শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

গ্রীষ্মের খরতাপে শরতের শুভ্রতা: সাতক্ষীরায় অসময়ে ফুটেছে কাশফুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
গ্রীষ্মের খরতাপে শরতের শুভ্রতা: সাতক্ষীরায় অসময়ে ফুটেছে কাশফুল

oplus_0

প্রকৃতির পঞ্জিকা বলছে এখন গ্রীষ্মকাল। কাঠফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত। ঠিক এই সময়েই সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা হাবুকুড় এলাকায় দেখা মিলল এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের। শরতের চিরচেনা শুভ্র কাশবনের ছোঁয়া লেগেছে বৈশাখের তপ্ত দুপুরে। প্রকৃতির এই খেয়াল দেখে অবাক স্থানীয় বাসিন্দারা।

​সাধারণত ভাদ্র-আশ্বিন মাসে নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর নদীর ধারে কাশফুলের দোলা আমাদের মনে করিয়ে দেয় শরতের আগমনী বার্তা। কিন্তু ইটাগাছা হাবুকুড়ের এই প্রান্তরে এখন সবুজের মাঝে ধবধবে সাদা কাশফুলগুলো বাতাসের তালে দুলছে। গ্রীষ্মের খাঁ খাঁ দুপুরে এই দৃশ্য যেন এক চিলতে প্রশান্তি নিয়ে এসেছে ক্লান্ত পথচারীদের মনে।

​সাতক্ষীরার এই কাশবন নিয়ে স্থানীয়রা বলছেন, এটি কেবল একটি দৃশ্য নয়, যেন প্রকৃতির এক রূপক কবিতা। গ্রীষ্মের অগ্নিস্নাত আকাশের নিচে যেখানে ধূ ধূ মরুভূমি হওয়ার কথা, সেখানে কাশফুলের এই মেলা যেন বলছে—প্রকৃতি কোনো বাঁধাধরা নিয়ম মানে না। এটি যেন “বৈশাখের রুদ্রে শরতের চাদর”।

​উদ্ভিদবিদদের মতে, অনেক সময় মাটির গুণাগুণ, আর্দ্রতা এবং বিশেষ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নির্দিষ্ট সময়ের আগেও কোনো কোনো ফুল ফুটতে পারে। তবে সাতক্ষীরার এই অসময়ের কাশফুল স্থানীয়দের কাছে এক বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​বিকেলের হালকা রোদে এখন অনেকেই এই শুভ্রতার মাঝে কিছুটা সময় কাটাতে ভিড় করছেন ইটাগাছা হাবুকুড় এলাকায়। অনেকেই ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন। তারা বলছেন— “ঋতুরাজ বসন্ত বিদায় নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু গ্রীষ্মের তাপদাহে শরত যেন নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছে সাতক্ষীরার এই সবুজ প্রান্তরে।”

— ছবি ও লেখা এসএম শহীদুল ইসলাম 

Ads small one

খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

 

পত্রদূত ডেস্ক: দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা রোভার স্কাউট, গার্ল গাইডস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে খুলনা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণসহ নগরীর রেলওয়ে মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, ফাতিমা উচ্চ বিদ্যালয়, মেট্রো পুলিশ লাইনস স্কুল, ভিক্টোরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ন্যাশনাল বয়েজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টুটপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং খানজাহান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়।

সম্পাদকীয়/ উপকূলের লোনাজলে নতুন স্বপ্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ উপকূলের লোনাজলে নতুন স্বপ্ন

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ও বিশ্ব উষ্ণায়নের এই যুগে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল ক্রমেই তীব্র সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। জমিতে লবণাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধি, মিষ্টি পানির অভাব এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপকূলীয় এলাকার প্রথাগত কৃষিব্যবস্থাকে এক চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। তবে সেই প্রতিকূলতা ও স্থবিরতাকে মেনে নিয়ে থমকে যাননি সাতক্ষীরার কৃষককুল। বরং বিজ্ঞানের উদ্ভাবন আর নিজেদের অমূল্য অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা প্রকৃতির এই বিরূপতার বিরুদ্ধে নতুন এক লড়াই গড়ে তুলেছেন। লোনা পানির মাছের ঘেরের অনাবাদি আইলে অসময়ে তরমুজ ও নানাবিধ সবজি ফলিয়ে তাঁরা জলবায়ু অভিযোজনের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

একসময় চৈত্র-বৈশাখ মাসে যখন উপকূলের মাটিতে লবণাক্ততার পরাকাষ্ঠা থাকত, তখন ঘেরের আশপাশের আইলগুলো পতিত হিসেবেই পড়ে থাকত। কিন্তু বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় অসময়ের তরমুজ চাষ প্রায় ১৪১ হেক্টর জমিতে বিস্তৃত হয়েছেÑযা গত মৌসুমের চেয়ে বহুগুণ বেশি। ঘেরের পানিতে সাঁতার কাটছে মাছ আর ওপরের আইল বা মাচায় শোভা পাচ্ছে সুপ্রিম হানি, ব্ল্যাক বেবি, তৃপ্তির মতো প্রজাতি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে ফলানো রকমারি সবজি। দেবহাটা কিংবা তালার প্রান্তিক কৃষকদের এই সফলতা কেবল ব্যক্তিগত আয়ের নতুন উৎস তৈরি করেনি, বরং স্থানীয় অর্থনীতি ও পুষ্টি নিরাপত্তায় এক দারুণ প্রভাব ফেলছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই নতুন কৃষিধারায় ঘরের নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় দিনমজুরদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হওয়া নিঃসন্দেহে গ্রামীণ অর্থনীতির এক আশাব্যঞ্জক দিক।

