সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

মোদি সরকারকে যে কৌশলে নতি স্বীকারে বাধ্য করলো ‘ককরোচরা’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
মোদি সরকারকে যে কৌশলে নতি স্বীকারে বাধ্য করলো ‘ককরোচরা’

কোনও রাজনৈতিক পরিচয় নেই, ছিল না কোনও দলীয় রাজনৈতিক সংগঠন কিংবা বছরের পর বছর রাজপথে আন্দোলন আন্দোলনের অভিজ্ঞতা। তা সত্ত্বেও ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং সাধারণ শিক্ষার্থী প্রতিবাদকারীরা ভারতের পুরো রাজনৈতিক মহলকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়েছে এবং অবশেষে মোদি সরকারকে নতি স্বীকারে বাধ্য করেছে।

ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী
সিজেপি যখন প্রথম জাতীয় রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করে, তখন একে ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ এক প্রতিবাদী গোষ্ঠী হিসেবেই দেখেছিল। ভারতীয় রাজনীতিতে যা বহুবার দেখা গেছে, কয়েকজন ক্ষুব্ধ তরুণ, স্লোগান, আর নতি স্বীকার না করার বিষয়ে অনড় একটি সরকার। নাটকের চিত্রনাট্য অত্যন্ত চেনা হলেও, এর পরিণতি হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

কয়েক সপ্তাহ ধরে সিজেপির টানা আন্দোলনের মুখে শনিবার মোদি সরকার শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করে। শিক্ষার্থীদের মূল দাবিগুলো মেনে নেওয়া হয়, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন এবং আন্দোলনকারীরা নিজেদের জয় ঘোষণা করে বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। নিজেদের সিদ্ধান্তে চরম অনড় থাকার জন্য পরিচিত মোদি সরকারের রাজত্বে এটি অত্যন্ত বিরল ও অভাবনীয় এক অর্জন।

ভারতে বিগত এক দশকে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) বিরোধী আন্দোলন, বছরব্যাপী কৃষক আন্দোলন কিংবা মণিপুরের সহিংসতা নিয়ে এর চেয়েও বড় বিক্ষোভ দেখা গেছে। তবে সেই আন্দোলনগুলোর খুব কমই সরকারের একদম শীর্ষ পর্যায়ে এমন সরাসরি রাজনৈতিক জবাবদিহিতা আদায় করতে পেরেছিল। এমনকি ২০২৪ সালেও নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ক্ষোভ থাকলেও সরকার কোনও মন্ত্রীকে বলি দেয়নি। তবে এবার কেন হার মানলো মোদি সরকার? পার্থক্যটা শুধু শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে ছিল না, বরং ছিল তারা যেভাবে লড়াই করেছে তার মধ্যে।

রাজনীতিবিদেরা ভেবেছিলেন অভিজ্ঞতার কাছে তরুণেরা হেরে যাবে। কিন্তু দিনশেষে রাজনীতির নিয়ম কতটা বদলে গেছে, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো এই আনকোরা তরুণেরাই।

সিজেপির সাফল্যের চাবিকাঠি

সিজেপির সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল তারা সাধারণ রাজনৈতিক দলের মতো আচরণ করেনি, কারণ তারা সত্যিই কোনও রাজনৈতিক দল ছিল না। আন্দোলনকে রাজনৈতিক বা নির্বাচনি রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সরকার খুব সহজেই তাকে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক খেলা বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু তরুণেরা সরকারকে সেই চেনা সুযোগ দেয়নি। বিরোধী দলের নেতারা সমর্থনে এগিয়ে এলেও সিজেপি কৌশলে নিশ্চিত করেছে যেন রাজনৈতিক নেতারা কেবল সমর্থক হিসেবেই থাকেন, আন্দোলনের মূল মুখ না হয়ে ওঠেন। ক্যামেরার নজর সবসময় রাজনীবিদদের বদলে শিক্ষার্থীদের ওপরই স্থির ছিল।

রাজনীতিতে আনকোরা হওয়াই সিজেপির সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। পেশাদার রাজনীতিবিদরা দরকষাকষির সময় ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণের কথা ভাবেন, কিন্তু শিক্ষার্থীরা তা ভাবেনি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাদের দাবিগুলো ছিল একদম এক ও অপরিবর্তনীয় জবাবদিহিতা, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। এই স্থিতিশীলতাই তাদের আন্দোলনকে এক অনন্য বিশ্বাসযোগ্যতা এনে দিয়েছিল। কোনও আদর্শিক বিতর্কে না জড়িয়ে আন্দোলনকে শুধু পরীক্ষা, মেধা এবং কোটি কোটি তরুণের ভবিষ্যতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল, যা সাধারণ অভিভাবক ও শিক্ষকদের গভীরভাবে স্পর্শ করে।

রাজপথের বাইরে সোশ্যাল মিডিয়ার লড়াই

রাজপথ যদি একটি যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে থাকে, তবে সোশ্যাল মিডিয়া ছিল অপর যুদ্ধক্ষেত্র। এখানে দুই প্রজন্মের ব্যবধান স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। আগের আন্দোলনগুলোতে ফেসবুক বা এক্স ব্যবহৃত হতো কেবল হালনাগাদ তথ্য দেওয়ার জন্য। কিন্তু সিজেপির কাছে সোশ্যাল মিডিয়াই ছিল আন্দোলনের মূল ক্ষেত্র।

