মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাঘ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিড়াল প্রজাতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
বাঘ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিড়াল প্রজাতি

প্রকাশ ঘোষ বিধান
বাঘ আমাদের জাতীয় প্রাণী ও বীরত্বের প্রতীক। বাঘ কেবল একটি প্রাণী নয়, এটি শক্তি, সৌন্দর্য এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার এক জীবন্ত প্রতীক। সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের শীর্ষে অবস্থান করে এটি হরিণ ও শূকরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে বনের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। বাংলাদেশে ও পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন এলাকায় যে সুদর্শন বাঘ দেখা যায় তা দুনিয়াব্যাপী রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা বাংলা বাঘ নামে পরিচিত। বাঘ এখন এক বিপন্ন প্রাণী। বিভিন্ন দেশে বাঘ সংরক্ষণের চেষ্টা চলছে।
বাঘ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিড়াল প্রজাতি। বাঘ হলো ফেলিডি গোত্রের অন্তর্গত একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী। এটি প্যানথেরা গণের অন্তর্ভুক্ত চারটি বৃহৎ বিড়ালের একটি। অর্থাৎ সিংহ, চিতাবাঘ ও জাগুয়ারের সঙ্গে প্যানথেরা গণের চারটি বিশালাকার সদস্যের মধ্যে এটি সর্ব বৃহৎ ও শক্তিশালী প্রাণী। বাঘ বিড়াল প্রজাতির অন্য সকল প্রাণী এমন কি সিংহ হতেও বড় এবং শক্তিশালী প্রাণী। বাঘ ভারত ও বাংলাদেশ সহ মোট ৬ টি দেশের জাতীয় পশু।
২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস। বাঘের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা এবং বাঘ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১০ সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত বাঘ সম্মেলন এ এই দিবসটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাঘ সুন্দরবনের জন্য একটি কিস্টোন প্রজাতি। বাঘ টিকে থাকলে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রসহ জীববৈচিত্র্য নিজে থেকেই টিকে থাকবে, সুন্দরবন টিকে থাকবে। এলাকার জনগণ মনে করেন, সুন্দরবন মায়ের মতো, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করে, জীবন বাঁচায়, খাদ্য জোগায়। তাঁদের মতে, বাঘ বাঁচলে সুন্দরবন বাঁচবে, সুন্দরবন বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। বর্তমানে সুন্দরবন বাংলাদেশের বাঘের শেষ আশ্রয়স্থল। বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণ। পর্যাপ্ত খাবার না পেলে বাঘ দুর্বল হয়ে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা হারাবে এবং বাঘ-মানুষ সংঘাত বাড়বে।
বাঘের প্রাকৃতিক আবাস রক্ষা করা এবং বাঘ সংরক্ষণের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছরের ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস পালন করা হয়। ২০১০ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত বাঘ অভিবর্তনে এ দিবসটির সূচনা হয়। ২০১০ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রথম বাঘ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ নিজ নিজ দেশে বাঘের সংখ্যা ১২ বছরের মধ্যে দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়েছিল। এর মধ্যে নেপাল বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে। ভারত এবং ভুটানও দ্বিগুণের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা সামান্য বাড়লেও সে লক্ষ্য থেকে দূরে আছে। বাংলাদেশের সুন্দরবন অংশে বাঘের সংখ্যা ১১৪ থেকে বেড়ে বর্তমানে ১২৫টি হয়েছে। ১০বছরে বাঘ বেড়েছে ১৯টি।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের জরিপে সুন্দরবনে বাঘ ছিল ৩৫০টি। এরপর ১৯৮২ সালের জরিপে ৪২৫টি এবং এর দুই বছর পর ১৯৮৪ সালে সুন্দরবন দক্ষিণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ১১০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় জরিপ চালিয়ে ৪৩০ থেকে ৪৫০টি বাঘ থাকার কথা জানানো হয়।
১৯৯২ সালে ৩৫৯টি বাঘ থাকার তথ্য জানায় বন বিভাগ। পরের বছর ১৯৯৩ সালে সুন্দরবনের ৩৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় প্যাগমার্ক পদ্ধতিতে জরিপ চালিয়ে ধন বাহাদুর তামাং ৩৬২টি বাঘ রয়েছে বলে জানায়। ২০০৪ সালের জরিপে বাঘের সংখ্যা পাওয়া যায় ৪৪০টি। ১৯৯৬-৯৭ সালে বাঘের সংখ্যা উল্লেখ করা হয় ৩৫০টি থেকে ৪০০টি। ওই সময়ে বাঘের পায়ের ছাপ পদ্ধতিতে গণনা করা হয়।
২০১৫ সালের জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে দাঁড়ায় ১০৬টি। হঠাৎ করে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা ৪০০টি থেকে ১০৬টিতে এসে দাঁড়ালে সারাবিশ্বে হৈ চৈ পড়ে যায়। বাংলাদেশে বাঘ ২০১৫–এর গণনায় ১০৬টি, ২০১৮তে ১১৪টি এবং সর্বশেষ ২০২৪ এর গণনায় ১২৫টি পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের বাঘ নানামুখী হুমকির সম্মুখীন। এরপরও বাঘের সংখ্যা যে ঊর্ধ্বমুখী, এটি আশার সঞ্চার করে।
বাঘ প্রাকৃতিকভাবে শুধুমাত্র এশিয়ার ১৩টি দেশে বাস করে। তবে এখন বিশ্বের মাত্র ১০টি দেশে বন্য বাঘ দেখতে পাওয়া যায়। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, রাশিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইলান্ড, মিয়ানমার এবং চীন। কম্বোডিয়া, লাওস ও ভিয়েতনামে একসময় বাঘ থাকলেও বর্তমানে সেখানে বাঘ প্রাকৃতিকভাবে বিলুপ্ত। বিশ্বে সর্বোচ্চ সংখ্যক বাঘ এ দেশেই বাস করে। ভারতের সংরক্ষিত অভয়ারণ্যগুলোতে ৩,১৬৭টিরও বেশি বাঘ রয়েছে। বাংলাদেশের সুন্দরবনে বেঙ্গল টাইগার বা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বসবাস করে।
বর্তমানে বিশ্বে বাঘের মোট ৬টি জীবিত উপ-প্রজাতি রয়েছে। এছাড়াও অতীতে আরও ৩টি উপ-প্রজাতি ছিল যা এখন পুরোপুরি বিলুপ্ত। বেঙ্গল টাইগার বা রয়েল বেঙ্গল টাইগার : এই উপ-প্রজাতির বাঘ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ভারতীয় উপমহাদেশে। বাংলাদেশ ও ভারতের সুন্দরবন, নেপাল এবং ভুটান হলো এদের প্রধান বাসস্থান। সাইবেরিয়ান বা আমুর বাঘ : এটি বাঘের সব উপ-প্রজাতির মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড়। এদের বাসস্থান মূলত রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য এবং উত্তর-পূর্ব চীনে। সুমাত্রান বাঘ : ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে এই বাঘগুলো পাওয়া যায়। এটি জীবিত উপ-প্রজাতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ছোট। মালয়ান বাঘ : মালয় উপদ্বীপে এই বাঘগুলো দেখতে পাওয়া যায়। ইন্দো-চীনা বাঘ : মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, ভিয়েতনাম এবং কম্বোডিয়ার বনভূমিতে এই উপ-প্রজাতির দেখা মেলে। দক্ষিণ চীন বাঘ এটি সবচেয়ে বিপন্ন উপ-প্রজাতি, ১৯৭০-এর দশকের পর থেকে এদের আর বন্য পরিবেশে সরাসরি দেখা যায়নি।
বিগত শতাব্দীতে মানুষের শিকার এবং আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে বালিনিজ, জাভানিজ এবং কাস্পিয়ান টাইগার নামক তিনটি উপ-প্রজাতি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের সঙ্গে সংঘাতের কারণে এই শক্তিশালী প্রাণীর অস্তিত্বই আজ সংকটে। এদের বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে হলে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ ও বন সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

