বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

জনবল-সংকটে থমকে যাচ্ছে চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারের কার্যক্রম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:৪১ অপরাহ্ণ
জনবল-সংকটে থমকে যাচ্ছে চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারের কার্যক্রম

কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে নেই টেকনিশিয়ান, অকেজো হওয়ার শঙ্কা

সংবাদদাতা: চিংড়ি শিল্পকে আধুনিক ও টেকসই করতে ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামার। উদ্দেশ্য ছিল গবেষণা, উন্নত পোনা উৎপাদন, পানির গুণগত মান পর্যবেক্ষণ এবং খামারিদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল ও দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাবে সেই স্বপ্ন এখন অনেকটাই থমকে গেছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অভাবে অকেজো হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খামারটিতে রয়েছে আধুনিক হ্যাচারি, পিসিআর ল্যাব, কোয়ারেন্টাইন ল্যাবসহ বিভিন্ন ভারী ও আধুনিক যন্ত্রপাতি। পাশাপাশি রয়েছে পানির গুণগত মান পরীক্ষার (ওয়াটার কোয়ালিটি টেস্টিং) ব্যবস্থা, উন্নত পোনা উৎপাদনের প্রযুক্তি এবং গবেষণাগার। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগমুক্ত ও মানসম্মত পোনা উৎপাদন, পানির পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে গবেষণার সুযোগ থাকলেও দক্ষ অপারেটর ও পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত জনবল না থাকায় অনেক যন্ত্রই নিয়মিত ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চিংড়ি শিল্প এখন কঠিন সময় পার করছে। রোগব্যাধি, মানসম্মত পোনার সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে অনেক খামারি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে গবেষণা ও প্রশিক্ষণভিত্তিক এই প্রদর্শনী খামার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি তার পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক চিংড়ি চাষে পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, দ্রবীভূত অক্সিজেন ও পিএইচ পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্যের ভিত্তিতে রোগ প্রতিরোধ ও উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব। এজন্য উন্নত ল্যাব ও পরীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হলেও শুধু যন্ত্রপাতি স্থাপন করলেই হবে না, সেগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবলও অপরিহার্য।
খামারের একটি প্রধান লক্ষ্য ছিল মাঠপর্যায়ের চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও বলছে, প্রদর্শনী খামার ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ কৃষকদের নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। কিন্তু বর্তমানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় উপকূলের বহু খামারি সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এদিকে চিংড়ি শিল্পে রোগব্যাধির ঝুঁকি বাড়ছে। অতীতে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণে দেশের বিভিন্ন হ্যাচারিতে শতকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আবার ভাইরাসজনিত রোগে সাতক্ষীরা অঞ্চলের চিংড়ি খামারগুলোও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। গবেষণা ও আগাম সতর্কতামূলক কার্যক্রম জোরদার না হলে ভবিষ্যতেও এমন সংকট দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খামার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, বর্তমানে অনেক যন্ত্রপাতি সীমিতভাবে ব্যবহার হচ্ছে, কিছু যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ না হলে এসব মূল্যবান যন্ত্রপাতি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তখন নতুন করে যন্ত্রপাতি কেনা ও অবকাঠামো সচল করতে আবারও বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে।

সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দেশের চিংড়ি উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র। জেলার হাজার হাজার পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রদর্শনী খামারটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা গেলে মানসম্মত পোনা উৎপাদন, রোগ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু দ্রুত জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু না হলে কোটি টাকার প্রযুক্তি অব্যবহৃত থেকে যাবে, আর হারিয়ে যেতে পারে চিংড়ি শিল্পে সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

সাতক্ষীরা জেলা চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি এবং শ্রিম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সেব)-এর সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চলের সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা বলেন, “সাতক্ষীরার পিসিআর ল্যাব চালু করা গেলে পোনা ছাড়ার আগে জীবাণু আছে কি না তা জানা যেত। এতে আমাদের উৎপাদন অনেক ভালো হতো।” তিনি আরও বলেন, “এই যন্ত্রপাতিগুলো চালুর বিষয়ে আমি সচিবালয়ের বৈঠকেও জানিয়েছি। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।”

চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহ: শফিকুল ইসলাম বলেন, আধুনিক এসব যন্ত্রপাতি জেলা মৎস্য কর্মকর্তার অধীনে। “আপনি উনার সাথে কথা বলুন। আমি একটি মিটিংয়ে আছি, পরে কথা হবে,”
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি. এম. সেলিম বলেন, “সাতক্ষীরা থেকে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হয়। এখানে পিসিআর ল্যাব, কোয়ারেন্টাইন ল্যাবসহ অনেক ভারী ও আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এসব যন্ত্রপাতির কেমিক্যালের মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হয়ে যাবে। আমরা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নেওয়ার জন্য লিখিতভাবে জানিয়েছি। এসব যন্ত্র ব্যবহার করা খুবই প্রয়োজন।”

 

তিনি আরও বলেন, “আগে এসব পরীক্ষার জন্য খুলনা বা ঢাকায় যেতে হতো। এখন এখানে পরীক্ষা করা সম্ভব হলে সময় ও খরচ দুটোই কমবে। পোনাগুলো জীবাণুমুক্ত কি না তা পরীক্ষা করা যাবে, এতে ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। এছাড়া পানির গুণগত মান পরীক্ষার জন্যও এখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে।” সংবাদদাতা আব্দুর রহমান

 

 

Ads small one

মামলাজট নিরসনে লিগ্যাল এইডের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
মামলাজট নিরসনে লিগ্যাল এইডের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত
বদিউজ্জামান : পারিবারিক ও দেওয়ানি বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কার্যক্রম জোরদার এবং মামলাজট হ্রাসে লিগ্যাল এইডের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে সাতক্ষীরায় এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেল ৩টায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, সাতক্ষীরার সম্মেলন কক্ষে আইনজীবী ও বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ‘পারিবারিক ও দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তি ও মামলাজট নিরসনে লিগ্যাল এইডের ভূমিকা’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, সাতক্ষীরা।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) ও জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং স্পেশাল মেডিয়েটর মো. শহিদুল ইসলাম এবং জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ( সিভিল জজ) লিটন দাস।
এ সময় বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বিএম মিজানুর রহমান (পিন্টু), সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) অ্যাডভোকেট অসীম কুমার মণ্ডল, প্যানেল আইনজীবী অ্যাডভোকেট খায়রুল বদিউজ্জামান, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম গনি দুদু ও অ্যাডভোকেট শিহাব মাসুদ সাচ্চু। এছাড়া এনজিও প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মুনিরুদ্দীন ও সাকিবুর রহমান বাবলা।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিস সূত্রে জানা যায়, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক কারণে বিচারপ্রাপ্তিতে অসমর্থ জনগোষ্ঠীর আইনগত অধিকার নিশ্চিত করতে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তর (লিগ্যাল এইড) দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আইনজীবী ও এনজিও প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, পারিবারিক ও দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে আদালতের ওপর মামলার চাপ কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্প ব্যয়ে, দ্রুত ও সহজলভ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে লিগ্যাল এইড কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সেমিনারে পারিবারিক ও দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তিতে এডিআর পদ্ধতির কার্যকারিতা বৃদ্ধি, মামলাজট নিরসন এবং জনগণের জন্য সহজ ও দ্রুত বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

গাজীপুর মাদ্রাসায় অনলাইন জুয়া বিরোধী উদারতা’র সচেতনতামূলক কার্যক্রম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
গাজীপুর মাদ্রাসায় অনলাইন জুয়া বিরোধী উদারতা’র সচেতনতামূলক কার্যক্রম

তরুণ প্রজন্মকে অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন উদারতা যুব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আশাশুনির গাজীপুর কুড়িগ্রাম ইসলামিয়া সিদ্দিকিয়া আলিম মাদ্রাসায় এক সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ দুপুর ১২ ঘটিকায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে অনলাইন জুয়ার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একইসঙ্গে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার, নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। উদারতা যুব ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জুবায়ের আহম্মেদ-এর নির্দেশনায় এবং আল-আমিন ও আবু তাহের-এর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ কার্যক্রমে সমগ্র সেশন পরিচালনা করেন সংগঠনের দেলোয়ার হোসেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে অনলাইন জুয়া তরুণ সমাজের জন্য একটি বড় সামাজিক হুমকিতে পরিণত হয়েছে। দ্রুত অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে পড়ে অনেক শিক্ষার্থী ও যুবক এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।

