বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

দুই কোটি ডলারও বিক্রি করতে পারলো না বাংলাদেশ ব্যাংক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
দুই কোটি ডলারও বিক্রি করতে পারলো না বাংলাদেশ ব্যাংক

বাজারে ডলারের সংকট রয়েছে, বিনিময় হার আরও বাড়তে পারে—এমন আলোচনা যখন চলছে, তখন উল্টো চিত্র দেখা গেলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার নিলামে। বাজারে ডলারের চাহিদা কতটা রয়েছে এবং প্রকৃত বিনিময় হার কোন পর্যায়ে আছে, তা যাচাই করতে ২ কোটি মার্কিন ডলার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছয়টি ব্যাংক মিলে কিনেছে ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ বিক্রির জন্য রাখা ৮৫ লাখ ডলার অবিক্রীতই থেকে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, এই নিলামের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল— বাজারের প্রকৃত চাহিদা বোঝা। নিলামে সব ব্যাংককে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও সীমিত সংখ্যক ব্যাংক আগ্রহ দেখিয়েছে। ফলে বাজারে ডলারের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে—এমন দাবির সঙ্গে নিলামের ফলাফল সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সোমবার অনুষ্ঠিত নিলামের তথ্য মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে দেখা যায়, ছয়টি ব্যাংক ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার কেনার প্রস্তাব দেয় এবং তাদের সব প্রস্তাবই গ্রহণ করা হয়। ডলার বিক্রির দর ছিল ১২২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ৩৫ পয়সা। গড় দর ছিল ১২৩ টাকা ২২ পয়সা। কাট-অফ রেট ছিল ১২২ টাকা ৮০ পয়সা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘‘বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) কোনও ডলার বিক্রি করতে পারেনি।’’ ব্যাংকের কাছে পর্যাপ্ত ডলার আছে বলে জানান তিনি। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করা আপাতত প্রয়োজন পড়ছে না। তিনি বলেন, ‘‘বাজারে ডলারের আদৌ কোনও অতিরিক্ত চাহিদা আছে কিনা, প্রকৃত বিনিময় হার কত হতে পারে, তা দেখে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিলামের মাধ্যমে একটি দর ব্যাংক দিয়েছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘বাজারে ডলারের কোনও ঘাটতি নেই। আমরা সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ২ কোটি ডলার বিক্রির ঘোষণা দিয়ে দেখলাম, ছয়টির বেশি ব্যাংক আগ্রহ দেখায়নি। ফলে ২ কোটি ডলারের পুরোটা বিক্রি করা সম্ভব হয়নি।’’

ব্যাংকগুলো চাইলে আরও ৮৫ লাখ ডলার নিতে পারতো

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা না প্রকাশ না করে বলেন, ‘‘কিছু মহল থেকে বলা হচ্ছিল— ব্যাংকগুলোতে ডলারের সংকট রয়েছে এবং সামনে ডলারের দাম আরও বাড়তে পারে। এসব আলোচনা বাস্তবে কতটা সত্য, তা যাচাই করতেই নিলামের আয়োজন করা হয়।’’

তিনি বলেন, ‘মোট ২ কোটি ডলার বিক্রির জন্য ছাড়া হয়েছিল। সব ব্যাংককে বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু মাত্র ছয়টি ব্যাংক ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার কেনার প্রস্তাব দেয়। তাদের সব প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। তারা চাইলে আরও ৮৫ লাখ ডলার নিতে পারতো।’’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিলামের ফলাফল থেকে অন্তত এটুকু বোঝা যাচ্ছে, ব্যাংকিং খাতে ডলারের চাহিদা এমন পর্যায়ে নেই যে বাজারে ব্যাপক সংকট তৈরি হয়েছে। বরং প্রয়োজনের তুলনায় অনেক ব্যাংকের হাতে পর্যাপ্ত ডলার রয়েছে।’’

১৪ মাস পর ডলার বিক্রিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ডলারের এই নিলাম আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ১৪ মাস পর আবারও বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলার বিক্রিতে ফিরেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছিল। কারণ তখন বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ছিল এবং বিনিময় হারের ওপর চাপ কমে এসেছিল।

গত ১৪ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার কিনেছে। এর ফলে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে, অপরদিকে ব্যাংকগুলোর হাতে ডলারের তারল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।

সর্বশেষ গত ১ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ৫ কোটি ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই নিলামে কাট-অফ রেট ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। অর্থাৎ, মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেল। আগে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনছিল, এখন প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করছে। তবে প্রথম বিক্রির নিলামেই পুরো ২ কোটি ডলার বিক্রি না হওয়া বাজারের চাহিদা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা দিচ্ছে।

ডলারের দর বেড়েছে, কিন্তু সংকট কতটা?

