বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিভিন্ন স্থানে জুলাই শহীদ দিবস পালন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
বিভিন্ন স্থানে জুলাই শহীদ দিবস পালন

পত্রদূত ডেস্ক: ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলার তালা, কলারোয়া, দেবহাটা, আশাশুনি ও শ্যামনগরে উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগে পৃথক পৃথক আলোচনা সভা, র‌্যালি এবং শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তালা: তালায় জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর মো. ইমান উদ্দীন। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান, তালা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাখাওয়াত হোসেন, পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম, তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. মাহমুদুল হক, তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মোমিন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আকবার হোসেন এবং ছাত্র প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম প্রসুখ।

 

 


১১দলীয় জোট: ১১দলীয় জোটের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় শহরের ঐতিহাসিক শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মশারফের সভাপতিত্বে এবং শহর সেক্রেটারি খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও পৌর আমির জাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় দাওয়া সম্পাদক ও সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদ হাসান। এ ছাড়া সমাবেশে মাওলানা আব্দুস সবুর, আইনজীবী আবু তালেব, আব্দুর রহিম, মাওলানা আমিনুর রহমান ও জিয়াউর রহমানসহ জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

 

ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর বালিকা বিদ্যালয়: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর বালিকা বিদ্যালয়ে স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এমাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং জ্যেষ্ঠ শিক্ষক এস এম শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমার ম-ল, জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মো. নজিবুল ইসলাম, শামীমা আক্তার, মো. হাফিজুল ইসলাম, গীতা রানী সাহা, খালেদা খাতুন, কনক কুমার ঘোষ ও দেবব্রত ঘোষ। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেয় শাহারিয়া খাতুন ও আয়ুশী মল্লিক। আলোচনা শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আন্দোলনে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মো. নজিবুল ইসলাম।

 

দেবহাটা: দেবহাটা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা অলিউল ইসলাম এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপজেলা রিসোর্স কর্মকর্তা মহিতোষ কর্মকার।
আশাশুনি: আশাশুনিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই শহীদ দিবস’ ও শহীদ আবু সাঈদের স্মরণে আলোচনা সভা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও ১১দলীয় ঐক্যজোট পৃথক পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমদ খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক স ম হেদায়েতুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমির আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল হান্নান এবং আশাশুনি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জি এম মুজিবুর রহমান।
অন্যদিকে, ১১দলীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে বিকেল পাঁচটায় উপজেলা জামায়াত কার্যালয় থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালি শেষে জনতা ব্যাংক মোড়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের আমির আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার। এ সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের উত্তর শাখার সভাপতি মোখলেছুর রহমানসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।


কলারোয়া: কলারোয়ায় ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ পালন ও দিবসের তাৎপর্য বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জুলাই শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির মুখপাত্র ও সাবেক অধ্যক্ষ রইছ উদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুহাঃ কামরুজ্জামান এবং পৌর জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক ইউনুস আলী বাবু। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাইদুর রহমান রেজা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নূরে আলম নাহিদ এবং কলারোয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ সাজেদসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সভা শেষে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। উপজেলা জামায়াত শাখার উদ্যোগে দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি কলারোয়া বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়
কলারোয়া সরকারি জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুল: বিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ বিশ্বাস। সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ তামিম আজাদ মেরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষক মাওলানা আক্তারুজ্জামান, মাওলানা আকবর হুসাইন, রঞ্জন কুমার ঘোষ, এ জলিল এবং শফিউল আজম।

 


বেত্রবতী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়: বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক রাশেদুল হাসান কামরুল। সহকারী শিক্ষক মশিউর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় শিক্ষকেরা বলেন, সাধারণ পরিবারের সন্তান আবু সাঈদের জীবনের বিনিময়ে বাংলাদেশে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। সভায় সহকারী শিক্ষক মাওলানা আব্দুদ দাইয়ান, আবু বকর সিদ্দিক, আনারুল ইসলাম এবং তজিবুর রহমানসহ শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জানান, উপজেলার প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়েছে এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে।

 


শ্যামনগর: শ্যামনগরে যথাযথ মর্যাদায় ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জামান কনকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান, পরিদর্শক (তদন্ত) পিয়ার উদ্দিন, আহত জুলাই যোদ্ধা আব্দুর রহমান, বিএনপি নেতা মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলাইমান কবির এবং জেলা বিএনপির সদস্য আশেক এলাহি মুন্না। আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদ মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা আব্দুল খালেকের পরিচালনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এছাড়া জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে।

Ads small one

বিভিন্ন স্থানে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
বিভিন্ন স্থানে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উদযাপন

সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলা ও স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উদযাপিত হয়েছে। ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকেলে বর্ণাঢ্য রথ শোভাযাত্রা, বিশেষ পূজা-অর্চনা, কীর্তন ও ভক্তিমূলক সংগীতের মধ্য দিয়ে জেলাজুড়ে এই উৎসব শুরু হয়। স্থানভিত্তিক সংক্ষিপ্ত সংবাদগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
পাটকেলঘাটা: পাটকেলঘাটায় শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের শুভ রথযাত্রা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় পাটকেলঘাটা বলফিল্ড রথ মন্দির থেকে শত শত নারী, পুরুষ ও শিশুর অংশগ্রহণে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে শোভাযাত্রাটি কালীবাড়ি সড়ক, গোডাউন সড়ক ও বলফিল্ড সড়কসহ প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ ছাড়া উপজেলার খলিশখালী ও দলুয়া বাজারেও আনন্দঘন পরিবেশে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। দলুয়া বাজার মন্দির থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রাটি কৈখালী ও টিকরামপুর সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বাজারে এসে শেষ হয়। কুমিরা বাসস্ট্যান্ডেও রথযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। উৎসবের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

 


শ্যামনগর: শ্যামনগরের গোপালপুর রাধাগোবিন্দ মন্দিরে মহাসমারোহে জগন্নাথদেব, বলদেব ও সুভদ্রা মহারানীর শুভ রথযাত্রা উদযাপিত হয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ উৎসবের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী।

উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ, জেলা তাঁতীদলের সভাপতি হাসান শাহরিয়ার রিপন ও কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা. শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
রাধাগোবিন্দ মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ কৃষ্ণ সখা দাস ব্রহ্মচারীর পরিচালনায় আলোচনা সভা ও পূজা শেষে রথটান শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি গোপালপুর রাধাগোবিন্দ মন্দির থেকে বের হয়ে নকিপুর হরিতলা সার্বজনীন মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এ ছাড়া উপজেলার সোনামুগারী রাস মন্দির, বল্লভপুর সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, হরিনগর সাধুপাড়া কৃষ্ণ মন্দির এবং বুড়িগোয়ালিনীতে রথ উৎসব উপলক্ষে শোভাযাত্রা বের করা হয়।
লাবসা: সাতক্ষীরা সদরের লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা পূর্বপাড়া সার্বজনীন কালী মন্দির (কর্মকর পাড়া) প্রাঙ্গণে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটায় রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও লাবসার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ ম-ল, ইউপি সদস্য নজিবুর রহমান টুটুল, মন্দির কমিটির সভাপতি অমিত চক্রবর্তী, রথযাত্রা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আনন্দ কর্মকর ও সদস্য সচিব অসীম কর্মকর।
ব্রহ্মরাজপুর: ব্রহ্মরাজপুর জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণে রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রহ্মরাজপুর রথযাত্রা উদযাপন কমিটির সভাপতি স্বপন কুমার সাহার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুর রউফ। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সাবেক সমন্বয়ক আইনুল ইসলাম নান্টা, সদর উপজেলা সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি গৌর দত্ত ও মন্দিরের অধ্যক্ষ ভীম বন্ধু দাস কৃষ্ণদাস অধিকারী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কানাইলাল সাহা।


তালা: তালায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলার মাঝিয়াড়া শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির চত্বরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্দির কমিটির সভাপতি প্রভাষক আহ্লাদ ঘোষের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব। বসু ঘোষের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তালা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম শফি এবং তালা প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক এসএম নজরুল ইসলাম।
বুধহাটা: আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা দ্বাদশ শিব ও কালী মন্দিরে রথযাত্রা উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রথ শোভাযাত্রাটি মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে নওয়াপাড়া মন্দির, শ্বেতপুর মন্দির এবং বুধহাটা দক্ষিণপাড়া মন্দির প্রদক্ষিণ করে মাসির বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়।

 


কাটিয়া কর্মকারপাড়া: সাতক্ষীরা সদর উপজেলা (কাটিয়া কর্মকার পাড়া) সার্বজনীন পূজা মন্দিরের উদ্যোগে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি গৌর দত্ত, দীনবন্ধু মিত্র, কিরণ্ময় সরকার, মনোরঞ্জন কর্মকার মন্টু, স্বপন কুমার সাহা ও সমীর কুমার বসুসহ মন্দির কমিটির অন্যান্য সদস্য ও ভক্তবৃন্দ।

 


কলারোয়া: কলারোয়ায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, মঙ্গল আরতি, গীতাপাঠ ও ভজনকীর্তনের মধ্য দিয়ে ৯ দিনব্যাপী রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়েছে। কলারোয়া পৌরসভার হরিতলা পূজাম-প, গোয়ালঘাটা পূজাম-প ও উত্তর মুরারীকাটি পালপাড়া পূজাম-পে পৃথকভাবে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। রথযাত্রা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ কুমার পাল জানান, গোয়ালঘাটা ও হরিতলা পূজাম-প যৌথভাবে এই উৎসবের আয়োজন করেছে। অন্যদিকে, উত্তর মুরারীকাটি পালপাড়ায় কলারোয়া সনাতন ধর্ম স্বেচ্ছাসেবক পরিষদের উদ্যোগে এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সহযোগিতায় উৎসবের সূচনা হয়।

 


