সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

তালায় মৎস্য ঘেরে ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
তালায় মৎস্য ঘেরে ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালায় মৎস্য ঘেরের বাসা ভাঙচুর, লুটপাট, হত্যার হুমকি ও চরম নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে তালা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে তালা প্রেস ক্লাবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার জেয়ালা নলতা গ্রামের তালা সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নজরুল ইসলাম মোড়ল।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার জেয়ালা নলতা গ্রামের কোলাজবিলে অবস্থিত তার মৎস্য ঘেরে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এ সময় ঘেরের বাসা ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। তার ছেলে শামিম মোড়লকে জবাই করে হত্যার চেষ্টা করা হলে সে ধস্তাধস্তি করে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পায়। দুর্বৃত্তরা ঘরের বাক্স ভেঙে মাছ বিক্রির ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন।

নজরুল ইসলাম মোড়ল আরও বলেন, তিনি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে নিজস্ব ও লিজ নেওয়া জমিতে মাছ চাষ করে আসছেন। তার অভিযোগ, ডুমুরিয়া উপজেলার আরশনগর গ্রামের মকবুল সরদারের ছেলে মোফাজ্জেল সরদার অবৈধভাবে সরকারি জায়গায় বসবাস করে এবং নিয়মিত তার ঘেরসহ আশপাশের ঘের থেকে মাছ চুরি করে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন রাতে তিনি বাড়িতে থাকলেও তার ছেলে শামিম ঘেরে অবস্থান করছিল। ভোর রাতে মোফাজ্জেল সরদার, তার ছেলে দেলোয়ার, মিজানুরসহ ৫-৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘেরের বাসায় গিয়ে দরজা খুলতে বলে। দরজা খোলার পর নজরুলকে না পেয়ে তারা শামিমকে হত্যার চেষ্টা চালায়। পরে শামিমের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পার্শ্ববর্তী ঘের মালিক আব্দুর রহমান ও আসমত খাঁ জানান, শামিমের চিৎকারে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, মোফাজ্জেল সরদার ও তার সহযোগীরা দা ও ছুরি হাতে এলাকা ত্যাগ করছে এবং নজরুল ইসলামকে যেখানে পাবে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে।

এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম মোড়ল ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

 

Ads small one

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: মামলা নয়, সমঝোতায় সমাধান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: মামলা নয়, সমঝোতায় সমাধান

বিচারপ্রার্থী মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, সময় ও অর্থ অপচয় এবং বিচার বিভাগের ওপর ক্রমবর্ধমান মামলাজটের বোঝা লাঘবে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থা যে কতটা কার্যকর হতে পারে, তার বাস্তব ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড অফিস। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মধ্যস্থতার মাধ্যমে ১,৪৬৫টি বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি ১ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ভুক্তভোগীদের আদায় করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। লিগ্যাল এইডের এই কার্যকর পদক্ষেপের ফলে দেওয়ানি, ফৌজদারি ও পারিবারিকÑতিন খাতেই আদালতে নতুন মামলা দায়েরের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা নিঃসন্দেহে দেশের সামগ্রিক বিচারব্যবস্থার জন্য এক আশাব্যঞ্জক বার্তা বহন করে।

আমাদের দেশের সনাতন বিচারপ্রক্রিয়া প্রায়শই দীর্ঘসূত্রী ও ব্যয়বহুল। ফলে ছোটখাটো বিরোধ বা পারিবারিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে আদালত পর্যন্ত পৌঁছানো মামলাগুলো বিচারপ্রার্থীদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ ডেকে আনে। এই প্রেক্ষাপটে ‘মামলা নয়, সমঝোতার মাধ্যমে ন্যায়বিচার’Ñএই দর্শনকে মূল চালিকাশক্তি করে জেলা লিগ্যাল এইড যে ভূমিকা রাখছে, তা কেবল আইনি সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি সামাজিক স্থায়িত্ব ও শান্তি বজায় রাখতেও অমূল্য অবদান রাখছে। বিশেষ করে, জমিজমা বা পারিবারিক ঝগড়াঝাঁটির মতো বিষয়ে সরাসরি মামলা না ঢুকে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-সহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইনের আলোকে আইনি পরামর্শ প্রদান এবং বিকল্প সমাধানের পথ বাতলে দেওয়া বিচারপ্রার্থীদের অযাচিত হয়রানি থেকে রক্ষা করছে।

