শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

চাগোস দ্বীপপুঞ্জ কেন কিনতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ
চাগোস দ্বীপপুঞ্জ কেন কিনতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

মরিশাসের কাছ থেকে ভারত মহাসাগরের বিতর্কিত চাগোস দ্বীপপুঞ্জ সরাসরি কিনে নেওয়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বীপপুঞ্জটির ওপর যুক্তরাজ্যের কর্তৃত্ব এড়িয়ে কীভাবে সরাসরি মরিশাস সরকারের সঙ্গে এই চুক্তি সম্পন্ন করা যায়, মার্কিন কর্মকর্তারা এখন সেই উপায় খুঁজছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। ওয়াশিংটনের এই আকস্মিক উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়া’র ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।

বর্তমানে দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যৌথ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ভারত মহাসাগর, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন অংশে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য এই ঘাঁটিটিকে অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে থাকে দুই দেশ।

কীভাবে মরিশাস থেকে আলাদা হয়েছিল চাগোস?

১৮১৪ সাল থেকে ব্রিটিশ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল হিসেবেও পরিচিত চাগোস দ্বীপপুঞ্জ যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১৯৬৫ সালে মরিশাস যখন ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল, তখন চাগোস দ্বীপপুঞ্জকে মরিশাস থেকে আলাদা করে ফেলা হয়। সে সময় যুক্তরাজ্য মাত্র ৩০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ডের বিনিময়ে দ্বীপগুলো কিনে নিয়েছিল। তবে মরিশাস পরবর্তীতে দাবি করে, এই বিচ্ছেদ মোটেও ন্যায্য ছিল না এবং ব্রিটিশদের প্রচণ্ড চাপের মুখে তারা এটি করতে বাধ্য হয়েছিল।

এরপর ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৩ সালের মধ্যে সামরিক ঘাঁটি তৈরির পথ সুগম করতে দ্বীপের স্থায়ী বাসিন্দাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে ব্রিটিশ সরকার। ১৯৬৮ সালে মরিশাস স্বাধীনতা লাভ করলেও চাগোস দ্বীপপুঞ্জকে আইনগতভাবে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছে। দেশটিকে স্বাধীনতা দেওয়ার আগেই অন্যায়ভাবে দ্বীপগুলো কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে যুক্তি মরিশাসের।

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর, ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্য দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ মরিশাসের কাছে হস্তান্তর করতে সম্মত হয়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতা সে সময় এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।

দাসপ্রথার ইতিহাস ও চাগোসিয়ানদের উচ্ছেদ

ওলন্দাজ (ডাচ) ও ফরাসিরা নারকেল বাগানে কাজ করানোর জন্য আফ্রিকা এবং মাদাগাস্কার থেকে দাসদের এই দ্বীপে নিয়ে আসার পর বহু বছর ধরে চাগোস দ্বীপপুঞ্জে মানুষের বসতি গড়ে উঠেছিল। এই দাস ও তাদের বংশধরেরা দীর্ঘ সময়ে নিজেদের একটি অনন্য সংস্কৃতি, ভাষা, খাবার ও সংগীতের ধারা তৈরি করেন। এই জনগোষ্ঠী মূলত ‘চাগোসিয়ান’ নামে পরিচিত।

১৯৭১ সালে দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে মার্কিন-যুক্তরাজ্য যৌথ সামরিক ঘাঁটি গড়ে তোলার আগে, যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল দ্বীপটিকে যেন সম্পূর্ণ জনমানবহীন করা হয়। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা মার্কিনদের এই দাবিতে সম্মত হন এবং দ্বীপের স্থায়ী বাসিন্দাদের অবমূল্যায়ন করে উপহাসের ছলে মাত্র কয়েকজন ‘টারজান অব ম্যান ফ্রাইডেজ’ বলে অভিহিত করেন।

