সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

তিন মাসের জন্য বন্ধ সুন্দরবনের দুয়ার: বাঁচবে বন, নাকি বাড়বে গোপন প্রবেশ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৯:২৯ অপরাহ্ণ
তিন মাসের জন্য বন্ধ সুন্দরবনের দুয়ার: বাঁচবে বন, নাকি বাড়বে গোপন প্রবেশ?

ইব্রাহিম খলিল: ভোরের আলো ফোটার আগেই নদীর ঘাটে নৌকা বেঁধে বসে আছেন জেলেরা। আকাশে মেঘের আনাগোনা, চারপাশে নোনা জলের চেনা গন্ধ—সবই প্রস্তুত। শুধু নেই বনে যাওয়ার অনুমতি। ১ জুন থেকে তিন মাসের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে সুন্দরবনের দুয়ার।

কাগজে-কলমে এই সময়টাতে জেলে, মৌয়াল, বাওয়ালি কিংবা পর্যটকÑকারো জন্যই বনে প্রবেশের অনুমতি থাকে না। বন বিভাগের ভাষায়, এটি প্রকৃতি ও বন্য প্রাণীর ‘বিশ্রামের সময়’। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছেÑবাস্তবে কি সত্যিই এই তিন মাস বিশ্রাম পায় সুন্দরবন? নাকি জীবিকার তাড়নায় আড়ালে বাড়ে বনের অদৃশ্য ক্ষয়?

সুন্দরবন উপকূলের এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও বনের ভেতরের অনাকাক্সিক্ষত কার্যক্রম পুরোপুরি থেমে থাকে না। নিষেধাজ্ঞার কারণে বিপুলসংখ্যক বনজীবী হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কোনো সরকারি সহায়তা বা বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় জীবিকার তাগিদে অনেকে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে গোপনে বনে প্রবেশ করছেন। একই সঙ্গে এই সুযোগে বনের ভেতরে বিষ দিয়ে মাছ ধরা, শুঁটকি তৈরি কিংবা হরিণ শিকারের মতো অসাধু চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের আয়তন প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৩১ হেক্টর। এই বিশাল বনাঞ্চল তদারকির জন্য ৪টি স্টেশন ও ১২টি ক্যাম্প রয়েছে। গত অর্থবছরে প্রায় ৪৬ হাজার জেলে, বাওয়ালি ও বনজীবী অনুমতি (পাস) নিয়ে বনে প্রবেশ করেছিলেন। তিন মাসের এই নিষেধাজ্ঞায় এই বিপুল জনগোষ্ঠী এখন চরম সংকটে।

গাবুরা ইউনিয়নের জেলে রবিউল ইসলাম তাঁর ক্ষোভ ও সংকটের কথা জানিয়ে বলেন, তিন মাস আয় বন্ধ থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো সরকারি সহায়তা না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে পেটের দায়ে বনে ঢোকে। তিনি আরও জানান, ৯ মাস বনে মাছ ধরার সময় জলদস্যুদের নিয়মিত মাসোহারা দিতে হয়। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বছর পার করতে হয়। এর ওপর এই তিন মাস কোনো আয়ের পথ থাকে না, মেলে না কোনো সরকারি সাহায্যও।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে সুন্দরবনের নদী-খালে মাছ ও চিংড়ির প্রাচুর্য থাকে। একদিকে মাছের লোভ, অন্যদিকে পেটের টান—এই দুই মিলে অনেকেই গোপনে বনে ঢোকার ঝুঁকি নেন। অভিজ্ঞ এক জেলে জানান, এই সময়ে মাছ বেশি পাওয়া যায় বলেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনেকে ভেতরে চলে যান। বনের ভেতরে গাছ কেটে মাছ শুকানোর অস্থায়ী আস্তানা বা ‘রঙঘর’ তৈরি করে আগুন জ্বালিয়ে শুঁটকি বানানোর অভিযোগও দীর্ঘদিনের।
মুন্সিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা হাফিজুল বলেন, বনের গভীরে অনেক কিছুই ঘটে যা বাইরে থেকে বোঝার উপায় থাকে না। নজরদারির ফাঁক গলে অনেকেই অবৈধ কাজ চালিয়ে যান।

অবৈধ প্রবেশ ও বনের সুরক্ষার বিষয়ে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের ফরেস্টার এরফান উদ্দীন বলেন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বন্য প্রাণীর নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতেই প্রতি বছরের মতো এবারও তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন আবার সবার জন্য উন্মুক্ত হবে। ইতোমধ্যে উপকূলীয় এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে এবং সব ধরনের পাস পারমিট বন্ধ রাখা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ যৌথভাবে নজরদারি চালাবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের নিয়মিত ‘স্মার্ট টহল’ ও বিশেষ টহল দল মাঠে থাকবে। বন্য প্রাণীর স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিতে আমরা নিজেরাও বনের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় চলাচল করব না।” গোপনে প্রবেশের চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান, এ ধরনের অবৈধ কাজে বন বিভাগের কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বনের টেকসই সুরক্ষা ও বনজীবীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সামাজিক সংগঠনগুলোর দাবি, কেবল নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বন রক্ষা করা সম্ভব নয়। ইয়ুথনেট গ্লোবাল-এর সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়ক আশিকুর রহমান বলেন, “তিন মাস সুন্দরবন বিশ্রামে যায় বলা হলেও বাস্তবে এই সময়েই হরিণ শিকার বা বিষ দিয়ে মাছ ধরার মতো অপরাধের অভিযোগ বেশি ওঠে।”

তিনি আরও বলেন, ৪৬ হাজার কর্মহীন বনজীবীর জন্য পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা বা বিকল্প কর্মসংস্থান নেই। তাছাড়া জেলেরা ৯ মাস জলদস্যুদের যে চাঁদা দেয়, সেই টাকা যদি তাদের সাশ্রয় হতো, তবে এই তিন মাস তারা ঘরে বসে কাটাতে পারতেন।

বন সংরক্ষণ নাকি মানুষের জীবন-জীবিকাÑএই দুই সংকটের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে তিন মাসের এই নিষেধাজ্ঞা। স্থানীয়দের মতে, বনজীবীদের জন্য উপযুক্ত খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে বনের ‘বিশ্রাম’ কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে, বাস্তবে বাড়বে গোপন অনুপ্রবেশ।

 

Ads small one

লাঙ্গলদাড়িয়ায় মৎস্য ঘের জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
লাঙ্গলদাড়িয়ায় মৎস্য ঘের জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনির শ্রীউলা ইউনিয়নের লাঙ্গলদাড়িয়া মৌজায় ডিডকৃত (চুক্তিভিত্তিক লিজ) ও পৈতৃক সম্পত্তির একটি মৎস্য ঘের জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ঘের ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী জানান, তিনি লাঙ্গলদাড়িয়া মৌজায় পৈতৃক ও ডিডকৃত ২১০ বিঘা জমিতে ২০২১ সাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে মৎস্য চাষ করে আসছেন। ২০২৬ সালে হিসাব অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু অংশ বাদ দিয়ে ১৭৬.৫৭ বিঘা জমি তার পাওনা হয়, যার মধ্যে ১৫৯ বিঘা জমি তিনি বুঝে পেয়ে গত ৬ মাস ধরে ভোগদখল করছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই হিসাব চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু গত ১৪ জুন অধ্যাপক সিরাজুল কবির ঘেরের জমি নিজের দাবি করে আকস্মিক দখলের চেষ্টা চালান এবং ১৫ জুন শ্রমিক নিয়ে ঘেরে নামেন।
এই বিষয়ে শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, অধ্যাপক সিরাজুল কবিরের জমি আগেই তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইউসুফের ঘেরে তার নতুন কোনো জমি নেই। দখলের চেষ্টা করা হয়ে থাকলে তা অন্যায় হয়েছে।
তবে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অধ্যাপক সিরাজুল কবির জবরদখলের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, এর আগে কোনো সালিস-মিমাংসা হয়নি বা কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি ইউসুফের ঘের দখল করতে যাননি।

কপিলমুনিতে চাচার মামলা ও হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় এতিম ভাই-বোন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
কপিলমুনিতে চাচার মামলা ও হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় এতিম ভাই-বোন

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে মায়ের হত্যাকারী ও আপন চাচার করা ‘মিথ্যা’ মামলা ও জীবননাশের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দুই এতিম ভাই-বোন। সোমবার সকালে কাশিমনগর বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ইটভাটার শিশু শ্রমিক মো. রিফাত গাজী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রিফাত গাজী বলেন, ২০২১ সালে তাদের বাবা এনামুল গাজী মারা যান। এরপর ২০১৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তার মা রাশিদা বেগমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় রিফাত বাদী হয়ে চাচা মহিদুল গাজীকে আসামি করে পাইকগাছা থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ সেদিনই মহিদুলকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু গত ২১ এপ্রিল জামিনে মুক্তি পেয়েই মহিদুল মামলা তুলে নেওয়ার জন্য রিফাত ও তার ছোট বোন তাসমিরা খাতুনসহ (১৪) সাক্ষীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। এ বিষয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১১ জুন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন রিফাত।
রিফাত আরও অভিযোগ করেন, মায়ের হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে চাচা মহিদুল গাজী উল্টো তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। সম্প্রতি তিনি পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিফাতসহ ৭ স্বজনের নাম উল্লেখ করে একটি ‘মিথ্যা’ মামলা (সিআর-৪০৪/২৬) দায়ের করেছেন। মামলায় দাবি করা হয়েছে—তার মা আত্মহত্যা করেছেন এবং রিফাত ও অন্যরা মিলে চাচার ঘরের আসবাবপত্র, স্বর্ণালঙ্কার, পুকুরের মাছ ও কলাসহ প্রায় ৩২ লাখ টাকার মালামাল চুরি ও ক্ষতিসাধন করেছে। রিফাত এই দাবিকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৩১ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে পুলিশ জানায়, রাশিদা বেগম আত্মহত্যা করেছেন। ফলে মামলাটি হত্যা (৩০২ ধারা) থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার (৩০৬ ধারা) অপরাধে রূপ নেয়।
রিফাত গাজীর দাবি, তার বাবার মৃত্যুর পর থেকে চাচা মহিদুল তার মাকে নানাভাবে যৌন হয়রানি ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিস হলেও মহিদুল উপস্থিত হননি। ঘটনার রাতে তার মাকে বাইরে ডেকে নেওয়া হয়েছিল এবং ঘরের বাইরে থেকে শিকল আটকে দেওয়া হয়েছিল। পরদিন সকালে লিচু গাছ থেকে মায়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও সুরতহাল রিপোর্টে শরীরের নানা অসঙ্গতি ছিল। তাই মায়ের মৃত্যুর সঠিক রহস্য উদঘাটনে পুনরায় ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই এতিম তরুণ।

 

 

সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

oppo_0

একটি আধুনিক ও প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় নাগরিকরা নিয়মিত কর পরিশোধ করবেন, আর বিনিময়ে পাবেন ন্যূনতম নাগরিক সুবিধাÑএটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু সাতক্ষীরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মধ্যকাটিয়া এলাকার চিত্র দেখলে মনে হয়, সেখানকার বাসিন্দারা যেন কোনো পরিত্যক্ত জনপদে বসবাস করছেন। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মধ্যকাটিয়ার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে কার্যত একটি উন্মুক্ত নর্দমায় পরিণত হয়েছে। কাদা, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং ড্রেনের উপচে পড়া কালো, দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। একই চিত্র সাতক্ষীরা তুফান কোম্পানীর মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়টির। এ সড়কটির কোথাও আস্ত নেই।
একটি সভ্য সমাজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম সড়ক যদি এমন নরককু-ে পরিণত হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ও বিষাক্ত পানি উপচে রাস্তায় জমে থাকছে। রাস্তার বড় বড় গর্তগুলো এই নোংরা পানির নিচে লুকিয়ে থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ ও নারীদের প্রতিদিন যে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়; এই জমে থাকা নোংরা পানি ও আবর্জনার কারণে এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। এলাকার মানুষ ঘরের দরজা-জানালা পর্যন্ত খুলতে পারছেন না দুর্গন্ধের কারণে। অথচ নাগরিকরা নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করে যাচ্ছেন। ট্যাক্স দিয়েও কেন মানুষকে এমন আদিম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে বাস করতে হবেÑএই প্রশ্ন এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই সমস্যার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুম দরজায় কড়া নাড়ছে, এই অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি যে আরও কতটা ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে, তা সহজেই অনুমেয়।
পৌরসভার পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই “বিষয়টি অবগত আছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে” ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, শুধু মুখের আশ্বাস বা আশ্বাসের চাদরে দুর্ভোগ ঢেকে রাখার সময় আর নেই। মধ্যকাটিয়াবাসীর এই দুর্ভোগ লাঘবে এখন প্রয়োজন তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাধান।
আমরা সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই—অবিলম্বে মধ্যকাটিয়া এলাকার ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। নাগরিকদের সুস্থ ও নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা পৌরসভার আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। আশা করি, কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত মাঠে নামবেন এবং মধ্যকাটিয়াবাসীকে এই দুঃসহ নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন।