স্বর্ণা আক্তার এবং ফাহিমা খাতুন মেরেছেন গোল্ডেন ডাক। আউট হন পরপর দুই বলে। মাত্র ৫ বলের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।

শেষ দিকে শারমিন আক্তার সুপ্তা ঝড় তোলেন। ৩১ বলে ৩৮ রানের ক্যামিও খেলেন শারমিন। তাতেই একশ পার করার রসদ পায় বাংলাদেশ। এছাড়া নাহিদা আক্তার ২৬ বলে ১৬ রান করে টিকে ছিলেন। ৪ বলে ৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন রাবেয়া খান। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১০৩ রানের পুঁজি দাঁড় করায় বাংলাদেশ।

 

পাকিস্তান অধিনায়কের দ্বিতীয় অপরাধে আইসিসির শাস্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১২ পূর্বাহ্ণ
পাকিস্তান অধিনায়কের দ্বিতীয় অপরাধে আইসিসির শাস্তি

আইসিসি পাকিস্তান অধিনায়ক ফাতিমা সানাকে জরিমানা করেছে এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে। ফাতিমা আইসিসির খেলোয়াড় এবং সহযোগী স্টাফদের আচরণবিধির ২ দশমিক ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছেন বলে প্রমাণিত হয়। এতে পাকিস্তানি এই অধিনায়ককে ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি, ফাতিমার শৃঙ্খলা রেকর্ডে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ করা হয়েছে। ২৪ মাসের মধ্যে এটি ছিল তার দ্বিতীয় অপরাধ, যার ফলে এই ২৪ মাসের সময়সীমার মধ্যে তার মোট ডিমেরিট পয়েন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুইয়ে। ফাতিমা তার আগের ডিমেরিট পয়েন্টটি পেয়েছিলেন ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ চলাকালীন।

সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে ভারতের ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে, যখন ফাতিমা ওপেনার শেফালি বর্মাকে আউট করার পর প্যাভিলিয়নের দিকে ইশারা (অঙ্গভঙ্গি) করেছিলেন।

ফাতিমা নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন এবং এমিরেটস আইসিসি ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অব ম্যাচ রেফারি সুপ্রিয়া রানী দাসের প্রস্তাবিত শাস্তি মেনে নিয়েছেন, যার ফলে কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি। অন-ফিল্ড আম্পায়ার নিমালি পেরেরা ও সাথিরা জাকির জেসী, তৃতীয় আম্পায়ার রোকেয়া সুলতানা এবং চতুর্থ আম্পায়ার রাবাব আহসান এই অভিযোগটি আনেন।