রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কমিটি থেকে একযোগে ৮ নেতার পদত্যাগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কমিটি থেকে একযোগে ৮ নেতার পদত্যাগ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির বর্তমান ১৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি প্রত্যাখান করে একযোগে পদত্যাগ করেছেন ৮ জন শীর্ষ নেতা। পদত্যাগকারীরা হলেন কার্যকরী সভাপতি শেখ সাঈদ আহমেদ রঞ্জু, সহ-সভাপতি মো. জিয়ারুল ইসলাম, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুজ্জামান বাবলু, এবং কার্যকরী সদস্য যথাক্রমে আব্দুল মোমেন খান চৌধুরী (সান্টু), মো. আবু হাসান, মো. নুরুজ্জামান জামু, শেখ শাহাজাহান আলী ও মো. দেলোয়ার হোসেন সুজন।
রবিবার (২৬ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পদত্যাগপত্রটি সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরবোর ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে।
পদত্যাগকারী নেতাদের অভিযোগ, গত ২৯ নভেম্বর সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ১৯ সদস্যের কমিটি অনুমোদিত হলেও পরবর্তীতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজেদের সুবিধাজনক ব্যক্তিদের নিয়ে ৯ সদস্যের একটি পৃথক কমিটি গঠন করে খুলনা শ্রম অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন করিয়ে আনেন। বিষয়টি নিয়ে বারবার আপত্তি জানানো হলেও কোনো সমাধান করা হয়নি। এছাড়া অনুমোদিত কমিটির কয়েকজন কর্মকর্তার নিজস্ব কোনো ট্রাক নেই বলেও অভিযোগ করেন তারা। এসব অসাংগঠনিক কর্মকা-ের প্রতিবাদেই তারা একযোগে পদত্যাগ করেছেন।

Ads small one

দুস্থদের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান এমপি ইজ্জত উল্লাহর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
দুস্থদের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান এমপি ইজ্জত উল্লাহর

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: সমাজের দুস্থ ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা ও জীবিকায় সাহায্যার্থে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ।
রোববার (২৭ জুলাই) বিকেল ৫টায় তালা উপজেলার মির্জাপুর বাজারে কাদের বক্স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের নিজস্ব কার্যালয়ে নগদ টাকা ও ছাগল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. আলাউদ্দিন মল্লিকের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, “ধনী মানুষের সম্পদের ভেতরে আল্লাহ তাআলা গরিবের হক রেখে দিয়েছেন। আজকের সমাজে যদি জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু থাকত, তাহলে কোনো গরিব খুঁজে পাওয়া যেত না। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে।”
অনুষ্ঠানে ১০ জন দুস্থ ও অসহায় মানুষকে ১টি করে ছাগল এবং ১ জনকে চায়ের দোকান দেওয়ার জন্য নগদ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। ছাগলপ্রাপ্তরা হলেন বারাত গ্রামের মো. আব্দুল মজিদ ও মোসাঃ সাজেদা বেগম, কুমিরার ফাতেমা বেগম, মদনপুরের আছিয়া বেগম, ভাগবা গ্রামের শিরিনা বেগম, সেনপুরের মফিজুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান, শেখ আব্দুল্লাহ, নোয়াকাটির নিসার আলী এবং জামাল উদ্দিন। এছাড়া চায়ের দোকান করার জন্য হাজরাপাড়ার কামরুল ইসলামকে নগদ ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. মাহমুদুল হক, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি অধ্যাপক গাজী সুজায়েত আলী, ভিডিএফের জেলা সভাপতি ডা. আফতাব উদ্দীন, তালা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মফিদুল্লাহ, সেক্রেটারি অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি নাজমুল হক খান, কুমিরা ইউনিয়ন আমীর মাস্টার বকুল, সেক্রেটারি মাওলানা তরিকুল ইসলাম, মাস্টার মাওলানা মোশাররফ হোসেন, ছাত্রনেতা জুবায়ের, সমাজসেবক আল মামুন, ডা. আবু হোসেন ও মতিউর রহমান।

 

সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে কুশপুত্তলিকা দাহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে কুশপুত্তলিকা দাহ