সাম্প্রতিক সময়ে আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের দর কিছুটা বেড়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের গড় দর ছিল ১২৩ টাকা ৩৫ পয়সা। আগের দিন ছিল ১২৩ টাকা ২০ পয়সা। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে দেশের আমদানি ব্যয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৬৪৪ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির ব্যয় বেড়েছে ৮৩ দশমিক ৩ শতাংশ, যা এক মাসে ১৩৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

অপরদিকে জুলাইয়ে রফতানি আয় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৪৩৫ কোটি ডলারে নেমেছে। ফলে আমদানি ব্যয় ও রফতানি আয়ের ব্যবধান বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কিছুটা বাড়তি চাহিদা তৈরি করতে পারে।

তবে আমদানির চাপ বাড়লেই যে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সংকট তৈরি হয়েছে, এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ রেমিট্যান্স, রফতানি আয়, ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা অবস্থান এবং আমদানি দায় পরিশোধের সক্ষমতা—সবকিছু মিলিয়েই বাজারের প্রকৃত তারল্য বোঝা যায়।

রিজার্ভেও স্বস্তি

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে এই রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থানে আগের তুলনায় বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ২ কোটি ডলার বিক্রির উদ্যোগকে শুধু ‘ডলারের সংকট মোকাবিলায়’ নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। বরং নিলামের মাধ্যমে বাজারের প্রকৃত চাহিদা, ব্যাংকগুলোর ডলার ধারণক্ষমতা এবং প্রচলিত বিনিময় হারের যৌক্তিকতা যাচাই করাও এর গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।

বাজারের জন্য কী বার্তা?

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিলামে ২ কোটি ডলার বিক্রির সুযোগ তৈরি করেও ৮৫ লাখ ডলার বিক্রি করতে না পারার ঘটনা বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। এতে বোঝা যাচ্ছে, বাজারে ডলারের দাম নিয়ে আলোচনা থাকলেও ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ একেবারে সংকুচিত হয়ে যায়নি।

বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজন অনুযায়ী বাজারে ডলার দিতে সক্ষম এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোরও নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান রয়েছে। ফলে ডলারের দাম আরও বাড়বে—এমন প্রত্যাশা বা গুজবের ভিত্তিতে বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে কিনা, সেটিও এখন নজরে রাখবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তবে আমদানি ব্যয়, বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির চাপ বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে ডলারের চাহিদা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে রফতানি ও রেমিট্যান্সের প্রবাহও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। তাই একটি নিলামের ফলাফল দিয়ে পুরো বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ না করে ধারাবাহিকভাবে ব্যাংকগুলোর চাহিদা ও লেনদেনের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করাই হবে গুরুত্বপূর্ণ।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিলামের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তাটি হলো—ডলারের দাম নিয়ে চাপ থাকলেও ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তীব্র ডলার সংকটের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। ২ কোটি ডলার বিক্রির সুযোগ দিয়েও ৮৫ লাখ ডলার বিক্রি করতে না পারাই তার একটি বাস্তব উদাহরণ।

Ads small one

‘আমি ডিলার, চেয়ারম্যান হলে গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি দেবো’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
‘আমি ডিলার, চেয়ারম্যান হলে গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি দেবো’

 

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ‘আমি চেয়ারম্যান হলে সবার ঘরে ঘরে বিনা টাকায় গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি দেবো’ এমন ঘোষণা সংবলিত পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো ইউনিয়ন। পোস্টারে ছবি ও নাম রয়েছে সিরাজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি খোকনের। তবে তিনি বলছেন, এ পোস্টার তিনি লাগাননি। এটি জামায়াতের ষড়যন্ত্র বলে দাবি তার।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে উপজেলার সিরাজপুরে এমন পোস্টার বিভিন্ন দেয়ালে দেখা যাচ্ছে।
দেয়ালে দেয়ালে লাগানো ওই পোস্টারে লেখা হয়, ‘আসন্ন ১নং সিরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি গাঁজার ডিলার (খোকন) চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছি। আমি কথা দিচ্ছি, আমি চেয়ারম্যান হিসেবে জয়ী হলে সবার ঘরে ঘরে বিনা টাকায় গাঁজা-ইয়াবা ফ্রিতে দেবো।’

