বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

জিআই স্বীকৃত হিমসাগর ও সাতক্ষীরার আম পর্যটন: বৈশ্বিক মডেল ও আমাদের করণীয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
জিআই স্বীকৃত হিমসাগর ও সাতক্ষীরার আম পর্যটন: বৈশ্বিক মডেল ও আমাদের করণীয়

মো. মামুন হাসান
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত সাতক্ষীরা জেলা এখন কেবল সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হিসেবেই নয়, বরং দেশের ‘আর্লি ম্যাঙ্গো বাস্কেট’ বা আগাম আমের ভা-ার হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাচ্ছে। প্রতি বছর মে মাসের শুরুতেই যখন রাজশাহী বা চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাগানগুলো কেবল পরিপক্ব হওয়ার অপেক্ষায় থাকে, সাতক্ষীরার বাজারে তখন হিমসাগর ও গোবিন্দভোগের সুবাসে ম ম করে।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাতক্ষীরায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের আবাদ হচ্ছে, যা থেকে বার্ষিক উৎপাদনের পরিমাণ ছাড়িয়ে যাচ্ছে ৫০ হাজার মেট্রিক টন। এই বিপুল উৎপাদন কেবল স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাচ্ছে না, বরং গত কয়েক বছরে ইউরোপের বাজারে রপ্তানি হওয়া বাংলাদেশের মোট আমের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই জোগান দিচ্ছে এই জেলা। সাতক্ষীরার এই প্রাকৃতিক ও বাণিজ্যিক সুবিধাকে পুঁজি করে ‘আম পর্যটন’ বা ‘এগ্রো-ট্যুরিজম’ এর যে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের পর্যটন মানচিত্রে সাতক্ষীরা একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দিকে তাকালে দেখা যায় যে তারা কীভাবে একটি নির্দিষ্ট কৃষিপণ্যকে পর্যটনের প্রধান আকর্ষণে পরিণত করেছে। উদাহরণস্বরূপ, থাইল্যান্ডের কথা বলা যায়। দেশটিতে প্রতি বছর বিশেষ করে রায়ং এবং চন্তাবুরি প্রদেশে ‘ফ্রুট ফেস্টিভ্যাল’ আয়োজন করা হয়, যেখানে হাজার হাজার বিদেশি পর্যটক কেবল হাতে পাড়া ফল খাওয়ার অভিজ্ঞতার জন্য ভিড় করেন। একইভাবে জাপানের হোক্কাইডো অঞ্চলে বিশেষ জাতের তরমুজ ও চেরি ফলকে কেন্দ্র করে বিলাসবহুল পর্যটন প্যাকেজ পরিচালনা করা হয়। ভারতের রতœাগিরিতে আলফনসো আমকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিশাল এক পর্যটন শিল্প, যেখানে পর্যটকরা বাগানের ভেতরেই রিসোর্টে রাত কাটান। সাতক্ষীরায় ঠিক এই মডেলটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। সাতক্ষীরার হিমসাগর আম ইতোমধ্যে জিআই পণ্য হিসেবে বিশ্বস্বীকৃতি পেয়েছে, যা মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। পর্যটকদের জন্য যদি এমন একটি প্যাকেজ তৈরি করা যায় যেখানে তারা সকালে সুন্দরবনে ভ্রমণ করবেন এবং দুপুরে কোনো প্রাচীন আম বাগানে বসে খাঁটি ও বিষমুক্ত হিমসাগরের স্বাদ নেবেন, তবে তা পর্যটন খাতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সাতক্ষীরাকে একটি আন্তর্জাতিক আম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আমাদের মার্কেটিং পলিসিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। বর্তমানের গতানুগতিক বাজার ব্যবস্থার বদলে ‘এক্সপেরিয়েন্স ট্যুরিজম’ বা অভিজ্ঞতাভিত্তিক পর্যটনে জোর দিতে হবে। এখানে ‘ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি’ পদ্ধতি প্রবর্তন করা জরুরি। প্রতিটি বড় বাগানের জন্য আলাদা কিউআর কোড থাকবে, যা স্ক্যান করলে পর্যটক জানতে পারবেন বাগানটির অবস্থান, গাছের বয়স এবং আমটি কত তারিখে পাড়া হয়েছে। এটি ক্রেতার মনে আমটি সম্পর্কে শতভাগ আস্থা তৈরি করবে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও ট্রাভেল ব্লগারদের মাধ্যমে ‘ম্যাঙ্গো ট্রেইল’ ক্যাম্পেইন চালানো যেতে পারে। তরুণ উদ্যোক্তারা আম বাগানগুলোতে ‘পিক ইউর ওউন ফ্রুট’ বা নিজের আম নিজে পাড়ার সুযোগ সংবলিত প্যাকেজ চালু করতে পারেন। এর ফলে পর্যটকরা কেবল পণ্য কিনছেন না, বরং তারা একটি স্মৃতির অংশ হচ্ছেন, যা মার্কেটিংয়ের ভাষায় সবচাইতে শক্তিশালী প্রচার।

