বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

তালায় তুচ্ছ ঘটনায় আদালতে মামলা, তদন্তে পুলিশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
তালায় তুচ্ছ ঘটনায় আদালতে মামলা, তদন্তে পুলিশ

তালা প্রতিনিধি: তালায় পোষা কুকুরকে ইট মারাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এই মামলাটিকে ‘মিথ্যা ও সাজানো’ বলে দাবি করেছে বিবাদী পক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তালা পুরাতন থানার পাশে সিরাজুল ইসলামের ছেলে ফারুক হোসেন পাশের একটি দোকানে যাওয়ার সময় তাঁদের পোষা কুকুরটি তাঁর পিছু নেয়। এ সময় প্রতিবেশী সেলিম বিশ্বাসের ছেলে শরিফুল ইসলাম কুকুরটিকে লক্ষ্য করে একটি ইট ছুড়লে তা ফারুক হোসেনের গায়ে লাগে। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিত-া ও একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর সেলিম বিশ্বাস ও তাঁর ছেলে তালা থানায় মামলা করার চেষ্টা করেন। থানা মামলা না নেওয়ায় সেলিম বিশ্বাসের পুত্রবধূ আজমিরা বেগম বাদী হয়ে সাতক্ষীরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশনায় তালা থানায় মামলাটি (নম্বর ২৪/২৬) নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলায় ফারুক হোসেন ও এক কলেজছাত্রীসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
বিবাদী পক্ষের মাসুম বিশ্বাস দাবি করেন, ঘটনার দিন শরিফুল ও তাঁর বাবা সেলিম বিশ্বাসই তাঁর ভাই ফারুককে মারধর করেছিলেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। আদালতে দাখিল করা মেডিকেল রিপোর্ট ও ছবিগুলো পুরোনো একটি জমি-সংক্রান্ত বিরোধের সময়ের এবং বর্তমানে বাদী পক্ষের কেউ অসুস্থ নন বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সেলিম বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ads small one

শ্যামমগরের নওয়াঁবেকি ফেরিঘাট থেকে ট্রাক ও চালকসহ ৭০ বস্তা ঝিনুক আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৩ অপরাহ্ণ
শ্যামমগরের নওয়াঁবেকি ফেরিঘাট থেকে ট্রাক ও চালকসহ ৭০ বস্তা ঝিনুক আটক

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): বন বিভাগের অভিযানে শ্যামনগর উপজেলার নওয়াঁবেকি ফেরিঘাট এলাকা থেকে ৭০ বস্তা অবৈধ ঝিনুকবোঝাই একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ট্রাকের চালককে আটক করা হয়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বন বিভাগের সদস্যরা নওয়াঁবেকি ফেরিঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ৭০ বস্তা অবৈধ ঝিনুক উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঝিনুক পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকটি জব্দ এবং চালককে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তি হলেন খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার মৌজে শেখের ছেলে রিপন শেখ (৩০)।

বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ইরফান উদ্দিন জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে পরিবহন করা ৭০ বস্তা ঝিনুক উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালককে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত ঝিনুক ও জব্দকৃত ট্রাক বন বিভাগের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বন আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের করে আসামি কে সাতক্ষীরা আদালতে পাঠানো হয়েছে। অবৈধভাবে বনজ ও জলজ সম্পদ আহরণ, পরিবহন ও পাচারের বিরুদ্ধে বন বিভাগের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

স্থানীয়রা বন বিভাগের এ অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় অবৈধ ঝিনুক আহরণ ও পাচারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

শ্যামনগরে কিশোরীদের জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে কিশোরীদের জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার শ্যামনগর সার্ভিস এন্ড ভিশনফর এডিফাই (সেভ) এর উদ্যোগে এবং বান্ধব ডেনমার্ক ও সিআইএসইউ এর সহযোগিতায় ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশিল কিশোরদের ক্ষমতায়ন প্রকল্পের আওতায় শ্যামনগরে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২১ জুলাই সকাল ১০টায় শ্যামনগর উপজেলা হলরুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠানে সেভ এর নির্বাহী পরিচাল আয়শা সিদ্দিকার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন।

 

আয়শা সিদ্দিকা স্বাগত বক্তব্যে কর্মশালার লক্ষ্য উদ্দেশ্য এবং প্রকল্পের মূল লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা রিপটার্স ইউনিটের সভাপতি গাজী আল ইমরান, গোবিন্দপুর কলেজের প্রিন্সিপল গাজী শফিকুর রহমান, ভুরুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম, কাঠালবাড়িয়া এজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলাম, বুড়িগোয়ালিনি ইউপি চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম, যুবউন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

