শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

ছয় দিনেও মেরামত হয়নি বেত্রবতীর সাঁকো, নৌকাই ভরসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
ছয় দিনেও মেরামত হয়নি বেত্রবতীর সাঁকো, নৌকাই ভরসা

কলারোয়া প্রতিনিধি: পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে যাওয়ার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও কলারোয়া পৌর শহরের কাঁচাবাজার সংলগ্ন বেত্রবতী নদীর কাঠের সাঁকোটি সচল করা হয়নি। ফলে নদীর দুই পাড়ের হাজারো মানুষকে এখন খেয়া নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, কর্মজীবী, ব্যবসায়ী ও রোগীসহ সাধারণ পথচারীরা।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, ভেঙে পড়া সাঁকোর অবশিষ্টাংশ নদীর দুই পাড়ে পড়ে আছে। নদীতে এখন আর আগের মতো তীব্র স্রোত বা পানির চাপ নেই, পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। তবুও সাঁকোটি অস্থায়ীভাবে সচল করার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। বাধ্য হয়ে মানুষ নৌকায় পারাপার হচ্ছেন। সকাল ও বিকেলে পারাপারের সময় নৌকায় অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হচ্ছে। দুই পাড়ে কোনো সড়কবাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর অন্ধকারে চরম ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে পারাপারকারীদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই কাঠের সাঁকোটি কলারোয়া কাঁচাবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতারা জানান, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতাদের যাতায়াত কমে গেছে, যার ফলে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রবল স্রোতের কারণে কাজ করা সম্ভব নয় বলে জানানো হলেও বর্তমানে নদী শান্ত রয়েছে। এরপরও মেরামতের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত হোসেন বলেন, প্রতি বর্ষায় সাঁকোটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সরকারি অর্থ ব্যয় করে সংস্কার করা হয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয় না। এখন সাময়িক সংস্কার নয়, দ্রুত একটি স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণই সময়ের দাবি। ভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

 

 

 

Ads small one

প্রসঙ্গ: বেতনা নদীর ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে বুধহাটা বাজার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: বেতনা নদীর ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে বুধহাটা বাজার

সম্পাদকীয়

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার অন্যতম প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্র বুধহাটা বাজারটি বেতনা নদীর তীব্র ভাঙনে এখন বিলীনের পথে। দুই শতাব্দীর পুরোনো এই গ্রামীণ মোকামটিতে প্রতি সপ্তাহে কোটি কোটি টাকার পণ্য কেনাবেচা হয়, যার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভর করে আছেন অঞ্চলের হাজারো মানুষ। বিশেষ করে শুক্রবারের হাটে এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় পশুর হাট বসে। অথচ বেতনা নদীর প্রবল স্রোতের তোড়ে বাজার সংলগ্ন প্রতিরক্ষা বাঁধ ধসে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে, যা পুরো বাজারটিকে অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে নদী খনন করার কারণেই এই ভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে। নদীর মাঝখানের পলি অপসারণ না করে ভাঙনকবলিত পাড়ের খুব কাছ দিয়ে খনন করার ফলে স্রোতের গতিপথ এখন বাজারের দিকে ঘুরে গেছে। গত কয়েক দিনে বাজার সংলগ্ন এলাকার ২৫ থেকে ৩০ ফুট বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, যার ফলে বাজারের অন্তত পাঁচ শতাধিক স্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এমনকি সম্প্রতি খেয়া পারাপারের সময় পাড় ধসে শিশুসহ কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনাও ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দিলেও জানিয়েছেন যে, বুধহাটা এলাকার ভাঙন রোধে স্থায়ী ও টেকসই সংস্কার করতে হলে নতুন প্রকল্পের প্রয়োজন। আমরা মনে করি, দুইশত বছরের একটি ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্র রক্ষায় শুধু সাময়িক বা জোড়াতালির মেরামত কোনো স্থায়ী সমাধান এনে দেবে না। জরুরি ভিত্তিতে আপৎকালীন সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি সেখানে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা অপরিহার্য।

একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল এভাবে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ধস নামবে এবং বহু ব্যবসায়ী নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। তাই কালক্ষেপণ না করে সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক মহলের কাছে আমাদের দাবিÑবুধহাটা বাজার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমাল রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড যেন দ্রুত একটি স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণ এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে।

শ্যামনগরে গ্রাম পুলিশদের বর্জ্য ও স্যানিটেশন সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে গ্রাম পুলিশদের বর্জ্য ও স্যানিটেশন সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলায় বেসরকারী সংগঠন রুপান্তরের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) গ্রাম পুলিশ ও বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের বর্জ্য ও স্যানিটেশন সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

রুপান্তরের গোফরইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় শ্যামনগর অফিসার্স ক্লাব হল রুমে সুইজারল্যান্ড, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও সুইসকনট্যাক্ট বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণে উপজেলার আটুলিয়া, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা ইউপির গ্রাম পুলিশ এবং নওয়াবেঁকী বাজার, গড়কুমারপুর বাজার, চাঁদনীমুখা বাজার ও কলবাড়ী বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য অংশ গ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণে সম্মানিত অতিথি ছিলেন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের কোয়ার্ডিনেটর সাব ডিস্ট্রিক লিয়াজো মো. আলম চৌধুরীসহ রুপান্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে নিরাপদ ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

সাতক্ষীরায় গ্রামীণ ঐতিহ্যের ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় গ্রামীণ ঐতিহ্যের ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা শহরের ঐতিহ্যবাহী বাঁধনডাঙ্গা মাঠে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল চারটায় অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতা দেখতে মাঠে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা রওশন আলম, ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক, দিদারুল ইসলাম খোকা, মো. হযরত আলী, মো. একরামুল কবির ও আতাউর রহমান (সজল)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন্ধন টেলিমিডিয়ার সহকারী পরিচালক মো. আসিফুল আলম (আসিফ)। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও পরিচালনা করেন আব্দুল্লাহ আল মামুন।

প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রায় ২০টি ঘোড়া অংশ নেয়। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই আয়োজনে প্রথম স্থান অর্জন করেন ‘সাতক্ষীরা এক্সপ্রেস’-এর স্বত্বাধিকারী মো. আসাদুল ইসলাম। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে মো. রবিউল ইসলামের ঘোড়া ‘ময়না’ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন মো. রুহুল আমিন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে আকর্ষণীয় পুরস্কার এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের সান্ত¡না পুরস্কার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ঘোড়দৌড় গ্রামবাংলার একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী খেলা। সময়ের পরিবর্তনে এই ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে নিজেদের সংস্কৃতি ও কৃষ্টির সঙ্গে পরিচিত করতে এ ধরনের গ্রামীণ খেলাধুলার নিয়মিত আয়োজন প্রয়োজন। এতে যুবসমাজ যেমন ইতিবাচক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত হবে, তেমনি গ্রামীণ ঐতিহ্যও টিকে থাকবে।