এর পরপরই চাগোসিয়ানদের পুরো জনসংখ্যাকে দ্বীপ থেকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়া হয়। জাহাজে করে তাদের মরিশাস ও সেশেলস দ্বীপে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নির্বাসিত এই মানুষদের অনেকেই উপযুক্ত বাসস্থান, অর্থ কিংবা নাগরিক নথিপত্র পাননি, যার ফলে নতুন করে জীবন গড়তে তাদের চরম সংগ্রাম করতে হয়। এই অমানবিক উচ্ছেদের জন্য পরবর্তীতে অবশ্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছিল যুক্তরাজ্য সরকার। বাসিন্দাদের তাড়িয়ে দেওয়ার পর দ্বীপগুলো দীর্ঘ সময় ফাঁকা পড়ে থাকে এবং তা অরণ্যে রূপ নেয়। ২০১০ সালে এই অঞ্চলটিকে সামুদ্রিক সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

যুক্তরাজ্য-মরিশাস চুক্তির আসল শর্ত কী?

চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও মরিশাস একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে অবস্থিত যৌথ সামরিক ঘাঁটিটি আগামী ৯৯ বছর পর্যন্ত পরিচালনা করবে যুক্তরাজ্য। এরপর যুক্তরাজ্য ও মরিশাস উভয়ে সম্মত হলে চুক্তির মেয়াদ আরও ৪০ বছর বাড়ানো যাবে। পরবর্তীতে দুই পক্ষের সম্মতিতে এই মেয়াদ আরও দীর্ঘ করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

যদি ৯৯ বছর পর এই চুক্তি শেষও হয়ে যায় এবং মরিশাস যদি ঘাঁটিটি অন্য কোনও দেশকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবুও পরবর্তী ৪০ বছরের জন্য ঘাঁটিটি ব্যবহারের প্রথম অধিকার যুক্তরাজ্যেরই থাকবে। মরিশাস চাইলেই এককভাবে এই চুক্তি বাতিল করতে পারবে না। যুক্তরাজ্য যদি চুক্তির পাওনা টাকা পরিশোধ না করে কিংবা মরিশাসের ওপর আক্রমণ চালায়, কেবল তখনই মরিশাস চুক্তি বাতিলের সুযোগ পাবে।

দিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহারের জন্য মরিশাসকে প্রতি বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেবে যুক্তরাজ্য। ৯৯ বছরে এই পেমেন্টের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৩৪০ কোটি (৩.৪ বিলিয়ন) ব্রিটিশ পাউন্ড। এ ছাড়া চুক্তিতে চাগোসিয়ান জনগোষ্ঠীর জন্য ক্ষতিপূরণের অর্থও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাদের জন্য একটি ট্রাস্ট ফান্ডে ৪০ মিলিয়ন (৪ কোটি) ব্রিটিশ পাউন্ড জমা দেবে যুক্তরাজ্য। তবে এই চুক্তিতে চাগোসিয়ানরা আবারও নিজেদের দ্বীপে ফিরে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনার পর গত এপ্রিল মাসে মরিশাসের কাছে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের এই পুরো পরিকল্পনাটি স্থগিত করে দেয় যুক্তরাজ্য সরকার।

সূত্র: এনডিটিভি

Ads small one

‘আমার হাত এখনও প্রতিদিন ব্যথা করে’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
‘আমার হাত এখনও প্রতিদিন ব্যথা করে’

ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির সংবাদ সম্মেলনের আগেই গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ফাইনাল নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন। নিউইয়র্কের জ্যাভিটস সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।

জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ‘দিবু’ বলেন, “বিশ্বকাপের আগে থেকেই হাতের চোটের ব্যথা আমাকে ভোগাচ্ছে। যেসব বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করেছি, সবাই অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছিলেন। গ্রুপ পর্বে আমি ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারিনি। তবে শেষ ষোলো থেকে এ নিয়ে আর ভাবিনি। এখন অনেকটাই ভালো অনুভব করছি। তবু আমার হাত এখনও প্রতিদিন ব্যথা করে।”

