শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

তাপস বৈশ্য বললেন, অধিনায়করা রাজা আর অন্যরা প্রজা!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
তাপস বৈশ্য বললেন, অধিনায়করা রাজা আর অন্যরা প্রজা!

তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সাবেক অধিনায়কদের সম্মান জানাতে ক্যাপ্টেন্স কার্ড চালু করেছে। এর আওতায় সাবেক অধিনায়করা নানান সুবিধা পাবেন। খেলা দেখা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সেবাসহ আরও কিছু।

তবে শুধু অধিনায়কদের এমন সুবিধা দেওয়ায় সমালোচনা করেছেন জাতীয় দলের সাবেক পেসার তাপস বৈশ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন তিনি।

লিখেছেন, এই যুগের বৈষম্য! আগে থেকেই খেলা দেখতে অধিনায়কদের জন‍্য এসি বক্স আর অন‍্য জাতীয় দলের সতীর্থদের জন‍্য সাধারণ গ‍্যালারি! আর এখন তো কার্ড! একদিন ভিডিও করে সবাইকে বলবো, এই যুগেও কেমন বৈষম্য হয়! অধিনায়করা রাজা আর অন‍্যরা প্রজা! অধিনায়ক হলেই তুমি চৌধুরী আর অন‍্য সতীর্থরা? খেলে তো সবাই মিলে ১১ বা ১৪ জন। খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর সবাই জাতীয় খেলোয়ার!

এরপর স্পিনার রফিকের উদাহরণ টেনে তাপস বলেছেন, রফিক ভাইয়ের মতো জনপ্রিয় খেলোয়াড় কয়জন অধিনায়ক আছেন…। রফিক ভাই বসবেন সাধারণ গ্যালারিতে আর আনখোরা অধিনায়ক এসি বক্সে…।

তিনি বলেন, কারও যদি আত্মসম্মান থাকে, তাহলে এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করবে……। যারা কার্ড পেয়েছে, তারা করবে না, কারণ তারা এখন বাংলা সিনেমার চৌধুরী হয়েছে……। অধিনায়কদের হেলথ ইনসুরেন্স দরকার আর অন‍্য সতীর্থদের! এই বৈষম্যের কারণে আমি আমার নিজেকে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় দিতেই লজ্জা বোধ করছি……। এই যুগে এটা চরম বৈষম্য…। আমি চাই, আর যেন কখনোই কোনও সাবেক খেলোয়াড় বোর্ড সভাপতি না হয়… সব দেখা হয়ে গেছে…।

অনিয়ম আর দুর্নীতিতে ডুবছে শ্যামনগরের দরগাহপুর এনডিএস ফাজিল মাদ্রাসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
অনিয়ম আর দুর্নীতিতে ডুবছে শ্যামনগরের দরগাহপুর এনডিএস ফাজিল মাদ্রাসা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরের দরগাহপুর এনডিএস ফাজিল মাদ্রাসায় অনিয়ম আর দুর্নীতি চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে থাকা শতাধিক বিঘা কৃষি জমি হতে বাৎসরিকভাবে আদায়কৃত অর্ধ্ব কোটি টাকার মালিকানা নিয়ে অধ্যক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। যার ফলে প্রায় পাঁচ দশক পুর্বে গড়ে উঠা ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্বকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠাতা পরিবারগুলোর সাথে অধ্যক্ষ ও তার অনুসারীদের মধ্যে দিনে দিনে সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরী হচ্ছে।

দীর্ঘ সময় ধরে এমন অবস্থা অব্যাহত থাকার সত্ত্বেও প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিধিদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অনতিবিলম্বে অবস্থার উন্নতি না হলে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ সম্পুর্নভাবে ধ্বংস হবে বলেও দাবি তাদের।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় ১৯৭৩ সালে ডাঃ রাহাতুল্লাহ গাজী প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। মাদ্রাসার অনুকুলে থাকা প্রায় একশ বিঘা কৃষি জমি মৎস্যঘেরের জন্য ইজারা দিয়ে প্রতিবছর কতৃপক্ষ মোটা অংকের টাকা আদায় করে।
অনুসন্ধানকালে তথ্য মিলেছে যে মাদ্রাসার অনুকুলে এত বিপুল পরিমান টাকা বাৎসরিকভাবে আয় হলেও তার যৎসামান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যয় হয়।

