শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

গ্রীষ্মের খরতাপে শরতের শুভ্রতা: সাতক্ষীরায় অসময়ে ফুটেছে কাশফুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
গ্রীষ্মের খরতাপে শরতের শুভ্রতা: সাতক্ষীরায় অসময়ে ফুটেছে কাশফুল

oplus_0

প্রকৃতির পঞ্জিকা বলছে এখন গ্রীষ্মকাল। কাঠফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত। ঠিক এই সময়েই সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা হাবুকুড় এলাকায় দেখা মিলল এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের। শরতের চিরচেনা শুভ্র কাশবনের ছোঁয়া লেগেছে বৈশাখের তপ্ত দুপুরে। প্রকৃতির এই খেয়াল দেখে অবাক স্থানীয় বাসিন্দারা।

​সাধারণত ভাদ্র-আশ্বিন মাসে নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর নদীর ধারে কাশফুলের দোলা আমাদের মনে করিয়ে দেয় শরতের আগমনী বার্তা। কিন্তু ইটাগাছা হাবুকুড়ের এই প্রান্তরে এখন সবুজের মাঝে ধবধবে সাদা কাশফুলগুলো বাতাসের তালে দুলছে। গ্রীষ্মের খাঁ খাঁ দুপুরে এই দৃশ্য যেন এক চিলতে প্রশান্তি নিয়ে এসেছে ক্লান্ত পথচারীদের মনে।

​সাতক্ষীরার এই কাশবন নিয়ে স্থানীয়রা বলছেন, এটি কেবল একটি দৃশ্য নয়, যেন প্রকৃতির এক রূপক কবিতা। গ্রীষ্মের অগ্নিস্নাত আকাশের নিচে যেখানে ধূ ধূ মরুভূমি হওয়ার কথা, সেখানে কাশফুলের এই মেলা যেন বলছে—প্রকৃতি কোনো বাঁধাধরা নিয়ম মানে না। এটি যেন “বৈশাখের রুদ্রে শরতের চাদর”।

​উদ্ভিদবিদদের মতে, অনেক সময় মাটির গুণাগুণ, আর্দ্রতা এবং বিশেষ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নির্দিষ্ট সময়ের আগেও কোনো কোনো ফুল ফুটতে পারে। তবে সাতক্ষীরার এই অসময়ের কাশফুল স্থানীয়দের কাছে এক বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​বিকেলের হালকা রোদে এখন অনেকেই এই শুভ্রতার মাঝে কিছুটা সময় কাটাতে ভিড় করছেন ইটাগাছা হাবুকুড় এলাকায়। অনেকেই ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন। তারা বলছেন— “ঋতুরাজ বসন্ত বিদায় নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু গ্রীষ্মের তাপদাহে শরত যেন নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছে সাতক্ষীরার এই সবুজ প্রান্তরে।”

— ছবি ও লেখা এসএম শহীদুল ইসলাম 

হরমুজ উন্মুক্তের খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০ শতাংশ কমলো

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
হরমুজ উন্মুক্তের খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০ শতাংশ কমলো

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের ঘোষণার পর বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একদিনেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০ শতাংশ কমেছে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে দেখা গেছে বড় ধরনের উল্লম্ফন।

শুক্রবার ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালি এখন থেকে সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ পর্যন্ত এই ঘোষণা বহাল থাকবে। এর ফলে পারস্য উপসাগর থেকে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো পুনরায় বিশ্বজুড়ে গ্রাহকদের কাছে অপরিশোধিত তেল পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পাবে।

এই খবরের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ার বাজার সূচক ডাউ জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ১ হাজার ২০ পয়েন্ট বাড়ে। পাশাপাশি অন্যান্য সূচকের মধ্যে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ শুক্রবার সকালের লেনদেনে ১.৩ শতাংশ এবং নাসডাক কম্পোজিট ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত মার্চ মাসের শেষের দিক থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে ১২ শতাংশ উত্থান দেখা গেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশই বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় কোনও বিপর্যয় এড়াতে পারবে, বিনিয়োগকারীদের এমন আশাবাদ থেকেই এই চাঙাভাব দেখা যাচ্ছে।

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের বড় একটি অংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ সচল হওয়া বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট নিরসন এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: এপি

হরমুজ প্রণালি পারাপারে আইআরজিসি’র ৪ শর্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
হরমুজ প্রণালি পারাপারে আইআরজিসি’র ৪ শর্ত

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে চারটি কঠোর শর্ত জারি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ বাহিনী। বর্তমানে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির আবহে এই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এ খবর জানিয়েছে।

আইআরজিসি নৌবাহিনীর ঘোষিত শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে-

নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার: বেসামরিক নৌযানগুলো চলাচলের ক্ষেত্রে শুধু ইরানের নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে পারবে।

যুদ্ধজাহাজ নিষিদ্ধ: প্রণালি দিয়ে যেকোনও ধরনের সামরিক জাহাজ বা যুদ্ধজাহাজ চলাচল আগের মতোই কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

পূর্বানুমতি আবশ্যক: হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিটি জাহাজ পারাপারের জন্য আইআরজিসি নৌ শাখার কাছ থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে।

যুদ্ধবিরতির শর্ত: এই যাতায়াত সুবিধা চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল।

হরমুজ প্রণালি পারাপারে আইআরজিসি’র ৪ শর্ত

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইরানের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা এলো। এর মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়া হলেও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর তাদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি আগের মতোই অটুট থাকবে।

শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্সে জানিয়েছিলেন, লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সংগতি রেখে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইরানকে ধন্যবাদ জানালেও দেশটির ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষে খাঁচায় ফিরলো ‘সেলিব্রেটি’ নেকড়ে নেউকু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষে খাঁচায় ফিরলো ‘সেলিব্রেটি’ নেকড়ে নেউকু

৯ দিনের রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তা, নির্ঘুম রাত আর পুরো দক্ষিণ কোরিয়াকে কাঁপিয়ে দেওয়া এক উত্তেজনার অবসান ঘটলো। অবশেষে খাঁচায় ফিরেছে দেজন শহরের ও-ওয়ার্ল্ড চিড়িয়াখানা থেকে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে পালিয়ে যাওয়া দুই বছর বয়সী নেকড়ে নেউকু। শুক্রবার ভোরে ড্রোন, পুলিশ আর সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত এক বিশাল বাহিনীর অভিযানে অচেতন করা হয় এই ‘ফেরারি’ নায়ককে।

গত ৮ এপ্রিল আস্ত সুড়ঙ্গ খুঁড়ে চম্পট দেয় নেউকু। ২০১৮ সালে এই চিড়িয়াখানা থেকে পালানো একটি পুমাকে মেরে ফেলার তিক্ত স্মৃতি থেকে দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, নেউকু কি বাঁচবে? খোদ প্রেসিডেন্ট লি জে মায়ুং বিবৃতি দিয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশকে নির্দেশ দেন নেউকু’কে জীবিত উদ্ধারের। পাহাড়ের আঁধারে গাড়ির হেডলাইটের আলোয় তার দৌড়ে চলার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে তাকে রাতারাতি ‘জাতীয় সেলিব্রেটি’তে পরিণত করে।

 

টানা ৯ দিন ড্রোন আর বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে পাহাড়-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানো নেউকু’কে যখন উদ্ধার করা হয়, দেখা যায় তার পেটে একটি বড় মাছ ধরার বড়শি আটকে আছে। তবুও দমে যায়নি সে। এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে বড়শিটি সরিয়ে তাকে এখন বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

নেউকু’র ফিরে আসায় দক্ষিণ কোরিয়ার ইন্টারনেটে বইছে আনন্দধারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাশট্যাগ ‘ওয়েলকাম ব্যাক নেউকু’ ট্রেন্ডিংয়ে। দেজন শহরের মেয়র লি জাং-উ পুরো জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

১৯৬০-এর দশকে বিলুপ্ত হওয়া নেকড়ে প্রজাতির এই বংশধর এখন স্থিতিশীল। আপাতত চিড়িয়াখানা বন্ধ রেখে বাড়ানো হচ্ছে নিরাপত্তা। তবে নেউকু যে এখন দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ‘দর্শনীয় বস্তু’, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

সূত্র: এপি