দলে অর্জন নিয়ে ভাবনা

কয়েক বছর আগে কিছু সতীর্থর সঙ্গে আড্ডায় তিনি বলেছিলেন, দুটি বিশ্বকাপ জিতলে তিনি অবসর নেবেন। তার সেই ভাইরাল মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি তা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘‘হ্যাঁ, এটি এএফএ অনুশীলন মাঠে নিকোর সঙ্গে কথা বলার সময় বলেছিলাম… তবে প্রথমে আমাদের জিততে হবে, আমি কেবল সেটির দিকেই মনোনিবেশ করছি। এই দলের সঙ্গে আমরা বছরের পর বছর ধরে উন্নতি করছি। দল যা অর্জন করেছে তা ভেবেই মাঝে মাঝে আমার কান্না চলে আসে। এখনও আনন্দের অনেক মুহূর্ত আসা এবং তা উপভোগ করা বাকি রয়েছে।’’

এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তার অনুভূতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘‘আমি গতবারের চেয়ে এই বিশ্বকাপ অনেক বেশি উপভোগ করছি। সৌদি আরবের ম্যাচের পর আমি অনেক ভুগেছিলাম। খুব বেশি শটের মুখোমুখি হইনি, অথচ তারা গোল করে দিয়েছিল। আমি কেবল পেনাল্টি শুটআউটে একটি নিষ্পত্তিমূলক ভূমিকা পালন করতে পেরেছিলাম। আমার মনে হয় এখন আমি পায়ে আরও ভালো খেলছি। আমি রবিবার মাঠে নামব এবং আপনারা আমাকে হাসিমুখে দেখতে পাবেন।’’

মানসিক শক্তি এবং ‘দিবু’র সেই চেতনা

প্রতিটি ধাক্কা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে নিজের শক্তির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘তারা আমার বিরুদ্ধে এক বা দুটি গোল করতে পারে, কিন্তু পরবর্তী প্লে-তেই আমি সেই একই ‘দিবু’ । চাপ আমাকে কাবু করতে পারে না। আমি আমার গ্লাভস পরে নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস রাখার চেষ্টা করি। খেলা যাই হোক না কেন, আমার মধ্যে সেই পাড়ার চেতনা রয়েছে, যা আমাকে মার দেল প্লাতার ‘ব্যারিও জার্দিন’-এ খেলা সেই একই দিবু বানিয়ে রাখে।’’

৩৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার ফাইনালে প্রতিপক্ষকে নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন, ‘‘দারুণ দল, প্রিমিয়ার লিগে খেলা খেলোয়াড়দের কারণে আমি তাদের সম্পর্কে অনেক কিছু জানি। তাদের একজন দুর্দান্ত কোচ রয়েছেন, এটি কেবল লামিনকে নিয়ে নয়, তাদের একটি দুর্দান্ত দল রয়েছে এবং তারা একটা সুনির্দিষ্ট কারণেই এখানে এসেছে। তাদের নিজস্ব শক্তি রয়েছে, তবে আমাদেরও শক্তি রয়েছে। আশা করি এটি এমন একটি ম্যাচ হবে যা দর্শকরা দীর্ঘদীন মনে রাখবেন।’’

ম্যাচের প্রস্তুতি এবং কোচের ওপর আস্থা নিয়ে তিনি বললেন, ‘‘আমি মনে করি যখন আমরা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলেছিলাম, সেটি ছিল জাতীয় দলের সঙ্গে আমার দ্বিতীয় সবচেয়ে উপভোগ্য ম্যাচ। দুবার জেতা, চতুর্থ তারকা অর্জন করা—মানুষের উদযাপনের সঙ্গে এটি কেমন হতে পারে তা আমি কেবল কল্পনাই করতে পারি।’’