তবে মুদ্রার অপর পিঠও উপেক্ষার সুযোগ নেই। সীমিত সম্পদ ও কাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই এ সাফল্য অর্জিত হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে এখনো বেঞ্চ সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ ১১টি শূন্য পদ রয়েছে। স্পেশাল মিডিয়েটর বা বিশেষ মধ্যস্থতাকারীর অভাব যেমন রয়েছে, তেমনি নিজস্ব ভবনের অনুপস্থিতি ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের সংকট তাদের সার্বিক কর্মক্ষমতাকে পূর্ণতায় পৌঁছাতে বাঁধা দিচ্ছে। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনে সাময়িক স্থান বরাদ্দ কিংবা নিজস্ব ভবনের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির এই সাফল্যকে একটি সাময়িক অর্জনে সীমাবদ্ধ না রেখে টেকসই কাঠামোর ওপর দাঁড় করানো প্রয়োজন। এর জন্য লিগ্যাল এইড অফিসের বিদ্যমান জনবল ও অবকাঠামোগত ঘাটতিগুলো জরুরি ভিত্তিতে দূর করতে হবে। একই সঙ্গে স্পেশাল মিডিয়েটর নিয়োগ এবং প্রযুক্তি সুবিধা জোরদার করা গেলে জেলা পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। সাতক্ষীরার এই সফল মডেলটি যদি দেশজুড়ে যথাযথভাবে বিস্তৃত করা যায়, তবে তা কেবল আদালতগুলোর মামলাজটই কমাবে না, বরং সাধারণ মানুষের মাঝেও সমঝোতা ও দ্রুত আইনি সুফল পাওয়ার বিশ্বাস তৈরি করবে।

ভ্যানে ফেলে যাওয়া পৌনে ৩ লাখ টাকা ফেরত দিলেন চালক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
ভ্যানে ফেলে যাওয়া পৌনে ৩ লাখ টাকা ফেরত দিলেন চালক

oplus_2

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় ভ্যানযাত্রীর ফেলে যাওয়া ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি মুঠোফোন ফেরত দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক ভ্যানচালক। রোববার রাতে ভ্যানচালক ওই টাকা ও মুঠোফোন সাতক্ষীরা সদর থানায় নিয়ে যান। পরে পুলিশ প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করে তা বুঝিয়ে দেয়।

এই ভ্যানচালকের নাম মো. মিনারুল ইসলাম (৫২)। তিনি আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা গ্রামের মো. আব্দুল লতিফের ছেলে। বর্তমানে তিনি সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের জেয়ালা গ্রামে বসবাস করছেন।

জানা গেছে, ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা শহরের বকুলতলা মোড় থেকে মিনারুল ইসলামের ভ্যানে ওঠেন শহরের পলাশপোল এলাকার বাসিন্দা শামসুজ্জামান খান। বেশ কয়েকটি স্থানে ঘোরার পর পলাশপোলে নিজ বাড়ির সামনে নেমে ভাড়া মিটিয়ে চলে যান তিনি। তবে অসাবধানতাবশত ভ্যানের সিটের পেছনের হুকে ঝোলানো একটি ব্যাগ ফেলে রেখে যান। দ্রুত বাড়ি ফিরে মিনারুল ইসলাম ব্যাগে টাকা ও মুঠোফোন দেখতে পান।

পরদিন সকালে মিনারুল ইসলাম শহরে এসে ওই যাত্রীর নামার স্থানে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও তাঁকে পাননি। পরে শনিবার সকালে তিনি ব্যাগটি ধূলিহর বাজারে এক ব্যবসায়ীর কাছে জমা দেন। সেখানে হিসাব করে দেখা যায় ব্যাগে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে এক স্থানীয় সাংবাদিকের সহযোগিতায় রোববার রাতে ভ্যানচালক মিনারুল ইসলাম সদর থানায় যান। সেখানে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ ও মুঠোফোন প্রকৃত মালিক শামসুজ্জামান খানের হাতে তুলে দেন। ভ্যানচালকের এই দৃষ্টান্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসিত হচ্ছে।

আশাশুনিতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক মতবিনিময়

সংবাদদাতা: উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে সাতক্ষীরার আশাশুনিতে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘মৃত্তিকা সমাজ উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান’-এর আয়োজনে প্রতাপনগর ইউনিয়নের হিজলা কোলাগ্রামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রোববার বিকেলে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় উপকূলীয় এলাকার ২০ জন তরুণ-তরুণী অংশ নেন। সভায় বক্তব্য দেন মৃত্তিকা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুস সালাম আব্দুল আহাদ (সবুজ), কর্মী স্বপ্না, পিপাসা, আছমা, রহিমা, শারমিন প্রমুখ।