সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

জাতীয় আইন সহায়তা দিবস: সেবাগ্রহীতাদের ৭৫ শতাংশই নারী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
জাতীয় আইন সহায়তা দিবস: সেবাগ্রহীতাদের ৭৫ শতাংশই নারী

রাজধানীর নিম্ন আদালত পাড়ায় সরকারি আইনি সহায়তা কেন্দ্রে (লিগ্যাল এইড) আসা মানুষের ভিড় জানান দিচ্ছে, সমাজে পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীরা কতটা অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। ২০২৫ সালের বার্ষিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই দপ্তরে আসা মোট সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে প্রতি চারজনের মধ্যে তিন জনই নারী।

চাঁঁদপুর থেকে এসে সকাল থেকে লিগ্যাল এইড অফিসের সামনে বসে আছেন বসে আছেন লিলি বেগম।কোলে রয়েছে ছোট্ট একটি সন্তান। আরও এক সন্তানকে বাসায় রেখে এসেছেন নানির কাছে।তার সাথে আছেন দুজন নারী। লিলি বেগম ভারাক্রান্ত মনে জানান, তার স্বামীর সাথে ৮ বছরের সংসার। দুইটা সন্তান তাদের।কিন্তু এখন স্বামী কোনো খোঁজ খবর নেয়না। এমনকি ভরনপোষণ দেয়না।এর জন্য দু’সন্তান নিয়ে বেকায়দায় পরে আছেন লিলি বেগম। তার স্বামী শেখ সাজু আহমেদ ঢাকার চকবাজারের বাসিন্দা। স্বামীর বিরুদ্ধে ভরনপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে আইনি সহায়তা নিতে এখানে এসে বসে আছেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১২ টার দিকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে অবস্থিত জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারের কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগী এই নারীকে দেখা গেছে।

লিলি বেগম ছাড়াও এখানে বিভিন্ন সমস্যায় পরে আইনি সহায়তা নিতে বসে আছেন অনেকেই।এদের সিংহভাগই নারী।এদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নিজেদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। ঢাকার কামরাঙ্গীচর থেকে এসেছেন এক নারী।তার স্বামী অন্য কাউকে বিয়ে করে আর খোঁজ নিচ্ছে না।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ নারী বলেন, অভাবের সংসার এমনিতেও। এই অবস্থায় শুনছি স্বামী অন্য মেয়েকে বিয়ে করেছে। কোনও কূল না পেয়ে এখানে চলে এসেছি আইনি সহায়তা নিতে।দেখি কি হয়।

রাজধানীর নিম্ন আদালত পাড়ায় সরকারি আইনি সহায়তা কেন্দ্রে (লিগ্যাল এইড) আসা নারীদের ভিড় জানান দিচ্ছে, সমাজে পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীরা কতটা অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। ২০২৫ সালের বার্ষিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই দপ্তরে আসা মোট সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে প্রতি চারজনের মধ্যে তিন জনই নারী, যারা মূলত পারিবারিক নির্যাতন বা অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনি সুরক্ষার সন্ধানে এসেছেন।

​ভুক্তভোগী নারীদের সংখ্যা

পরিসংখ্যান বলছে, আইনি পরামর্শ নিতে আসা ৩ হাজার ৪ শো ৫৮ জনের মধ্যে ২ হাজার ৬ শো ১৩ জনই ছিলেন নারী। সমীকরণ অনুযায়ী ​নারী ভুক্তভোগী মোট সেবাগ্রহীতার ৭৫.৫৬ ভাগ।বাকি ​ ২৪.২০ ভাগ (৮৩৭ জন) পুরুষ ।এরমধ্যে ​তৃতীয় লিঙ্গ ০.২৩ ভাগ (৮ জন) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আইনি সংকটে পড়া নারীরাই পুরুষদের তুলনায় ৩ গুণ বেশি সাহায্যের জন্য লিগ্যাল এইডের দ্বারস্থ হচ্ছেন।

​পারিবারিক মামলা ও অপরাধের চিত্র

অসহায়ত্বের এই চিত্র আরও স্পষ্ট হয় মামলার ধরণ দেখলে। এক বছরে জমা পড়া ২হাজার ১৪২টি মামলার মধ্যে বিশাল একটি অংশ পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীদের।লিগ্যাল এইডের গত এক বছরের তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক মামলা এসেছে ১ হাজার চারশো ২৬ টি। যা মোট মামলার সমীকরণে ৬৬.৫৫ ভাগ।

​ফৌজদারি মামলা ৩৯৬টি যা মোট মামলার ১৮.৪৮ ভাগ। ​দেওয়ানী মামলা ৩২০ টি যা সমীকরণে ১৪.৯৪ ভাগ। অর্থাৎ, লিগ্যাল এইডে আসা প্রতি ১০টি মামলার মধ্যে অন্তত ৭টিই পারিবারিক বিরোধ সংক্রান্ত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব মামলার সিংহভাগই দেনমোহর আদায়, ভরণপোষণ বা নির্যাতনের অভিযোগ কেন্দ্রিক।

আদালতের দীর্ঘসূত্রতা ও মামলার জট কমাতে ২০২৫ সালে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা (এডিআর)-এ বিশেষ সাফল্য দেখা গেছে। এ সময়ে সর্বমোট ২ হাজার ৬২ টি মামলার মধ্যে, মামলাপূর্ব (প্রি কেইস) ৭৯৯টি বিরোধ সফলভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়া আদালতে বিচারাধীন (পোস্ট কেইস) ১৩১টি মামলার মধ্যে ৪৪টি বিরোধ আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে শেষ হয়েছে। এই মধ্যস্থতার মাধ্যমেই ভুক্তভোগীরা সোয়া কোটি টাকার বেশি পাওনা বুঝে পেয়েছেন।এটি মূলত অসহায় মানুষের পাওনা,নারীদের দেনমোহর বা খোরপোশের টাকা যা দীর্ঘ আইনি লড়াই ছাড়াই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

​ ২০২৫ সালে কারাগার থেকে মোট ২ হাজার ৯৬৩ জন কারাবন্দির আইনি সহায়তার আবেদন বা মামলা লিগ্যাল এইড অফিসে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে বিভিন্ন আদালত থেকে আরও ১১৪টি মামলা আইনি সহায়তার জন্য এই দপ্তরে রেফার করা হয়েছে।

লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে শতভাগ আইনি সহায়তা পেয়েছেন এমন একজন নারীর সাথে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের। বেসরকারি প্রজেক্টে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুন্সিগঞ্জের বাসিন্দা ওই নারী তার স্বামীর সাথে পারিবারিক বিভিন্ন ঝামেলা নিয়ে বহুদিন আদালতে ঘুরে পরে লিগ্যাল এইডের শরণাপন্ন হন।সেখানে যাওয়ার পরে মাত্র একটি তারিখের মধ্যে গত বছরের আগস্ট মাসে পারিবারিক কলোহ থেকে নিষ্পত্তি পান।লিগ্যাল এইডের আইনজীবী ও বিচারকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এখানকার সবাই অনেক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে।এজন্য আমার মত যারা সেবাপ্রত্যাশি তারা খুব সহজেই তাদের সমস্যা সমাধান করতে পারেন।

জেলা লিগ্যাল এইডের নিয়মিত আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুই জানান, লিগ্যাল এইড বর্তমানে একটা ভরসার জায়গা হয় উঠেছে। এখানে কম সময়ে বিনা খরচে আইনি সহায়তা পাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। তার মধ্যে নারীরাই বেশি। কারন পারিবারিক সমস্যা নারীরাই বেশি ভুক্তভোগী হয়।একপর্যায়ে তারা আইনি সহায়তার ব্যপারে হিমশিম খায়।সেই সমস্ত মানুষদের জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে।এখানে অন্যান্য আদালতের চেয়ে কি কি সুবিধা আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে মামলার প্রাথমিক অবস্থা, বা চলমান মামলা এমনকি কারাগারে থাকা আসামিরাও সেবা পেয়ে থাকেন।যে কোনো ধরনের অসচ্ছল আসামি বিনামূল্যে আইনি সেবা পেয়ে থাকেন।এখানকার অন্যতম ব্যপার হচ্ছে, মামলা না করেও শুধুমাত্র আলোচনা সাপেক্ষে সমাধান দেওয়া হয়।এমনকি বিচারপ্রার্থীরা সরাসরি বিচারকের সাথে কথা বলে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা করতে পারেন।