এখানেই শেষ নয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জয়ে চাঙ্গা মোদিবিরোধীরাএখানেই শেষ নয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জয়ে চাঙ্গা মোদিবিরোধীরা
ইনস্টাগ্রামে পুলিশকে প্রশ্ন করা শিক্ষার্থীর ভিডিও, অনশনের বার্তা, ড্রোন দিয়ে তোলা জনস্রোতের দৃশ্য কিংবা আবেগঘন মুহূর্তগুলো মুহূর্তের মধ্যেই লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছিলো। মূলধারার টেলিভিশন টকশো শুরুর আগেই অ্যালগরিদম ঠিক করে ফেলছিল মানুষ কী দেখবে।

রাজনৈতিক দলগুলো সোশ্যাল মিডিয়াকে ঐতিহ্যবাহী প্রচারণার ডিজিটাল রূপ হিসেবে দেখলেও, জেন-জি বোঝে অন্য ভাষা। তাদের রাজনৈতিক যোগাযোগ ভিজ্যুয়াল, দ্রুত ও দূরদর্শী। ২০ সেকেন্ডের একটি শক্তিশালী রিল বা একটি রিলেটেবল মিম বিশ মিনিটের সংবাদ সম্মেলনের চেয়ে অনেক বেশি আবেদন তৈরি করেছিল।

সরকার বা বিরোধীদের ডিজিটাল টিম এই গতি সামলাতে হিমশিম খেয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর ফোন ছিল এক একটি সম্প্রচার কেন্দ্র। সরকারের যোগাযোগের যন্ত্র সংসদ বা টকশো সামলাতে পারলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া হাজার হাজার বিকেন্দ্রীভূত ভিডিও বা রিলকে একক কোনও সংবাদ সম্মেলন দিয়ে ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

বিরোধী দলগুলো সংসদে চাপ সৃষ্টি করলেও তারা আন্দোলন পরিচালনা করছিল না, বরং আন্দোলনকে অনুসরণ করছিল। বছরের পর বছর পর ভারতের রাজনীতিতে তরুণেরা রাজনীতিবিদদের পেছনে না হেঁটে, রাজনীতিবিদদের নিজেদের পেছনে হাঁটাতে বাধ্য করেছে।

অভিজ্ঞ নেতারা যখন বক্তৃতা আর সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, সিজেপি প্রতিটি প্রতিবাদস্থলকে কনটেন্ট কারখানায় পরিণত করেছিল। রাজনীতিবিদেরা যখন বিষয়টি ধরতে পারলেন, ততক্ষণে তরুণেরা মনোযোগের রাজনীতি এবং একই সঙ্গে মূল রাজনৈতিক লড়াই দুটোতেই জয়ী হয়ে গেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

Ads small one

লালন শাহের মাজার থেকে পেট্রোল ও টাইম বোমা উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
লালন শাহের মাজার থেকে পেট্রোল ও টাইম বোমা উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক: কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের মাজারের ভিতরে মূল ফটকের পাশ থেকে একটি সাদা ব্যাগে রাখা ২টি বোতলভর্তি পেট্রোল ও টাইম বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাজার ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

রোববার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে লালন শাহের মাজারের মূল ফটকের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় সাদা ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়।

অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মাজার এলাকা ফাঁকা করে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মাজারে প্রবেশের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে পুলিশ, র‍্যাব ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাতে মাজার কমপ্লেক্সের মূল প্রবেশদ্বারের পাশে একটি সাদা ব্যাগে মোড়ানো সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় সাধুরা। পরে তারা সেখানে দায়িত্বে থাকা কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিনকে বিষয়টি জানান। ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগের ভেতরে পেট্রোল ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মতো কিছু দেখতে পান তিনি। এরপর বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানানো হয়।

পরে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে ব্যাগটি পাহারায় রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ সুপারের মাধ্যমে ঢাকায় যোগাযোগ করা হলে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের ৪ সদস্যের একটি দল সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে কুষ্টিয়ায় পৌঁছায়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যাগের ভেতরে দুটি বোতলভর্তি পেট্রোল ও একটি টাইম বোমা থাকার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়।

 

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, রাতে সাধুরা পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা একটি ব্যাগ দেখে আমাকে জানালে আমি তাৎক্ষণিক সেখানে গিয়ে ব্যাগ দেখে পুলিশ সুপার মহোদয়কে জানাই। পরে ঢাকা থেকে ৪ সদস্যবিশিষ্ট বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট সকালে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। তাদের মাধ্যমে জানতে পারি, সেটি টাইম বোমা।

ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুতই তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনা, কমতে পারে তাপমাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনা, কমতে পারে তাপমাত্রা

অনলাইন ডেস্ক: উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকা পর্যন্ত লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিস্তৃত রয়েছে। তবে আগামী পাঁচ দিনে সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে এবং পাঁচ দিন পর বঙ্গোপসাগরে নতুন করে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসার দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

