সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

তিন মাস সুন্দরবন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে কয়রার বনজীবীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
তিন মাস সুন্দরবন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে কয়রার বনজীবীরা

জি এম রিয়াজুল আকবর, কয়রা (খুলনা): ৪০ বছর ধরে সুন্দরবনে কাকড়া ধরে তাই বিক্রি করে জীবন যাপন করিতেছি। আমার নিজস্ব কোন জায়গা জমি নেই, এই কাকড়া বিক্রি করে যা আয় হয় তাতে সংসার চলে। সুন্দরবন যখন বন্ধ থাকে তখন কোন কাজ কাম থাকেনা। এই তিন মাস সম্পূর্ণ বাড়ি বসে থাকতে হয়। আয় রোজগারের কোন সুযোগ নেই। বয়স হয়ে গেছে কেউ কাজে নিতে চায় না। সরকার থেকে যে চাউল দেয় তাতে চলে না। বাজার ঘাট করতে হয়, অসুখ-বিসুখ আছে ঔষধ পানি কিনতে হয়।

 

সুন্দরবন বন্ধের সময় যদি আমাকে সরকারের পাশাপাশি কোন এনজিও সংস্থা বা কেউ সাহায্য করতো তাহলে বাঁচতে পারতাম। বন্ধের সময়টা খুব কষ্টে দিন কাটে এভাবে কথাগুলো বলেছিলেন তেঁতুলতলা গ্রামের মৃত মইজুদ্দিন শেখের ছেলে সুন্দরবনের বনজীবী আব্দুল বারিক শেখ। চৌকুনি গ্রামের বনজীবী মোঃ জামাল হোসেন শেখ বলেন, আমি লেখাপড়া করতাম, অভাবের কারণে আমার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকে আমার আব্বার সাথে সুন্দরবনে কাকড়া ধরার পেশা বেছে নেই। তিনি আরও বলেন, আমার আয়ের উপর আমাদের পরিবার চলে। ৩ মাস সুন্দরবন বন্ধের সময় আমাদের কোন কাজ থাকেনা, খুব কষ্টে জীবন যাপন করতে হয়।

সুন্দরবনের বনজীবী মোঃ আব্দুস সাত্তারসহ একাধিক বনজীবী জানান, সুন্দরবন বন্ধের সময় অতি কষ্টে তাদের জীবন যাপন করতে হয়। তারা কর্মহীন হয়ে পড়ে। সরকারের পাশাপাশি তারা বিভিন্ন বিভিন্ন এনজিও সংস্থাকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানান।

বন বিভাগ জানিয়েছে, জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, মধু সংগ্রহ এবং পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে নদী-খালে মাছ ডিম ছাড়ে, বন্যপ্রাণীদের প্রজনন ঘটে এবং বিভিন্ন গাছের বীজ থেকে নতুন চারা গজায়। তাই প্রাকৃতিক পরিবেশ নির্বিঘ রাখতে প্রতিবছরের মতো এবারও তিন মাসের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের পাস-পারমিট ইস্যু করা হবে না। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বনে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কাশিয়াবাদ ফরেস্ট ষ্টেশন কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দীন বলেন, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনের বেশিরভাগ বন্য প্রাণী ও জলজ প্রার্ণীর প্রজনন মৌসুম। পাশাপাশি এই সময়ে বনে প্রচুর চারা গজায়। তাই এই তিন মাস সুন্দরবন বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে সুন্দরবনের সজীবতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় সুন্দরবন সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

এদিকে, দীর্ঘ তিন মাসের জন্য সুন্দরবন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন উপকূলীয় এলাকার হাজারো বনজীবী। বনের সম্পদের ওপর নির্ভরশীল এসব মানুষের জীবন-জীবিকা থমকে যাওয়ায় তারা এখন দিশেহারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংসার চালাতে সরকারি সহায়তা পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী বনজীবীরা।

 