লিগ্যাল এইডের নিয়মিত আরেক আইনজীবী মো.হাকিম বাহাউল হক বলেন, এখানে যারা আইনি সহায়তার জন্য আসেন তাদরকে আমরা মামলায় না ঠেলে দিয়ে সমঝোতা করে দেই।এরপরও যারা মামলার দিকে জান তাদের খুব কম সময়ে মামলা নিষ্পত্তি করে থাকি।এখানে নারী,পুরুষ থেকে শুরু করে তৃতীয় লিঙ্গের যারা আছেন তারাও আইনি সহায়তা নিতে আসেন।

জেলা লিগ্যাল এইডের অফিস সহকারী জুবায়রা ফেরদৌসী জানান,প্রতিদিন অনেক মানুষকে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে সহায়তা দিয়ে থাকি।এদের মধ্যে নারীই বেশি।এখানে দেওয়ানি, ফৌজদারী, পারিবারিক মামলা সহ বিভিন্ন ধরনের মামলার ফ্রি সেবা দেওয়া হয়।এছাড়াও এখানে আদালত থেকে প্রাপ্ত মামলার ব্যপারেও সহায়তা দেওয়া হয়।

Ads small one

সাতক্ষীরায় প্রতি ১০ জনে ৭ কিশোরী বাল্যবিবাহের শিকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রতি ১০ জনে ৭ কিশোরী বাল্যবিবাহের শিকার

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় মা কাজের তাগিদে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। সাতক্ষীরা শহরের বাড়িতে একা হয়ে পড়া মেয়েটির ওপর তখন পরিবারের কার্যকর কোনো নজরদারি ছিল না। সেই সুযোগে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় তাকে। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস পার হতেই সে জানতে পারে তার স্বামী একজন পেশাদার জুয়াড়ি। পাওনাদারদের চাপ, পারিবারিক কলহ আর স্বামীর শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের মুখে বাপের বাড়িতে ফিরে আসতে বাধ্য হয় সে। পরবর্তীতে পুনরায় পড়াশোনা শুরু করে সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় ‘এ-মাইনাস’ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। জীবনে বাল্যবিবাহের তিক্ত অভিজ্ঞতাকে পেছনে ফেলে এই তরুণী এখন বিবাহ বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ওই কিশোরী উল্লেখ করেন, অবুঝ বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর সংসারে অশান্তি শুরু হয় এবং জানতে পারেন স্বামী নিয়মিত জুয়া খেলত ও ঋণের মধ্যে ছিল। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরিবারের কাছে ফিরে এসে আবার পড়াশোনা শুরু করেছেন এবং ভবিষ্যতে নিজের মতো করে জীবন গড়ে তুলতে চান।
সাতক্ষীরা শহরজুড়ে আইনি ফাঁকফোকর, সামাজিক অবক্ষয় ও প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে শতশত কিশোরীর জীবন এভাবে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শ্যামনগর উপজেলার দাতিনাখালী গ্রামের কলবাড়ি নেকজানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রী ও পার্শ্ববর্তী ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয়।
স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে এই কিশোর-কিশোরী এক সাথে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজনের মধ্যস্থতায় বৈঠকের মাধ্যমে উভয় পক্ষ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেওয়া হয়েছিল যে, বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া হবে না। কিন্তু সেই অঙ্গীকারনামা অমান্য করে ছেলের বাবা রফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরা জজ কোর্টের একজন আইনজীবীর মাধ্যমে এফিডেভিট করিয়ে ১৫ ও ১৬ বছরের দুই নাবালক-নাবালিকাকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করেন।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত থাকলেও আইনি ও দাপ্তরিক কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মহিলা বিষয়ক কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাহায্য না চাইলে পুলিশ সরাসরি গিয়ে অভিযান চালাতে পারে না।
শ্যামনগর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারিদ বিন শফিক জানান, খবর পাওয়ার পর অভিযুক্ত ছেলের বাবাকে কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য অফিশিয়াল নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং তিনি উপস্থিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে ছেলের বাবা রফিকুল ইসলামের দাবি, পরিস্থিতি বিবেচনা করে এফিডেভিটের মাধ্যমে সামাজিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, সাতক্ষীরায় বাল্যবিবাহের বর্তমান গড় হার দাঁড়িয়েছে ৭২ শতাংশে, যার মধ্যে শ্যামনগর উপজেলায় এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। উপকূলীয় এই অঞ্চলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট ও অতিরিক্ত লবণাক্ততায় নিয়মিত কাজ করার ফলে কম বয়সে মেয়েদের শরীরের ত্বক নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে সামাজিক ভীতি থেকে অভিভাবকেরা দ্রুত বিয়ে দিয়ে দেন।
গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি হেলেনা বিলকিস জানান, ক্লিনিকে আসা গর্ভবতী নারীদের একটি বড় অংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এই বয়সে সন্তান ধারণের কারণে এবং অতিরিক্ত লবণাক্ত পরিবেশের প্রভাবে তাদের উচ্চ রক্তচাপ, এপিলেপসি ও রক্তস্বল্পতার হার বেশি। নদী পার হয়ে জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে অনেক প্রসূতির মৃত্যু ঘটে।
সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন জানান, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে মেয়ে এবং ২১ বছরের নিচে ছেলের বিয়ে বেআইনি। অসাধু নোটারি পাবলিক ও জালিয়াতি চক্র টাকার বিনিময়ে এফিডেভিট করে দিচ্ছে, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
মানবাধিকার কর্মী মাধব দত্ত জানান, কার্যকর নজরদারির অভাবের কারণেই অঙ্গীকারনামা থাকার পরও বাল্যবিবাহ রোখা যাচ্ছে না। স্থানীয় সরকারের উদ্যোগ ও সঠিক সনদ যাচাই ছাড়া বিবাহ রেজিস্ট্রি বন্ধ করা প্রয়োজন।
সাতক্ষীরা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানান, গোপনে ও এফিডেভিটের অপব্যবহার করে বিয়ে সম্পাদন করার কারণে সব ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয় না, তবে স্থানীয় নজরদারি জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতাপনগরে প্রাথমিক চিকিৎসা ও দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
প্রতাপনগরে প্রাথমিক চিকিৎসা ও দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা

সংবাদদাতা: আশাশুনির প্রতাপনগরে প্রাথমিক চিকিৎসা, নিরাপদ অপসারণ ও আগাম সতর্কবার্তা বিষয়ক পরিবারভিত্তিক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আইডিয়াল’-এর বাস্তবায়নে, ‘সিডিডি’-এর কারিগরি সহায়তায় এবং ‘লিলিয়ান ফন্ডস’-এর অর্থায়নে ‘রেজিলেন্স বিগিনস এট হোম’ প্রকল্পের অধীনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় ২৫ জন প্রতিবন্ধী শিশুর কেয়ারগিভার অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিদর্শক মো. ইলিয়াস হোসেন। বক্তব্য দেন প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার মো. মামুন আলী ও প্রজেক্ট ফোকাল এস এম মিজানুর রহমান।

আজকের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
আজকের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের ৬টি হিন্দু পরিবারের ২৫ শতক জমি দখল করে বানানো খুপড়ি ঘর ও বেড়া আজ সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে অপসারনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় কালিগঞ্জ থানার গোলঘরে অনুষ্ঠিত এক সালিশি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গত ১৪ আগস্ট রাতে গ্রাম পুলিশ সাইফুল ও তার সহযোগীরা জয়দেব রজক ও বাসুদেব রজকসহ ছয়টি পরিবারের জমিতে খুপড়ি ঘর নির্মাণ করে জমি দখল করে নেয়। পরবর্তীতে বাসুদেব রজক ও রীনা রানী রজক থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করলে শালিসি সভা ডাকা হয়।
সাবেক ইউপি সদস্য আনারুল মীর জানান, সাইফুলের পক্ষ থেকে জমির সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় আজ সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে অবৈধ ঘর ও বেড়া সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শালিসি সভায় দক্ষিণ শ্রীপুর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহম্মদ শাহজী, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জুলফিকার সাঁফুই ও সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান পাড় উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্তনামায় স্বাক্ষর করেন। কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মল্লিক মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম হাওলাদারকে বদলী করে সাতক্ষীরা আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে মো. শাহীন যোগদান করেছেন।