 

মুলত অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস হোসেন ও তার কয়েক অনুসারী সিংহভাগ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বিভিন্ন খরচের সিলিপ তৈরী করে অধ্যক্ষ খাতা-খতিয়ান ঠিক রাখার চেষ্টা করেন বলেও দাবি তাদের। এমনকি মাদ্রসার বিরুদ্ধে কোন অনিয়মের তদন্ত হলে তদন্ত কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করার জন্য তারা মাদ্রাসার ফান্ড থেকে মোটা অংকের অর্থ খরচ করে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরী করে হিসেবে স্বচ্ছতা রাখার অপচেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ তুলেছে খোদ পরিচালনা পর্ষদ ও প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্যরা।

প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের আলহাজ¦ মুরাদ হোসেন জানান, তার দাদা মাদ্রসা গড়ে তুলেছিলেন ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তার ঘাঁতে। কিন্তু অধ্যক্ষ ইউনুস হোসেন তার কয়েক অনুসারীকে নিয়ে লুটেপুটে খাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বার বার প্রশাসনের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের দারস্থ হওয়া সত্ত্বেও পরিবার ইউনুস হোসেন মাদ্রাসার অর্থ দিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করে চলেছে।

প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের অপর এক সদস্য এবং নকিপুর এইচসি সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন জানান, ইউনুস হোসেন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ব্যাপক জালিয়াতির আশ্রয় নিেেছন। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ছাত্র জোবায়েরকে মাদ্রসায় ভর্তি দেখিয়ে তার পিতা ও নিজ বন্ধু এবং সকল অপকর্মের সাথী আজিজুর রহমানকে পরিচালনা পর্ষদের অভিভাবক সদস্য বানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদারকি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করা সত্ত্বেও ইউনুস সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে ফেলেছেন বলে তিন বছর ধরে বিষযটি ঝুলে আছে।

মাদ্রসার সাবেক সভাপতি আব্দুর রউফের ভাষ্য তিনি তার পিতা ও মাতার নামে ছাত্রাবাস এবং কবরস্থান তৈরীর জন্য জমি দিয়েছেন। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি তার কোন অস্থিত্ত্ব নেই। বাধ্য হয়ে তিনি দুই বছর আগে নিরুপণ দলিলের উল্লেখিত শর্ত পুরণ করতে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন অধ্যক্ষের নিকট। সেসময় মাদ্রাসার প্রবেশদ্বারে তার পিতা ও মাতার নাম লেখা হলেও আজ পর্যন্ত সেই ছাত্রাবাস ও কবরস্থান তৈীর করা হয়নি। বাধ্য হয়ে তিনি উক্ত জমির টাকা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

আব্দুর রউফ আরও অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ ইউনুস মাওলানার কারনে মাদ্রাসায় শিক্ষার পরিবেশ নেই বললেই চলে। দিন দিন ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। তার দুর্নীতি এবং অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রায় ১০ মাস আগে একযোগে পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন পদ হতে তারা ছয়জন অব্যাহতি নিয়েছেন। তারপরও স্বেচ্ছাচারী মনোভাব নিয়ে মাদ্রাসার অনুকুলে আদায়কৃত অর্থের অবৈধ ব্যবহার করে ইউনুস মাওলানা দিবি একক ক্ষমতায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তিনি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকসহ উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস হোসেন জানান, তিনি দায়িত্ব নেয়ার আগে অন্য অধ্যক্ষরা একইভাবে মাদ্রাসা পরিচালনা করেছেন। প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের কয়েকজন সদস্য পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলেও তিনি স্বীকার করেন। তবে দুর্নীতি অনিয়ম স্বেচ্ছাচারিতার সকল অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

 

 

শ্যামনগরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে জ¦ালানীবাহী গাড়ি লুট ও পাম্প মালিককে হত্যার হুমকির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে জ¦ালানীবাহী গাড়ি লুট ও পাম্প মালিককে হত্যার হুমকির অভিযোগ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মটরসাইকেলের জ¦ালানী না পেয়ে ফিলিং স্টেশনের তেলবাহী গাড়ী লুটসহ মালিককে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে শহীদুন-নবী নামের এক যুবদল নেতা প্রায় ৪০/৫০ জন কর্মী-সমর্থক নিয়ে শ্যামনগরের খানপুর এলাকার অবস্থিত শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনে পৌছে এমন হুমকি দেন বলে অভিযোগ।