পোস্টারে ‘বেকারের জন্য গাঁজা ভাতা, মাদকসেবীদের জনা বিশেষ কার্ড, স্কুল-কলেজের সামনে ফ্রি সাপ্লাই, থানা-পুলিশ আমার ভাই, উন্নয়ন হবে, আগে চাঁদা হবে’ এমন স্লোগান লেখা রয়েছে।

 

এদিকে এমন পোস্টারের ছবি স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে নানা মতামত দিয়েছেন নেটিজেনরা। এমন পোস্টার নিয়ে ফেসবুক পোস্টে বেলাল হোসেন অপেল নামের এক তরুণ লেখেন, আর কি বলবো।

রাজু নামে একজন লেখেন, মাদক কত এভেইল হলে এমন পোস্টার করা হয়। সজিব মাহমুদ নামের একজন লেখেন, এটি প্রতিহিংসা থেকে হতে পারে।

পোস্টারে নিজের নাম ব্যবহারের বিষয়ে সিরাজপুর ৮নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি খোকন বলেন, ৫ দিন আগে আমার ছেলেকে চড় মারে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাসেমের ছেলে। তা নিয়ে আমি প্রতিবাদ করি। মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছি। তা দেখে তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। আমি সিসিটিভি ফুটেজ নিচ্ছি, যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি নুরুল হাকিম বলেন, এ ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। সত্যতা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশিদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রম ভিসা বন্ধ করলো এক দেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশিদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রম ভিসা বন্ধ করলো এক দেশ

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট, শ্রমিক আমদানির পরিকল্পনা এবং শ্রম প্রকল্পগুলোর অনুমোদন স্থগিত করেছে লাওস। দেশটির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছে, এই স্থগিতাদেশ গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর জারি করা এক নির্দেশনায় মন্ত্রণালয় জানায়, অবৈধ প্রবেশ, মানবপাচার, অনুমোদনহীন শ্রম দালাল এবং শ্রমিক এনে তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নিয়োগকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেই কেন এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দেশনায় স্পষ্ট কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

নির্ধারিত চুক্তির সময়সীমা রয়েছে এমন বড় ধরনের সরকারি অনুমোদিত অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলো এই স্থগিতাদেশের আওতামুক্ত থাকবে।

এই আদেশের ফলে ব্যক্তি, কোম্পানি, নিয়োগকর্তা এবং লেবার অপারেটররা স্বাধীনভাবে কোনও বাংলাদেশি নাগরিকের প্রবেশ বা কর্মসংস্থানের অনুমতি দিতে পারবেন না। এছাড়া ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য লেবার ভিসা পারমিট অনুমোদন দেওয়াও বন্ধ রাখা হয়েছে।

মক্কার আকাশে হুথি ড্রোন, ভূপাতিত করলো সৌদি আরবমক্কার আকাশে হুথি ড্রোন, ভূপাতিত করলো সৌদি আরব
আইন অমান্যকারীদের জরিমানা, বাধ্যতামূলক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল করার মতো শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

অনুমোদন ছাড়া শ্রমিক আমদানি বা নিয়োগ করলে প্রতি শ্রমিক ও প্রতি লঙ্ঘনের জন্য নিয়োগকর্তাকে ২৫ লাখ লাও কিপ বা ১১০ ডলার জরিমানা দিতে হবে। অন্য শ্রম ইউনিটে পুনর্বণ্টনের জন্য শ্রমিক আমদানি করলেও একই পরিমাণ জরিমানা প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে ভিন্ন শ্রম ইউনিটে নিয়োজিত কর্মী ব্যবহার বা গ্রহণকারী নিয়োগকর্তাদের প্রতি কর্মী প্রতি ২০ লাখ লাও কিপ বা ৮৯ মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে।

অনুমতি ছাড়া শ্রমিক নির্ধারিত কর্মস্থল ছেড়ে অন্য জায়গায় কাজ করতে গেলে প্রতি ব্যক্তি ও প্রতি ঘটনার জন্য ১০ লাখ লাও কিপ বা ৪৪ ডলার জরিমানা এবং ৩০ দিনের মধ্যে বহিষ্কারের বিধান রাখা হয়েছে। ওই শ্রমিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সব খরচ নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট লঙ্ঘনকারীকে বহন করতে হবে।

একই ধরনের অপরাধ পুনরায় করলে জরিমানার পরিমাণ তিন গুণ হবে। পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে পারেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসরায়েলকে ৪০ হাজার বোমা দিতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনইসরায়েলকে ৪০ হাজার বোমা দিতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
লাওসে বর্তমানে কতজন বাংলাদেশি কর্মরত আছেন, সে সংখ্যা নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে, এই স্থগিতাদেশে কোন কোন খাতে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে, তাও জানানো হয়নি। উল্লেখ্য বাংলাদেশ থেকে লাওসে শ্রম অভিবাসন ঐতিহাসিকভাবে মূলত নির্মাণ ও উৎপাদনখাত কেন্দ্রিক হয়ে থাকে।

সূত্র: দ্য লাওতিয়ান টাইমস

একলাফে ইলিশের মণে দাম কমেছে ২০ হাজার টাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
একলাফে ইলিশের মণে দাম কমেছে ২০ হাজার টাকা

দীর্ঘদিনের চড়া দামের পর বরিশালের বাজারে ইলিশের দাম কমেছে। গত কয়েক দিনে মোকামগুলোতে ইলিশের সরবরাহও বেড়েছে। এতে পাইকারি বাজারে মণপ্রতি দাম কমেছে সর্বোচ্চ প্রায় ২০ হাজার টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বরিশাল নগরীর ইলিশের প্রধান পাইকারি মোকাম পোর্ট রোড ও বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী, জেলে ও ক্রেতারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মোকামগুলোতে ছোট, মাঝারি ও বড় ধরনের ইলিশ তুলনামূলক বেশি আসছে। সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে শুরু করেছে দামও। আর এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মাঝেও।

পোর্ট রোড বাজারে মাছ কিনতে আসা রাসেল হাওলাদার বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে এক কেজি সাইজের ইলিশ ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আজ একই সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকা কেজি।’ তাই আগের তুলনায় দাম কিছুটা কমায় দুই কেজি মাছ কিনেছেন বলে জানান।

নগরীর বাংলাবাজারে মাছ কিনতে আসা রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘গত সপ্তাহে ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের দুটি ইলিশ কিনেছি ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে। একই সাইজের ইলিশ আজ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকা কেজিতে। বিক্রেতারা বলছেন, ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে।’

পোর্ট রোড মোকামের খুচরা বিক্রেতা নাসির উদ্দিন বলেন, গত সপ্তাহে ৪টায় এক কেজি হয় এমন ইলিশ এক হাজার টাকায় কিনেছেন। এ সপ্তাহে সেই মাছ কিনেছেন ৬০০ টাকা কেজিতে। আর এক কেজি ওজনের ইলিশ এখন ২ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে কিনছেন, যেখানে আগে দাম ছিল ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা।

পোর্ট রোড মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. জহির শিকদার বলেন, ‘গত সপ্তাহে পোর্ট রোডের মোকামে ইলিশ এসেছিল প্রায় ৭৫ মণ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সেখানে বিক্রি হয়েছে প্রায় ১৬০ মণ। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে সরবরাহ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।’ এ ধারা অব্যাহত থাকলে সামনে ইলিশের দাম আরও কমতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি জানান, সাত দিন আগে দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। মঙ্গলবার সেই মাছ বিক্রি হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার টাকায়। একইভাবে, এক কেজি ২০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশের দাম এক লাখ ২৫ হাজার টাকা থেকে কমে হয়েছে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা।

এ ছাড়া এক কেজি থেকে এক কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের মণ ছিল এক লাখ ১০ হাজার টাকা, যা এখন ৯৬ হাজার টাকা। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রামের মাছ ৯৯ হাজার থেকে কমে ৮০ হাজার, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের মাছ ৮৫ হাজার থেকে কমে ৭০ হাজার এবং ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রামের ইলিশ ৬৫ হাজার থেকে কমে ৫০ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

আরও ছোট আকারের মধ্যে ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামের ইলিশের দাম ৫৫ হাজার টাকা থেকে নেমে হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। ২৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশের মণপ্রতি দাম ৪২ হাজার টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার টাকায়। এর চেয়েও ছোট আকারের ইলিশের দাম ৩২ হাজার টাকা থেকে কমে হয়েছে ২০ হাজার টাকা মণ।