 

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টাতেও আবহাওয়া পরিস্থিতি একই রকম থাকবে। অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

 

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

 

বিবাহবিচ্ছেদের পর মদ্যপানে আসক্তি, ২৬ দিন পুনর্বাসন কেন্দ্রে ছিলেন চাহাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
বিবাহবিচ্ছেদের পর মদ্যপানে আসক্তি, ২৬ দিন পুনর্বাসন কেন্দ্রে ছিলেন চাহাল

ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা আর মানসিক চাপ- কঠিন এক সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল ভারতের লেগ স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহালকে। ধনশ্রী বার্মার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর উদ্বেগ, প্যানিক অ্যাটাক এবং ক্রিকেট থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা এবার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন তিনি। এমনকি পরিস্থিতি সামাল দিতে ২৬ দিন পুনর্বাসন কেন্দ্রেও কাটিয়েছেন এই স্পিনার।

ভারতের সাবেক ওপেনার আকাশ চোপড়ার পডকাস্ট ‘বেইথ অ্যান্ড বল’-এ নিজের কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেন চাহাল। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য তার মানসিক অবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলে জানান তিনি। সেই চাপ একপর্যায়ে মাঠের পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলতে শুরু করে।

৩৬ বছর বয়সী চাহালের ভাষায়, পরিচিত মুখ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ক্রমাগত আলোচনা চলছিল। এসব মন্তব্যে কষ্ট পেতেন তিনি। মানসিক চাপ বাড়তে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাপন ও ক্রিকেটে মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে।

উদ্বেগের তীব্রতা বোঝাতে গিয়ে প্যানিক অ্যাটাকের সময় নিজের শারীরিক অবস্থার বর্ণনাও দিয়েছেন চাহাল। তার হৃদস্পন্দন দ্রুত বেড়ে যেত, মুখের পেশি শক্ত হয়ে আসতো। কখনও ঠোঁট একদিকে বেঁকে যেত, এমনকি কথা বলাও কঠিন হয়ে পড়তো।

চাহাল বলেন, ‘প্যানিক অ্যাটাকের সময় আমার মুখটা কুঁচকে যেত। আমি কথাও বলতে পারতাম না।’

এ ধরনের অভিজ্ঞতা তার জীবনে আগে কখনও হয়নি বলেও জানিয়েছেন এই স্পিনার। পরে তিনি বুঝতে পারেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ তার সম্পর্কে কী বলছে, তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই অন্যদের মন্তব্য নিয়ে পড়ে না থেকে জীবনকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ব্যক্তিগত জীবনের এই কঠিন সময় ক্রিকেট থেকেও সাময়িকভাবে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল চাহালকে। তিনি জানান, ওই পর্যায়ে বিরতি নেওয়ার আগে সাদা বলের ক্রিকেটে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন। মানসিকভাবে প্রতিযোগিতায় নামার মতো প্রস্তুত ছিলেন না বলেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

নিজের সেরা অবস্থায় নেই, এমন অনুভূতি হচ্ছিল তার। একই সঙ্গে নিজের সমস্যার প্রভাব যেন দলের ওপর না পড়ে, সেটিও ভাবনায় ছিল। এ কারণে বিসিসিআই’র সাবেক কোষাধ্যক্ষ অনিরুদ্ধ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। চাহালের সিদ্ধান্তে সমর্থন দিয়েছিলেন অনিরুদ্ধ।

কোরিওগ্রাফার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ ধনশ্রী বার্মার সঙ্গে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বিয়ে হয়েছিল চাহালের। ২০২৫ সালের মার্চে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়। বিচ্ছেদের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল, যা সামলানো তার জন্য সহজ ছিল না বলে জানিয়েছেন চাহাল।

পডকাস্টে নিজের জীবনের আরেকটি কঠিন দিকও তুলে ধরেছেন তিনি। বিবাহবিচ্ছেদের সময় ব্যক্তিগত সংকটের মধ্যে তার মদ্যপানের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন তিনি।

আইপিএলে খেলার শুরুর দিকে বন্ধুদের সঙ্গে সামাজিক পরিসরে মদ্যপান করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি বুঝতে পারেন, এভাবে চলতে থাকলে জীবনের সবচেয়ে প্রিয় বিষয় ক্রিকেটই হারিয়ে ফেলতে পারেন।

এরপর পেশাদার একজনের সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ২৬ দিন একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে কাটান এই স্পিনার। তার মতে, সেই অভিজ্ঞতা নিজের জীবন ও আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সাহায্য করেছে।

কঠিন সময়ে পরিবার ও সবচেয়ে কাছের বন্ধুও পাশে ছিলেন বলে জানিয়েছেন চাহাল। তাদের সমর্থন তার ঘুরে দাঁড়ানোর পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এখন মানসিকভাবে অনেক ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন ভারতের এই ক্রিকেটার। নিজের ফিটনেস ও ব্যক্তিগত সুস্থতার দিকেও মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি। চাহালের কাছে ঘুরে দাঁড়ানোর অর্থ শুধু আবার উইকেট নেওয়া নয়; বরং নিজের জীবনকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা।