শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩

জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে পাঁচ নারীসহ ৮ প্রার্থী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে পাঁচ নারীসহ ৮ প্রার্থী

নজিরবিহীন বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা, যুদ্ধ ও ভয়াবহ বাজেট সংকটে থাকা জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে নেমেছেন পাঁচ নারী ও তিন পুরুষ। তবে বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলো এ বিষয়ে বিভক্ত থাকায় কে এগিয়ে আছেন, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। প্রার্থীদের সমর্থন যাচাইয়ে প্রথম অনানুষ্ঠানিক ভোটে কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান এগিয়ে ছিলেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ প্রার্থীদের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নিয়ে তা সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের জন্য পাঠাবে। তবে প্রয়োজনীয় নয়টি ভোটের পাশাপাশি পাঁচ স্থায়ী সদস্যের (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়া) ভেটো এড়ানোই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।

রেবেকা গ্রিনস্প্যান (কোস্টারিকা): আঙ্কটাডের প্রধান ও কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট। ইউক্রেন যুদ্ধের পর ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ চুক্তিতে মধ্যস্থতা করে তিনি প্রশংসিত হন। ৭০ বছর বয়সী এই প্রার্থী ইহুদি পরিবারের সন্তান, যাদের স্বজনরা হলোকাস্ট থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন।

মিশেল বাচেলেত (চিলি): ৭৪ বছর বয়সী চিলির এই সাবেক প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ছিলেন। উইঘুর নির্যাতন নিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ায় চীনের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। গর্ভপাতের অধিকার সমর্থন করায় যুক্তরাষ্ট্র তার সমালোচনা করেছে এবং নিজ দেশ চিলিও সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। তবে মেক্সিকো ও ব্রাজিল তাকে সমর্থন দিচ্ছে।

মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা (ইকুয়েডর): সাধারণ পরিষদের সাবেক সভাপতি ৬১ বছর বয়সী এসপিনোসা সংস্থাটির ব্যাপক সংস্কার এবং সংঘাত এড়াতে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা তাকে সমর্থন করলেও নিজ দেশ ইকুয়েডর সমর্থন দেয়নি।

রাফায়েল গ্রসি (আর্জেন্টিনা): ৬৫ বছর বয়সী এই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ইউক্রেনের জাপোরিজ্জিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র ইস্যুতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

ক্যারোলিন রড্রিগেস-বির্কেট (গায়ানা): ৫২ বছর বয়সী গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমানে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সংস্থাটির হারানো বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন।

হাসপাতাল থেকে আবার কারাগারে ইমরান খানহাসপাতাল থেকে আবার কারাগারে ইমরান খান
ইভোনে এ-বাকি (ইকুয়েডর): ৭৫ বছর বয়সী এই কূটনীতিক ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। লেবানিজ বংশোদ্ভূত এ-বাকিকে টোঙ্গা মনোনীত করেছে এবং কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে তার ভালো প্রভাব রয়েছে।

ম্যাকি সাল (সেনেগাল): ৬৪ বছর বয়সী সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট একমাত্র প্রার্থী যিনি ল্যাটিন আমেরিকার নন। আফ্রিকান ইউনিয়ন ও নিজ দেশের সমর্থন পেলেও তার বিরুদ্ধে নিজ দেশে সহিংস বিক্ষোভ দমনের অভিযোগ রয়েছে।

ওলার ওতুন্নু (উগান্ডা): ৭৫ বছর বয়সী ওতুন্নু কফি আনানের অধীনে শিশু ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন। তিনি উগান্ডার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধী দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন।

Ads small one

কলকাতায় আগুনে নিহত রেবতীকে কলকাতাতেই সৎকার, ভোমরা দিয়ে আসছে আলিমের মরদেহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ
কলকাতায় আগুনে নিহত রেবতীকে কলকাতাতেই সৎকার, ভোমরা দিয়ে আসছে আলিমের মরদেহ

পত্রদূত ডেস্ক: কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকান্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। একজনের মরদেহ সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অপর নিহত রেবতী সরকারের মরদেহ কলকাতাতেই সৎকার করতে চায় তার পরিবার।

সাতক্ষীরার বাসিন্দা এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে পাঠানো হবে।
অন্যদিকে বেনাপোল দিয়ে যাদের মরদেহ দেশে পাঠানো হবে- তারা হলেন কুষ্টিয়ার বাসিন্দা ও আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাদের তিন বছর বয়সী সন্তান শর্ণশীষ দত্ত, দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলী এবং ঢাকার সাভারের বাসিন্দা আহামেদ বাবু।

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের বাসিন্দা রেবতী সরকারের মরদেহ কলকাতায় সৎকারের বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে আগ্রহ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রেবতী সরকারের ছেলে তার মায়ের মরদেহ কলকাতাতেই সৎকারের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তবে এ জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। বিষয়টি ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেবতী সরকারের ছেলে অনিক সরকার বলেন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে নিউমার্কেট থানার পুলিশ তার মায়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে। এরপর কলকাতাতেই তার সৎকার করার ইচ্ছা পরিবারের।

এদিকে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) গঠন করেছে। তদন্তকারীরা ইতোমধ্যে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া এবং বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের চিঠি দেওয়ার পরও নিউমার্কেট থানা থেকে জেনারেল ডায়েরির (জিডি) কপি না পাওয়ায় মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে নিহতদের স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ বলেন, জিডির কপি না পাওয়ায় মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে শুক্রবার বিকেলের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবারের মধ্যে মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

অন্যদিকে অগ্নিকান্ডের পর নিউমার্কেট এলাকার আরও ১৭টি আবাসিক হোটেলের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গের দমকল বিভাগ। ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকার অভিযোগে এসব নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে একই এলাকায় ৯টি আবাসিক হোটেল ও চারটি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছিল। নতুন ১৭টি হোটেলসহ এ পর্যন্ত মোট ২৬টি হোটেল ও চারটি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করল দমকল বিভাগ।

 

ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

বিশ্ব আজ নানা ধর্ম, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের ৮০০ কোটির অধিক মানুষের মিলিত আবাস। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখনও পৃথিবীর বহু অঞ্চলে মানুষ কেবল তাদের ধর্ম বা বিশ্বাসের কারণে বৈষম্য, নিপীড়ন, হামলা এবং সহিংসতার শিকার হচ্ছে। এই বাস্তবতা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেয় এবং মানবাধিকারের মৌলিক চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ তার এ/আরইএস/৭৩/২৯৬ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রতি বছর ২২ আগস্টকে “ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে সংঘটিত সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস” হিসেবে ঘোষণা করেছে। ২০১৯ সাল থেকে দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হচ্ছে।

এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো ধর্ম বা বিশ্বাসের কারণে সংঘটিত সহিংসতার শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা, তাদের জন্য যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করা এবং বিশ্বব্যাপী সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা। জাতিসংঘ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে, কোনো ধর্ম, বিশ্বাস বা মতাদর্শকে কখনোই মানুষের জীবন, মর্যাদা ও মানবাধিকারের ওপর আক্রমণের বৈধতা হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।

মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদে ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবুও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তি, সম্প্রদায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং উপাসনালয় হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। এসব ঘটনা শুধু নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ক্ষতি করে না, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তিকেও দুর্বল করে।

ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও বিদ্বেষ মোকাবিলায় জাতিসংঘ বিভিন্ন নীতি ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক কাঠামো, রেজল্যুশন ১৬/১৮ এবং রাবাত কর্মপরিকল্পনা। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ঘৃণামূলক বক্তব্য, বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধ করা এবং বাকস্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। একই সঙ্গে ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টার বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তদন্ত ও প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করে চলেছেন।

বর্তমান বিশ্বে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তবে একই সঙ্গে ঘৃণা, গুজব, অপপ্রচার ও বিভাজন ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রও তৈরি করেছে। এ প্রেক্ষাপটে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং উসকানিমূলক বক্তব্য প্রতিরোধে কার্যকর নীতি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের গুরুত্ব বেড়েছে। জাতিসংঘ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ডিজিটাল মাধ্যম শান্তি, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের সংবিধানও ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমতা এবং বৈষম্যহীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। সংবিধানের ১২, ২৭, ২৮ ও ৪১ অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের সমান অধিকার এবং স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন ও প্রচারের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। পাশাপাশি দন্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় উপাসনালয় ভাঙচুর, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, ধর্মীয় সমাবেশে বাধা এবং সহিংস কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে। এসব আইনি সুরক্ষা সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

বিশ্বে আনুমানিক ১০ হাজারেরও বেশি স্বতন্ত্র ধর্ম ও আঞ্চলিক বিশ্বাসের চর্চা রয়েছে। এই বৈচিত্র্য মানবসভ্যতার এক মূল্যবান সম্পদ। তাই কয়েকজন ব্যক্তি বা উগ্র গোষ্ঠীর কর্মকান্ডের জন্য কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায় সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং সহিংসতার প্রকৃত কারণ ও প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি। পৃথিবীতে প্রধান ও বড় ধর্মগুলোর বাইরে ক্ষুদ্র অনুসারী বা কম প্রচলিত ধর্মের মধ্যে রয়েছে; শিখ ধর্ম, ইহুদি ধর্ম, বাহাই ধর্ম, তাওবাদ, কনফুসিয়ানিজম, জৈন ধর্ম, শিন্তো ধর্ম, জরথুষ্ট্রবাদ বা পার্সি ধর্ম, আত্মাবাদ বা স্পিরিটিজম ও টেনরিকিও।

সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতা, মানবাধিকার ও গণমাধ্যমকর্মী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি ধর্মীয় নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমান বিশ্বজুড়ে পরিচিত ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্মের প্রধান পোপ ফ্রান্সিস, তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের আধ্যাত্মিক নেতা দালাইলামা এবং শিয়া মুসলিম ধর্মীয় সর্বোচ্চ ইরানের নেতা মোজতবা খামেনিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা সহনশীলতা, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বার্তা প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। সংলাপ ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি শক্তিশালী করতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২২ আগস্টের এই আন্তর্জাতিক দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মানবাধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য নয়; এটি প্রত্যেক মানুষের অধিকার। এমন একটি বিশ্ব গড়ে তোলা আমাদের যৌথ দায়িত্ব, যেখানে ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে যথার্থ সম্মান করা হবে এবং প্রত্যেক মানুষ নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবে। ঘৃণার পরিবর্তে সহমর্মিতা, বিভেদের পরিবর্তে সংলাপ এবং সহিংসতার পরিবর্তে শান্তির পথই হতে পারে মানবতার টেকসই ভবিষ্যতের ভিত্তি।

তিনি ছিলেন আমার মাথার ওপর ছায়ার মতো: শাকিব খান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
তিনি ছিলেন আমার মাথার ওপর ছায়ার মতো: শাকিব খান

বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র নায়করাজ রাজ্জাক। শুক্রবার (২১ আগস্ট) এই কিংবদন্তি অভিনেতাকে হারানোর ৯ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৭ সালের এই দিনে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রয়াণ দিবসে রাজ্জাককে গভীর আবেগে স্মরণ করেছেন ঢাকাই সিনেমার সুপারস্টার শাকিব খান। রাজ্জাককে শুধু কিংবদন্তি নয়, চলচ্চিত্রের অভিভাবক, অনুপ্রেরণা ও ভালোবাসার অন্যতম আশ্রয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

রাজ্জাকের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতি তুলে ধরে শাকিব বলেন, ‘তিনি ছিলেন আমার মাথার ওপর ছায়ার মতো। স্নেহ দিয়েছেন, আগলে রেখেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন। অনেক দিন দেখা না হলেও কীভাবে যেন বুঝে যেতেন, আমি কেমন আছি, কীসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি! তাকে হারানোর বেদনা আমার কাছে নিজের অভিভাবক হারানোর মতো – খুবই ব্যক্তিগত।’

নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত আলোচিত ৫ চলচ্চিত্রনায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত আলোচিত ৫ চলচ্চিত্র
কিং খান পোস্টে আরও লেখেন, ‘তিনি নেই, কিন্তু তার স্নেহ, শিক্ষা ও আশীর্বাদ এখনও আমার পথচলার অনুপ্রেরণা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র যতদিন থাকবে, নায়করাজ ততদিনই থাকবেন আমাদের হৃদয়ে, আমাদের অহংকার হয়ে।’

সবশেষে তিনি জানান, ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করি আপনাকে। শান্তিতে থাকুন, আমাদের প্রিয় নায়করাজ।’