 

এঘটনার প্রতিবাদে শনিবার দুপুর একটায় ফিলিং স্টেশন কতৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে হুমকিদাতাসহ তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।

হুমকিদাতা কাজী শহিদুন-নবী বাবু সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য। মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বিলাল হোসেন।

 

তিনি বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে তারা শ্যামনগর উপজেলার চারটি ইউনিয়নসহ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকসহ জনগুরুত্বপুর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহ করছেন। এছাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে তাদের জন্য নির্ধারণ করে দেয়া এলাকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে সেচকার্য্য সম্পাদনের জন্য বরাদ্দ অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ করছেন।

লিখিত বক্তব্যে বিলাল হোসেন দাবি করেন, আকস্মিকভাবে শনিবার সকালে পাশর্^বর্তী কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের শতাধিক ব্যক্তি ৫০টি মটরসাইকেল নিয়ে জ¦ালানী নিতে ভিড় করে। এসময় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে তারা শ্যামনগরবাসীর জন্য জ¦ালানী সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছেন- বলে জানালে তারা উত্তেজিত হয়ে উশৃঙ্খল আচারণ শুরু করে। একপর্যায়ে যুবদল নেতা শহীদুন-নবী বাবু নিজ এলাকায় খবর পাঠিয়ে আরও দুই শতাধিক মটরসাইকেল আনিয়ে গোটা ফিলিং স্টেশনের জ¦ালানী সরবরাহ ব্যবস্থাসহ মহাসড়ক বন্ধ করে দেয়।

 

এসময় শ্যামনগর থানা পুলিশের কাছে বার বার সহযোগীতা চেয়েও পাওয়া যায়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে প্রায় তিন ঘন্টা ধরে শহীদুন-নবী বাবু ও তার কর্মী সমর্থকরা ফিলিং স্টেশনে অবস্থান করে ইচ্ছামত জ¦ালানী সংগ্রহ করেন এবং পরবর্তীতে তাদের তেলবাহী গাড়ী লুটের হুমকি দেন।

বিলাল হোসেনের অভিযোগ ফিলিং স্টেশনে অবস্থানকালে যুবদল নেতা শহীদুন-নবী ও তার অনুসারীরা যাতায়াতের পথে মৌতলা পৌছোলে মালিকের ব্যক্তিগত গাড়ী ভাংচুরসহ তেলবাহী গাড়ী লুট করবে বলে হুমকি দেয়। এমন অবস্থার প্রেক্ষাপটে নিজেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন- উল্লেখ করে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনের তদারকিতে জ¦ালানী সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে ফিলিং স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ করবেন বলেও জানান।

জনাকীর্ণ এ সংবাদ সম্মেলনে বিলাল হোসেন অভিযোগ করেন, সম্প্রতি শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ সদস্যদের ব্যবহারের কথা বলে কয়েকটি রেজিষ্ট্রেশনহীন মটরসাইকেলের জন্য প্রত্যায়নপত্র দিয়ে সুপারিশ জানিয়েছিল। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা মেনে জ¦ালানী সরবরাহের কারনে রেজিষ্ট্রেশন না থাকা মটরসাইকেলে পেট্রোল দিতে না পারায় তারা ক্ষুব্ধ হন। যারপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় মুহুর্তে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা সত্ত্বেও অফিসার ইনচার্জের সহযোগীতা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও উক্ত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

 

এসময় অন্যান্যের শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনের অফিস সহকারী আবু তাহের ও কর্মচারী পরিষদের নেতা শিমুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এসব বিষয়ে জানতে যুবদল নেতা শহীদুন-নবী বাবুর ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মুটোফোনে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তাকে ম্যাসেজ পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

 

গুজব প্রতিরোধ ও সঠিক তথ্য প্রচারে গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তা চায় সরকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ
গুজব প্রতিরোধ ও সঠিক তথ্য প্রচারে গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তা চায় সরকার

