টানা বৃষ্টির ধাক্কায় নিত্যপণ্যের বাজারে অস্বস্তি
এম শফিকুল ইসলাম
শ্রাবণের টানা বৃষ্টির প্রভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে আবারও দেখা দিয়েছে অস্বস্তি। সাতক্ষীরার শহর ও গ্রামাঅঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতে প্রায় সব ধরনের সবজি, কাঁচা ঝাল, পেঁয়াজ, মাছ, ডিম ও মুরগির দাম বেড়েছে। কোথাও কোথাও সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি পণ্যের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ১০০ টাকা। গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ হাটবাজারে পেঁপে, পটল, চিচিঙ্গা, ঢেড়স, ও ঝিঙে ছাড়া অধিকাংশ সবজি ৮০ টাকার নিচে মিলছে না। কাঁচা ঝালের দাম বেড়েছে ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা কেজি। সোমবার গ্রামাঞ্চলের হাট -বাজার ঘরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ভোমরা বন্দর বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে সবজের দাম সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে। বেগুন ১১০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো ২০০ থেকে ২২০ কোটি টাকা, গাঁজর ৭০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকায় উঠেছে। আলু বিক্রি হচ্ছে ২৮ টাকা ৩০ টাকা কেজি দরে। পদ্মা শাঁখরা, মাহুদপুর, ভারুখালী ও ঘোনা বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। কাঁচা ঝাল ২৩০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং টমেটো ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভোমরা পুরাতন হাটখোলা সবজির বাজারে পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ঝিঙে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দাল ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা এবং বেগুন ৮০ টাকা থেকে ৯০ টাকায় কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বিভিন্ন জেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে বাজারের সবজিসহ কৃষিপণ্যের সরবরাহ কমেছে।
একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে তার প্রভাব পড়েছে। ভোমরা বাজারের সবজি বিক্রিতা জিয়াদ আলী জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বন্যার কারণে হু হু করে সবজির দাম বেড়েছে। দাম বাড়ায় আমাদের বেচা কেনাও অনেক কমে গেছে। ক্রেতারা আগে বেশি করে বেশাতি করলেও এখন অল্প করে কিনছেন। আরেক বিক্রেতা সুশান্ত সরকার বলেন, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ভোমরা বন্দর সবজির বাজারে অর্ধেকের বেশি দাম বেড়েছে। যে সবজি ৪০ টাকা ছিল, সেটিই এখন ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা ঝাল ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২২০ টাকায় উঠেছে।
বাজারের এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নি¤œ আয়ের মানুষ। শুধু সবজি নয়, মুরগি ও ডিমের বাজারেও স্বস্তি ফেরেনি। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৭০ টাকা ২০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৯০ টাকা থেকে ২১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে নিত্যপণ্যের বাজারের দূরত্ব স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম। তবে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দামও কিছুটা কমতে পারে বলে তিনি আশাবাদী। লেখক: নাট্যকর্মী








