শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

তালায় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা, দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:১১ অপরাহ্ণ
তালায় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা, দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়

নিজস্ব প্রতিনিধি: গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার শাহাপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। শুক্রবার বিকেলে শাহাপুর-ভায়ড়া বাজার বণিক সমিতি ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে শাহাপুর-ভায়ড়া-বারুইহাটি বিলে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

প্রতিযোগিতাকে ঘিরে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা হাজারো দর্শকের সমাগমে পুরো বিল এলাকা একটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়। তালা, সাতক্ষীরা, খুলনা ও যশোরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ঘোড়া ও অশ্বারোহীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

শাহাপুর-ভায়ড়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম, প্যানেল চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা, ইউপি সদস্য মফিজুল ইসলাম ও সাবেক ছাত্রনেতা মারুফুল ইসলাম মারুফ।

মো. সিদ্দিকুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আয়োজকেরা জানান, গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার লোকজ খেলাধুলোকে পরিচিত করে তুলতেই এই আয়োজন। বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন সমাজে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।

প্রতিযোগিতায় ২৬ পয়েন্ট পেয়ে প্রথম স্থান লাভ করে ইউপি সদস্য মফিজুল ইসলামের ঘোড়া ‘আব্দুল রাজ’। বিজয়ী ঘোড়ার মালিককে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়। ২০ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে বাঘারপাড়ার বাবর আলীর ঘোড়া ‘ডিজে’ (পুরস্কার ৭ হাজার টাকা)।

 

১৮ পয়েন্ট পেয়ে তৃতীয় হয়েছে আমির শেখ ও আবুল মোড়লের ঘোড়া ‘চাচা-ভাতিজা’ (পুরস্কার ৫ হাজার টাকা)। এ ছাড়া ১৫ পয়েন্ট পেয়ে চতুর্থ স্থান অর্জন করে খুলনার শিরোমণির ঘোড়া ‘পাখি’ এবং ১১ পয়েন্ট পেয়ে বিশেষ পুরস্কার পায় বাঘারপাড়ার আকিমুল ইসলামের ঘোড়া ‘বাহাদুর’। প্রতিযোগিতা শেষে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

 

Ads small one

এই শীতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এই শীতে

মকবুল মাহ্ফুজ
উলের সোয়েটার পরে আছে ওষুধের দোকান
নতুন বছরের ক্যালেন্ডারের গায়ে শীতের চাদর।

এই শীতে গাছেরা কুঁজো হয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো শীত এ বছর
আগুনে সেঁকতে হচ্ছে হাত। পা রোজ।
কার যেন কবিতায় পড়েছিলাম
‘কথা বললেই শীত কম লাগে।’
ইস্, এরা যদি কথা বলতে পারত!

মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে,
দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে,

সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে,
এপাড়া-ওপাড়া যাচ্ছে।
ফিসফিসিয়ে বলছেÑ
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্! সুখ যেন ওদের হাতে,
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে।
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?

 

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে

অস্তাচলে রেখে যাওয়া শেষ স্বাক্ষরÑ
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা

টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়Ñ
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,

অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েÑ
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,

হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।
তুমিও তবে হাত বাড়াওÑ
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।

এসো, আমরা বন্ধু হই

এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,

এই অনন্ত মমতার।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।
আমি যত দিইÑ
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙুলের স্পর্শÑ
সবই যেন মাটির নিচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।
যেমন ঝড়ের পর একা পাতার ওপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনি তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকেÑ

যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।
আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।
তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।
সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়Ñ
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।