কঠিন পরিস্থিতি ও খাপ খাইয়ে নেওয়া নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে তাকে। তিনি বলেন, ‘‘মাঝে মাঝে মানুষ আপনার মুখোমুখি হওয়া প্রতিপক্ষ নিয়ে তাদের মতামত দেয়, কিন্তু আমরা তো প্রতিপক্ষ বেছে নিই না। সব ম্যাচই কঠিন, রবিবার ফাইনালটি হবে দুপুর ৩টায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে, এবং আমাদের মানিয়ে নিতে হবে।’’

শান্ত থাকা ও দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো নিয়ে মার্টিনিজের কথা, ‘‘আমি খুব শান্ত বোধ করছি। একজন গোলরক্ষকের ভূমিকা কেবল ম্যাচের মধ্যে ভালো সেভ করার চেয়েও বেশি কিছু। তাকে নিজের হাফ থেকে বেরিয়ে আসতে হয়, আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে হয়। এগুলো হলো ফুটবলের এমন কিছু দিক যা আমার সতীর্থদের এই নিশ্চয়তা দেয় যে আমি শান্ত আছি, আমাকে তাদের আত্মবিশ্বাস দেখাতে হবে। যখন তারা তা দেখে, তখন তারা, যারা ফুটবলে এত দুর্দান্ত, কেবল সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিকে মনোযোগ দেয়। এই বিশ্বকাপে আমরা অনেক গোল করতে পেরেছি এবং এ পর্যন্ত আমরা গত বিশ্বকাপের চেয়ে একটি গোল কম হজম করেছি।’’

কোচের বার্তা নিয়ে সরাসরি বললেন তিনি, ‘‘কোচ আমাকে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘তুমি কেমন আছ তা বড় বিষয় নয়, আমি তোমাকে আমার দলে চাই।’ আমার জন্য এটি ১০টি পেনাল্টি সেভ করা এবং সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় থাকার চেয়েও বেশি আনন্দের। আর যদি আমার সেই মুহূর্তটি না আসে এবং আমরা ফাইনাল জিতি, তবে সেটিও সমান তাৎপর্যপূর্ণ হবে।’’

ফাইনালের আগে স্পেন কোচের স্পষ্ট বার্তা, ‘মেসিকে ম্যান-মার্কিং নয়’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
ফাইনালের আগে স্পেন কোচের স্পষ্ট বার্তা, ‘মেসিকে ম্যান-মার্কিং নয়’

বিশ্বকাপের মহারণে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা লিওনেল মেসি। তবে তাকে থামাতে কোনো ফুটবলারকে আলাদা করে দায়িত্ব দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। বরং পুরো দল মিলে মেসির ওপর কড়া নজর রাখার পরিকল্পনাই করেছে স্পেন। অতীতের এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসিকে আটকাতে স্পেন কি বিশেষ কোনো ম্যান-মার্কিং কৌশল ব্যবহার করবে? জবাবে স্পেন কোচ জানিয়ে দেন, এমন পরিকল্পনা নেই।

নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি স্মৃতিচারণ করেন সেভিয়ার বয়সভিত্তিক দলের কোচ থাকাকালীন সময়ের একটি ম্যাচের কথা। স্প্যানিশ কাপে বার্সেলোনার বিপক্ষে সেই ম্যাচে কিশোর মেসিকে শুরু থেকেই ম্যান-মার্কিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একজন ডিফেন্ডারকে, ‘বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলতে গিয়েছিলাম। তখন ‘মেসি’ নামে এক অসাধারণ প্রতিভাবান ছেলের কথা অনেক শুনেছিলাম। তাই ম্যাচের শুরু থেকেই তাকে ম্যান-মার্কিংয়ে রেখেছিলাম। ৭০ মিনিট পর্যন্ত স্কোর ছিল ০-০। এরপর যিনি তাকে মার্ক করছিলেন, তিনি হলুদ কার্ড দেখায় আমি তাকে তুলে নিই। আর পরের ১৫ মিনিটেই মেসি চারটি গোল করে বসে।’