পত্রদূত ডেস্ক: গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেছেন, বিদ্যমান আইনি দুর্বলতা ও বাস্তবায়নের অভাবে শিশু গৃহকর্মীরা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এই ঝুঁকি এড়াতে শিশুশ্রমকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা জরুরি। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুর অধিকার ও সুরক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি) এই সংলাপের আয়োজন করে।
এএসডির নির্বাহী পরিচালক এম এ করিমের সভাপতিত্বে সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তফাদার। তিনি জানান, গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় একটি বিশেষ মনিটরিং কমিটি গঠনের কাজ চলছে এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া। তিনি বলেন, শ্রম আইন, শিশু আইন কিংবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন থাকলেও তা শিশু গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় কার্যকর প্রয়োগ হচ্ছে না। তাই এদের সুরক্ষায় আলাদা বিশেষ আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে এএসডির প্রকল্প কর্মকর্তা গুল-ই জান্নাত জেনীর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান, আইএলও বাংলাদেশের প্রতিনিধি সৈয়দা মুনিরা সুলতানা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপপরিচালক এম রবিউল ইসলাম, এডুকো বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক আফজাল কবির খান এবং লেবার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম আশরাফ উদ্দিন প্রমুখ।

চিকিৎসকের অবহেলায় যমজ সন্তানের মায়ের জীবন সংকটাপন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
চিকিৎসকের অবহেলায় যমজ সন্তানের মায়ের জীবন সংকটাপন্ন

