রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

তবুও থেমে নেই সাতক্ষীরার উপকূলীয় মানুষের জীবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
তবুও থেমে নেই সাতক্ষীরার উপকূলীয় মানুষের জীবন

আবু জাফর

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা। একদিকে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলরাশিÑএই দুইয়ের মাঝখানে গড়ে ওঠা উপকূলীয় জনপদ প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের পাশাপাশি দুর্যোগেরও অন্যতম কেন্দ্র। জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালীগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বছরের পর বছর ধরে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করে টিকে আছে। প্রতিটি দিন যেন প্রকৃতির সঙ্গে এক নতুন যুদ্ধ, তবুও থেমে নেই এখানকার মানুষের জীবন।

উপকূলীয় অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন মাছ ধরা, চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষ, কৃষিকাজ, বনজ সম্পদ সংগ্রহ, দিনমজুরি, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও নৌপথে পরিবহনসহ নানা পেশার মাধ্যমে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেওয়ায় তাদের জীবিকা আজ নানা সংকটে পড়েছে।

একসময় যেসব জমিতে সোনালি ধানের শীষ দুলত, এখন সেসব জমির অনেকটাই লবণাক্ত পানির প্রভাবে অনাবাদি হয়ে পড়ছে। কৃষকরা আগের মতো ফলন পাচ্ছেন না। ধান, পাট, শাকসবজি ও বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে কৃষিনির্ভর হাজারো পরিবার অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কৃষি ছেড়ে মাছের ঘের বা অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।

চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষ এই অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলেও সেটিও নানা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অতিরিক্ত লবণাক্ততা, ভাইরাসজনিত রোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বেড়িবাঁধ ভেঙে ঘের প্লাবিত হওয়ার কারণে অনেক চাষি প্রতিবছর বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। একটি ঘূর্ণিঝড়ই মুহূর্তের মধ্যে বছরের সব বিনিয়োগ শেষ করে দিতে পারে।

উপকূলের মানুষের আরেকটি বড় সংকট সুপেয় পানির অভাব। অধিকাংশ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় টিউবওয়েলের পানি পানযোগ্য নয়। ফলে অনেক পরিবারকে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয় শুধু বিশুদ্ধ পানির জন্য। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণই একমাত্র ভরসা।

স্বাস্থ্যসেবাও উপকূলবাসীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্গম এলাকার মানুষকে জরুরি চিকিৎসা নিতে অনেক দূর যেতে হয়। বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়ে। লবণাক্ত পানির কারণে চর্মরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি সমস্যা ও নানা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় উপকূলজুড়ে নেমে আসে আতঙ্ক। আইলা, সিডর, বুলবুল, আম্পান, ইয়াস, রেমালসহ একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতচিহ্ন এখনো বহন করছে সাতক্ষীরার উপকূল। দুর্যোগে ভেঙে যায় বেড়িবাঁধ, লোনা পানি ঢুকে প্লাবিত হয় গ্রাম, তলিয়ে যায় মাছের ঘের, কৃষিজমি ও বসতভিটা। হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটান। দুর্যোগ শেষে আবার নতুন করে ঘর নির্মাণ, জমি চাষ ও জীবিকা পুনর্গঠনের কঠিন সংগ্রাম শুরু হয়।
নদীভাঙনও উপকূলের মানুষের স্থায়ী আতঙ্ক। কপোতাক্ষ, কালিন্দী, খোলপেটুয়া, ইছামতি ও অন্যান্য নদীর ভাঙনে প্রতিবছর বহু পরিবার তাদের বসতভিটা হারাচ্ছে। কেউ কেউ একাধিকবার স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা ও কৃষিজমি।

সুন্দরবন উপকূলের মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। অনেক পরিবার বন থেকে মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা, মধু ও অন্যান্য বনজ সম্পদ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে বনাঞ্চলে প্রবেশ মানেই জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা। বাঘের আক্রমণ, কুমিরের হামলা, সাপের কামড় কিংবা নদীতে দুর্ঘটনায় প্রতিবছর অনেক মানুষ প্রাণ হারান অথবা গুরুতর আহত হন। তারপরও জীবিকার তাগিদে তাদের সেই ঝুঁকি নিয়েই বনমুখী হতে হয়।