পত্রদূত রিপোর্ট: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শ্যামনগরে আন্দোলন অব্যাহত আছে। সংসদ সদস্য পদ থেকে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো শ্যামনগরে রোববার বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বেলা ১১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে বাবলাতলা মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। এ সময় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঠিকাদার মো. শামসুদ্দোহা। বক্তব্য দেন রবিউল ইসলাম, আবদুস সালাম, মফিজুল ইসলাম, মো. রাসেল প্রমুখ।
মফিজুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের নৈতিক প্রত্যাশা ও সংসদ সদস্যের পদমর্যাদার কথা বিবেচনায় নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগ করা উচিত। একই সঙ্গে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।
অন্য বক্তরা বলেন, শ্যামনগরের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, গাজী নজরুল ইসলামকে ইতিমধ্যে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি দ্রুত সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে শ্যামনগর অচল কর্মসূচির পাশাপাশি জেলার সব উপজেলায় একযোগে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
গত সোমবার রাতে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। তবে পরদিন গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে নানা বিতর্ক ও নির্বাচনী এলাকায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলার মধ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ জরুরি সভায় বসে গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না।

সম্পাদকীয়/ স্থায়ী জলাবদ্ধতায় সাতক্ষীরা: অপরিকল্পিত ঘের ও উদাসীনতার মাশুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ স্থায়ী জলাবদ্ধতায় সাতক্ষীরা: অপরিকল্পিত ঘের ও উদাসীনতার মাশুল

টানা কয়েক দিনের স্বাভাবিক বর্ষণে তলিয়ে গেছে সাতক্ষীরার শহর থেকে প্রত্যন্ত এলাকা। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, কয়েক দিনে সেখানে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। কিন্তু কেবল প্রকৃতির খামখেয়ালিপনাকে এই চরম দুর্ভোগের একমাত্র কারণ বলা চলে না। মূলত মানুষের তৈরি প্রতিবন্ধকতা, অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের এবং নিষ্কাশনব্যবস্থার চরম অকার্যকারিতাই জেলাজুড়ে এ কৃত্রিম ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের শৈলকুর বিলের চিত্রটি বর্তমান সংকটের এক প্রকট উদাহরণ। সেখানে গুটি কতক প্রভাবশালী ব্যক্তির অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের এবং উঁচু বেড়িবাঁধের কারণে বিলের স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনের পথ গেটের খাল ও বেতনা নদীর সংযোগস্থলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ইউপির অন্তত ১০টি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। জনজীবন আজ সম্পূর্ণ স্তব্ধ। সড়ক, কৃষিজমি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বসতবাড়িতে জমে রয়েছে দূষিত পানি। দীর্ঘসময় ধরে পানিবন্দী থাকার ফলে চর্মরোগ, ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশনব্যবস্থা। সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছেন নারী, শিশু এবং নি¤œ আয়ের দিনমজুরেরা, যাঁদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে।
একই সঙ্গে জেলাজুড়ে নদীর নাব্যতা সংকট ও তীর ভাঙনের চিত্রও বেশ আশঙ্কাজনক। বেতনা নদীর ওপর সবেমাত্র নির্মিত গোবিন্দপুর-মাটিয়াডাঙ্গা সেতুর পিলারের গোড়া ও তীর ধসে চরম হুমকির মুখে পড়েছে কোটি কোটি টাকার সরকারি অবকাঠামো, মসজিদ ও বসতবাড়ি। অন্যদিকে, অপরিকল্পিতভাবে সড়কের পাশে ঘের করায় সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়ক ও বাইপাস সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। একদিকে কৃষি জমির ধান ও চিংড়ি ঘের ভেসে গিয়ে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি, অন্যদিকে ড্রেনেজ ব্যবস্থার অচল অবস্থাÑসব মিলিয়ে এটি কোনো সাধারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনারই চরম বহিঃপ্রকাশ।
এই দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। সদর উপজেলা প্রশাসন যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ঘেরের বেড়িবাঁধ কেটে পানি অপসারণের যে আশ্বাস দিয়েছে, তা যেন শুধু মুখের কথাতেই সীমাবদ্ধ না থাকে। কোনো ব্যক্তিস্বার্থ যেন হাজার মানুষের জীবনের জিম্মি হওয়ার কারণ না হয়, তা নিশ্চিত করতে অবৈধ ও অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিজিএফ চাল, নিরাপদ পানীয় জল এবং চিকিৎসা সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দিতে হবে।
তবে সংকট নিরসনে দরকার একটি দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই পরিকল্পনা। নদী ও খালগুলোর পুনঃখনন, অবৈধ দখলদার মুক্তকরণ এবং পরিবেশসম্মত ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করতে না পারলে প্রতি বর্ষাতেই এভাবে সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষকে ডুবতে হবে। জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা আশা করি, তারা জনদুর্ভোগ লাঘবে অনতিবিলম্বে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।