 

এসময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা ও সেভ এর সদস্যসদস্যাগণ উপস্থিত ছিলেন। সার্বিক ব্যাস্থাপনায় ছিলেন প্রোজেক্ট ম্যানেজার ফারুক আহম্মেদ।

‘বহিপীর’ থেকে সাতক্ষীরা-৪: ধর্ম, ক্ষমতা ও নারী শোষণের এক অপরিবর্তিত সমীকরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
‘বহিপীর’ থেকে সাতক্ষীরা-৪: ধর্ম, ক্ষমতা ও নারী শোষণের এক অপরিবর্তিত সমীকরণ

‎তারিক ইসলাম

‎বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী নাট্যকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘বহিপীর’ নাটকের কথা নিশ্চয়ই আমাদের মনে আছে। সেখানে বয়োবৃদ্ধ ও প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা বহিপীর তার ক্ষমতার দাপট ও ধর্মের দোহাই দিয়ে এক অল্পবয়সী তরুণী তাহেরাকে জোরপূর্বক বিয়ে করতে চেয়েছিল। সমাজের অন্ধবিশ্বাস, ধর্মীয় অন্ধতা এবং পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার দাপট ছিল সেই নাটকের মূল উপজীব্য। বহিপীর ভেবেছিল ধর্মের আবরণ আর সামাজিক প্রভাব দিয়ে একজন নারীর অনিচ্ছাকে গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়।
‎‎ওয়ালীউল্লাহর সেই রূপক কাহিনী যে আজ একুশ শতকে এসে আমাদের বাস্তবতার আয়নায় এভাবে ফুটে উঠবে, তা হয়তো সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে ছিল। সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্যের বিতর্কিত নারীঘটিত ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জনমনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, নীতি নৈতিকতাহীনতা এবং নারীর প্রতি অসম্মানজনক আচরণের এই ঘটনা যেন ‘বহিপীর’-এর আধুনিক রূপায়ণ।

‎বহিপীর আর বর্তমানের ক্ষমতার রাজনীতি-দুয়ের মধ্যে দৃশ্যত সময়ের তফাত অনেক হলেও মূল জায়গায় কোনো তফাত নেই। বহিপীর ব্যবহার করেছিল ধর্মীয় প্রভাব ও অন্ধবিশ্বাসকে, আর আধুনিক যুগের প্রতিনিধিরা ব্যবহার করেন রাজনৈতিক ক্ষমতা ও সামাজিক আধিপত্যকে। দুই ক্ষেত্রেই অস্ত্র ভিন্ন, কিন্তু শিকার একই-নারী, এবং পরিণতি একই-নৈতিকতার চরম অবক্ষয়।
‎একজন সংসদ সদস্য একটি সংসদীয় আসনের কোটি মানুষের অভিভাবকতুল্য। জনগণ তাকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠায় আইন প্রণয়ন, এলাকার উন্নয়ন এবং নৈতিক নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য। কিন্তু ক্ষমতার দাপটে যখন সেই পদের মর্যাদা ধূলোয় লুটিয়ে পড়ে এবং নারীঘটিত কেলেঙ্কারি লোকচক্ষুর সামনে আসে, তখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে-আমরা কি তবে এখনও সেই ‘বহিপীর’-এর যুগেই বাস করছি?

‎সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর নাটকে তাহেরা নামের সেই তরুণী অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেনি; সে পালিয়ে এসে নিজের অধিকারের জন্য প্রতিবাদ জানিয়েছিল। আজকের সমাজেও নারীরা আর নীরব দর্শক নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কতদিন আর ক্ষমতার অপব্যবহারের কাছে নারী ও সমাজের নীতি-নৈতিকতা জিম্মি থাকবে?

‎বহিপীরের মতো মানসিকতা যখন কোনো জনপ্রতিনিধির পোশাকে আত্মপ্রকাশ করে, তখন তা কেবল একজন ব্যক্তির ব্যর্থতা থাকে না, তা পুরো রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার জন্য এক লজ্জাজনক সংকেত বহন করে। সময় এসেছে এই ‘আধুনিক বহিপীরদের’ বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার, যেন ক্ষমতার গরম আর অনৈতিকতা কোনো পদের আড়ালে ঢাকা না পড়তে পারে।

লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।