সেই অভিজ্ঞতা এখনও তাকে শিক্ষা দেয় বলে জানান স্পেন কোচ, ‘এর মানে কি আমরা এবারও তাকে ম্যান-মার্কিং করবো? না। তবে তার ওপর খুব কাছ থেকে নজর রাখবো।’

নিজের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামা মেসিই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন।

ফাইনালের আগে মেসির সঙ্গে স্পেনের ১৮ বছর বয়সী তারকা লামিনে ইয়ামালের তুলনাও উঠে আসে। তবে এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেন দে লা ফুয়েন্তে, মেসি অনন্য। তিনি অসাধারণ প্রতিভাবান এবং তরুণ ফুটবলারদের জন্য অনুকরণীয় এক উদাহরণ। কিন্তু লামিনেকে লামিনেই থাকতে হবে। তাকে নিজের মতো বেড়ে উঠতে সাহায্য করাই আমাদের দায়িত্ব।’

এদিকে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে চোট পাওয়ার পর ইয়ামালের ফিটনেস নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সেই উদ্বেগ দূর করেছেন স্পেন কোচ, ‘তার উরুতে জোরে আঘাত লেগেছিল। পেনাল্টি বক্সে তাকে ফাউল করা হয়েছিল, আর জায়গাটা বেশ সংবেদনশীল ছিল। তবে আজ সে দলের সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই অনুশীলন করেছে।’

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ কি খেলবে এমবাপ্পে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ কি খেলবে এমবাপ্পে?

ফ্রান্স কিংবা ইংল্যান্ড- কোনও দলই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি খেলতে চান না। এটাকে কেউ কেউ নির্যাতনও বলছেন। শনিবার রাতে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের এই ম্যাচই দুই দলই একাদশে বেশ পরিবর্তন আনছে। ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমপও তার দলের পরিবর্তন আনার কথা নিশ্চিত করেছেন। এরপরই গুঞ্জন উঠেছে দলের তারকা খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপ্পে আজ রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নামবেন কি না। যদি তিনি না খেলেন তাহলে গোল্ডেন বুট আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির নিশ্চিতই বলা যায়।

তবে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমপ নিশ্চিত করেছেন যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে খেলার জন্য ‘প্রস্তুত’ আছেন। তবে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে নিজের শেষ ম্যাচে তিনি নিয়মিত শুরুর একাদশে কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছেন বলেও নিশ্চিত করেছেন।

এমবাপ্পে এই টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় তারকা ছিলেন এবং তার দল বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেও, তার সংগ্রহে একটি গোল্ডেন বুট যোগ করার পাশাপাশি ইতিপূর্বে জেতা বিজয়ী ও রানার্স-আপ মেডেলের সঙ্গে একটি ব্রোঞ্জ মেডেল যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার লিওনেল মেসির সমান ৮টি গোল করেছেন। তবে আর্জেন্টিনার তারকা একটি অ্যাসিস্ট বেশি করার কারণে ফাইনালের সপ্তাহের আগে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোলও গোল্ডেন বুটের জন্য গণনা করা হয়।

দেশমপ বলেন, তারা খেলুক বা না খেলুক, একজন প্রধান কোচ হিসেবে আগামীকালের লক্ষ্য অর্জনের জন্য যা যা করা সম্ভব তা করার দায়িত্ব আমার। আমি আশা করি আমরা তা করবো এবং এটি করার জন্য আমাদের সবটুকু চেষ্টা প্রদর্শন করতে হবে।

তিনি বলেন, এটি একটি ম্যাচ। আমার কাছে কিছু সমাধান রয়েছে। কিছু খেলোয়াড় হয়তো খেলবে, আবার ব্যক্তিগত কারণে অন্য কেউ হয়তো খেলতে চাইবে। খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমার হওয়া কোনও আলোচনা আমি প্রকাশ করতে চাই না। আমার কাছে সব তথ্য নেই, তবে হ্যাঁ, আমি কিছু খেলোয়াড় পরিবর্তন করবো।