তবে কৃষকদের এই বিস্ময়কর সাফল্যকে কোনোভাবেই চিরস্থায়ী ধরে নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ নেই। এই সম্ভাবনাময় উদ্যোগটির সামনে এখনো কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট। এর মধ্যে প্রধান সংকট হলো সেচের উপযোগী মিষ্টি পানির তীব্র অভাব, আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত। চারা টিকিয়ে রাখতে কিংবা ফলন ভালো রাখতে কৃষকদের যে অতিরিক্ত শ্রম ও খরচ মেটাতে হয়, তা অনেক সময় তাঁদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

উপকূলীয় কৃষকদের এই ব্যক্তিগত ও আঞ্চলিক উদ্যোগকে জাতীয় পর্যায়ে একটি টেকসই কৃষিমডেল হিসেবে রূপ দিতে হলে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জোরদার কৌশলগত পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রথমত, সেচসুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বৃষ্টিসংরক্ষণ প্রযুক্তি ও উপকূলীয় পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সমাধান বের করতে হবে। দ্বিতীয়ত, জলবায়ুসহিষ্ণু ও লবণাক্ততাসহিষ্ণু বীজের সহজলভ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে আধুনিক কৃষিতথ্যের তদারকি আরও জোরদার করা জরুরি।

সাতক্ষীরার লোনা পানির ঘেরে কৃষকদের হাত ধরে তরমুজের যে মৃদু হাসি ফুটে উঠেছে, তা কেবল একটি ফসলের ফলন নয়Ñতা প্রতিকূল প্রকৃতিকে জয় করে বেঁচে থাকার এক বলিষ্ঠ প্রতীক। সরকারি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি, কার্যকর নীতিমালা এবং নিরবচ্ছিন্ন সহায়তার সুযোগ পেলে উপকূলীয় এলাকার এই সবুজ বিপ্লব দেশের সার্বিক কৃষিখাত ও খাদ্য নিরাপত্তায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

 

রাতে পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল না করতে নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
রাতে পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল না করতে নির্দেশ

রাতে পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল না করতে নির্দেশ দিয়েছে জেলা পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এক দাফতরিক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। খুলনা নগরে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক পুলিশ পরিদর্শক গুরুতর আহত হওয়ার পর এ নির্দেশনা এসেছে।

নির্দেশনাপত্রে বলা হয়েছে, চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলার রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চলছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাও পরিলক্ষিত হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষ অভিযানসহ অন্য দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ দেওয়া হলো। এ বিষয়ে ইউনিট ইনচার্জদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

চিঠির অনুলিপি জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট সব দফতর ও থানায় পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে খুলনার পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার ওমর ফারুক জানান, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রূপসা থানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা শেষে ফেরি পার হয়ে ফেরার পথে এক পুলিশ পরিদর্শক ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন। তিনি রিকশায় করে বাসায় ফিরছিলেন। তার কাছে দুটি মোবাইল ফোন ও একটি ওয়ালেট ছিল। খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের সামনে তিনি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। হয়তো এ সময় তিনি প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি সাদাপোশাকে ছিলেন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনি এখনও ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এসপি বলেন, ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্যের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রাতে একা চলাচলের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব শেষে কোনও সদস্য যেন ছিনতাইকারীদের কবলে না পড়েন, সে জন্যই এ সতর্কতা।

এ নির্দেশনার কারণে নিরাপত্তাহীনতার বার্তা যাচ্ছে কি না, জানতে চাইলে সরকার ওমর ফারুক বলেন, ‘আসলে এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ একটা চিঠি। চিঠিতে তো বিস্তারিত লেখা যায় না। যাতে কোনও পুলিশ সদস্য ছিনতাইকারীর কবলে না পড়েন, সে জন্যই মূলত এই চিঠি দেওয়া।’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে খুলনা নগরের খানজাহান আলী রোডে খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলম (৪৩) ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রূপসা উপজেলায় বিশেষ অভিযান শেষে তিনি রিকশায় করে নগরে যাচ্ছিলেন। কলেজিয়েট স্কুলের সামনে তিন ছিনতাইকারী তার গতিরোধ করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা ধারালো চাপাতি দিয়ে তার দুই হাতের কবজিতে কোপ দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাত থেকে অপরাধী গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে খুলনা জেলা পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করে। গত সোমবার রূপসায় ছেলে জয় ঢালীকে হত্যার দেড় মাস পর তার বাবা আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা এবং দিঘলিয়ার ফরমাইশখানা এলাকায় চায়ের দোকানে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনার পরই পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করে।