কালীগঞ্জ: কালীগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দকাটিতে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উপলক্ষে অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন ও মতবিনিময় করেছেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী। তিনি গোবিন্দকাটির রথযাত্রা মন্দির প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন এবং আয়োজক কমিটি, সেবায়েত ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তা ও সুবিধা নিয়ে কথা বলেন। এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ এবাদুল ইসলাম, জেলা তাঁতীদলের সভাপতি হাসান শাহরিয়ার রিপন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলী আহসান খান হাবলু এবং দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জুলফিকার আলী প্রমুখ। পরিদর্শনকালে অ্যাডভোকেট ইফতেখার আলী সবাইকে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান।

 

ঝাউডাঙ্গায় মন্দিরের জমি দখল ও চুরির ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
ঝাউডাঙ্গায় মন্দিরের জমি দখল ও চুরির ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভ

সংবাদদাতা: সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা জগন্নাথদেব মন্দিরে সকাল থেকেই গীতাপাঠ ও শ্রীকৃষ্ণের জীবনী নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল তিনটায় ঝাউডাঙ্গা জগন্নাথদেব মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সন্তোষ কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
সভায় বিশিষ্ট ধর্মীয় আলোচক গোষ্ঠী বিহারী ম-ল ও সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন এবং মন্দির ও হিন্দুদের জায়গা জবরদখলের চিত্র তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, ঝাউডাঙ্গা জগন্নাথ মন্দিরের ৯৬ শতক জমির একটি অংশ জোরপূর্বক ভুয়া ডিসিআর দেখিয়ে দখল করে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি পরানদহে কানাই সরদার ও বিপ্লব সরদারের জমি জবরদখলের চেষ্টা এবং শ্যামনগরে মন্দির ও হিন্দুদের জমি দখলের ঘটনা ঘটছে।
নেতৃবৃন্দ আরও অভিযোগ করেন, পুরাতন সাতক্ষীরা মায়ের বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি, সরকারপাড়ায় চুরি এবং শ্যামনগরের যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরে মায়ের মুকুট চুরির ঘটনায় পুলিশ কার্যকর কোনো ক্লু বা চোরদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এমনকি মিথ্যা অভিযোগ এনে বল্লী ও আশাশুনির কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারীকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের চেষ্টার মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় বিচার না পেয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনোবল ভেঙে যাচ্ছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। মুক্তিযুদ্ধে হিন্দুদের অবদান অনস্বীকার্য। ঝাউডাঙ্গা জগন্নাথদেব মন্দিরের এক ইঞ্চি জায়গাও জবরদখল করতে দেওয়া হবে না, কেউ দখল করার চেষ্টা করলে কড়া হাতে তা মোকাবিলা করা হবে। পরে তিনি ফিতা কেটে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন।

সাতক্ষীরায় এক সপ্তাহে সবজির দাম দ্বিগুণ, চরম বিপাকে নি¤œ আয়ের ক্রেতারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় এক সপ্তাহে সবজির দাম দ্বিগুণ, চরম বিপাকে নি¤œ আয়ের ক্রেতারা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার স্থানীয় বাজারে হঠাৎ করেই সবজির দাম দ্বিগুণ বেড়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নি¤œ ও সীমিত আয়ের মানুষ। তবে বাজারে পর্যাপ্ত সবজি সরবরাহ থাকার পরও এই মূল্যবৃদ্ধিকে স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছেন না ক্রেতারা। অন্যদিকে আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতারা চড়া দামে সবজি বিক্রি করলেও উৎপাদনকারী কৃষকেরা কাক্সিক্ষত দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাতক্ষীরা শহরতলীর কদমতলা ও সুলতানপুর বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম দ্বিগুণ হয়েছে। বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি করল্লা ও উচ্ছে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ টাকা। একইভাবে আগের সপ্তাহে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া টমেটো এখন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি পটল ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা এবং ঢেঁড়শ ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ গত সপ্তাহের ৬০ টাকার পরিবর্তে এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া গোল আলু প্রতি কেজি ২০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫ টাকা এবং লাউ প্রতি পিস ৩০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
পাইকারি বাজারেও একই ধরনের মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। আড়তে প্রতি কেজি করল্লা ও উচ্ছে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকা। টমেটো পাইকারি ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা, পটল ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা এবং গাজর ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া পাইকারিতে ঢেঁড়শ ৩০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা, আলু ২১ টাকা এবং লাউ প্রতি পিস ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বাজারে আসা সবজি চাষিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বাজারে পর্যাপ্ত সবজি সরবরাহ থাকলেও তাঁরা উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। মধ্যস্বত্বভোগী আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা চাষিদের কাছ থেকে কম দামে সবজি কিনে বাজারে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছেন। চাষিরা আরও জানান, চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত বর্ষায় ঘের এলাকার বেড়িবাঁধের সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তার ওপর সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁদের উৎপাদন খরচ অনেক বেশি পড়েছে। বাজারে যদি কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য না পান, তবে তাঁদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।