মো. জাবের হোসেন: যমজ সন্তান প্রসবের পর জরায়ুতে গর্ভফুলের (ফুল) অংশবিশেষ রেখেই প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেওয়ার চরম অভিযোগ উঠেছে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। পর্যাপ্ত তদারকি ও চিকিৎসার গাফিলতিতে প্রসূতি রিমা খাতুন (১৮) প্রসব-পরবর্তী মারাত্মক রক্তক্ষরণে (সেকেন্ডারি পিপিএইচ) আক্রান্ত হয়েছেন। এতে ইতোমধ্যে তাঁর এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে রিমা নিজেও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। গত ৫ জুলাই সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মেলা বাজারে অবস্থিত তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটে।
মেডিকেল রিপোর্টের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রসবের পর গর্ভফুল বা প্রসবসংক্রান্ত উপাদান সম্পূর্ণ অপসারণ না করেই প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। ফলে জরায়ুতে অবশিষ্ট অংশ থেকে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ হতে থাকে এবং তিনি মারাত্মক রক্তস্বল্পতায় (অ্যানিমিয়া) ভোগেন। পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর জরায়ু পরিষ্কার ও রক্ত সঞ্চালন করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রসবের পর প্রসূতির জরায়ু সঠিকভাবে পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেওয়া চরম চিকিৎসাগত অবহেলা, যা রোগীর জীবন বিপন্ন করতে পারতো।
রিমা খাতুনের বাবা শুকুর আলী সরদার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গত ৪ জুলাই তাঁর মেয়ে রিমা ও জামাতা মো. সেলিম খাঁ পরামর্শের জন্য তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে যান। পরদিন ৫ জুলাই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিকটির স্বত্বাধিকারী বিধান বাবুর পরামর্শে স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিধান নিজে উপস্থিত থেকে এক নার্সকে দিয়ে এপিসিওটমি (সাইট কাটা) ও সেলাইয়ের কাজ করান। ওই দিনই রিমা দুটি যমজ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
জন্মের পরপরই নবজাতকরা অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাদের খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে ৭ জুলাই রিমা খাতুনকে ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলে তিনিও খুলনায় সন্তানদের কাছে চলে যান। সেখানে পৌঁছানোর পরদিন রিমা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখানকার চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, তাঁর জরায়ুতে গর্ভফুলের অংশ রয়ে গেছে। পরে জরুরি চিকিৎসার মাধ্যমে জরায়ু পরিষ্কার করা হয়।
রিমার স্বামী সেলিম খাঁ আক্ষেপ করে বলেন, “ডাক্তারের বদলে ক্লিনিক মালিক নিজে উপস্থিত থেকে নার্সকে দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। এই ভুল চিকিৎসার জন্যই আমার স্ত্রীর আজ এই অবস্থা, আর আমাদের একটি সন্তানও মারা গেছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।”
এদিকে ২৫ জুলাই সকালে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে গেলে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ব্যাপক অসঙ্গতি দেখা যায়। প্রসূতির চিকিৎসায় গাফিলতির চিত্রটি সেখানে পরোক্ষভাবে উঠে আসে। স্বত্বাধিকারী বিধান কখনো নিজেকে ‘মালিক’ আবার কখনো ‘ম্যানেজার’ পরিচয় দেওয়ায় কারণ জানতে চাইলে ম্যানেজার মশিউর রহমান দাবি করেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছি, তাই হয়তো তিনি এমন বলছেন।”
জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হলে প্রসূতির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সাত হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে প্রসূতির পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে, প্রসবের কাজে যুক্ত নার্স রিমা খাতুন পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এছাড়া ছাড়পত্র দেওয়ার পর রোগীর জীবনঝুঁকির কথা জেনেও কেন তাঁর কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি—সে প্রশ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেনি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা ছাড়াল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা ছাড়াল

এম শফিকুল ইসলাম: টানা বৃষ্টিতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সাতক্ষীরার বাজারগুলোতে হঠাৎ করেই কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে মরিচের দাম কয়েক গুণ বেড়ে কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে বাজারে নতুন কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজিতে, আর পুরনো কাঁচা মরিচের দাম উঠেছে ৩২০ টাকায়। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কয়েক দিন আগেও নতুন মরিচের দাম ছিল ২০০ টাকা।
বড়বাজার ও টাউন বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, টানা দুই সপ্তাহের বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে কাঁচা মরিচগাছের পাতা ও গোড়া পচে গেছে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত গরম যুক্ত হওয়ায় উৎপাদন ব্যাপক ব্যাহত হয়েছে। কৃষকেরা বাজারজাত করার মতো পর্যাপ্ত মরিচ পাচ্ছেন না।
কৃষক মোহাম্মাদ আলী বলেন, জেলায় কৃষিজমি কমে যাওয়া এবং বাণিজ্যিকভাবে মৎস্যঘের বৃদ্ধি পাওয়ায় সবজি চাষের জমি কমে গেছে। উঁচু জমিতে যেটুকু চাষ হচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় খুব কম।
এদিকে আমদানিকারক গণেশ ঘোষ জানান, স্থানীয় উৎপাদনে জেলার চাহিদা মেটে না। কাঁচা মরিচের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে ভারত থেকে আমদানির অনুমতি (আইপি) প্রয়োজন। অনুমতি মিললেই আমদানিকারকেরা ঋণপত্র (এলসি) খুলে মরিচ আমদানি শুরু করবেন।