শিক্ষাক্ষেত্রেও দুর্যোগের প্রভাব স্পষ্ট। অনেক সময় ঘূর্ণিঝড় বা জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকে। আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে শিশুদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। দরিদ্র পরিবারের অনেক শিশু অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অল্প বয়সেই শ্রমে যুক্ত হতে বাধ্য হয়।

তবে এত প্রতিকূলতার মাঝেও হার মানেননি উপকূলের মানুষ। তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অভিযোজন কৌশল গ্রহণ করছেন। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, লবণসহিষ্ণু ধান ও সবজি চাষ, ভাসমান কৃষি, বিকল্প জীবিকার প্রশিক্ষণ, হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালন, নারীদের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং দুর্যোগ-সহনশীল ঘর নির্মাণের মতো উদ্যোগ তাদের নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা উপকূলে জলবায়ু অভিযোজন, নিরাপদ পানি সরবরাহ, কৃষি উন্নয়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ, সৌরবিদ্যুৎ, সামাজিক বনায়ন ও জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা এখনও অপর্যাপ্ত বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উপকূল রক্ষায় টেকসই ও উচ্চমানের বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, নিরাপদ সুপেয় পানির স্থায়ী ব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ-সহনশীল আবাসন, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি সম্প্রসারণের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে হবে।

পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব বহন করছে বাংলাদেশের উপকূলীয় জনগোষ্ঠী। অথচ এই পরিবর্তনের জন্য তাদের দায় প্রায় নেই বললেই চলে। তাই শুধু দুর্যোগের পর ত্রাণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিজ্ঞানভিত্তিক অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, নদী ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উপকূলকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য করে তোলা এখন সময়ের দাবি।

প্রকৃতির সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করেও সাতক্ষীরার উপকূলীয় মানুষ কখনো আশা ছাড়েন না। প্রতিটি ভোরে তারা নতুন স্বপ্ন নিয়ে আবারও জীবিকার সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন। ঘূর্ণিঝড়ে ঘর ভাঙে, জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যায় ফসল, লবণাক্ততায় নষ্ট হয় জমি—তবুও তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ান। সংগ্রাম, সাহস, ধৈর্য, পরিশ্রম ও অদম্য মনোবলই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই শক্তিকে সঙ্গী করেই প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়ে এগিয়ে চলেছে সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদের জীবনÑযা শুধু একটি অঞ্চলের গল্প নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে মানবিক টিকে থাকার এক অনন্য উদাহরণ।

 

Ads small one

সম্পাদকীয়/বিষ ঢেলে জলজ ধ্বংসযজ্ঞ: সুন্দরবন রক্ষায় প্রয়োজন মূল হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/বিষ ঢেলে জলজ ধ্বংসযজ্ঞ: সুন্দরবন রক্ষায় প্রয়োজন মূল হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি

বিশ্ব ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যূহ সুন্দরবনের নদী-খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অসাধু তৎপরতা চরম রূপ ধারণ করেছে। বন বিভাগের নিয়মিত ও জোরালো টহল অভিযান, অবৈধ সরঞ্জাম জব্দ এবং অপরাধীদের আটকের খবর প্রকাশিত হলেও থামানো যাচ্ছে না এই জলজ ধ্বংসযজ্ঞ। একশ্রেণীর সংঘবদ্ধ অসাধু চক্র নিজস্ব ক্ষুদ্র স্বার্থে গোপনে খাল-নদীতে বিষ ঢেলে বিষাক্ত পন্থায় মাছ আহরণ চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযানের মুখেও এই অপতৎপরতার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে যে, বিদ্যমান পদক্ষেপগুলো অপরাধীদের মনে ভয় ঢোকাতে কিংবা এই চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে সক্ষম হচ্ছে না।
বিষ দিয়ে মাছ শিকারের এই ভয়াবহ প্রবণতা কেবল মৎস্য সম্পদের ক্ষতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি সুন্দরবনের পুরো জলজ বাস্তবতন্ত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। জলে বিষ ছড়ানোর ফলে মাছের পাশাপাশি কাঁকড়া, ছোট চিংড়ি, প্লাংকটন এবং অন্যান্য বিরল জলজ প্রাণী তাৎক্ষণিকভাবে মারা যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জলজ উদ্ভিদের খাদ্যশৃঙ্খল। এই অবক্ষয় দীর্ঘমেয়াদে সুন্দরবনের অনন্য জীববৈচিত্র্যের ওপর অপূরণীয় বিপর্যয় ডেকে আনবে। যে সুন্দরবন উপকূলীয় কোটি মানুষের প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে, সেই বনের মূল ভিত্তি এভাবে বিষাক্ত করে তোলা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও এক বড় হুমকি।
বন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে শুরু করে অন্যান্য অঞ্চলের বনকর্মীরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন এবং আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন—যা প্রশংসনীয়। কিন্তু শুধু প্রান্তিক জেলে কিংবা বিষ প্রয়োগে জড়িত মাঠপর্যায়ের ব্যক্তিদের আটক ও সরঞ্জাম জব্দ করাই এই সমস্যা সমাধানের শেষ কথা হতে পারে না। এই অসাধু বাণিজ্যের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী কিছু চক্র বা ‘মূল হোতা’, যারা নেপথ্যে থেকে বিষ সরবরাহ করে এবং বিষাক্ত মাছের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। এই মূল চক্রটিকে চিহ্নিত করে কঠোর আইনের আওতায় না আনলে কেবল সাময়িক অভিযানে অপরাধ দমন সম্ভব হবে না।
সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় বন বিভাগকে এখন কৌশলী ও কঠোর ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। প্রথমত, অপরাধীদের ধরতে কেবল প্রথাগত টহলের ওপর নির্ভর না করে জলপথে আধুনিক প্রযুক্তিগত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, বিষ প্রয়োগের নেপথ্য নায়কদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তা অন্যদের জন্য চরম বার্তা হিসেবে কাজ করে। তৃতীয়ত, বনজ সম্পদের সুরক্ষায় স্থানীয় উপকূলীয় সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করা সবচেয়ে জরুরি। স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাঁদের বিকল্প জীবিকায় সহায়তা ও তথ্যসংগ্রহের অংশীদার করতে পারলে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ অনেক সহজ হবে।
সুন্দরবন কেবল একটি বন নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোনো অসাধু চক্রের লোভের বলিকাঁঠা হিসেবে এর জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংস হতে দেওয়া যায় না। সুন্দরবন ও এর অনবদ্য বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় শূন্য-সহনশীলতা নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে বিষচক্রকে স্থায়ীভাবে নির্মূল করতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নেওয়াই সময়ের দাবি।

আশাশুনিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের আন্তঃসংযোজক ব্যবস্থা চালু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের আন্তঃসংযোজক ব্যবস্থা চালু

আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের সঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ওয়েবসাইটের সমন্বিত আন্তঃসংযোগ ও মনিটরিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে। শিক্ষা মনিটরিং খাত আধুনিকীকরণে এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো কোনো উপজেলা এই নেটওয়ার্কের আওতায় এল।
রোববার আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় নতুন এই ব্যবস্থাপনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম। আয়োজনের সার্বিক সঞ্চালনায় ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) শিক্ষক আসিফ ইকবাল।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বাস্তবায়নে ও ‘মমতাজ ট্রেডিং (প্রা:) লিমিটেড’ যশোরের সহযোগিতায় কাজটি সম্পন্ন হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার ৪৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৪টি কলেজের মোট ৫১ জন আইসিটি শিক্ষককে নিয়ে নতুন এই আন্তঃসংযোগ ও ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মুরাদুজ্জামান জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসের মূল ওয়েবসাইট থেকে (ধংংধংঁহর.ঁংবড়.মড়া.নফ) সরাসরি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে। প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি জোরদারে ইতিমধ্যে আইপিসিসি ক্যামেরা স্থাপন ও সচল ওয়েবসাইটসংক্রান্ত গুগল ফরম সাবমিট প্রক্রিয়াও সফলভাবে শেষ হয়েছে।

বড়বাড়ি ও কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন কমিটির সভাপতি কাজল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
বড়বাড়ি ও কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন কমিটির সভাপতি কাজল

 

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বড়বাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুটি বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা যুবদলের সদস্য ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ কাজল। যশোর শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মুহা. এনামুল কবির স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বড়বাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এবং রবিবার (২ আগস্ট) কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।
একসঙ্গে উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আবুল কালাম আজাদ কাজলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন কমিটির নেতৃত্বে বিদ্যালয় দুটির শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সার্বিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।