রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

তালায় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা, দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:১১ অপরাহ্ণ
তালায় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা, দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়

নিজস্ব প্রতিনিধি: গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার শাহাপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। শুক্রবার বিকেলে শাহাপুর-ভায়ড়া বাজার বণিক সমিতি ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে শাহাপুর-ভায়ড়া-বারুইহাটি বিলে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

প্রতিযোগিতাকে ঘিরে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা হাজারো দর্শকের সমাগমে পুরো বিল এলাকা একটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়। তালা, সাতক্ষীরা, খুলনা ও যশোরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ঘোড়া ও অশ্বারোহীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

শাহাপুর-ভায়ড়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম, প্যানেল চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা, ইউপি সদস্য মফিজুল ইসলাম ও সাবেক ছাত্রনেতা মারুফুল ইসলাম মারুফ।

মো. সিদ্দিকুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আয়োজকেরা জানান, গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার লোকজ খেলাধুলোকে পরিচিত করে তুলতেই এই আয়োজন। বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন সমাজে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।

প্রতিযোগিতায় ২৬ পয়েন্ট পেয়ে প্রথম স্থান লাভ করে ইউপি সদস্য মফিজুল ইসলামের ঘোড়া ‘আব্দুল রাজ’। বিজয়ী ঘোড়ার মালিককে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়। ২০ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে বাঘারপাড়ার বাবর আলীর ঘোড়া ‘ডিজে’ (পুরস্কার ৭ হাজার টাকা)।

 

১৮ পয়েন্ট পেয়ে তৃতীয় হয়েছে আমির শেখ ও আবুল মোড়লের ঘোড়া ‘চাচা-ভাতিজা’ (পুরস্কার ৫ হাজার টাকা)। এ ছাড়া ১৫ পয়েন্ট পেয়ে চতুর্থ স্থান অর্জন করে খুলনার শিরোমণির ঘোড়া ‘পাখি’ এবং ১১ পয়েন্ট পেয়ে বিশেষ পুরস্কার পায় বাঘারপাড়ার আকিমুল ইসলামের ঘোড়া ‘বাহাদুর’। প্রতিযোগিতা শেষে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

 

Ads small one

বিদেশ ভ্রমণে বছরে ১৮ হাজার ডলার খরচের সুযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ
বিদেশ ভ্রমণে বছরে ১৮ হাজার ডলার খরচের সুযোগ

বিদেশ ভ্রমণে বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের বার্ষিক সীমা ১২ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৮ হাজার ডলার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এখন থেকে প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিকরা একটি পঞ্জিকাবর্ষে বিদেশ ভ্রমণের জন্য আগের তুলনায় ৬ হাজার ডলার বেশি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যমান ভ্রমণ-সুবিধা সংশোধন করে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো বাংলাদেশে বসবাসরত কোনও প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিককে একটি পঞ্জিকাবর্ষে বিদেশ ভ্রমণের জন্য সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করতে পারবে। এত দিন এ সীমা ছিল ১২ হাজার ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রকৃত ভ্রমণসংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা পূরণ এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিবর্তিত প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্ধিত ১৮ হাজার ডলারের সীমা পুরো পঞ্জিকাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক বছরে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

তবে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকছে। তাদের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের অনুমোদিত ভ্রমণসীমার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুবিধা থাকবে। সে হিসাবে নতুন সীমা অনুযায়ী ১২ বছরের কম বয়সী একজন শিশুর জন্য বার্ষিক ভ্রমণসুবিধা হবে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ডলার।

অপরদিকে, নগদ মার্কিন ডলার নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। নতুন ১৮ হাজার ডলারের বার্ষিক ভ্রমণ কোটার মধ্যেও একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার নগদ ডলার নোট সঙ্গে নিতে পারবেন। বাকি বৈদেশিক মুদ্রা কার্ড বা অনুমোদিত অন্যান্য ব্যবস্থায় ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তে বিদেশ ভ্রমণের সময় বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারে কিছুটা বাড়তি সুবিধা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে পর্যটন, চিকিৎসা, শিক্ষা, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং অন্যান্য অনুমোদিত ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাড়তি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ ভ্রমণকারীদের জন্য নমনীয়তা বাড়াবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগে একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য বছরে ভ্রমণ খাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ১২ হাজার ডলার। নতুন সিদ্ধান্তে তা ৬ হাজার ডলার বাড়িয়ে ১৮ হাজার ডলার করা হয়েছে। অর্থাৎ আগের সীমার তুলনায় ভ্রমণ কোটায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও ডলারের বাজারে চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সাধারণত বিদেশ ভ্রমণে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে নাগরিকদের প্রকৃত ভ্রমণ চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবার সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো নির্ধারিত নিয়ম ও কাগজপত্রের ভিত্তিতে ভ্রমণকারীদের এ সুবিধা দেবে। তবে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত অন্যান্য বিধিবিধান ও অনুমোদনের শর্তগুলো বহাল থাকবে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিশ্ব সম্প্রদায় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জোরালো সহযোগিতার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি যেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক রাডারে সর্বদা সক্রিয় থাকে এবং অন্য কোনও বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংঘাত বা সংকটের আড়ালে চাপা পড়ে না যায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ প্রচেষ্টা ও কার্যকর কূটনীতির মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে দ্রুত মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ) কর্তৃক আয়োজিত ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: ইমার্জিং চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রিফ্রেমিং রেসপনসিবিলিটিজ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রশাসনিক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব রাজনীতির নেতৃস্থানীয় দেশ এবং জাতিসংঘের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এ সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধান করা সম্ভব। তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাসহ (ইউএনএইচসিআর) সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য একটাই— আশ্রিত প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন (ইউএনএইচসিআর’র হিসাবে ১ দশমিক ২ মিলিয়ন) বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে (এফডিএমএন) যেন আমরা পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারি। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহায়তা ও নেতৃস্থানীয় দেশগুলোর রাজনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।

সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রায় ৯ বছর ধরে বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়নেরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয়, খাদ্য, জমি, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় জীবনধারণের মৌলিক নিরাপত্তা দিয়ে আসছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, মানবপাচার, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

ক্যাম্প সংলগ্ন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং স্থানীয় নাগরিক উভয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পের চারপাশে সীমান্ত বেড়া (ফেন্সিং) ও সুনিয়ন্ত্রিত যাতায়াত ব্যবস্থার মতো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার প্রতি স্মরণ করিয়ে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সফল নেতৃত্বে এবং ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী কূটনৈতিক উদ্যোগে বাংলাদেশ সফলভাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করেছিল। অতীতের সেই সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার আবারও শতভাগ সফল প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে ইতোমধ্যে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর্মুলেশন কমিটি অন রোহিঙ্গা অ্যাফেয়ার্স’ গঠিত হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক সমন্বয়ের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে অপর একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি সক্রিয় রয়েছে।

তিনি বলেন, বেসামরিক প্রশাসন, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে সরকার একটি সর্বাত্মক ‘হোল-অব-গভর্নমেন্ট’ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা ছাড়া অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রদত্ত মানবিক সহায়তা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সমাধানের তাগিদকে কমিয়ে দিতে পারে। তাই জরুরি ত্রাণ সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে আমাদের দ্রুত একটি ‘ট্রানজিশনাল স্ট্র্যাটেজি’ বা রূপান্তরকালীন কৌশলে যেতে হবে, যার মূল লক্ষ্য হবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ ও ফিরে যাওয়ার উপযোগী উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, টেকসই আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ, জাতীয় ঐক্য ও শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামোর সমন্বয়ে বাংলাদেশ দ্রুতই রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে সক্ষম হবে।

আইজিসিএফ’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আদনান রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে গোলটেবিল আলোচনাটি শুরু হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানান, গোলটেবিল আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি আইভো ফ্রেইসেন, বিআইআইএসএস’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শরণার্থী সেলের প্রধান ও যুগ্মসচিব মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘাত অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস, আইইউবি-র অধ্যাপক ড. কাজী মাহমুদুল রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নুরুল হুদা সাকিব এবং ইউল্যাবের সহকারী অধ্যাপক অবন্তী হারুন, অ্যাকশন-এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির এবং দৈনিক প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি রাহীদ এজাজ প্রমুখ।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৩ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ঠাকুরগাঁও শহরই জন্ম, বেড়ে ওঠা, বিএনপির তৃণমূল কর্মী থেকে কেন্দ্রীয় মহাসচিব, পৌরসভা চেয়ারম্যান থেকে দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সব ইতিহাস। এই শহরই তাকে শেকড় থেকে শিখরে তুলেছে। জীবন, রাজনীতি ও পৃথিবী সম্পর্কে অগাধ জ্ঞান অর্জনের সাক্ষী এই শহর। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর সেই ঠাকুরগাঁও শহরে প্রথম সফরে এলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মাদ আলী স্টেডিয়াম রাষ্ট্রপতি হেলিকপ্টারে হেলিপ্যাডে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও তিনি দুপুর ১টার দিকে পৌঁছান। এরপর ঠাকুরগাঁও জেলা সার্কিট হাউজে উপস্থিতি এবং গার্ড অব অনার গ্রহণ করে সেনুয়া কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন।

পথে রাষ্ট্রপতি সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষকে হাত তুলে সংবর্ধনার জবাব দেন।

বিকেলে ঐতিহাসিক বড় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রপতির বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনা। সেখানে জেলার সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপ্রধানের আগমনকে ঘিরে পুরো জেলাজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। তাকে বরণ করে নিতে শহরজুড়ে চলছে সাজসজ্জা ও নানা প্রস্তুতি। নাগরিক সংবর্ধনাসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি।

তাকে বরণ করে নিতে শহরের প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বিভিন্ন প্রবেশপথ সাজানো হয়েছে বর্ণিল ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণ ও আলোকসজ্জায়।

একসময় যে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের আপনজন ছিলেন, সেই ঘরের ছেলেকেই এখন রাষ্ট্রপ্রধানের আসনে দেখে গর্বিত জেলার মানুষ।

এদিকে, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে জোরদার করা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সড়ক ও অনুষ্ঠানস্থলে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। রাষ্ট্রপতির চলাচলের পুরো রুটে মোতায়েন থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সদস্য।

সোমবার রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।