তথ্য অধিদফতর ঢাকার আয়োজনে এবং খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সহযোগিতায় সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত প্রধান প্রতিশ্রুতিসমূহ বাস্তবায়নে গণমাধ্যমে প্রচার সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা আজ (শনিবার) খুলনা সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য অফিসার (রুটিন দায়িত্ব) ইয়াকুব আলী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, সরকার গঠন হয়েছে দুই মাস; ভোটের কালি এখনও মুছেনি। জনকল্যাণমুখী সরকার জনকল্যাণে প্রথমেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিং প্রকল্প চালু করেছে। ইতোমধ্যে সরকারের কৃষি ঋণ মওকুফে ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছে। ২১ হাজার ১৪ জন কৃষকের হাতে পৌঁছে গেছে কৃষক কার্ড; এরই অংশ হিসেবে মোট ১৫টি উপজেলায় শতভাগ কৃষক কার্ড পাবে।

 

তিনি আরও বলেন, ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ ধর্মগুরুদের সম্মানি ও উৎসব ভাতা চালু করেছে সরকার। সারা দেশে চলমান খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। পরিবেশ রক্ষায় সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এবার হজ ব্যবস্থাপনায় প্রত্যেক হজযাত্রীর থেকে ১২ হাজার টাকা করে কম নেওয়া হয়েছে। আপনারা জানেন, হামের প্রকোপ মোকাবেলায় ইতোমধ্যে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ কর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার যার ৮০ শতাংশই নারী।

প্রধান অতিথি বলেন, সাংবাদিকরা সরকারের অংশীজন। সরকার জানতে চায় তার অংশীজনেরা কি ভাবছে। বিশে^র যুদ্ধ পরিস্থিতিতে, বিশ^মন্দা মোকাবেলায় সরকারকেও কিছু ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। ব্যয় সংকোচন করতে হচ্ছে সব ক্ষেত্রে যার প্রভাব আমাদের উপরও পড়বে। যার কারণে গুজব, অপতথ্য, মিথ্যাতথ্য ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এই গুজব প্রতিরোধ ও সঠিক তথ্য প্রচারে গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তা কামনা করে সরকার।

সভায় সরকারের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় তথ্য অধিদফতরের ভূমিকা এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ বিষয়ে তথ্য অধিদফতরের সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার (প্রেস) মোছাঃ মোবাস্বেরা কাদেরী বলেন, সরকারের সেবাসমূহ যেন প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের তাদের লেখনীর মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা সৃষ্টি এবং সচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

 

গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে তথ্য অধিদফতর ফ্যাক্ট চেকিং কার্যক্রম শুরু করেছে। অপতথ্য প্রচাররোধে ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট প্রভৃতির সন্ধান দিয়ে তথ্য অধিদফতরকে একাজে সহায়তা করার আহবান জানান তিনি। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হজ প্যাকেজ, খাল খনন প্রতিটি সেবা একটি আর একটির সাথে সংযুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে তাই তিনি বলেন, সঠিক তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে সাংবাদিকদের। তবেই সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে পারবে সরকার।

গুজব প্রতিরোধ, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ও নিউমিডিয়া বিষয়ে আলোচনা করেন উপপ্রধান তথ্য অফিসার (নিউমিডিয়া) নাসরীন জাহান লিপি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তথ্য অধিদফতরের উপপ্রধান তথ্য অফিসার (প্রশাসন ও অর্থ) হাছিনা আক্তার। খুলনা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা এর সভাপতিত্বে এতে স্বাগত বক্তৃতা করেন খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার এ এস এম কবীর।

 

সভায় তথ্য অধিদফতরের উপপ্রধান তথ্য অফিসার (মনিটরিং) অনসূয়া বড়–য়া, খুলনা প্রেসক্লাবের আহবায়ক এনামুল হক, সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ রাশিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা, সিনিয়র সাংবাদিক শেখ দিদারুল আলমসহ গণমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

সভায় তথ্য অধিদফতর, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস, জেলা তথ্য অফিসের কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক এবং নিবন্ধিত অনলাইন মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। তথ্যবিবরণী