নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব রোধে সাতক্ষীরায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড় বাজারে বজ্য অপসারণ, পিলখানা অপসারণ, প্রাণসায়ের খালের পানি প্রবাহ রক্ষা করা, মাছ বাজারের ব্রিজ, শহরের পাকাপোল ব্রিজ, রাধানগর সড়ক, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সড়ক ও থানা মসজিদ সড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার।
এসময় জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব রোধে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। তিনি বলেন, প্রাণসায়ের খাল পাড়ে ময়লার ভাগাড় হতে দেওয়া হবেনা। খালের পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে খালে কোন ময়লা আবর্জনা ও অবৈধ স্থাপনা হতে দেওয়া হবেনা। আজ সরেজমিনে এসে বলে গেলাম। এরপর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোন ব্রিজের উপর দোকান পাট ও চলাচলের রাস্তার দু’ধারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দোকান পাট ও অবৈধ স্থাপনা দেখতে চাইনা। আগামী শনিবার আবার আসবো পরিদর্শনে। সাতক্ষীরাকে সকলের জন্য বাসযোগ্য করে তুলতে জেলাবাসীকে সাথে নিয়ে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী, জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুল ইসলাম ফারুক, বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব ডাঃ আবুল কালাম বাবলা প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও পৌরসভার প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী মো. আসাদুজ্জামান, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এম এম নূর আহম্মেদ, সহকারি প্রকৌশলী ভারপ্রাপ্ত সাগর দেবনাথ, উপসহকারি প্রকৌশলী মোহাব্বাত হোসাইন, কামরুজ্জামান শিমুল, সাবেক অধ্যক্ষ মো. লিয়াকত পারভেজ, সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভাপতি দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জি এম নুর ইসলাম, সহ-সভাপতি তৈয়েব হাসান বাবু, অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ পাড়, আব্দুর রব ওয়ার্ছি, ফারহা দিবা খান সাথী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান রাসেল, মহিলা সম্পাদিকা সোনীয়া সুলতানা, যুগ্ম মহিলা সম্পাদকা রেবেকা সুলতানা, কৃষি ও মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আশরাফুল করিম (ধনি), সাংগঠনিক সম্পাদক আবু জাফর মোহাম্মদ ছালেহ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোঃ মুছা করিম, পর্যটন বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ হাফিজুল আল মাহমুদ (রিটু), আইটি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আসিফুল আলম, নির্বাহী সদস্য সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিউদ্দিন, সি.এম নাজমুল ইসলাম, সুলতানপুর মাছ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আ.স.ম আব্দুর রব, সহ-সভাপতি মো. আমিনুর রহমান, শহর কাঁচা ও পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. রওশন আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. রজব আলী খাঁ, সাতক্ষীরা শহর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল কাদের, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালিউল ইসলাম প্রমুখ।
সুলতানপুর বড় বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসককে জানান, সাতক্ষীরা প্রাণসায়ের খালের ধারে পৌরসভার কসাইখানা (পিলখানা) হলে আবারও ময়লা ও বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হবে এবং খালের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হবে। আদালতে এই পিলখানার জায়গা নিয়ে মামলা চলমান আছে। আদালত স্থিতিবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ প্রাণসায়ের খালের ধারে কসাইখানা স্থাপন করার লক্ষ্যে টেন্ডার দিয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক বলে জানান ব্যবসায়ীরা। খালের পাড়ে পিলখানা না করার অনুরোধ জানান তারা।