Ads small one

কলারোয়ায় গ্রাম আদালতের সচেতনতা ক্যাম্পেইন ও শোভাযাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় গ্রাম আদালতের সচেতনতা ক্যাম্পেইন ও শোভাযাত্রা

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়ায় গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়াতে বার্ষিক ক্যাম্পেইন, কুইজ প্রতিযোগিতা ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলার লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই ক্যাম্পেইনে সভাপতিত্ব করেন ইউপি প্রশাসক মোতাহার হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু সাইম, ইউপি সদস্য শাফিজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, নাজমুন নাহার ও ডলি আক্তারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা ও আইনি সেবা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের কলারোয়া উপজেলা সমন্বয়কারী মোস্তাক আহমেদ। আলোচনা শেষে একটি কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয়ী ২০ জনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
এর আগে সকালে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি ইউনিয়নের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। উল্লেখ্য, সর্বসাধারণের দোরগোড়ায় গ্রাম আদালতের তথ্য পৌঁছে দিতে ইতিমধ্যে উপজেলার হেলাতলা, লাঙ্গলঝাড়া, কয়লা ও জালালাবাদ ইউনিয়নে ভিডিও প্রদর্শনী ও বিশেষ ক্যাম্পেইন করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘সচিত্র বাংলাদেশ ও নবারুণ’ বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘সচিত্র বাংলাদেশ ও নবারুণ’ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি এবং দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় ‘সচিত্র বাংলাদেশ ও নবারুণ’ নামের দুটি বই বিতরণ করা হয়েছে। চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের এই দুটি প্রকাশনা সোমবার সকালে জেলা তথ্য অফিস থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সোমবার সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহারুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের মাঝে এই বই দুটি বিতরণ করেন। এ সময় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’-এর প্রকল্প কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান, কমিউনিটি অর্গানাইজার মনির হোসেন, যুব সদস্য সিহাব হোসেন, সাগর হোসেন, সাদিয়া সুলতানা এবং শিশু সদস্য আফিয়া আক্তার রসনী ও আম্বিয়া খাতুনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
বই বিতরণকালে জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহারুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের বলেন, ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার পাশাপাশি দেশের জীববৈচিত্র্য, সংস্কৃতি ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে বর্তমান প্রজন্মের বেশি বেশি পড়াশোনা করা প্রয়োজন।

সীমান্তে বিজিবির অভিযান: সাড়ে ৫৫ লক্ষ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
সীমান্তে বিজিবির অভিযান: সাড়ে ৫৫ লক্ষ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল পার্টস, চিংড়ির রেণু পোনা এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত বাংলাদেশি ওষুধ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার দিনভর সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) আওতাধীন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, পদ্মশাখরা বিওপির একটি দল সাতক্ষীরা সদরের বটতলা এলাকা থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় চিংড়ির রেণু পোনা জব্দ করে। বাঁকাল চেকপোস্টের টহল দলও একই রূপ আরও ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার রেণু পোনা আটক করতে সক্ষম হয়।
অন্যদিকে, তলুইগাছা বিওপির বিশেষ দল শালবাগান এলাকা থেকে ক্যানসার রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ৩৬ লাখ২৭ হাজার৮০০ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশি মূল্যবান ওষুধ জব্দ করে, যা অবৈধভাবে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।
এছাড়া কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালি ও রাজপুর সীমান্ত এলাকা থেকে মাদরা এবং কাকডাঙ্গা বিওপির সদস্যরা পৃথক দুটি অভিযানে যথাক্রমে ৮ লাখ ৪০ হাজার এবং ৩ লাখ ৬২ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করেন।
৩৩ বিজিবি জানায়, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব মালামাল অবৈধভাবে সীমান্ত পার করার সময় জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত চোরাচালানি পণ্যের মোট বাজারমূল্য ৫৫ লাখ ৩০ হাজার ৬০০ টাকা।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ চোরাচালানের ফলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির এমন কঠোর ও জনস্বার্থমূলক অভিযানকে স্থানীয় বাসিন্দারা সাধুবাদ জানিয়েছেন।