পরিসংখ্যান বলছে, সাতক্ষীরায় বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার আমের লেনদেন হয়। কিন্তু এই বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে চলে যায়। আম পর্যটন চালু হলে পর্যটক সরাসরি কৃষকের বাগান থেকে আম কিনবেন, যার ফলে কৃষক ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে সরাসরি অর্থের প্রবাহ বাড়বে। এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে একটি সমন্বিত ‘ম্যাঙ্গো করিডোর’ নির্মাণ করা প্রয়োজন। সাতক্ষীরার তালা থেকে শুরু করে কলারোয়া, দেবহাটা ও কালীগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত আম বাগানগুলোকে এক সুতোয় গেঁথে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় রাস্তাঘাট উন্নয়ন, পর্যটকদের জন্য মানসম্মত স্যানিটেশন ও নিরাপদ আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে সাতক্ষীরায় যদি একটি ‘ম্যাঙ্গো ট্যুরিজম ভিলেজ’ স্থাপন করা যায়, যেখানে আমের মিউজিয়াম, আধুনিক হিমাগার এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র থাকবে, তবে এটি বিদেশের আমদানিকারকদেরও আকৃষ্ট করবে।

সবশেষে, সাতক্ষীরার এই আগাম আম কেবল একটি ফল নয়, এটি আমাদের জাতীয় গৌরবের প্রতীক। রাজশাহী বা চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ হলেও সাতক্ষীরার আম বাণিজ্যে ও আধুনিকতায় অনন্য। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে জেলা প্রশাসন, পর্যটন কর্পোরেশন এবং কৃষি বিভাগকে একযোগে কাজ করতে হবে। উন্নত হিমাগার সুবিধা এবং বিমানবন্দর সংলগ্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলে সাতক্ষীরার আম ও পর্যটন শিল্প থেকে প্রতি বছর কয়েক বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব। সাতক্ষীরাকে ‘গ্লোবাল ম্যাঙ্গো হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এখনই সঠিক সময়, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

 

 

 

 

Ads small one

গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্চিত ঘোষণা, ধর্ষণের অভিযোগে আইনের আওতায় আনার দাবি 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্চিত ঘোষণা, ধর্ষণের অভিযোগে আইনের আওতায় আনার দাবি 

 

 

সাতক্ষীরা-৪ সংসদীয় আসনের (শ্যামনগর) জামায়াত দলীয় এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টায় শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বক্তারা এমন দাবি জানান। এর আগে পৌরসদরের জেসি কমপ্লেক্স চত্বর থেকে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শত শত নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণে একটি মিছিল পৌর সদরের বিভিন্ন সড়ক পরিদ দক্ষিণ করে। বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা এ সময় হাতে ঝাড়ু ও জুতা নিয়ে নজরুল ইসলামের ছবিতে আঘাত করতে থাকে। বিক্ষোভ মিছিল শেষে

উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহবায়ক আলহাজ্ব সুলাইমান কবিরের সভাপতিত্বে উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত পথসভায় অংশগ্রহণ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। এসময় বক্তারা কাজী নজরুল ইসলামকে ধর্ষক আখ্যা দিয়ে একটা আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সাথে অবাঞ্চিত ঘোষণা করার পাশাপাশি বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

বক্তারা বলেন ১৩ তারিখে ঘটনাটি ঘটলেও গাজী নজরুল ইসলাম কৌশলে তা ধামাচাপা দিতে চাইছিল। কিন্তু তার ড্রাইভার দাবিকৃত টাকা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওগুলো ভাইরাল করে দিলে কৌশলের অংশ হিসেবে শুরুতেই এআই প্রযুক্তির সৃষ্টি বলে দাবি করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠানগুলো ভিডিও চিত্রের সত্যতা নিশ্চিত করার পর কাজী নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগীরা ওই তরুণীকে বিয়ের নাটক সাজিয়েছে।

পদে পদে জালিয়াতি এবং মিথ্যাচারের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে শরীয়ত মোতাবেক পরিচালিত হওয়ার দাবি করা রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর আদর্শ প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবু সাঈদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলু, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা প্রমুখ।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন একটা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন রীতিমতো ধর্ষণের সমান অপরাধ। মহান জাতীয় সংসদের একজন প্রবীণ সদস্য হিসেবে নজরুল ইসলামের এ ঘটনা পবিত্র সংসদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। মহান জাতীয় সংসদের পবিত্রতা রক্ষা এবং শিশু সুরক্ষা আইনের যথাযথ প্রয়োগ প্রদর্শনের অংশ হিসেবে অবিলম্বে কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনের আওতায় এনে ধর্ষণকাণ্ডের বিচার করতে হবে। বক্তারা আরো বলেন ১৭ই জুন বিয়ের কথা বলে ২১ তারিখ বিকালে কাবিনের ঘটনা তার জালিয়াতি ও মিথ্যাচারকে প্রমাণ করে ঠিক আছে দিয়েছে। এমতাবস্থায় অবিলম্বে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এছাড়া নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে জামায়েত ইসলামীর অবস্থান স্পষ্ট করতে আমিরেৎ জামায়েত ডাক্তার শফিকুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: ডেঙ্গু সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৩:০০ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: ডেঙ্গু সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ

বর্ষার স্থায়িত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলনার পাইকগাছায় হঠাৎ করেই ডেঙ্গু রোগীর প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি দাঁড়িয়েছে। হঠাৎ করে এডিস মশাবাহিত এই রোগের বিস্তার স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, বাসাবাড়ির আঙিনায় কিংবা আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি—যেমন পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার, ড্রেন ও ডাবের খোসাই এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হিসেবে কাজ করছে। এ ছাড়া উপজেলার বাইরে থেকেও আক্রান্ত রোগী আসার কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সচেতনতামূলক প্রচার চালানো সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। চিকিৎসকদের বক্তব্য স্পষ্ট—ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা এবং মশারির ব্যবহার প্রাথমিক ও কার্যকর প্রতিরোধক।
তবে বাস্তবতা হলো, কেবল সচেতনতামূলক বার্তা কিংবা পরামর্শ প্রদান করে এমন জনস্বাস্থ্য সংকট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের নিজস্ব সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত সমন্বয় এখানে অত্যন্ত জরুরি।
পাইকগাছার বর্তমান পরিস্থিতি যেন মহামারীর দিকে মোড় না নেয়, সে জন্য অবিলম্বে কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তা হলোÑ পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর উদ্যোগে পাইকগাছার প্রতিটি ওয়ার্ডে অবিলম্বে কার্যকর ওষুধ প্রয়োগ (ফগিং ও লার্ভিসাইড স্প্রে) শুরু করতে হবে। ড্রেন, বদ্ধ জলাশয় ও জমে থাকা পানির স্থানগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়মিত পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নিতে হবে। জ্বর হলেই যেন রোগীরা হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করান, সে লক্ষ্যে চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য রাখা এবং গ্রামপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের নজরদারি বাড়াতে হবে। কাজের তাগিদে বা ভ্রমণের কারণে যারা বাইরে থেকে উপজেলায় আসছেন, তাঁদের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি জটিল রূপ নেওয়ার আগেই সমন্বিত ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনিক তৎপরতা এবং জনসচেতনতাÑএই দুইয়ের সমন্বয় ছাড়া পাইকগাছাকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে জোর দেবেনÑএমনটাই প্রত্যাশা।

