রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

কেশবপুরে মিড ডে মিল বিতরণ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে মিড ডে মিল বিতরণ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ

এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত মিড ডে মিল কর্মসূচীর খাবারে পঁচা ডিম-কলা ও বাসী রুটি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ও মানসম্মত খাবার পাচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, স্কুলে উপস্থিতি বাড়ানোসহ ঝরেপড়া রোধে চালু করা এ কর্মসূচীতে নিন্মমানের খাবার সরবরাহ করায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা।

জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত ও ঝরেপড়া রোধে সরকার মিড ডে মিল কর্মসূচী গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের এপ্রিল থেকে এ উপজেলার ১৫৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করা হয়। এসব বিদ্যালয়ের ২৭ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থী প্রতি সপ্তাহে পাচ্ছে ৫১ লাখ ২৮ হাজার ৭২২ দশমিক ৯ টাকার খাদ্য সামগ্রী। সপ্তাহের ৫ দিন প্রতিজন শিক্ষার্থীর জন্যে বরাদ্দ ৯১ দশমিক ৩১ টাকার খাদ্য। প্রতি রবি, বুধ ও বৃহস্পতিবার ২৯ লাখ ৯৪ হাজার ৮৭ দশমিক ৫১ টাকা মূল্যের শিক্ষার্থী প্রতি একটি করে ডিম, ১২০ গ্রাম ওজনের দুটি করে বনরুটি দেয়ার কথা। সোম ও মঙ্গলবার ৫১ লাখ ২৮ হাজার ৭২২ দশমিক ৯ টাকা মূল্যের ১০০ গ্রাম ওজনের একটি করে কলা, এক প্যাকেট বিস্কুট ও ২০০ গ্রাম ওজনের এক প্যাকেট লিকুইড দুধ ও বনরুটি দেয়ার কথা। এর সরকারি ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয় প্রতিটি কলা ৯ দশমিক ৭৯ টাকা, দুটি বনরুটি ২২ দশমিক ৮৫ টাকা, ডিম ১৩ দশমিক ৫২ টাকা, বিস্কুট ১৬ দশমিক ২৫ টাকা ও দুধ ২৮ দশমিক ৯০টাকা। এর মধ্যে দুধ দেয় আকিজ কোম্পানী, বিস্কুট প্রাণ কোম্পানী এবং বনরুটি, কলা ও ডিম দেয় বেসরকারি সংগঠন সুশীলন।

অভিযোগ উঠেছে, নি¤œমানের খাবার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ও মানসম্মত খাবার পাচ্ছে না। সরবরাহকৃত অধিকাংশ কলা আকারে অনেক ছোট ও পঁচা। যার দাম ৪ থেকে ৫ টাকার বেশি নয়। বনরুটির দাম ২২ দশমিক ৮৫ টাকা নির্ধারিত থাকলেও সরবরাহকৃত বনরুটি দাম সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১২ টাকা, দুধ পাতলা পানি মেশানো থাকে।
ব্রহ্মকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রমিলা দেবনাথ বলেন, প্রতিদিন শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য ১০% কম দেয়া হয়। এতে বিড়াম্বনায় পড়তে হয়। কলা ও ডিম আকারে ছোট ও মাঝেমধ্যে নষ্ট থাকে। এতে সরবরাহে বিঘœ ঘটে। এরপরও গত ২৮ জুলাই তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত কোনো খাদ্যই সরবরাহ করা হয়নি।
বাগদহা মজিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুদেব কুমার দেবনাথ বলেন, কলা ও ডিম আকারে ছোট হওয়ায় মান বেশি ভালো না। আবার কিছু কিছু কলা, ডিম পঁচা থাকে। দুধ যা দেয়, তা একেবারে পাতলা। দুধে পানি মেশানো থাকে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, অধিদপ্তর থেকে নিয়োগকৃত ঠিকাদার এসব খাদ্য সরবরাহ করছে। খাদ্যের মান নিয়ে প্রথম পর্যায়ে সমস্যা ছিল। পরবর্তীতে ঠিকাদার, কোম্পানী ও ঊদ্ধর্তন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে সমস্যা চিহ্নিত করলে আগের তুলনায় এখন অনেকটা ভালো খাবার দিচ্ছে। বিস্কুট সময়মত পৌঁছায় না। যার জন্যে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয়।

Ads small one

সম্পাদকীয়/বিষ ঢেলে জলজ ধ্বংসযজ্ঞ: সুন্দরবন রক্ষায় প্রয়োজন মূল হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/বিষ ঢেলে জলজ ধ্বংসযজ্ঞ: সুন্দরবন রক্ষায় প্রয়োজন মূল হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি

বিশ্ব ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যূহ সুন্দরবনের নদী-খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অসাধু তৎপরতা চরম রূপ ধারণ করেছে। বন বিভাগের নিয়মিত ও জোরালো টহল অভিযান, অবৈধ সরঞ্জাম জব্দ এবং অপরাধীদের আটকের খবর প্রকাশিত হলেও থামানো যাচ্ছে না এই জলজ ধ্বংসযজ্ঞ। একশ্রেণীর সংঘবদ্ধ অসাধু চক্র নিজস্ব ক্ষুদ্র স্বার্থে গোপনে খাল-নদীতে বিষ ঢেলে বিষাক্ত পন্থায় মাছ আহরণ চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযানের মুখেও এই অপতৎপরতার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে যে, বিদ্যমান পদক্ষেপগুলো অপরাধীদের মনে ভয় ঢোকাতে কিংবা এই চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে সক্ষম হচ্ছে না।
বিষ দিয়ে মাছ শিকারের এই ভয়াবহ প্রবণতা কেবল মৎস্য সম্পদের ক্ষতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি সুন্দরবনের পুরো জলজ বাস্তবতন্ত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। জলে বিষ ছড়ানোর ফলে মাছের পাশাপাশি কাঁকড়া, ছোট চিংড়ি, প্লাংকটন এবং অন্যান্য বিরল জলজ প্রাণী তাৎক্ষণিকভাবে মারা যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জলজ উদ্ভিদের খাদ্যশৃঙ্খল। এই অবক্ষয় দীর্ঘমেয়াদে সুন্দরবনের অনন্য জীববৈচিত্র্যের ওপর অপূরণীয় বিপর্যয় ডেকে আনবে। যে সুন্দরবন উপকূলীয় কোটি মানুষের প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে, সেই বনের মূল ভিত্তি এভাবে বিষাক্ত করে তোলা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও এক বড় হুমকি।
বন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে শুরু করে অন্যান্য অঞ্চলের বনকর্মীরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন এবং আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন—যা প্রশংসনীয়। কিন্তু শুধু প্রান্তিক জেলে কিংবা বিষ প্রয়োগে জড়িত মাঠপর্যায়ের ব্যক্তিদের আটক ও সরঞ্জাম জব্দ করাই এই সমস্যা সমাধানের শেষ কথা হতে পারে না। এই অসাধু বাণিজ্যের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী কিছু চক্র বা ‘মূল হোতা’, যারা নেপথ্যে থেকে বিষ সরবরাহ করে এবং বিষাক্ত মাছের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। এই মূল চক্রটিকে চিহ্নিত করে কঠোর আইনের আওতায় না আনলে কেবল সাময়িক অভিযানে অপরাধ দমন সম্ভব হবে না।
সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় বন বিভাগকে এখন কৌশলী ও কঠোর ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। প্রথমত, অপরাধীদের ধরতে কেবল প্রথাগত টহলের ওপর নির্ভর না করে জলপথে আধুনিক প্রযুক্তিগত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, বিষ প্রয়োগের নেপথ্য নায়কদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তা অন্যদের জন্য চরম বার্তা হিসেবে কাজ করে। তৃতীয়ত, বনজ সম্পদের সুরক্ষায় স্থানীয় উপকূলীয় সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করা সবচেয়ে জরুরি। স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাঁদের বিকল্প জীবিকায় সহায়তা ও তথ্যসংগ্রহের অংশীদার করতে পারলে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ অনেক সহজ হবে।
সুন্দরবন কেবল একটি বন নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোনো অসাধু চক্রের লোভের বলিকাঁঠা হিসেবে এর জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংস হতে দেওয়া যায় না। সুন্দরবন ও এর অনবদ্য বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় শূন্য-সহনশীলতা নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে বিষচক্রকে স্থায়ীভাবে নির্মূল করতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নেওয়াই সময়ের দাবি।

আশাশুনিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের আন্তঃসংযোজক ব্যবস্থা চালু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের আন্তঃসংযোজক ব্যবস্থা চালু

আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের সঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ওয়েবসাইটের সমন্বিত আন্তঃসংযোগ ও মনিটরিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে। শিক্ষা মনিটরিং খাত আধুনিকীকরণে এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো কোনো উপজেলা এই নেটওয়ার্কের আওতায় এল।
রোববার আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় নতুন এই ব্যবস্থাপনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম। আয়োজনের সার্বিক সঞ্চালনায় ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) শিক্ষক আসিফ ইকবাল।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বাস্তবায়নে ও ‘মমতাজ ট্রেডিং (প্রা:) লিমিটেড’ যশোরের সহযোগিতায় কাজটি সম্পন্ন হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার ৪৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৪টি কলেজের মোট ৫১ জন আইসিটি শিক্ষককে নিয়ে নতুন এই আন্তঃসংযোগ ও ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মুরাদুজ্জামান জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসের মূল ওয়েবসাইট থেকে (ধংংধংঁহর.ঁংবড়.মড়া.নফ) সরাসরি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে। প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি জোরদারে ইতিমধ্যে আইপিসিসি ক্যামেরা স্থাপন ও সচল ওয়েবসাইটসংক্রান্ত গুগল ফরম সাবমিট প্রক্রিয়াও সফলভাবে শেষ হয়েছে।

বড়বাড়ি ও কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন কমিটির সভাপতি কাজল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
বড়বাড়ি ও কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন কমিটির সভাপতি কাজল

 

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বড়বাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুটি বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা যুবদলের সদস্য ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ কাজল। যশোর শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মুহা. এনামুল কবির স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বড়বাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এবং রবিবার (২ আগস্ট) কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।
একসঙ্গে উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আবুল কালাম আজাদ কাজলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন কমিটির নেতৃত্বে বিদ্যালয় দুটির শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সার্বিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।