 

উদারতা যুব ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জুবায়ের আহম্মেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনা দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। অনলাইন জুয়ার মতো ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে থেকে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।” প্রধান সমন্বয়ক (সাংগঠনিক) আবু তাহের বলেন, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এ ধরনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন সময়ের দাবি। সেশন পরিচালনাকালে দেলোয়ার হোসেন তুলে ধরেন, “ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের জন্য আশীর্বাদ, তবে এর অপব্যবহার ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাই প্রযুক্তিকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করে দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জনের দিকে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।” আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিষয়ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। কুইজে বিজয়ীদের উপজেলা বন বিভাগের সহযোগিতায় বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়। আয়োজকরা জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী এবং উদারতা যুব ফাউন্ডেশনের মহাইমিনুল, সুমাইয়া, সুমন জান্নাতি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। উদারতা যুব ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তরুণদের সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ ডিজিটাল সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

 

কেশবপুর-বেতগ্রাম সড়কের সাড়ে ৫ কিঃ মিঃ সড়কের বেহাল দশা, দ্রুত সংস্কারের দাবী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
কেশবপুর-বেতগ্রাম সড়কের সাড়ে ৫ কিঃ মিঃ সড়কের বেহাল দশা, দ্রুত সংস্কারের দাবী

এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর উপজেলার ব্যস্ততম সড়ক কেশবপুরÑবেতগ্রাম সড়কের ভালুকঘর থেকে চিংড়া বাজার পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘ দিন বেহাল অবস্থায় জরাজীর্ন হয়ে পড়েছে।

আসন্ন বৃষ্টির মৌসুম শুরু হওয়ায় ব্যাস্ত এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় হাজারো খানা-খন্দে পরিনত হয়ে লাখো মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে সড়কটি একেবারে যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে। জনগুরুত্বপুর্ণ এই সড়কটির বেহালদশা নিয়ে কর্তৃপক্ষের উদাশিনতায় অবহেলিত রয়ে গেছে বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।

 

ইতিমধ্যে এই সড়কটি দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে চরম ভোগান্তির আর এক নাম হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। সড়কটি দিয়ে শুধুু কেশবপুর উপজেলার মানুষ নয়; পার্শবর্তী মনিরামপুর ও সাতক্ষীরা জেলার তালা-কলারোয়া উপজেলার অসংখ্য মানুষ চলাচল করে থাকে। ভালুকঘর থেকে চিংড়া বাজার পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিঃ মিঃ এর মধ্যে প্রায় ৫ কিঃ মিঃ সড়কই ভেঙ্গেচুরে ছোট-ছোট গর্তে পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগী মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন আর কত খারাপ হলে হবে সংস্কার?

সূত্রে জানাগেছে, কেশবপুর উপজেলার সাগরদাড়ী, ঝিকরা, চিংড়া, বিষ্ণুপুর, ফতেপুর, গোবিন্দপুর, মেহেরপুর, কাস্তা, বারুইহাটী, বুড়িহাটি, শ্রীরামপুর, সরাপপুর, বরণডালী, শাহপুর, মির্জানগর, হিজলতলা, পাত্রপাড়া, শিকারপুর, ভালুকঘর, চালিতাবাড়িয়া, শ্রীরামপুর, দত্তনগর, সরসকাটী, জাহানপুর, রঘুরামপুর, বাঁশবাড়ীয়া, গোপসেনা সহ পার্শবর্তী সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া ও তালা উপজেলার র্শাশা জয়নগর ধানদিয়া চকজয়নগর বাটরা সিংহলাল সেনেরগাতী গ্রামের লক্ষ লক্ষ মানুষের চলাচল এই জরাজীর্ণ অবহেলিত সড়কটি দিয়ে। এই অবহেলিত জনপদের লক্ষ-লক্ষ মানুষের একটাই প্রাণের দাবী, মানুষের পদভারে ছিন্ন-ভিন্ন সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে মানুষের চলাচলের উপযোগী করা হোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার আওয়ালুর রহমান বলেন, কেশবপুর-বেতগ্রাম সড়কটি জেলা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ৭ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে সম্প্রতি দেড় কিঃমিঃ সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। বাকী সাড়ে ৫ কিঃ মিঃ সড়ক নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় অতিদ্রুত সংস্কার করা হবে।