চীনা প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শাওমি তাদের নতুন ‘শাওমি ১৭টি’ ও ‘শাওমি ১৭টি প্রো’ স্মার্টফোন উন্মোচন করেছে। মূল ফ্ল্যাগশিপ ১৭ সিরিজের তুলনায় কম দামের এই দুটি মডেলে ক্যামেরার চেয়ে পারফরম্যান্স, ডিসপ্লে ও ব্যাটারির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ‘১৭টি প্রো’-তে ব্যবহার করা হয়েছে ৭ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, যা চীনের বাইরে বাজারজাত হওয়া শাওমির ফোনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাটারি।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শাওমি ১৭টি সিরিজের বৈশ্বিক উন্মোচন হয়েছে। প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট ভার্জ বলছে, ইউরোপের বাজারে ফোন দুটি বিক্রি শুরু হচ্ছে, দাম শুরু হয়েছে ৭৪৯ ইউরো থেকে।
ভার্জ বলছে, ‘১৭টি’ মডেলে রয়েছে ৬ হাজার ৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি। আর ১৭টি প্রোতে থাকা ৭ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি একবার চার্জে প্রায় দুই দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। এর আগে শুধু চীনের বাজারে উন্মোচিত কিছু শাওমি ফোনে এর চেয়েও বড় ব্যাটারি দেখা গেছে। যেমন সম্প্রতি প্রকাশিত শাওমি ১৭ ম্যাক্স–এ রয়েছে ৮ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এত বড় ব্যাটারির ফোন এবারই প্রথম আনলো কোম্পানিটি।
বাংলাদেশে ফোনটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে বিক্রি শুরু হয়নি। তবে শাওমি বাংলাদেশ–এর ফেসবুক পোস্টে ১৭টি সিরিজ বাংলাদেশে আনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি স্থানীয় মোবাইল মার্কেটপ্লেস ও তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইটে ফোনটির সম্ভাব্য দামও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে শাওমি ১৭টি–এর আনঅফিশিয়াল দাম প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দেখানো হচ্ছে।
ডিসপ্লে ও ডিজাইন
শাওমি ১৭টি মডেলে রয়েছে ৬ দশমিক ৫৯ ইঞ্চির অ্যামোলেড ডিসপ্লে। রেজল্যুশন ১.৫কে এবং রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্টজ। অন্যদিকে ১৭টি প্রোতে রয়েছে ৬ দশমিক ৮৩ ইঞ্চির ওএলইডি ডিসপ্লে ও ১৪৪ হার্টজ রিফ্রেশ রেট। ফলে ভিডিও দেখা, স্ক্রলিং কিংবা গেম খেলার অভিজ্ঞতা তুলনামূলক মসৃণ হবে।
ডিসপ্লের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ৩ হাজার ৫০০ নিটস পর্যন্ত উঠতে পারে। ফলে রোদেও স্ক্রিন দেখতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। চোখের সুরক্ষার জন্য এতে রয়েছে ৩ হাজার ৮৪০ হার্টজ পিডব্লিউিএম ডিমিং, ডলবি ভিশন ও একাধিক টিইউভি রেইনল্যান্ড সার্টিফিকেশন। স্ক্রিন সুরক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছে কর্নিং গরিলা গ্লাস ৭আই।
ফোন দুটিতে আইপি৬৮ রেটিং থাকায় পানি ও ধুলাবালুর বিরুদ্ধেও কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যাবে।
পারফরম্যান্সে ফ্ল্যাগশিপের ছোঁয়া
দুটি ফোনেই ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেকের প্রসেসর। ১৭টি মডেলে রয়েছে ডাইমেনসিটি ৮৫০০-আল্ট্রা এবং ১৭টি প্রোতে ডাইমেনসিটি ৯৫০০ চিপসেট। উভয় ফোনেই রয়েছে ১২ জিবি র্যাম। পাশাপাশি এলপিডিডিআর৫এক্স র্যাম ও ইউএফএস ৪.১ স্টোরেজ প্রযুক্তি থাকায় ভারী গেমিং, মাল্টিটাস্কিং ও এআইভিত্তিক কাজেও দ্রুতগতির অভিজ্ঞতা পাওয়া যেতে পারে।
শাওমির নতুন হাইপারওএস ৩ ইন্টারফেসের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বিভিন্ন এআই সুবিধাও। এর মধ্যে রয়েছে এআই রাইটিং, ভয়েস ট্রান্সক্রিপশন ও গুগল জেমিনি সমর্থন।
ব্যাটারিই সবচেয়ে বড় আকর্ষণ
১৭টি সিরিজের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর ব্যাটারি। ১৭টি মডেলে রয়েছে ৬৭ ওয়াট দ্রুতগতির চার্জিং সুবিধা। আর ১৭টি প্রোতে যুক্ত করা হয়েছে ১০০ ওয়াট তারযুক্ত দ্রুত চার্জিং ও ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধা।
তবে চার্জার বক্সে না থাকায় বিষয়টি অনেক ব্যবহারকারীর জন্য হতাশার কারণ হতে পারে।
ক্যামেরা ভালো, তবে ফ্ল্যাগশিপ নয়
ক্যামেরা ব্যবস্থায় দুটি ফোন প্রায় একই ধরনের। উভয় মডেলেই রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের ৫এক্স টেলিফটো ক্যামেরা, ১২ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড ক্যামেরা এবং ৩২ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা। তবে ১৭টি প্রোতে মূল ক্যামেরা সেন্সর কিছুটা বড় হওয়ায় ছবির মান তুলনামূলক ভালো হওয়ার কথা।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিভিউয়ে বলা হয়েছে, ১৭টি প্রোর ক্যামেরা ব্যবহার করে সন্তোষজনক অভিজ্ঞতা পাওয়া গেলেও এটি মূল শাওমিন ১৭ ফ্ল্যাগশিপ ফোনের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে। বিশেষ করে অন্যান্য লেন্সের ক্ষেত্রে ফ্ল্যাগশিপ সংস্করণটি বেশি উন্নত। ফলে যারা বড় ডিসপ্লে, দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ ও শক্তিশালী পারফরম্যান্স চান, তাদের জন্য ১৭টি সিরিজ উপযোগী হতে পারে। তবে ক্যামেরাকেন্দ্রিক ব্যবহারকারীরা হয়তো আরও প্রিমিয়াম বিকল্পের দিকে নজর দেবেন।