​মিরপুরে সাবেক গাড়িচালককে ‘হত্যার চেষ্টা’, এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
​মিরপুরে সাবেক গাড়িচালককে ‘হত্যার চেষ্টা’, এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

Oplus_131072

​পত্রদূত ডেস্ক: ​সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অসামাজিক কার্যকলাপের গোপন তথ্য জেনে ফেলার কারণে সাবেক গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুর রহমানকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির বিচার দাবি করে এবং নিজের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী ওবায়দুর রহমান। আবেদনটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে।
​আবেদনে ওবায়দুর রহমান (জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর: ২৩৬৭৪৫০৬৫৩) উল্লেখ করেন, বিগত ১৪ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পল্লবী থানার উত্তর কালশীর আলীনগরে অবস্থিত ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার ২’-এর একটি ফ্ল্যাটে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
​আবেদনকারীর দাবি, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নির্দেশে তিন ব্যক্তি লাঠিসোটা নিয়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেন। হামলার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আবেদনে বলা হয়, ওবায়দুরের চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে তাঁর মা ও ছোট বোন এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি প্রাণভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
​হামলার পেছনের কারণ হিসেবে ওবায়দুর রহমান আবেদনে দাবি করেন, তিনি এমপি গাজী নজরুলের দীর্ঘদিনের গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। এই সুবাদে এমপির বিভিন্ন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত অসামাজিক কার্যকলাপের তিনি প্রত্যক্ষদর্শী।
​আবেদনে অভিযুক্ত সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এলাকায় জমি ও বালুমহাল দখল, ঘুষ গ্রহণ এবং গ্যাং বা ‘মব’ গঠন করে সন্ত্রাসের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে এমপির বিতর্কিত গতিবিধির কয়েকটি নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ের কথা আবেদনে উল্লেখ করে তা সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিও প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানানো হয়। ​এমপি গাজী নজরুলের আদেশে এই হামলা চালানো হয়েছে দাবি করে ওবায়দুর রহমান অভিযুক্ত হামলাকারী এবং নির্দেশদাতার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
এদিকে বিতর্কের মুখেই ২১ জুলাই নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি লিখিত বিবৃতি দিয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। লিখিত বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাটি গত ১৩ জুলাইয়ের এবং এর পেছনে তাঁর নিজস্ব গাড়িচালকের সুপরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির নীল নকশা রয়েছে।
বিবৃতিতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তাঁর প্রথমা স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে মগবাজারে অবস্থিত দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তাঁরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। অবস্থানকালে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ সুকৌশলে ৬ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে ওই কার্যালয়ে ঢোকার ব্যবস্থা করে দেয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওই অপরিচিত ব্যক্তিরা কক্ষে ঢুকে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের পরিচয় জানতে চেয়ে চরম হেনস্তা করে। একপর্যায়ে তাঁদের কার্যালয়ের নিচে একটি চায়ের দোকানে নিয়ে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। সে সময় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু টাকা প্রদান করার পরই তাঁরা সেখান থেকে রেহাই পান।
ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতিতে গাজী নজরুল ইসলাম জানতে পারেন যে, এই পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তাঁর গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ, যিনি সম্পর্কে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা। সংসদ সদস্য জানান, তাঁর শ্বশুর মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর দুলাভাইয়ের পারিবারিক পূর্বশত্রুতা ছিল। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওবায়দুল্লাহ তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা এবং মাসুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং পরিবারের ক্ষতি করার সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়।